খুঁজুন
                               
, ,
           

মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

ভ্রমণ গল্পগুলো ছোট করে লিখে রাখা ভালো। খুব বড় কোনো কীর্তি নয়। তবুও এই ছোট ছোট লেখাগুলোই একদিন হয়ে ওঠে সময় ছুঁয়ে দেখার জানালা। কখনো নিজের জন্য, কখনো আবার অন্য কারো কাজে লাগবে- এই আশাতেই কলম ধরা।

এই যাত্রায় আমাদের গন্তব্য ছিল বান্দরবানের লামায় অবস্থিত এক অপূর্ব পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে এই ভ্যালির অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, আর চকরিয়া থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার।

বর্তমানে জায়গাটি নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মাঝে। মিরিঞ্জার আলাদা একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এই পাহাড়ের মূল আকর্ষণ হলো ‘মেঘ’। সারাদিনই এখানে মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে।

ভোরবেলায় মনে হয়, মেঘ যেন আপনার কানে কানে কিছু বলতে চায়। সকালে মনে হবে- মেঘগুলোর মন আজ দারুণ ভালো, তাই তারা দুষ্টু বাচ্চার মতো ছুটোছুটি করছে। দুপুর গড়ালে মনে হবে- মেঘগুলো যেন খুব তাড়াহুড়ায় কোথাও যাচ্ছে। আর বিকেলে? তখন মনে হবে, মেঘ আপনাকে ছেড়ে দূরে চলে গেছে, তবে যাওয়ার আগে আকাশে নিজের চিহ্ন রেখে গেছে।

এই পাহাড়ে রাত কাটানো ভ্রমণকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য মাত্রায়। পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্য আসলে লিখে বোঝানো যায় না। মাথার ওপর বিশাল আকাশ, অসংখ্য তারা আর একটা বড় চাঁদ, সব মিলিয়ে এক ধরনের নীরব মুগ্ধতা কাজ করে।

তবে স্পষ্ট করে বলি, যারা ফাইভ স্টার হোটেলের আরাম ছাড়া ভ্রমণ ভাবতেই পারেন না, এই জায়গা তাদের জন্য নয়। এখানে সবই সৌরবিদ্যুতে চলে। বিদ্যুৎ থাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ঋতু বুঝে আসতে পারলে দিনে গরম লাগবে না, বাতাস থাকবে দারুণ। আর পাহাড়ের রাত বেশিরভাগ সময়ই ঠান্ডা।

মিরিঞ্জা সাজেকের মতো কিনা—এই প্রশ্নে আমি মত দিতে অপারগ। কারণ সাজেক আমার দেখা হয়নি। তবে সাজেকে না গিয়ে মিরিঞ্জা আসার মূল কারণ ছিল একান্ত নিরিবিলি পরিবেশ আর মেঘের সঙ্গ নিরব গল্প করার সুযোগ।

যাতায়াতের গল্প
আমরা ঢাকা থেকে ইউনিকের নন-এসি বাসে চড়েছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ৯৫০ টাকা। বাসে নেমেছি চকরিয়া বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশায় ইয়াংছা- ভাড়া ২০০ টাকা। এরপর সিএনজি করে মিরিঞ্জা বাজার, জনপ্রতি ৫০ টাকা। শুনতে একটু ঝামেলার মতো লাগলেও সকালের নরম রোদ আর জ্যামহীন রাস্তায় পথটা বেশ আরামেই কেটে যায়। চাইলে চকরিয়া থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করেও আসা যায়, তবে খরচ একটু বেশি পড়বে।

চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা বাজার পৌঁছাতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। আরও সহজ পথ নিশ্চয়ই আছে, তবে জায়গাটা আমাদের জন্য নতুন হওয়ায় সে পথে যাইনি।

মিরিঞ্জা বাজার থেকে রিসোর্টে পৌঁছাতে লাগে আরও ২০ মিনিটের মতো। হালকা ট্রেকিংয়ের ফিল। আমার তিন বছরের মেয়ে অতি উৎসাহে পুরোটা পথ হেঁটে পার করেছে। তবে যারা হাঁটতে চান না, তাদের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা আছে। আপ-ডাউন ভাড়া ১০০ টাকা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে বাইকারদের দক্ষতা দেখে মাঝেমধ্যে মনে হয়—এই বুঝি জীবনের শেষ ট্যুর! ঠিক তখনই বাইকার গলা ছেড়ে গান ধরবে—“ধুম ধুম…”

থাকা-খাওয়া
আমরা ছিলাম মারাইংছা ভ্যালির পড হাউজে। ভাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা। এখানে পড হাউজ ছাড়াও প্রিমিয়াম জুমঘর, কাপল জুমঘর ও তাবুর ব্যবস্থা আছে। সবগুলোর ভাড়া আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে পড হাউজটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এটাচ বাথরুম, কমোড, সার্বক্ষণিক পানি সবই আছে।

খাবার সব রিসোর্টেই প্যাকেজ আকারে পাওয়া যায়। প্রতিদিন চার বেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ৮০০ টাকা। খাবারের মান খারাপ নয়, তবে দামটা আমার কাছে একটু বেশি মনে হয়েছে। প্রিমিয়াম জুমঘরের একটি বিশেষ আকর্ষণ, বাথরুমের এক পাশ পুরো কাচের।

আশপাশে কী দেখবেন
মিরিঞ্জা ছাড়াও আশপাশে আছে ঝর্ণা (এই সিজনে যাইনি), মাতামহুরী নদী (নৌকা ভ্রমণ ৭০০ টাকা), সুখিয়া ভ্যালি। সময় হাতে থাকলে আলীকদমের আলীর গুহাও ঘোরা যায়। বাচ্চা সঙ্গে থাকায় আমরা সে পথে যাইনি। চাইলে পরদিন কক্সবাজার থেকেও ঢু মেরে আসা যায়।

সব মিলিয়ে জায়গাটা একদিনেই ঘোরা সম্ভব। তবে রিল্যাক্সড ট্যুর চাইলে আরও একদিন থেকে মেঘের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেওয়া যায়। এখানে তেমন কোনো অ্যাক্টিভিটি নেই। বারবিকিউ, জোরে গানবাজনা সবই আছে। তবে আমরা সারারাত তারা আর নিস্তব্ধতা উপভোগ করেছি। দূরের পাহাড়চূড়ায় তরুণদের হাসি-আনন্দের শব্দ শুনে মনে হয়েছে বয়সটা সত্যিই বেড়েছে। তবু ওদের আনন্দ দেখতে ভালো লেগেছে।

এই ভ্রমণে আমার ৩ বছরের মেয়েসহ তিনজনই দারুণ উপভোগ করেছি। আমি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। আমার ভালো লাগার স্কেলে অনেক কিছুই পাস করে যায়।

আমার মতে ভ্রমণের আনন্দ নির্ভর করে সাথের সঙ্গী আর আবহাওয়ার ওপর। সৌমিক ও মাহরিন ছিল একেবারে পারফেক্ট ভ্রমণ সঙ্গী। আমরা প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছি, শুধু সঠিক আবহাওয়া ধরার জন্য।

শেষে বাচ্চা আছে এমন দম্পতিদের জন্য একটাই অনুরোধ, বাচ্চা নিয়ে বেশি বেশি ঘুরুন। মাটি, পানি, বাতাস, সাগর, পাহাড় দেখিয়ে বড় করুন। বিশ্বাস করুন, বাচ্চারা প্রকৃতিকে আমাদের চেয়েও ভালো বোঝে। এই পর্যন্তই মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প। আবার কথা হবে, অন্য কোনো পথে।

কালের আলো/এম/এএইচ

পাঁচ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা

অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১১ থেকে ১২ জুলাই দেশের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এসময় কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাণিতিক মডেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী অতি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা, জরুরি বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা এবং দ্রুত জনগণের মধ্যে সতর্কবার্তা প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও বসতি থেকে দ্রুত নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পূর্বাভাসে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, মোমবাতি, ম্যাচ, অন্তত তিন দিনের কাপড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে রাখা ও পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবার, প্রতিবেশী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি নদী ও ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ঘরের আশপাশের নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা এবং গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার আগে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে এ বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’। তেহরানের দাবি, এ ঘটনার জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী দায়ী।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে, একদল ‘বিচ্যুত’ কট্টরপন্থি আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। এটি আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’

শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, না হলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’

আজ ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান ঘটানো।

সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে। এ সময় তারা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করবে বলে জানানো হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। এ ব্যবস্থায় প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির ওপর ‘হাজার হাজার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। শনিবার (১১ জুলাই) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে তাক করে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ইরান সরকার যদি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে গুপ্তহত্যা করে বা গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে তাহলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে!’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এক বছরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। ইরানের সব এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।’

এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। ওয়াশিংটন কোনো সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ালে আত্মরক্ষার জন্য ইরান সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

গালিবাফ বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করার প্রস্তুতি কখনোই বন্ধ করিনি। আমেরিকানরা যেকোনো মুহূর্তে সমঝোতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটানো বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একটি অগ্রাধিকার। কিন্তু সবার জানা উচিত, ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সংঘাতের কখনো অবসান হবে না।’

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি