খুঁজুন
                               
, ,
           

৫ লাখ পদ শূন্য, নিয়োগের প্রস্তুতি জোরদার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
৫ লাখ পদ শূন্য, নিয়োগের প্রস্তুতি জোরদার

সরকারি চাকরিতে লাখ লাখ পদ খালি, অন্যদিকে চাকরির অপেক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ। জনবলসংকটে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজের চাপ বাড়ছে, ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে নাগরিকসেবা। এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন দপ্তরে কত পদ খালি, কোথায় নিয়োগ আটকে আছে এবং কোন পদে নিয়োগের অনুমোদন রয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ ও যাচাই চলছে। পাশাপাশি নিয়োগবিধি সংশোধন এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

  • অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ শতাংশ খালি
  • দপ্তর-অধিদপ্তরেই ঘাটতি ৩ লাখের বেশি
  • নিয়োগের অগ্রগতি যাচাই করছে সরকার

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত কার্যপত্র ও অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি। এর বিপরীতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। শূন্য রয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ। অর্থাৎ, অনুমোদিত পদের প্রায় প্রতি চারটির একটিই খালি। বিপুল এই শূন্যতা পূরণে এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীন সংস্থাগুলোর নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

দপ্তর-অধিদপ্তরেই খালি ৩ লাখের বেশি পদ
শূন্য পদের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরে। এসব প্রতিষ্ঠানে খালি রয়েছে ৩ লাখ ১ হাজার ১৫২টি পদ। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোয় শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৪। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৬ হাজার ৮০৮টি এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৪ হাজার ৫৭৮টি পদ খালি রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বলছে, জনবলসংকট শুধু সচিবালয় বা কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সরকারের বিস্তৃত দাপ্তরিক কাঠামোজুড়েই রয়েছে শূন্যতার চাপ। ফলে নিয়োগ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের দপ্তর, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোর চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিম্ন গ্রেডের পাশাপাশি কর্মকর্তা পর্যায়েও ঘাটতি
গ্রেডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৮২ হাজার ২১৬টি পদ খালি রয়েছে ২০তম গ্রেডে। ১৬তম গ্রেডে শূন্য ৭৯ হাজার ৮৬৮টি এবং দশম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৪১৩টি পদ। এ ছাড়া ১১তম গ্রেডে ৫২ হাজার ৬২৪টি এবং নবম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৯৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে। নবম গ্রেডে বিসিএসের মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ১৩তম গ্রেডে ৪২ হাজার ৩৫টি, ১৪তম গ্রেডে ৩০ হাজার ৫০৫টি, ১৫তম গ্রেডে ২৭ হাজার ১৩৪টি, ১৯তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৮৭৯টি এবং ১৭তম গ্রেডে ২০ হাজার ৯৬৮টি পদ খালি রয়েছে।নিম্ন গ্রেডে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় দাপ্তরিক ও সহায়ক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নবম গ্রেডসহ কর্মকর্তা পর্যায়ে শূন্যতা থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।

শূন্য পদের তালিকা ধরে নিয়োগের পরিকল্পনা
শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোন পদে নিয়োগের অনুমোদন রয়েছে, কোথায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে এবং কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া কী পর্যায়ে আছে—এসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্য পদের তালিকা, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো এবং চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদের তালিকা ধরে একটি সময়াবদ্ধ নিয়োগ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও পাঠানো হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে ৪ হাজার ৪৫৯ পদে নিয়োগের লক্ষ্য
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, এর অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৫৯টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট শূন্য পদের জন্য নয়; এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের পরিকল্পনা। ফলে সামগ্রিকভাবে ৫ লাখের বেশি শূন্য পদ পূরণে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়োগ পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রতিবেদনে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মাঠ প্রশাসনে ৯৮১টি, দপ্তর-সংস্থায় ১ হাজার ৪৫টি এবং মন্ত্রণালয়ে ৩৫টি পদের বিপরীতে নিয়োগের তথ্যের পাশাপাশি ২৬১টি শূন্য পদে নিয়োগ ও প্রায় ৮৬ শতাংশ অর্জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব সংখ্যার পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট নয়। তাই মোট লক্ষ্যমাত্রা, নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া পদের সংখ্যা এবং অর্জনের হার পৃথকভাবে প্রকাশ করা হলে অগ্রগতি মূল্যায়ন সহজ হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থায় ৪৭ হাজার ৩২৬টি পদ সৃজন, ১৮ হাজার ৮৯৩টি পদ সংরক্ষণ এবং ২৯৩টি পদ স্থায়ীকরণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। তবে পদ সৃজন বা সংরক্ষণকে সরাসরি নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এসব পদের নিয়োগযোগ্যতা ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে।

নিয়োগবিধি সংস্কার ও সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়নের উদ্যোগ
শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতির কাঠামোগত জটিলতা দূর করতে ‘কমন নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। মৎস্য অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৭টি নতুন নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালা প্রণয়ন অথবা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এবং বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে সংবিধানের আলোকে সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৩ জুলাই গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক, বদলি ১৪ এনসিটিবি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক, বদলি ১৪ এনসিটিবি কর্মকর্তা

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি এবং প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন বইয়ে একাধিক নৌকার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর সংস্থাটিতে শুরু হয়েছে পর্যালোচনা। এ ঘটনায় দাঁড়িপাল্লার ছবি সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে এবং নৌকার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় ১৩ জনসহ মোট ১৪ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে এ ধরনের আরও কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটি দ্রুত বইগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে।

যেভাবে শুরু হলো বিতর্ক
আগামী শিক্ষাবর্ষে বিতর্কমুক্ত পাঠ্যবই দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলার মধ্যেই ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের একটি ছবি নিয়ে প্রথম বিতর্ক তৈরি হয়। বইটির জ্ঞানের পিরামিডে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দাঁড়িপাল্লা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়িয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়েও আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ছবিটি সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল যোবায়েরকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়। এরপরই প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে পরিচিত নৌকার ছবি পাঠ্যবইয়ে এত বেশি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বই সম্পাদনা, ছবি নির্বাচন এবং তদারকির প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।

১২৮ বার ব্যবহৃত হয়েছে নৌকার ছবি
এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে মোট ১২৮টি নৌকা বা নৌকার ছবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৫২টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৫টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৩টি এবং পঞ্চম শ্রেণিতে সাতটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, গণিত বইয়ে ১৪টি এবং ‘ইংলিশ ফর টুডে’ বইয়ে চারটি নৌকার ছবি রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ২০টি এবং ইংরেজি বইয়ে পাঁচটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ২০টি, গণিত বইয়ে একটি এবং ইংরেজি বইয়ে চারটি নৌকার ছবি রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে সাতটি ও ইংরেজি বইয়ে ছয়টি ছবি রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে নৌকার ছবি রয়েছে সাতটি। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে বর্ণ শেখানোর অংশে ‘বি ফর বোট’ লেখার সঙ্গে নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এনসিটিবির দাবি, এসব ছবি নতুন করে যুক্ত করা হয়নি। ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও ছবিগুলো ছিল। ইংরেজি বর্ণ শেখানোসহ পাঠ্যবস্তুর প্রয়োজনেই সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ছাপা বই সংশোধনে বাড়তি খরচ দেবে না সরকার
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৯ লাখ কপির মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ ছাপা হয়ে গেছে। ভুল শনাক্ত হওয়ার পর বাকি ১৮ লাখ কপি ছাপার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ছাপা হওয়া বইগুলোর সংশোধনের জন্য সরকারের বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে না। সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাগুলো নিজ নিজ খরচে ভুল থাকা পৃষ্ঠা বা ফর্মা নতুন করে ছাপাবে। এরপর বইগুলো পুনরায় বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হবে। বাকি বইয়ের মুদ্রণকাজও সংশোধিত পৃষ্ঠা যুক্ত করে শেষ করা হবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি সংশোধন করে নতুন করে ছাপানো হবে। এরপর বই পুনরায় বাঁধাই করে ছাপাখানাগুলোই মাঠপর্যায়ে পাঠাবে। এ কাজ তারা নিজেদের খরচে করে দেবে।

নৌকার ছবি নিয়ে বদলি ১৩ কর্মকর্তা
প্রাথমিক স্তরের বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় ১৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো বা বদলি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক উইংয়ের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দারকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন প্রাথমিকের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ ড. সাফায়েত হোসেন এবং অধ্যাপক আব্দুল মুমিন মোছাব্বিরও।

এর আগে এনসিটিবিতে সাত বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা ড. মো. কামরুল হক ভূঁইয়াকেও বদলি করা হয়। তালিকায় আরও রয়েছেন হুমায়ুন কবির, আহসানুল আরেফিন চৌধুরী, ড. আবু হানিফ, রেজাউল করীম, মনির হোসেন মজুমদার, মাহমুদ বিন আমিন এবং আফসানা আইয়ুব দীপু। প্রতিবেদনে তাঁদের কয়েকজনের অতীতের পদায়ন বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সূত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা এবং বদলির কারণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। উপসচিব সিরাজুল ইসলাম ও মাধ্যমিক শাখার গবেষণা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বদলির সুনির্দিষ্ট কারণও জানা যায়নি।

আরও অসংগতি খুঁজতে বিশেষ কমিটি
পাঠ্যবইয়ে নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের পর অন্য বইগুলোতেও একই ধরনের অসংগতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। এ জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কমিটি বইগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, সব বইয়ে দাঁড়িপাল্লা বা নৌকার মতো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো বইয়ে অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে স্কুলে পাঠানো হবে।

এনসিটিবির সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর শেষে নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরিকল্পিতভাবে ভুল তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করতে পারেন—এমন কর্মকর্তা রয়েছেন কি না, তা চিহ্নিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে পাঠ্যবইয়ের ভুল সংশোধন, পুনর্মুদ্রণ এবং বিতরণ নিশ্চিত করাই এখন এনসিটিবির সামনে বড় কাজ। বিশেষ কমিটির পর্যালোচনায় আরও কোনো অসংগতি উঠে আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে আরও তিন বছর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে আরও তিন বছর

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সুবিধা পেয়েছে নেপালও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পেল দেশটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সময় বৃদ্ধি
এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিনের মাথায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সামনে থাকা গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, সাম্প্রতিক অভিঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের বিদ্যমান কাঠামোয় সাধারণত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জটিলতা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রাখে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বহিরাগত অভিঘাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেয় এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

সংস্কার ও অগ্রগতি জানাতে হবে জাতিসংঘকে
বর্ধিত প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিয়ে জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউএনসিডিপির কাছে নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের চিঠি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। পরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে
তিন বছর সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আপাতত বড় ধরনের শুল্কচাপের আশঙ্কা থেকে স্বস্তি পাবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকেরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মোট রপ্তানির ৭৩ শতাংশ এলডিসিভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় রয়েছে। উত্তরণের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রক্রিয়াটি মসৃণ করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছিল বাংলাদেশ
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করায় চলতি বছর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। ২০১৮ সালের পর জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উত্তরণের জন্য মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বা জিএনআইয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৭ ডলার। ওই সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার।

মানবসম্পদ সূচকের ন্যূনতম মান ছিল ৫৯ দশমিক ৬। সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭ দশমিক ৫। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের সীমা ছিল ৪০ দশমিক ৬, যেখানে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২১ দশমিক ৯। এর আগে ২০২১ সালের ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউএনসিডিপির দ্বিতীয় ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এরও আগে ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটি উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল।

উত্তরণের পরও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি দেশকে অন্তত দুটি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। তবে যোগ্যতা অর্জনের পরও পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় সেই অবস্থান ধরে রাখতে হয়। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ, যে তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে।

২০১৯ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার, যা জাতিসংঘের নির্ধারিত ১ হাজার ২২২ ডলারের সীমার চেয়ে বেশি। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৫ দশমিক ৩, যেখানে নির্ধারিত সীমা ছিল ৬৬। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭ দশমিক ৩, যা উত্তরণের জন্য নির্ধারিত ৩২-এর সীমার নিচে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য দুই বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

সব কটি মানদণ্ড পূরণ করলেও এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অর্জিত উন্নয়ন ধরে রাখা এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হচ্ছে। নতুন করে পাওয়া তিন বছরের সময় তাই শুধু উত্তরণ পেছানোর সুযোগ নয়, বরং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক দুর্বলতা কমানো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শীতের শুরুতেই সবজির বাজারে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
শীতের শুরুতেই সবজির বাজারে অস্বস্তি

রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। তবে নতুন সবজির সরবরাহ শুরু হলেও দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। বরং নতুন আলু কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় বাড়তি চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে থাকলেও কয়েকটি সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ। মুরগি ও ডিমের বাজারেও রয়েছে নির্ধারিত দাম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

নতুন সবজির দামেও স্বস্তি নেই
বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমের শুরুতে দাম বেশি থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে সবজিটি। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন জানান, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে। পরে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসতে পারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত সবজির দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু এবার বাজারে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সবজির দাম এখনো বেশ চড়া।

সবজি কিনতে আসা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, টেলিভিশনে দেখা যায়, কোথাও পাঁচ টাকা দিয়েও লাউ বিক্রি হচ্ছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই কেজিপ্রতি ১০০ টাকার আশপাশে। শীত এলেও এবার সবজির দাম কমার বদলে বাড়তি মনে হচ্ছে।

কোন সবজির দাম কত
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং পটোল ৬০ টাকায়। লম্বা বেগুনের দাম ১০০ টাকা এবং গোল বেগুনের দাম ১২০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং শিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ টমেটোর দাম ১২০ টাকা হলেও দেশি টমেটো কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজার
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন বাদামি ব্রয়লার ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়।

মাছের বাজারেও চড়া দাম
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে মাছের দামে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। প্রতি কেজি ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের দাম ১ হাজার টাকা কেজি। বড় আকারের চিংড়ি কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। আর সাগরের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

ইলিশের কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা
মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের তালিকায় রয়েছে ইলিশ। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, সাগরের মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। এসব মাছ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করা যায় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।

তবে ক্রেতা আজাদ রহমানের মতে, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম কিছুটা বেশি। যদিও দাম বেশি হলেও এখানে তুলনামূলক তরতাজা মাছ পাওয়া যায় বলে তিনি মনে করেন। সব মিলিয়ে শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও রাজধানীর বাজারে এখনো দাম কমার লক্ষণ নেই। সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম—প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য কিনতেই ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি