খুঁজুন
                               
, ,
           

শাকিব খানের তিন সিনেমা আসছে ঈদে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
শাকিব খানের তিন সিনেমা আসছে ঈদে

আসছে রোজার ঈদে মাছরাঙা টেলিভিশনের সাত দিনের বিশেষ আয়োজনে থাকছে সাতটি জনপ্রিয় সিনেমা। যার মধ্যে তানিম নূর পরিচালিত‘উৎসব’ এবং গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘কাজলরেখা’ প্রথমবারের মতো টিভি পর্দায় আসছে।

‘উৎসব’ প্রচারিত হবে ঈদের দিন দুপুর ২:২০ মিনিটে। গেল বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, অপি করিম, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সৌম্য জ্যোতি, সাদিয়া আয়মান প্রমুখ।

‘কাজলরেখা’প্রচারিত হবে ঈদের তৃতীয় দিন দুপুর ২:২০ মিনিটে। ঐতিহ্যবাহী ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ অবলম্বনে নির্মিত এ ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। কাজলরেখার কিশোরী বয়সের চরিত্রটি করেছেন সাদিয়া আয়মান। সুচরাজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ। কঙ্কণদাসী চরিত্রে আছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। আরও আছেন আজাদ আবুল কালাম, ইরেশ যাকের, খায়রুল বাসার, শাহানা সুমি, ইরফান সেলিম সুজয় প্রমুখ।

ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর ২:২০ মিনিটে প্রচারিত হবে হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘প্রিয়তমা’। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও ইধিকা পাল। ঈদের চতুর্থ দিন থাকছে এম রাহিম পরিচালিত ‘জংলি’। এতে অভিনয় করেছেন সিয়াম, বুবলী, দীঘি প্রমুখ। রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তুফান’ প্রচারিত হবে ঈদের পঞ্চম দিন দুপুর ২:২০ মিনিটে। এ ছবির নায়ক শাকিব খান। নায়িকা মিমি চক্রবর্তী ও নাবিলা।

ঈদের ষষ্ঠ দিন দুপুর ২:২০ মিনিটে থাকছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’। এতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরীফুল রাজ প্রমুখ। অনন্য মামুন পরিচালিত ‘দরদ’ প্রচারিত হবে ঈদের সপ্তম দিন। এ ছবির নায়ক-নায়িকা শাকিব খান ও সোনাল চৌহান।
কালের আলো/এসএম/এএএন

নারী রেফারিকে ‘এটা পুরুষদের খেলা’ বলায় হিগুয়েইন বরখাস্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
নারী রেফারিকে ‘এটা পুরুষদের খেলা’ বলায় হিগুয়েইন বরখাস্ত

নারী রেফারির সঙ্গে হাত মেলানোর সময় লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের অভিযোগে ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে বরখাস্ত করেছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল কলম্বাস ক্রু। ক্লাবটির রিজার্ভ দল কলম্বাস ক্রু ২-এর কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিগুয়েইন।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট ‘এমএলএস নেক্সট প্রো’-এর একটি ম্যাচে। হান্টসভিল সিটির কাছে ১-০ গোলে হারের পর এক নারী অফিশিয়ালের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় হিগুয়েইন তাঁর হাত ছাড়তে চাননি। একই সময়ে ওই নারী রেফারিকে তিনি বলেন, ‘ভুলে যেয়ো না, এটা পুরুষদের খেলা।’

পেশাদার ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের (পিআরও) অভিযোগ, হিগুয়েইন ওই নারী অফিশিয়ালের সঙ্গে দুবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শারীরিক হেনস্তা এবং যৌন বিদ্বেষমূলক আচরণ করেছেন। তিনবার বলার পরও তিনি রেফারির হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন বলে সংগঠনটির দাবি।

ঘটনার পর হিগুয়েইনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে রেফারিদের সংগঠন এই শাস্তিকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেছে। তাদের পক্ষ থেকে অন্তত ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়।

‘ক্লাবের প্রত্যাশিত আচরণ বজায় রাখতে পারেননি’

কলম্বাস ক্রুর জেনারেল ম্যানেজার ইসা তাল বলেন, ক্লাব, খেলোয়াড় ও সহকর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই হিগুয়েইনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের আলোচনা এবং গত এক মাসের পর্যালোচনার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে, দলের একজন কোচের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত, হিগুয়েইন তা বজায় রাখতে পারেননি।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদনে ক্লাবের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় হিগুয়েইন নিজের আচরণের জন্য অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। এমনকি প্রকাশ্যেও ক্ষমা চাননি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

রেফারিদের সংগঠনের ক্ষোভ

পেশাদার ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ফুটবলের প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাই নারী রেফারিদের কোনো ধরনের হেনস্তা বা অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হওয়া উচিত নয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, নারী রেফারিরাও অন্য সব অফিশিয়ালের মতো সমান সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

হিগুয়েইন পরিবারের ফুটবল পরিচয়

৪১ বছর বয়সী ফেদেরিকো হিগুয়েইন আর্জেন্টাইন ফুটবলে ‘পিপা’ নামে পরিচিত। রিভার প্লেটের যুব দল দিয়ে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কলম্বাস ক্রু, ডি সি ইউনাইটেড ও ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলেছেন তিনি।

কলম্বাস ক্রুর মূল দলে আট মৌসুম খেলার পর গত বছর রিজার্ভ দলটির কোচ হন হিগুয়েইন। ২০২১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে আসেন তিনি।

ফেদেরিকোর ছোট ভাই গঞ্জালো হিগুয়েইন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা এবং জুভেন্টাসের হয়ে সিরি আ জিতেছেন গঞ্জালো।

কালের আলো/এসএ

ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিটনেস টেস্ট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিটনেস টেস্ট

ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরুর আগে ফিটনেস পরীক্ষায় কঠোর হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) খেলার ছাড়পত্র পেতে হলে ক্রিকেটারদের এবার ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতেই হবে।

গতকাল ও আজ জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক টার্ফে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা। দুই দিনে এনসিএলের আট দলের ক্রিকেটাররা এ পরীক্ষায় অংশ নেন।

আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হবে এবারের এনসিএল। এবার মূল দলের পাশাপাশি প্রতিটি দলের সেকেন্ড ইলেভেনও থাকবে। সব মিলিয়ে প্রতিটি দলের প্রায় ৪০ জন করে ক্রিকেটার ফিটনেস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অবশ্য এ পরীক্ষার বাইরে ছিলেন।

পেসারদের জন্য আলাদা মানদণ্ড

এবার ক্রিকেটারদের ১৬০০ মিটার বা চার চক্কর দৌড়াতে হয়েছে। তবে পেসার এবং ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বিসিবি।

পেসারদের ১৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতে হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ মিনিটে। ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের জন্য সময়সীমা ছিল ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

৮ থেকে ১০ জন ক্রিকেটার ছাড়া প্রায় সবাই নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

গত বছর একই দূরত্বের জন্য সবার ক্ষেত্রে ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মানদণ্ড ছিল। এবার পেসার ও ব্যাটসম্যান-স্পিনারদের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেল করলেও থাকছে সুযোগ

প্রথম পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের জন্য আরও দুই দফা সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষার ১০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং ২০ দিন পর তৃতীয়বার ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এই দুই পরীক্ষার যেকোনো একটিতে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই এবারের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাবেন তাঁরা।

আগামী বছর আরও কঠোর মানদণ্ড

কিছুদিন আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণে ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বিসিবি। তখনই বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, ক্রিকেটারদের ফিটনেসের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এবার সেই অবস্থান থেকেই ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অন্যতম শর্ত করা হয়েছে।

আগামী বছর থেকে ফিটনেসের মানদণ্ড আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। ধাপে ধাপে সবার নির্ধারিত সময় ১৫ সেকেন্ড করে কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দুই বছরে মোট ৩০ সেকেন্ড সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের।

কালের আলো/এসএ

এক খুন, দুই গল্প—শেষ পর্যন্ত কে সত্য বলছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’-এ?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
এক খুন, দুই গল্প—শেষ পর্যন্ত কে সত্য বলছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’-এ?

একটি খুন। এক দম্পতি। আর একই ঘটনাকে ঘিরে দুজনের দুই রকম গল্প। কে সত্য বলছে, আর কে মিথ্যা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যত সামনে এগোয় গল্প, ততই বদলে যেতে থাকে চরিত্রগুলো সম্পর্কে দর্শকের ধারণা। নেটফ্লিক্সের রহস্য-থ্রিলার সিরিজ ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ এমনই এক গল্প নিয়ে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের বড় একটি অংশকে পর্দায় আটকে রাখতে পেরেছে।

নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে, বছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ হয়েছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’। জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে সিরিজটির ভিউ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪ লাখ। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের সব ধরনের কনটেন্ট মিলিয়ে দেখা হয়েছে ৯৭ বিলিয়নের বেশি ঘণ্টা।

ছয় পর্বের সিরিজটি মুক্তি পায় ৮ জানুয়ারি। অ্যালিস ফিনির ২০২০ সালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন উইলিয়াম ওল্ডরয়েড। ‘লেডি ম্যাকবেথ’ ও ‘ইলিন’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত এই নির্মাতার সিরিজটির অন্যতম নির্বাহী প্রযোজক জেসিকা চ্যাস্টেইন। প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন টেসা থম্পসন ও জন বার্নথাল।

খুনের তদন্তে মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী

গল্পের কেন্দ্রে আছেন আনা অ্যান্ড্রুজ ও জ্যাক হার্পার। আনা আটলান্টার একজন টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা টানাপোড়েনে তিনি অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

এর মধ্যেই নিজের বেড়ে ওঠার শহর ডালোনেগায় একটি হত্যাকাণ্ডের খবর পান আনা। ঘটনাটি তাঁর পুরোনো সাংবাদিক সত্তাকে আবার জাগিয়ে তোলে। তিনি হত্যার রহস্যের পেছনে ছুটতে শুরু করেন।

কিন্তু তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা জ্যাক হার্পারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরো ঘটনাকে জটিল করে তোলে। কারণ জ্যাকই আনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন স্বামী।

এখান থেকেই শুরু হয় সিরিজের মূল রহস্য। একই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আনা ও জ্যাক যেন দুটি আলাদা গল্প বলছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য খুঁজছেন, অন্যজন গোয়েন্দা হিসেবে হত্যারহস্যের সমাধান করতে চাইছেন।

কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, সন্দেহের তির ততই ঘুরে যায় তাঁদের দুজনের দিকেও। দুজনেরই ধারণা, অন্যজন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

ফলে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়; ভেঙে যাওয়া একটি দাম্পত্য সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপন সত্যও ধীরে ধীরে সামনে আসে।

টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের দ্বৈরথ

সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের অভিনয়। ‘ক্রিড’, ‘থর’ ও ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত থম্পসন অভিনয় করেছেন আনা চরিত্রে। আর ‘দ্য পানিশার’ ও ‘দ্য বেয়ার’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত বার্নথাল অভিনয় করেছেন জ্যাকের ভূমিকায়।

আনা উচ্চাভিলাষী, বুদ্ধিমান ও দৃঢ়চেতা একজন সাংবাদিক। নিজের পেশাগত অবস্থান ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো শহরের হত্যাকাণ্ডও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়। থম্পসন চরিত্রটির কঠোরতার পাশাপাশি তার ভেতরের ক্ষতও ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে জ্যাকও সাদামাটা কোনো গোয়েন্দা চরিত্র নন। হত্যার তদন্তের পাশাপাশি তাঁকে নিজের অতীত, সম্পর্ক ও ভুল সিদ্ধান্তের ভারও বহন করতে হয়। ফলে আনা ও জ্যাকের সম্পর্কই হয়ে ওঠে রহস্যের আরেকটি স্তর।

সমালোচকদের একটি অংশও দুই অভিনেতার অভিনয়কে সিরিজটির অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেছেন। রহস্যের সব প্রশ্ন কতটা সন্তোষজনকভাবে সমাধান হয়েছে, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও থম্পসন ও বার্নথালের অভিনয় দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শুধু খুন নয়, সম্পর্কের গল্পও

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সিরিজটিতে রয়েছে বিশ্বাসভঙ্গ, পুরোনো সম্পর্ক, প্রতিশোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং অতীতের নানা গোপন ঘটনা।

আনা ও জ্যাকের দাম্পত্য কেন ভেঙে গেল, তাঁদের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল—এই প্রশ্নও ধীরে ধীরে হত্যারহস্যের অংশ হয়ে ওঠে।

তাঁদের চারপাশের প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কোনো না কোনো গোপন তথ্য। আনার মা অ্যালিস, জ্যাকের বোন জো, টেলিভিশন কর্মী রিচার্ড, লেক্সিসহ অন্য চরিত্রগুলোও তদন্তকে একাধিক দিকে নিয়ে যায়।

ফলে দর্শককে বারবার নিজের ধারণা বদলাতে হয়—যাকে একসময় সন্দেহভাজন মনে হচ্ছে, পরের মুহূর্তেই তার গল্পের অন্য একটি দিক সামনে আসে।

অভিনয়ে আরও আছেন পাবলো শ্রেইবার, ক্রিস্টাল ফক্স, সুনীতা মণি, রেবেকা রিটেনহাউস ও মেরিন আয়ারল্যান্ড।

কেন এত দর্শক দেখল

সিরিজটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর সরল কিন্তু কার্যকর প্রশ্ন—খুনি কে?

তবে শুধু হত্যারহস্য নয়, প্রতিটি পর্বে নতুন তথ্য যোগ হওয়া এবং আগের ঘটনাগুলোর অর্থ বদলে যাওয়াই দর্শকদের পরের পর্বে টেনে নেয়।

মাত্র ছয় পর্বের সীমিত সিরিজ হওয়ায় গল্পও খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ফলে একসঙ্গে একাধিক পর্ব দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানও সিরিজটিকে দ্রুতগতির ও সহজে একের পর এক পর্ব দেখার মতো থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেটফ্লিক্সের পরিসংখ্যানেও দর্শকের আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০ কোটি ৪ লাখ ভিউ নিয়ে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ ছিল সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ। কাছাকাছি অবস্থানে ছিল ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুম, যার ভিউ ছিল ১০ কোটি ২ লাখ।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও

দর্শকের আগ্রহের সঙ্গে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য পুরোপুরি মেলেনি।

রটেন টমেটোজে ৫২টি সমালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির সমালোচক স্কোর ৭১ শতাংশ এবং দর্শক স্কোর ৬২ শতাংশ। মেটাক্রিটিকে ২১ জন সমালোচকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির স্কোর ৫৪/১০০—যা ‘মিশ্র বা গড়পড়তা’ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পড়ে।

তবে ভ্যারাইটি ও আইজিএনের মতো কিছু সমালোচক টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের রসায়ন এবং গল্পের গতির প্রশংসা করেছেন।

অন্যদিকে হলিউড রিপোর্টার ও রজারএবার্ট ডটকমের পর্যালোচনায় গল্পের যুক্তি, অতিরিক্ত চমক এবং চরিত্রগুলোর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টাইমও সিরিজটির আবহ ও গল্প বলার ধরন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

অর্থাৎ সমালোচকদের আপত্তির বড় জায়গা গল্পের যুক্তি ও গভীরতা। তবে দর্শককে পরের পর্বে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে সিরিজটি যে সফল হয়েছে, নেটফ্লিক্সের দর্শকসংখ্যা তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

পরিচিত গল্প, নতুন উপস্থাপন

‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ রহস্য-থ্রিলারের নতুন কোনো সূত্র আবিষ্কার করেনি। খুন, সন্দেহভাজন, গোপন সম্পর্ক, অতীতের ঘটনা এবং শেষ মুহূর্তের মোড়—সবই পরিচিত উপাদান।

তবে এসব উপাদানকে ছয় পর্বে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শকের মনে বারবার একই প্রশ্ন ফিরে আসে—আসলে সত্যিটা কী?

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের অভিনয়। একই ঘটনার দুই ভিন্ন দিক থেকে আনা ও জ্যাকের গল্প এগিয়ে যায়। ফলে ‘হিজ’ আর ‘হার্স’ শুধু স্বামী-স্ত্রীর দুই পক্ষ নয়; একই সম্পর্ক, একই অতীত এবং একই ঘটনার দুই ভিন্ন সত্যের প্রতিনিধিও হয়ে ওঠে।

সূত্র: নেটফ্লিক্স, আইএমডিবি, দ্য গার্ডিয়ান ও স্ক্রিন র‍্যান্ট

কালের আলো/এসএ