খুঁজুন
                               
, ,
           

সংসদে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস?

মোস্তফা হোসেইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
সংসদে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস?

আগামী সংসদ হবে উত্তপ্ত কড়াই। সেই কড়াইয়ে তেল ঢালার মানুষগুলো প্রস্তুত। ক্ষেত্র ও উপলক্ষ্যের ঘাটতি নেই। এই মুহূর্তে প্রাক উত্তাপ ছড়ানোটাও স্পষ্টই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি দৈনিক পত্রিকায় রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দল এনসিপি আওয়াজ তুলেছে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে হবে সংসদের প্রথম অধিবেসনেই। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলন মাধ্যমে দাবি করলেন,‘কোনোভাবেই বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। যদি এটা হয়, আমরা জনগণের পক্ষ থেকে ৩০০ (২৯৯) জন সংসদ সদস্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করব এবং ৩০০ জনকেই এর জবাব দিতে হবে।’

আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য থেকে প্রশ্ন আসে সংসদের শুরুতে এমনকি বছরের প্রথম অধিবেশনে যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সাংবিধানিক বিধান আছে এবং এটা বাংলাদেশের সাংবিধানিক রেওয়াজও- তার কী হবে? আসিফ মাহমুদের একই সাংবাদিক সম্মেলনের আরেকটি বক্তব্য এখানে স্মরণযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।’ তার মানে তারা এখনও মনে করেন, বর্তমান সংসদ নির্বাচন ও সরকার গঠন হয়েছে সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার মাধ্যমে কিংবা সংবিধান বহির্ভূতভাবে। কিন্তু তাদের দল ও জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ সংবিধানের আলোকেই শপথ গ্রহণ করেছেন।সংবিধানকে সমুন্নত রাখার কথা অঙ্গীকারও করেছেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে এনসিপি এবং তাদের ১১ দলীয় জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি শপথ অনুষ্ঠানের সময় থেকেই জোরালোভাবে বলে আসছেন। তাদের কথা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়াটা জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি করা। প্রকারান্তরে তারা বলছেন, বর্তমান সংসদও জুলাই সনদের আওতায় নির্বাচিত হয়েছে। যা সরকারি দল বিএনপি মানতে নারাজ। তারা আগোগোড়া বলে আসছে-সংবিধানকে রক্ষা করা, সংবিধানকে মান্য করার কথা। তাদের এই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে মনে করে এনসিপি।

বিএনপির সামনে আওয়ামী লীগকে উজ্জীবিত করার কৌশলটা কার্যকর হবে বেশি। কারণ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে এলে তারা জুলাই সনদের নামে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করবে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের আদেশও বাতিলের চেষ্টা করতে পারে। তবে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি হয়তো একটু নরম হওয়ার দিকেই যাবে। হয়তো আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া পর্যন্ত তারা ছাড় দিতে পারে। যার পেছনে তাদের ভাবনা হতে পারে- জামায়াতকে মোকাবিলা করা।

টানাপড়েন শুধু তাই নয় এনসিপি বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তারা সংস্কার প্রস্তাবকে সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করছে বলে। যেমন বিএনপি যখন ডেপুটি স্পিকারের নাম প্রস্তাবের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে প্রস্তাব করেছে সেটাও তারা সরলভাবে গ্রহণ করেনি। তাদের কথা সংস্কার প্রস্তাবে এটা বলা ছিলো। তাই বিএনপিকে পুরোপুরিভাবে সংস্কার প্রস্তাব মানতে হবে এবং ইচ্ছামতো পথ গ্রহণ করা বিএনপির জন্য অনুচিত। বিএনপির কথা-এটা সংস্কার প্রস্তাবে যেমন আছে তেমনি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও আছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামী যদি ডেপুটি স্পিকারের পদে নাম প্রস্তাব করে তাহলে বিএনপির ইশতেহার যেমন মানা হবে তেমনি সংস্কার প্রস্তাবেরও মানা হয়ে যায়। সুতরাং বিএনপি যদি বলে জুলাই সনদ নয় আমরা আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়ন করছি, তাহলে কি ব্যত্যয় হবে?

এমন আরও কিছু বিষয় নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলাকালে ৩ মার্চ নতুন করে ইস্যু তৈরি হয়েছে উচ্চ আদালতে দায়ের করা দুটি রিট পিটিশন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ইতোমধ্যে রিট পিটিশন করেছেন দুইজন আইনজীবী। আমার মনে হয়, এই ঘটনাটি সংসদীয় সাইক্লোনের সতর্ক সংকেত হিসেবে সহজেই গণ্য হতে পারে। আর এ নিয়ে যেভাবে এনসিপি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাকে ঝড়ের তাণ্ডবের পূর্বাভাস বলতে হবে।

কারণ সংসদ অধিবেশনের শুরুতে এনসিপি জামায়াত জোট যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা কিংবা রাষ্ট্রপতিকে অবৈধ গণ্য করে অভিশংসন আনার চেষ্টা করে তখন এই রিট বড় রকমের বাধা হিসেবে দেখা দেবে। সরকারি দল সহজেই সংসদে বলার সুযোগ পাবে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সুতরাং বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। এই ঘোষণা দিয়ে তারা আলোচনা বন্ধ করে দিতে পারে।

অন্যদিকে বিরোধী দল গণভোট সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিতর্কিত জুলাই সনদকে পথনির্দেশক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। যার মানে হচ্ছে সংসদে স্পষ্টত দুটি ভিন্ন মত ও পথের দেখা মিলবে প্রথম অধিবেশন থেকেই। এই মুহূর্তে দুই পক্ষের দুটি পথ সমান্তরালে চলবে বলে মনে হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবাদ সংসদ থেকে রাজপথে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়লো।

জুলাই সনদ নিয়ে এই কাজিয়া যখন সংসদ ও রাজপথকে উত্তপ্ত করবে, তখন বিএনপিকে সামাল দিতে হবে দুই স্থানেই। এরমধ্যে শুধু রাজনীতিই নয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের অর্থনীতি, জননিরাপত্তার বেহাল দশা বানিয়ে দিয়ে গেছে তাও সামাল দিতে হবে বিএনপিকেই। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর দেশকে ফোকলা বানানোর অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন সেই স্থিতিশীলতাকে ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি একাট্টা এখনই।

এরমধ্যে ইরান-ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির যে প্রভাব বাংলাদেশের জনজীবনে পড়বে তাও বর্তমান সরকারকে তটস্থ করে দেওয়ার মতো। সবদিক সামাল দিয়ে বিএনপির একার পক্ষে কি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে? এমন মনে করার কারণ নেই পাহাড় সমান সংসদীয় বিজয় তাদের তখনও শক্তি জোগাতে পারবে। সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সামনে ছিলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। মানুষ জামায়াত ঠেকাও চিন্তা করে একতরফা ভোট দিয়েছে বিএনপিকে। শাসন ক্ষমতায় আসার পর সেই ভোটাররা যে অন্ধভাবে তাদের সমর্থন দেবে না এটাও ঠিক। তাহলে কি সেই জামায়াত শক্তিই কি আবার জনগণের কাতারে ঢুকে যাওয়ার সুযোগ পাবে? রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে বিরোধী দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ থাকে। সেই আকর্ষণ ডিঙ্গিয়ে বিএনপি কি নিজের ঘর সামাল দিতে পারবে?

পুরোটাই নির্ভর করবে বিএনপি কোন নীতিতে ভবিষ্যৎ রচনা করবে তার ওপর। এখনই তাদের ভাবতে হবে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গটি। জামায়াত এনসিপি যতই আওয়ামী লীগের বিরোধিতাই করুক না কেন, প্রয়োজনে জামায়াত যদি নতুন মেরুকরণের কথা ভাবে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এক্ষেত্রে হয়তো জামায়াত জোটে ভাঙন তৈরি হতে পারে। আর সেই কাজটি জামায়াত করতে পিছপা হবে না। তাদের ইতিহাস বলে তারা ক্ষমতার জন্য বিএনপিকে যেমন কাছে টানতে পারে তেমনি আওয়ামী লীগকে কাছে টানতে পারে। আবার একইভাবে বিপরীতে যেতে সময় নেয় না। আর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা নিজেদের মৌলিকত্বকেও ছাড় দিতে নারাজ। এর প্রমাণ তারা অতীতে যেমন দিয়েছে এবার নির্বাচনের আগেও দিয়েছে।

সুতরাং এবার সংসদের ঝড় যে রাজনৈতিক নয়া মেরুকরণের দিকেও টেনে নেবে না তা হলফ করে বলা যায় না। আবার বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে কাছে টানতে চায় বিরোধী পক্ষ থেকে যে বাধার মুখে পড়তে হবে তা সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা তাও হয়তো চিন্তায় আসতে পারে। তবে বিএনপির সামনে আওয়ামী লীগকে উজ্জীবিত করার কৌশলটা কার্যকর হবে বেশি। কারণ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে এলে তারা জুলাই সনদের নামে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করবে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের আদেশও বাতিলের চেষ্টা করতে পারে। তবে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি হয়তো একটু নরম হওয়ার দিকেই যাবে। হয়তো আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া পর্যন্ত তারা ছাড় দিতে পারে। যার পেছনে তাদের ভাবনা হতে পারে- জামায়াতকে মোকাবিলা করা।

সবশেষে বলা যায় জুলাই আন্দোলন পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি সরলপথে যাওয়াটা সন্দেহযুক্ত হয়েই থাকলো। জুলাই আন্দোলনে যাদের বিতাড়িত করা হয়েছে তারাও যে এখনও অপ্রাসঙ্গিক তা মুখ উচিয়ে বলার সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে আন্দোলনকারীদের মত ও পথভিন্নতা এতটাই বেশি যে রাজনীতির গতিপথ সম্পর্কে আগাম আভাস দেওয়া কঠিন বৈকি।

লেখক : সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মিয়ারচরের শত পরিবার

বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মিয়ারচরের শত পরিবার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই বছরে নদীভাঙনে অন্তত ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেসব আশ্রয়স্থলও এখন নদীর গ্রাসে চলে যাচ্ছে।

মিয়ারচরের বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই ঘরও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী বলেন, নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লারখাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, তীব্র স্রোতে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার একটি অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার বাসিন্দারাও জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়ক ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অন্য অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাফিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাফিস আহমেদের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার বাঁশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম গাজী। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নিহতের খালাতো ভাই শেখ নাজমুল হাসান জানান, বুধবার রাতে চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন রাফিস। এ সময় পাশের একটি দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাকবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি চলছিল।

বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে রাফিস সেখানে গেলে একপর্যায়ে ঝালমুড়ি বিক্রেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিসসহ আরও দুজনের ওপর হামলা চালান। এতে রাফিসের পেটের ডান পাশে গভীর ছুরিকাঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুল হাসান আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে একটি টহল পুলিশ দল আটক করে। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রাফিসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সর্জন পদ্ধতিতে একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি মরিচ ও কাঠ কচু চাষ করছেন তিনি। তাঁর সফলতা দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠ কচু। ফলে একই জমি থেকে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেডের দুই পাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।

তিনি জানান, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মুসলিম উদ্দীনের উদ্যোগ সফল হওয়ায় মিরসরাইয়ের অন্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন। এতে পতিত বা নিচু জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি