খুঁজুন
                               
, ,
           

মিরপুর টেস্টে চোট, কনকাশন বদলি পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
মিরপুর টেস্টে চোট, কনকাশন বদলি পেল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার মুমিনুল হক। তার কনকাশন বদলি হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন জাকের আলী অনিক। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়েও নেমেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে এ ঘটনা ঘটে। মেহেদী হাসান মিরাজের করা বলটি ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান ক্যারিবীয় ব্যাটার জশুয়া বিশপ। বলটি চলে যায় শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা মুমিনুলের বাঁ দিকে।

ক্যাচ নিতে গিয়ে মাথায় আঘাত
বলটি তালুবন্দী করতে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুমিনুল। এক হাতে বলটি ধরতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। এরপর হেলমেটসহ মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে যান এই বাঁহাতি ব্যাটার। আঘাত পাওয়ার পর মুমিনুলকে ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়। দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও। সেখানে তার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

বদলি হিসেবে জাকেরের অন্তর্ভুক্তি
মুমিনুল মাঠ ছাড়ার পর প্রথমে বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামেন জাকের আলী। পরবর্তী সময়ে মুমিনুলের কনকাশন বদলি হিসেবে তাকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পান জাকের। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, কনকাশন বদলি হিসেবে অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় মূল ক্রিকেটারের পরিবর্তে ম্যাচের বাকি অংশে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং করতে পারেন।

বাংলাদেশের ষষ্ঠ কনকাশন বদলি
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে পাঁচবার কনকাশন বদলির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে কলকাতা টেস্টে মোহাম্মদ শামির বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস ও নাঈম হাসান। তাদের পরিবর্তে খেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বদলি হিসেবে খেলেন তাসকিন আহমেদ। একই বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ইয়াসির আলীর বদলি হন নুরুল হাসান সোহান।

এরপর ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারের কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তানজিদ হাসান। মুমিনুল হকের পরিবর্তে জাকের আলীর অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ষষ্ঠবারের মতো কনকাশন বদলির ঘটনা ঘটল।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ব্যাটিং ধসে চাপে বাংলাদেশ, বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
ব্যাটিং ধসে চাপে বাংলাদেশ, বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা

মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ৩৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক দল। এর মধ্যে ক্যারিবীয় স্পিনার রোস্টন চেজ একাই তুলে নিয়েছেন চারটি উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বৃষ্টি নামার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৪ রান। প্রথম ইনিংসের লিডসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যবধান দাঁড়ায় ৬১ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭ রানের লিড
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ১০৫ রান করেন সাদমান ইসলাম। এ ছাড়া তাওহীদ হৃদয় ৪২, মুমিনুল হক ২৮ এবং লিটন দাস অপরাজিত ৩৪ রান করেন। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাঈম হাসান। ৩৩ রান খরচায় চারটি উইকেট নেন এই অফ স্পিনার। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে চেজের ঘূর্ণিতে ধস
২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান ইসলামকে ১৩ রানে ফিরিয়ে উইকেট শিকারের সূচনা করেন রোস্টন চেজ। এরপর কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১০ রান করে চেজের শিকার হন। একই বোলারের বলে শূন্য রানে আউট হন তাওহীদ হৃদয়ও। ফলে মাত্র ১৩ ওভারে ৩৪ রান তুলতেই চার উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা সাদমানের দ্রুত বিদায়ের পর টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।

বৃষ্টিতে থামল খেলা, ক্রিজে লিটন-জাকের
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেই মিরপুরের আকাশে বৃষ্টি নামে। ফলে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। বৃষ্টি নামার সময় ক্রিজে ছিলেন লিটন দাস ও জাকের আলী অনিক। লিটন ৪ এবং জাকের ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৩৪ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসের লিড যোগ করে মোট ব্যবধান দাঁড়ায় ৬১ রান। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত চার উইকেট হারানোয় ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান চাপে পড়েছে। বৃষ্টি থামার পর লিটন ও জাকেরের জুটি কতটা দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

পাবনায় প্রকাশ্যে জোড়া খুন, সিসিটিভিতে ছয় হামলাকারী

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পাবনায় প্রকাশ্যে জোড়া খুন, সিসিটিভিতে ছয় হামলাকারী

পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজারে প্রকাশ্যে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, ছয় মুখোশধারী দুর্বৃত্ত মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পালিয়ে যাওয়ার সময়ও তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে, যাতে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসার সাহস না পায়। নিহত দুজন হলেন আতাইকুলা থানা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৪০) এবং পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম (৫০)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ঢাকা-পাবনা মহাসড়কসংলগ্ন পুষ্পপাড়া বাজারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য
সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে পশ্চিম দিক থেকে ছয় মুখোশধারী ব্যক্তি বাজার এলাকায় আসে। এরপর তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর যেদিক দিয়ে এসেছিল, সেদিক দিয়েই পালিয়ে যায়। পালানোর সময়ও হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কেউ তাদের বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।

নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয়
নিহত রিপন হোসেন ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন এবং শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর আব্দুস সালামকে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল ও সমাবেশে দেখা গেছে।

একই বাজারে আগেও চার খুন
পুষ্পপাড়া বাজারে এর আগেও একই ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় এই বাজারেই প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রায় এক যুগ পর একই বাজারে আবারও প্রকাশ্যে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতাইকুলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও চরমপন্থি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার অভিযোগ
নিহত আব্দুস সালামের ভাই আব্দুল কালাম অভিযোগ করেছেন, তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের চারজন হত্যার ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার সময় তিনি কারাগারে থাকলেও তার নামেও মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুল কালামের ভাষ্য, এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণে তাদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস পুলিশের
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ ঢাকা মেইলকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তিনি বলেন, আতাইকুলা অঞ্চল আগে থেকেই চরমপন্থি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য পরিচিত। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে এ অঞ্চলে অপরাধের মাত্রা কমেছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, পাবনায় যোগ দেওয়ার পর গত তিন মাসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

লোকসানের মধ্যেও কর্মকর্তাদের জন্য কোটি টাকার তহবিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
লোকসানের মধ্যেও কর্মকর্তাদের জন্য কোটি টাকার তহবিল

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শ্রমিক না থাকলেও শ্রমিকদের জন্য গঠিত তহবিল থেকে গত ছয় অর্থবছরে ৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) নামে এই তহবিলে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ বিনিয়োগ থেকে পাওয়া সুদ আয়ের একটি অংশ জমা করা হয়েছে। আর সেই অর্থ ভাগ করে নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ডিএসইর বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ছয় বছরে এই তহবিলে ৩২ কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসায় লোকসান রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন লোকসান হলেও কর্মকর্তাদের জন্য ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ডব্লিউপিপিএফ গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, পরিচালন মুনাফা না থাকলে সুদ আয় থেকে এ ধরনের তহবিল গঠন করা যৌক্তিক নয়। বিষয়টিকে অনিয়ম ও অনৈতিক চর্চা হিসেবে দেখছেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছয় বছরে তহবিলে ৩২ কোটি টাকা
ডিএসইর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় অর্থবছরে ডব্লিউপিপিএফ তহবিল গঠনে মোট ৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৫ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ কোটি ৮৩ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৯ কোটি ২ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ কোটি ৩৫ লাখ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএসইতে ৩৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ডব্লিউপিপিএফ থেকেও অর্থ দেওয়া হচ্ছে। অথচ ব্যাংক, বিমা ও লিজিং প্রতিষ্ঠানের মতো অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক না থাকায় এ ধরনের তহবিল গঠন করা হয় না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মূল ব্যবসায় লোকসান, সুদে মুনাফা
একসময় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিল ডিএসই। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার বড় অংশ আসছে মূল ব্যবসার বাইরে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া সুদ থেকে। শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ এফডিআর, ট্রেজারি বন্ড ও বিলে বিনিয়োগ করে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়েই মূলত নিট মুনাফার হিসাব ইতিবাচক থাকছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএসইর পরিচালন আয় ছিল ১০১ কোটি ৩ লাখ টাকা। বিপরীতে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ফলে মূল পরিচালন কার্যক্রমে লোকসান দাঁড়ায় ৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ওই অর্থবছরে এফডিআর ও ট্রেজারি বন্ড-বিল থেকে সুদ আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। এই সুদ আয়ের ওপর ভিত্তি করেই কর্মকর্তাদের জন্য ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার ডব্লিউপিপিএফ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি এফডিআর ও ট্রেজারি বিলে ৫৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ ছিল ২৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএসইর নিট মুনাফা হয়েছে ৩১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ পয়সা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফডিআর ও ট্রেজারি বন্ড-বিলে বিনিয়োগের মতো অর্থ না থাকলে প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসান গুনতে হতো।

পরিচালন মুনাফা ছাড়া তহবিল গঠন নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, ডব্লিউপিপিএফ গঠন করতে হয় পরিচালন মুনাফা হলে। পরিচালন মুনাফা ছাড়া সুদের ওপর এই তহবিল গঠন করা আইনের ব্যত্যয়। সুদ আয় করতে কর্মকর্তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। তাই ওই আয়ের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের জন্য তহবিল গঠন করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি। ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, শ্রমিক না থাকায় ব্যাংকগুলো ডব্লিউপিপিএফ গঠন করেনি। অথচ ডিএসই উচ্চ বেতনে নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের এই তহবিলের সুবিধা দিচ্ছে। মূল ব্যবসায় মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পরও এমন সুবিধা দেওয়া যৌক্তিক নয়। তাঁর মতে, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডাররা বর্তমানে আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

ডিএসইর এক পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা উচ্চ বেতনের পাশাপাশি বিনা সুদে গাড়ি ও বাড়ির ঋণসুবিধা পান। এ ছাড়া গাড়ির চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও রয়েছে। এসব সুবিধার পরও শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ থেকে অর্জিত সুদ আয়ের একটি অংশ ডব্লিউপিপিএফ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ওই পরিচালকের দাবি, ডিএসইর মালিকানা যাঁদের হাতে, সেই শেয়ারহোল্ডারদের অনেকেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন। অর্থসংকটের কারণে কিছু ব্রোকারেজ হাউস বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।

মন্তব্য দিতে চাননি চেয়ারম্যান ও এমডি
ডব্লিউপিপিএফ গঠন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে জানতে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে আগামীর সময়। বুধবার সকালে তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি। ডিএসইর এক পরিচালকের মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন। একই দিন রাতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ মাত্র ১৭ পয়সা
ডিএসইর পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এত বড় মূলধনের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির রিটেইনড আর্নিংস বা সংরক্ষিত মুনাফার পরিমাণ মাত্র ৭৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১ দশমিক ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি শেয়ারে লভ্যাংশের পরিমাণ ১৭ পয়সা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মূল ব্যবসায় আয় বাড়াতে না পারা এবং সুদ আয়ের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ডিএসইর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে শেয়ারহোল্ডারদের সীমিত লভ্যাংশ, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তহবিল গঠনের বিষয়টি নিয়ে তাই বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

যেভাবে গড়ে উঠেছে ডিএসই
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় লেনদেনব্যবস্থা চালু করে। পরে ২০১৩ সালে এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন প্রণয়নের পর ওই বছরের ২১ নভেম্বর ডিএসই ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। এর মাধ্যমে মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও লেনদেনের সদস্যপদ পৃথক করার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়।

২০১৮ সালে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়। দীর্ঘ ইতিহাস ও বড় মূলধনের এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন সক্ষমতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডব্লিউপিপিএফ গঠনের ভিত্তি ও অর্থ বরাদ্দের বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি