খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সংসদে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস?

মোস্তফা হোসেইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
সংসদে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস?

আগামী সংসদ হবে উত্তপ্ত কড়াই। সেই কড়াইয়ে তেল ঢালার মানুষগুলো প্রস্তুত। ক্ষেত্র ও উপলক্ষ্যের ঘাটতি নেই। এই মুহূর্তে প্রাক উত্তাপ ছড়ানোটাও স্পষ্টই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি দৈনিক পত্রিকায় রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দল এনসিপি আওয়াজ তুলেছে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে হবে সংসদের প্রথম অধিবেসনেই। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলন মাধ্যমে দাবি করলেন,‘কোনোভাবেই বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। যদি এটা হয়, আমরা জনগণের পক্ষ থেকে ৩০০ (২৯৯) জন সংসদ সদস্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করব এবং ৩০০ জনকেই এর জবাব দিতে হবে।’

আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য থেকে প্রশ্ন আসে সংসদের শুরুতে এমনকি বছরের প্রথম অধিবেশনে যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সাংবিধানিক বিধান আছে এবং এটা বাংলাদেশের সাংবিধানিক রেওয়াজও- তার কী হবে? আসিফ মাহমুদের একই সাংবাদিক সম্মেলনের আরেকটি বক্তব্য এখানে স্মরণযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।’ তার মানে তারা এখনও মনে করেন, বর্তমান সংসদ নির্বাচন ও সরকার গঠন হয়েছে সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার মাধ্যমে কিংবা সংবিধান বহির্ভূতভাবে। কিন্তু তাদের দল ও জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ সংবিধানের আলোকেই শপথ গ্রহণ করেছেন।সংবিধানকে সমুন্নত রাখার কথা অঙ্গীকারও করেছেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে এনসিপি এবং তাদের ১১ দলীয় জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি শপথ অনুষ্ঠানের সময় থেকেই জোরালোভাবে বলে আসছেন। তাদের কথা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়াটা জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি করা। প্রকারান্তরে তারা বলছেন, বর্তমান সংসদও জুলাই সনদের আওতায় নির্বাচিত হয়েছে। যা সরকারি দল বিএনপি মানতে নারাজ। তারা আগোগোড়া বলে আসছে-সংবিধানকে রক্ষা করা, সংবিধানকে মান্য করার কথা। তাদের এই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে মনে করে এনসিপি।

বিএনপির সামনে আওয়ামী লীগকে উজ্জীবিত করার কৌশলটা কার্যকর হবে বেশি। কারণ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে এলে তারা জুলাই সনদের নামে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করবে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের আদেশও বাতিলের চেষ্টা করতে পারে। তবে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি হয়তো একটু নরম হওয়ার দিকেই যাবে। হয়তো আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া পর্যন্ত তারা ছাড় দিতে পারে। যার পেছনে তাদের ভাবনা হতে পারে- জামায়াতকে মোকাবিলা করা।

টানাপড়েন শুধু তাই নয় এনসিপি বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তারা সংস্কার প্রস্তাবকে সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করছে বলে। যেমন বিএনপি যখন ডেপুটি স্পিকারের নাম প্রস্তাবের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে প্রস্তাব করেছে সেটাও তারা সরলভাবে গ্রহণ করেনি। তাদের কথা সংস্কার প্রস্তাবে এটা বলা ছিলো। তাই বিএনপিকে পুরোপুরিভাবে সংস্কার প্রস্তাব মানতে হবে এবং ইচ্ছামতো পথ গ্রহণ করা বিএনপির জন্য অনুচিত। বিএনপির কথা-এটা সংস্কার প্রস্তাবে যেমন আছে তেমনি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও আছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামী যদি ডেপুটি স্পিকারের পদে নাম প্রস্তাব করে তাহলে বিএনপির ইশতেহার যেমন মানা হবে তেমনি সংস্কার প্রস্তাবেরও মানা হয়ে যায়। সুতরাং বিএনপি যদি বলে জুলাই সনদ নয় আমরা আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়ন করছি, তাহলে কি ব্যত্যয় হবে?

এমন আরও কিছু বিষয় নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলাকালে ৩ মার্চ নতুন করে ইস্যু তৈরি হয়েছে উচ্চ আদালতে দায়ের করা দুটি রিট পিটিশন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ইতোমধ্যে রিট পিটিশন করেছেন দুইজন আইনজীবী। আমার মনে হয়, এই ঘটনাটি সংসদীয় সাইক্লোনের সতর্ক সংকেত হিসেবে সহজেই গণ্য হতে পারে। আর এ নিয়ে যেভাবে এনসিপি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাকে ঝড়ের তাণ্ডবের পূর্বাভাস বলতে হবে।

কারণ সংসদ অধিবেশনের শুরুতে এনসিপি জামায়াত জোট যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা কিংবা রাষ্ট্রপতিকে অবৈধ গণ্য করে অভিশংসন আনার চেষ্টা করে তখন এই রিট বড় রকমের বাধা হিসেবে দেখা দেবে। সরকারি দল সহজেই সংসদে বলার সুযোগ পাবে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সুতরাং বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। এই ঘোষণা দিয়ে তারা আলোচনা বন্ধ করে দিতে পারে।

অন্যদিকে বিরোধী দল গণভোট সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিতর্কিত জুলাই সনদকে পথনির্দেশক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। যার মানে হচ্ছে সংসদে স্পষ্টত দুটি ভিন্ন মত ও পথের দেখা মিলবে প্রথম অধিবেশন থেকেই। এই মুহূর্তে দুই পক্ষের দুটি পথ সমান্তরালে চলবে বলে মনে হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবাদ সংসদ থেকে রাজপথে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়লো।

জুলাই সনদ নিয়ে এই কাজিয়া যখন সংসদ ও রাজপথকে উত্তপ্ত করবে, তখন বিএনপিকে সামাল দিতে হবে দুই স্থানেই। এরমধ্যে শুধু রাজনীতিই নয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের অর্থনীতি, জননিরাপত্তার বেহাল দশা বানিয়ে দিয়ে গেছে তাও সামাল দিতে হবে বিএনপিকেই। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর দেশকে ফোকলা বানানোর অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন সেই স্থিতিশীলতাকে ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি একাট্টা এখনই।

এরমধ্যে ইরান-ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির যে প্রভাব বাংলাদেশের জনজীবনে পড়বে তাও বর্তমান সরকারকে তটস্থ করে দেওয়ার মতো। সবদিক সামাল দিয়ে বিএনপির একার পক্ষে কি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে? এমন মনে করার কারণ নেই পাহাড় সমান সংসদীয় বিজয় তাদের তখনও শক্তি জোগাতে পারবে। সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সামনে ছিলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। মানুষ জামায়াত ঠেকাও চিন্তা করে একতরফা ভোট দিয়েছে বিএনপিকে। শাসন ক্ষমতায় আসার পর সেই ভোটাররা যে অন্ধভাবে তাদের সমর্থন দেবে না এটাও ঠিক। তাহলে কি সেই জামায়াত শক্তিই কি আবার জনগণের কাতারে ঢুকে যাওয়ার সুযোগ পাবে? রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে বিরোধী দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ থাকে। সেই আকর্ষণ ডিঙ্গিয়ে বিএনপি কি নিজের ঘর সামাল দিতে পারবে?

পুরোটাই নির্ভর করবে বিএনপি কোন নীতিতে ভবিষ্যৎ রচনা করবে তার ওপর। এখনই তাদের ভাবতে হবে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গটি। জামায়াত এনসিপি যতই আওয়ামী লীগের বিরোধিতাই করুক না কেন, প্রয়োজনে জামায়াত যদি নতুন মেরুকরণের কথা ভাবে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এক্ষেত্রে হয়তো জামায়াত জোটে ভাঙন তৈরি হতে পারে। আর সেই কাজটি জামায়াত করতে পিছপা হবে না। তাদের ইতিহাস বলে তারা ক্ষমতার জন্য বিএনপিকে যেমন কাছে টানতে পারে তেমনি আওয়ামী লীগকে কাছে টানতে পারে। আবার একইভাবে বিপরীতে যেতে সময় নেয় না। আর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা নিজেদের মৌলিকত্বকেও ছাড় দিতে নারাজ। এর প্রমাণ তারা অতীতে যেমন দিয়েছে এবার নির্বাচনের আগেও দিয়েছে।

সুতরাং এবার সংসদের ঝড় যে রাজনৈতিক নয়া মেরুকরণের দিকেও টেনে নেবে না তা হলফ করে বলা যায় না। আবার বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে কাছে টানতে চায় বিরোধী পক্ষ থেকে যে বাধার মুখে পড়তে হবে তা সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা তাও হয়তো চিন্তায় আসতে পারে। তবে বিএনপির সামনে আওয়ামী লীগকে উজ্জীবিত করার কৌশলটা কার্যকর হবে বেশি। কারণ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে এলে তারা জুলাই সনদের নামে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করবে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের আদেশও বাতিলের চেষ্টা করতে পারে। তবে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি হয়তো একটু নরম হওয়ার দিকেই যাবে। হয়তো আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া পর্যন্ত তারা ছাড় দিতে পারে। যার পেছনে তাদের ভাবনা হতে পারে- জামায়াতকে মোকাবিলা করা।

সবশেষে বলা যায় জুলাই আন্দোলন পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি সরলপথে যাওয়াটা সন্দেহযুক্ত হয়েই থাকলো। জুলাই আন্দোলনে যাদের বিতাড়িত করা হয়েছে তারাও যে এখনও অপ্রাসঙ্গিক তা মুখ উচিয়ে বলার সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে আন্দোলনকারীদের মত ও পথভিন্নতা এতটাই বেশি যে রাজনীতির গতিপথ সম্পর্কে আগাম আভাস দেওয়া কঠিন বৈকি।

লেখক : সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।

নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

পোস্টে বলা হয়, ঈদুল আজহার এই আনন্দময় দিনে আমাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের ভিত্তির ওপর বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।

এর আগে সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি তিনি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বরাতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

বার্তায় মোদি বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে ভারত আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলকামনা করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩৮ ডলার বা ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেশনের শুরুতে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।

অন্যদিকে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৪ ডলার বা ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এরআগে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেে একটি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

তবে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি থাকার খবরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পর তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ‘হুমকি তৈরি করেছিল’ এমন চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জবাবে কুয়েতে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দরের কাছে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ভোর ৪:৫০ মিনিটে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালানো হয়।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি বাহিনীটি আরও বলেছে, ‘এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি শত্রুর জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাতে শত্রুরা বুঝতে পারে যে তাদের যেকোনো আগ্রাসন আর বিনা জবাবে থাকবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে, যার ফলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ‘যতক্ষণ একটি চুক্তি হবে বলে আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। এটি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয় কীভাবে এই সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এক বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আটকে আছে। যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসার প্রভাব চূড়ান্তভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে।’

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে গোলাপি আভাযুক্ত সাদা সেই মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রাণীটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সেই আগ্রহ থেকেই ঈদের দিন সকাল থেকে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন চিড়িয়াখানায়।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার এল–৭ ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, অন্য প্রাণীর খাঁচার তুলনায় এই অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় কয়েক গুণ বেশি। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছেন। অনেকেই শিশুদের কোলে নিয়ে মহিষটিকে দেখাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের কৌতূহল আর হাসি-আনন্দে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মিরপুর–৬ এলাকা থেকে আসা স্কুলশিক্ষার্থী তানভীর হোসেন জানায়, বন্ধুদের কাছ থেকে আগেই মহিষটির কথা শুনেছিল। নাম কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখা হয়েছে জানতে চাইলে সে হেসে বলে, চুলের স্টাইলটা নাকি ট্রাম্পের মতো।

মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী রাফি ইসলাম বলেন, ফেসবুকে এত ভাইরাল হওয়ার পর কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। তাই ঈদের ছুটিতে দেখতে এসেছেন। এখানে এসে দেখলেন, অনেক মানুষ শুধু এই মহিষটিকে দেখতেই ভিড় করেছেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আসা রুবিনা আক্তার বলেন, তাঁর ছোট ছেলে জোর করেই তাঁকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছে। কারণ, সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে মহিষটিকে দেখতে চেয়েছিল। বাসা থেকে ছেলেটি বলছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখতে যাবে। পরে বুঝেছেন, সেটি আসলে একটি মহিষ।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানান, মহিষটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক দিনের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যাতে খাঁচার খুব কাছে যেতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার এক কর্মী বলেন, সকাল থেকে মানুষ এসে প্রথমেই জানতে চাইছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোথায় রাখা হয়েছে। অনেকে অন্য প্রাণী না দেখে সরাসরি এই মহিষটির কাছেই চলে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহিষটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। কেউ বলছেন, এর চুলের ধরন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো। কেউ আবার চোখ ও মুখের গড়নের সঙ্গে মিল খুঁজছেন। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করছেন।

জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটে প্রথম আলোচনায় আসে মহিষটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পরে দেশীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি কয়েকটি গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণীটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়তে থাকে।

মহিষটির মালিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, শখ করেই এর নাম রাখা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত মাথার সামনের ঝুঁটি ও মুখের কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিল খুঁজে পাওয়ায় এমন নাম দেওয়া হয়। পরে সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আলোচনার মধ্যেই মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সরকারি উদ্যোগে সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ প্রাণীটিকে কাছ থেকে দেখতে পারেন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মহিষটিকে বিশেষ পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

ঈদের ছুটির আমেজের মধ্যেও চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন এই মহিষটিকে ঘিরেই। বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ শুধুই কৌতূহল থেকে ছুটে এসেছেন ভাইরাল সেই প্রাণীটিকে দেখতে।

দর্শনার্থীদের অনেকে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোনো প্রাণীকে সরাসরি দেখতে পারার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য ভিন্নরকম। অনেকের মতে, শিশুদের জন্যও এটি বাড়তি আনন্দের বিষয়। ঈদের আনন্দের মধ্যেই তাই রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন আকর্ষণের নাম হয়ে উঠেছে সাদা সেই মহিষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন