খুঁজুন
                               
, ,
           

মাদক নির্মূলে আইজিপির ‘অ্যাকশন প্ল্যান’; ৭ দিনে ১৭১৪ মামলায় গ্রেফতার ২৫৩০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
মাদক নির্মূলে আইজিপির ‘অ্যাকশন প্ল্যান’; ৭ দিনে ১৭১৪ মামলায় গ্রেফতার ২৫৩০

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মাদককে চিরতরে নির্মূল করতে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)।

ইতোমধ্যেই মাদকের বিরুদ্ধে নিজের শুন্য সহিষ্ণুতার নীতির বিষয়টি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরই জানিয়ে দিয়েছেন।

আইজিপি বলেছেন, ‘কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে অথবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দেশকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রধানের এমন কঠিন বার্তার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ কর্মকর্তারা। গতি বেড়েছে মাদক বিরোধী অভিযানেও।

কেন্দ্র থেকে প্রান্ত সুচারু ও সমন্বিতভাবে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সর্বস্তরের কর্মকর্তারা। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে দেশজুড়ে মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ‘গত এক সপ্তাহে পুলিশ ১ হাজার ৭১৪ টি মামলায় ২ হাজার ৫৩০ জন মাদক কারবারী ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করেছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা কালের আলোকে জানান, ‘মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুন্য সহনশীলতা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে দেশব্যাপী চলমান পুলিশী কার্যক্রম নিরিবিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলছে।

আইজিপি’র প্রাধিকারভুক্ত কার্যতালিকায় দেশমাতৃকাকে মাদকমুক্ত করা একটি অন্যতম প্রায়োরিটি।’

চলতি মাসের ১২ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের দায়েরকৃত এসব মামলায় ৩ লাখ ২ হাজার ২৫৯ পিছ ইয়াবা, ৫ হাজার ৮৪৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২ কেজি ৪৬২ গ্রাম হেরোইন, ৮২০ কেজি গাঁজা, ২ হাজার ৬৮২ লিটার দেশি মদ এবং ২৯১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে।

সূত্র মতে, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ড.বেনজীর আহমেদ পুলিশ কর্মকর্তাদের ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

নিয়মিতই তিনি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। ৬৬০ থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি কথা বলেছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেমন উচ্চকন্ঠ নীতি গ্রহণ করেছেন তেমনি মাদক নির্মূলেও সর্বাত্নক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন।

স্পষ্ট ভাষায় আইজিপি বলেছেন, ‘পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। যারা অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বড়লোক হতে চান, তাদের স্থান পুলিশে নয়। তারা পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিন। বাড়ি ফিরে ব্যবসা করে বড়লোক হন।’

সূত্র মতে, ড.বেনজীর আহমেদ ডিএমপি ও র‌্যাবে’র প্রধান থাকাকালীন সময়েও পুলিশের দু’টি ইউনিটে জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

ওই সময় কঠিন এ চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পুলিশ প্রধান হিসেবেও মাদক অপরাধ নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ স্বপ্ন দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দেবেন। সেই স্বপ্নপূরণে যুদ্ধ ঘোষণা করে বীরদর্পে হাঁটতে শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ প্রধানের প্রাধিকারভুক্ত এ কার্যক্রম দিনের পর দিনে অধিকতর গতিশীলতার সুচারু ও সমন্বিতভাবেই কেন্দ্র থেকে প্রান্তে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বিশেষ অপরাধ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ।

সেদিন তিনি বলেন, ‘রাজারবাগ থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। মাদকের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধও রাজারবাগ থেকেই শুরু হবে।’

সূত্র মতে, ওই সভাতেই ডিএমপি’র উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঐকমত্যে পৌঁছান মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে প্রাধিকারভুক্ত করে ব্যবস্থা নিলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।

ডিএমপি কমিশনার মোহা.শফিকুল ইসলাম পুলিশ প্রধানের দেওয়া নির্দেশনাকে ইবাদতের মতোন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

রাজধানীর পুলিশ প্রধান ঘোষণা দেন- মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘোষণায় টনক নড়ে রাজধানীর থানার অফিসার ইনচার্জদের।

সূত্র জানায়, পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সভার দু’দিন পরই ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ডিএমপির অপরাধ বিভাগের ও গোয়েন্দা (ডিবি) ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সব উপকমিশনারের কাছে মাদক নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণে আনতে দিকনির্দেশনামূলক চিঠি পাঠান।

সেই চিঠিতে বলা হয়েছে- ‘সমাজ থেকে মাদক নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্ট মামলা পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।’

এ চিঠির পরপরই মাদকের বিরুদ্ধে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে পুলিশ।

জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহা.শফিকুল ইসলাম কালের আলোকে বলেন, ‘মাননীয় পুলিশ প্রধানের নির্দেশে মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা পুরোমাত্রায় কাজ শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায় প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।’

কালের আলো/এসআর/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি