খুঁজুন
                               
, ,
           

আয় ৩৩ হাজার, ব্যয় ৩৫ হাজার টাকা: ঋণের চাপে দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
আয় ৩৩ হাজার, ব্যয় ৩৫ হাজার টাকা: ঋণের চাপে দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলছে না দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবারের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, খাবারের খরচ মেটানো এবং দৈনন্দিন জীবন চালাতে গিয়ে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে অনেককে; আবার ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে। দেশের প্রায় প্রতি দুই পরিবারের একটি এখন ঋণগ্রস্ত। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তুলনামূলক বেশি। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় শুধু মানুষের ক্রয়ক্ষমতাই কমাচ্ছে না, বরং পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য বলছে, দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণের বোঝা বহন করছে। জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকেরই নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এ হার ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ। শহরাঞ্চলে ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার গত এক বছরে দৈনন্দিন খরচ চালাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে।

  • মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে নাভিশ্বাস নিম্ন ও মধ্যবিত্তের
  • শহরের চেয়ে গ্রামে ঋণনির্ভরতা বেশি

বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেলের এই জরিপের ফলাফল দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির সীমিত গতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ঘাটতি মেটাতে ঋণ
জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ, একটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে আয়ের চেয়ে ১ হাজার ৭৯৮ টাকা বেশি ব্যয় করছে।

এই ব্যবধান আপাতদৃষ্টিতে খুব বড় মনে না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব যথেষ্ট গভীর। কারণ, পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের বাইরে চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান মেরামত কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে বাড়তি অর্থের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। আয় দিয়ে নিয়মিত খরচই সামাল দেওয়া কঠিন হলে এসব অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে সঞ্চয় ভাঙা কিংবা ধার করার প্রবণতা বাড়ে।

পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ঋণ পরিশোধের জন্য নতুন করে ঋণ নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এতে পরিবারের ভবিষ্যৎ আয়ের একটি অংশ আগের দায় পরিশোধে ব্যয় হয়, যা নতুন সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ সংকুচিত করে।

তবে জরিপে পরিবারগুলোর ঋণের মোট পরিমাণ, সুদের হার কিংবা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে কত পরিবার দীর্ঘমেয়াদি ঋণসংকটে রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তারপরও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়ার উচ্চ হার পারিবারিক আর্থিক চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

গ্রামে সংকট বেশি, শহরে ব্যয়ের চাপ ভিন্ন
অঞ্চলভেদে পরিবারের গড় মাসিক ব্যয়ের হিসাবেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে তা ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।

সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যয় সবচেয়ে বেশি হলেও ঋণগ্রস্ততার হার সেখানে তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় গড় ব্যয় কম হওয়ার পরও অর্ধেকের বেশি পরিবার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ঋণ নিয়েছে।

এই বৈপরীত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হতে পারে আয়ের সক্ষমতা ও ব্যয়ের সামর্থ্যের পার্থক্য। বেশি ব্যয় হওয়া মানেই কোনো পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বেশি—এমন নয়। পরিবারের আয় যদি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে বেশি ব্যয় করেও তা সামাল দেওয়া সম্ভব। বিপরীতে, আয় সীমিত হলে তুলনামূলক কম ব্যয়ও পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।

গ্রামীণ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমনির্ভর আয়, মৌসুমি কর্মসংস্থান এবং অনিয়মিত নগদ প্রবাহের মতো বিষয়গুলো আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে জরিপের প্রকাশিত তথ্য দিয়ে এসব কারণের পৃথক প্রভাব নিশ্চিত করা যায় না। বিষয়গুলো আরও বিশদভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। গ্রামীণ এলাকায় ঋণগ্রস্ততার উচ্চ হার তাই শুধু ঋণের পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিবারের আয়, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে আনে।

খাবারের খরচেই আয়ের বড় অংশ শেষ
জরিপে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য খাতে এবং বাকি অংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে যায়। তবে অঞ্চলভেদে ব্যয়ের ধরন আলাদা।

গ্রামীণ পরিবারগুলোকে খাদ্যের পেছনে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত খরচের চাপ বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট মাসিক ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই চলে যায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে।

খাদ্যবহির্ভূত ব্যয়ের মধ্যে বাসাভাড়া, যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ থাকতে পারে। শহরে এসব খাতের ব্যয় বেশি হওয়ায় পরিবারের ওপর চাপের ধরনও ভিন্ন হয়ে ওঠে।

এখানে মূল সমস্যা শুধু পণ্যের দাম বৃদ্ধি নয়; পরিবারের আয়ের কতটা অংশ মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য ও অন্যান্য অপরিহার্য ব্যয় মেটানোর পর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে সঞ্চয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ কমে যায়। ফলে বর্তমান ব্যয়ের চাপ দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের জীবনমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, মজুরি সেই গতিতে এগোচ্ছে না
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি বড় একটি কারণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির হারের নিচে ছিল।

বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। আগের মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৬৩টি পেশায় স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরির তথ্যের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়।

মজুরি বাড়লেও যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম আরও দ্রুত বাড়ে, তাহলে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। অর্থাৎ, বেতন বা মজুরির অঙ্ক বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয়।

এই পরিস্থিতি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে কঠিন। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার, বাসস্থান, যাতায়াত ও অন্যান্য অপরিহার্য খাতে ব্যয় হয়। এসব খাতে খরচ কমানোর সুযোগ সীমিত থাকায় মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে গিয়ে তাদের অন্যান্য প্রয়োজন পিছিয়ে দিতে হয়।

এ কারণে কেবল মজুরি বৃদ্ধির হার দেখেই মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি বিচার করা যথেষ্ট নয়। মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির গতি এবং পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বদলেছে, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

দুর্বল সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিফলন
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, মহামারির পর থেকে বাংলাদেশ যে দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, জরিপের ফলাফল তারই প্রতিফলন।

অর্থনীতির সামগ্রিক দুর্বলতা যখন কর্মসংস্থান, আয় ও মূল্যস্তরে প্রভাব ফেলে, তখন তার চাপ শেষ পর্যন্ত পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে এসে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়া কিংবা আয়ের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ার সঙ্গে যদি উচ্চ মূল্যস্ফীতি যুক্ত হয়, তাহলে পরিবারের ব্যয় সামলানোর সক্ষমতা কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে শুধু আয় বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট নাও হতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা—সবগুলো ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কা
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা মানুষের জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির এই আশঙ্কা এবং বিবিএসের জরিপে উঠে আসা ঋণনির্ভরতার চিত্র একসঙ্গে বিবেচনা করলে বোঝা যায়, অর্থনৈতিক চাপ শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি নেই। নিয়মিত আয় থাকা সত্ত্বেও যেসব পরিবার ব্যয় মেটাতে পারছে না, তারাও আর্থিকভাবে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তবে ঋণগ্রস্ততা এবং দারিদ্র্য এক বিষয় নয়। ঋণ নেওয়া সব পরিবারই দরিদ্র নয়, আবার ঋণ না থাকলেই কোনো পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল—এমনটিও নয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ধার করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া এবং একই সময়ে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্থনৈতিক ঝুঁকির একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।

সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য
বিবিএসের জরিপটি গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পরিচালিত হয়। এতে গ্রামীণ, শহরাঞ্চল ও সিটি করপোরেশন এলাকার মোট তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ১৫০টি নমুনা এলাকা থেকে ট্যাবলেট ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপটি নির্দিষ্ট সময়ের একটি চিত্র তুলে ধরলেও এর ফলাফল থেকে স্পষ্ট, পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এ জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয়কে আরও স্থিতিশীল করার দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে না হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা। কারণ, জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি বা মজুরি বৃদ্ধির পরিসংখ্যানের চেয়েও একটি পরিবারের জন্য বেশি জরুরি হলো মাস শেষে প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে হাতে কত টাকা থাকছে।

আয় যদি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারে, তাহলে ঋণ হয়ে ওঠে সাময়িক সমাধান, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা নতুন সংকটের কারণ হতে পারে। দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবারের ঋণগ্রস্ততার তথ্য তাই কেবল পারিবারিক অর্থনীতির সমস্যা নয়; এটি জীবনযাত্রার মান, দারিদ্র্য মোকাবিলা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

কালের আলো/জিকে/এমকে

ব্যস্ত জীবনে সুখী থাকার সহজ ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ব্যস্ত জীবনে সুখী থাকার সহজ ১০ উপায়

কাজের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—নানা কারণে প্রতিদিনের জীবন হয়ে উঠতে পারে ক্লান্তিকর। ব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় নিজের জন্য একটু সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় হাসিখুশি থাকার অভ্যাস, জমতে থাকে মানসিক চাপ। অথচ প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সবার কাছে সুখের সংজ্ঞা এক নয়। কেউ প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান, কেউ বই পড়ে কিংবা একা নিরিবিলি সময় কাটিয়ে খুঁজে নেন মানসিক প্রশান্তি। নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী দৈনন্দিন রুটিনে কিছু ইতিবাচক অভ্যাস যোগ করলে মন ভালো রাখা এবং জীবনকে আরও উপভোগ্য করে তোলা সহজ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের বিভিন্ন পরামর্শের আলোকে জেনে নেওয়া যাক, ভালো থাকার জন্য কোন অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন।

১. প্রতিদিন কিছুটা সময় শরীরচর্চা করুন
ব্যায়াম মানেই জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা কিংবা কঠিন কোনো শরীরচর্চা করা নয়। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা ঘরের আশপাশে কিছুক্ষণ চলাফেরা করাও শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।

নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম মেজাজ ভালো রাখতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে শুরুতেই শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা, সময় ও সুযোগ অনুযায়ী সহজ ব্যায়াম বেছে নিন। নিয়মিত শরীর সচল রাখার অভ্যাসই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২. পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
রাতে দীর্ঘ সময় ফোনের পর্দায় চোখ রেখে সকালে ক্লান্ত শরীরে কাজে যাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন অবসাদ, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে ছোটখাটো সমস্যাও বড় মনে হতে পারে।

সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন এবং শোবার ঘর আরামদায়ক রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি আবেগ ও মানসিক চাপ সামলাতেও সহায়তা করে।

৩. জীবনের ছোট ছোট বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন
আমাদের অনেক সময় কী নেই, কী হারিয়েছি কিংবা কোন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি—এসব নিয়েই বেশি ভাবা হয়। অথচ প্রতিদিনের জীবনে এমন অনেক ছোট ঘটনা ঘটে, যেগুলো আনন্দের কারণ হতে পারে। সকালে বারান্দায় বসে এক কাপ চা পান করা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করা কিংবা অপরিচিত কারও মুখে হাসি দেখা—এসব মুহূর্তও জীবনের সৌন্দর্য বাড়ায়।

প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখতে পারেন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। চাইলে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। এই অভ্যাস জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো খেয়াল করতে সাহায্য করে। তবে কৃতজ্ঞ থাকার অর্থ নিজের কষ্ট বা সমস্যাকে অস্বীকার করা নয়; বরং কঠিন সময়ের মধ্যেও ভালো দিকগুলো খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা।

৪. ঘর ও কাজের জায়গা গোছানো রাখুন
অগোছালো ঘর, ছড়িয়ে থাকা কাপড় কিংবা এলোমেলো কাজের টেবিল অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় নিজের আশপাশ গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। ছুটির দিনে আলমারি, ড্রয়ার কিংবা পড়ার টেবিল পরিষ্কার করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিলেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও গোছানো পরিবেশ কাজের মনোযোগ বাড়াতে এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

৫. প্রিয় মানুষদের জন্য সময় রাখুন
কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। অথচ আন্তরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক সুস্থতা ও ভালো থাকার অনুভূতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রিয় কারও সঙ্গে কথা বলার বা দেখা করার পরিকল্পনা করতে পারেন। একসঙ্গে চা পান, কফিশপে আড্ডা কিংবা পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ আয়োজনও সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। তবে সবার সামাজিক চাহিদা এক নয়। কেউ মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান, আবার কেউ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। নিজের প্রয়োজন বুঝে সম্পর্কের জন্য সময় রাখুন, পাশাপাশি অন্যের সঙ্গেও আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখুন।

৬. প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান
একটানা ঘরের ভেতরে কিংবা কর্মস্থলে সময় কাটাতে কাটাতে মন ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। এমন সময়ে কিছুক্ষণ বাইরে বের হওয়া, পার্কে হাঁটা কিংবা গাছপালায় ঘেরা জায়গায় বসে থাকা স্বস্তি দিতে পারে।

সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন কোনো পার্ক, নদীর তীর কিংবা সবুজ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটান। খোলা আকাশ দেখা, পাখির ডাক শোনা কিংবা নির্মল বাতাসে হাঁটার মতো সাধারণ অভিজ্ঞতাও মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়ির ছাদে গাছের পরিচর্যা করা, বারান্দায় বসা কিংবা কাছের কোনো সবুজ জায়গায় হাঁটাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সহজ উপায়।

৭. অন্যের জন্য ভালো কিছু করুন
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে সাহায্য করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা প্রিয়জনকে ছোট কোনো উপহার দেওয়া—এ ধরনের কাজ সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ায় এবং নিজের মধ্যেও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

এর জন্য বড় আয়োজন বা প্রচুর অর্থের প্রয়োজন নেই। কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো কিংবা পরিবারের কাজে সহযোগিতা করাও গুরুত্বপূর্ণ।তবে অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার কথাও মনে রাখা প্রয়োজন। নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে আন্তরিকভাবে ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন।

৮. নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন
সব সময় অন্যের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কাজের মধ্যে ডুবে থাকা প্রয়োজন নেই। নিজের জন্যও কিছুটা সময় রাখা জরুরি। এই সময়টুকুতে এমন কিছু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং মানসিকভাবে সতেজ করে।

পছন্দের বই পড়া, সিনেমা দেখা, গান শোনা, রান্না করা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হতে পারে সেই কাজের অংশ। চাইলে একা কোনো রেস্তোরাঁয় বসে পছন্দের খাবারও খেতে পারেন।নিজের সঙ্গে সময় কাটানো মানে একাকিত্বে ডুবে থাকা নয়। বরং নিজের পছন্দ, অনুভূতি ও প্রয়োজন বোঝার জন্য কিছুটা অবকাশ তৈরি করা।

৯. চিন্তা ও অনুভূতি লিখে রাখুন
কোনো বিষয় নিয়ে বারবার ভাবতে থাকলে মন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এমন সময়ে নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো কাগজে লিখে রাখা উপকারী হতে পারে।

দিনের শুরুতে কিংবা ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে লিখুন—কী নিয়ে চিন্তা করছেন, কোন কাজগুলো করতে চান এবং কোন বিষয়গুলো আপনাকে আনন্দ দিয়েছে। সামনের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি ছোট তালিকাও তৈরি করতে পারেন।

এতে চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেওয়া এবং কোন বিষয়টি আগে সামলানো প্রয়োজন, তা বুঝতে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছেন এমন আনন্দের মুহূর্ত কিংবা জীবনের সুন্দর স্মৃতিগুলোও লিখে রাখতে পারেন।

১০. নিজের শরীর ও মনের যত্ন নিন
ভালো থাকার জন্য শুধু ইতিবাচক চিন্তা করাই যথেষ্ট নয়। শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাস একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনমতো বিশ্রামের দিকে মনোযোগ দিন। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

একইভাবে নিজের মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিন। দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, উদ্বেগ কিংবা দৈনন্দিন কাজ সামলাতে অসুবিধা হলে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। সব সমস্যার সমাধান একা করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভালো থাকার শুরু ছোট অভ্যাস থেকেই
সুখী থাকার জন্য জীবনে সবকিছু নিখুঁত হতে হবে, এমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করা, নিজের শরীর ও মনের প্রয়োজন বোঝা এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মধ্য দিয়েও ভালো থাকার পথ তৈরি হতে পারে।

একসঙ্গে সব অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা না করে প্রথমে নিজের পছন্দমতো দু-একটি অভ্যাস বেছে নিন। ধীরে ধীরে সেগুলো দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন। মনে রাখবেন, অন্যের কাছে সুখের যে সংজ্ঞা, আপনার কাছে তা একই রকম না-ও হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে নিজের মতো করে ভালো থাকার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/এসএ

চালকের চোখে স্পষ্ট দৃষ্টি, নিরাপদ সড়কের নতুন প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
চালকের চোখে স্পষ্ট দৃষ্টি, নিরাপদ সড়কের নতুন প্রত্যয়

নিরাপদ সড়কের জন্য প্রয়োজন সচেতন চালক, আর নিরাপদে গাড়ি চালানোর অন্যতম শর্ত সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি। সেই ভাবনা থেকেই চালকদের চোখের যত্ন ও সড়ক নিরাপত্তাকে একসূত্রে যুক্ত করে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি ৩৯টি মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় যাঁদের চশমা প্রয়োজন হবে, তাঁদের দেওয়া হবে বিনামূল্যে চশমা।

চালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স রুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচি চালকদের দৃষ্টিশক্তির যত্নকে জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

  • ৩৯ মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের প্রায় ৩০০ চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা
  • প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেবে সড়ক পরিবহন বিভাগ ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দিনের কর্মসূচি, সেবার আওতায় ৩০০ চালক
১৮ ও ১৯ অক্টোবর এবং ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর—এই পাঁচ দিন চলবে বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা কর্মসূচি। এর আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ৩৯টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি কার্যালয়ের চালকদের চোখ পরীক্ষা করা হবে। দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চালকদের বিনামূল্যে চশমা সরবরাহ করা হবে।

কর্মসূচিটির বিশেষ দিক হলো, এখানে শুধু চোখ পরীক্ষা করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে না; প্রয়োজন শনাক্ত হওয়ার পর চালকদের হাতে চশমা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে যাঁদের গাড়ি চালানোর সময় অসুবিধা হতে পারে, তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ধরনের উদ্যোগ চালকদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের ওপর অর্পিত পেশাগত দায়িত্ব আরও নিরাপদভাবে পালনে সহায়ক হতে পারে।

চালকের চোখে স্পষ্টতা, সড়কে নিরাপত্তার সম্ভাবনা
গাড়ি চালানোর সময় একটি ট্রাফিক সংকেত শনাক্ত করা, দূর থেকে পথচারীকে দেখতে পাওয়া কিংবা হঠাৎ সামনে আসা কোনো বাধা বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তির ভূমিকা রয়েছে। তাই চালকের চোখের যত্ন কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়, এটি যাত্রী ও পথচারীর নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

অনেক সময় দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে চালক নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁর দৃষ্টিতে পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত পরীক্ষা এ ধরনের সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহার করলে দৃষ্টিজনিত অসুবিধা মোকাবিলা করাও সহজ হয়। এ কারণে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণের উদ্যোগকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এক দিনের সচেতনতা নয়, নিয়মিত যত্নের বার্তা
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসকে কেন্দ্র করে নেওয়া এ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—সড়ক নিরাপত্তার পরিকল্পনায় চালকের স্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যাঁরা প্রতিদিন যানবাহন চালান, তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান প্রয়োজনীয়। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি চালককে নিয়মিত দৃষ্টি পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চশমার ব্যবহার এবং চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নিরাপদ সড়ক গড়ার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এর সঙ্গে জড়িত চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা। এ ক্ষেত্রে চালকদের দৃষ্টিশক্তির যত্নকে গুরুত্ব দিয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগ ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ জননিরাপত্তামুখী কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। প্রায় ৩০০ চালককে দৃষ্টি পরীক্ষার আওতায় আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় একটি মৌলিক শর্তকে সামনে আনা হয়েছে।

নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতার সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি যুক্ত করা গেলে সড়ক নিরাপত্তার প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হতে পারে। সুস্থ চালক, স্পষ্ট দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল চালনা—এই তিনের সমন্বয়েই নিরাপদ যাত্রার ভিত্তি আরও মজবুত হতে পারে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ।

কালের আলো/এমএএএমকে

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকার আলোচনা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকার আলোচনা

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় কী পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য জানতে ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ সময় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি কূটনৈতিকপত্র দেওয়া হয়েছে। ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানার জন্যই ঢাকার পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তথ্য জানতে ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করে ঢাকা। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট মামলার বিস্তারিত তথ্য কিংবা সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। এ বিষয়ে কূটনৈতিকপত্র দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানতে চেয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি