খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে: এএফইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে: এএফইডি

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি)। একইসঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ব্যালট গণনা শুরুর ঘটনাও তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে সংস্থাটি এসব তথ্য তুলে ধরে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণে এএফইডি মোট ৫৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত করে। এর মধ্যে ৩০ জন বগুড়া-৬ এবং ২৩ জন শেরপুর-৩ আসনে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এএফইডির মুখপাত্র হারুন-অর-রশিদ বলেন, সামগ্রিকভাবে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন। অধিকাংশ কেন্দ্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং ব্যালট বাক্স খালি দেখিয়ে সিল করা হয়। ভোটের গোপনীয়তাও মোটামুটি বজায় ছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি মানার ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটার পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া ৩২ শতাংশ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য যথাযথভাবে প্রবেশযোগ্য ছিল না। ১০৩টি পর্যবেক্ষণের মধ্যে মাত্র তিনটিতে সারি ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা গেলেও একটি কেন্দ্রে শারীরিক সহিংসতা বা ভয় প্রদর্শনের ঘটনাও চিহ্নিত হয়েছে।

এএফইডি জানায়, প্রায় ৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রচারের সামগ্রী দেখা গেছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। ১২টি ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের কেন্দ্রের বাইরে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে এবং ১৫টি ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোট প্রদানে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে আনার ঘটনাও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ভোটার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল বলে জানায় সংস্থাটি। পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল না।

শেরপুর-৩ আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি ব্যালট বাক্সে অতিরিক্ত ভোট প্রদান এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুললেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব ভোটারদের ওপর পড়েনি বলে জানায় এএফইডি।

ভোটগ্রহণ শেষে সারিতে থাকা সব ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অধিকাংশ কেন্দ্রে দ্রুত গণনা শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে এবং কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই গণনা শুরুর ঘটনাও ঘটেছে। দুটি কেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্রেই ফলাফল প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়েছে, তবে চারটি ক্ষেত্রে এজেন্টদের আংশিকভাবে গণনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।

বগুড়া-৬ আসনে ডাকযোগে ভোটে অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। তিন হাজার ৭৩৬টি ব্যালটের মধ্যে ফেরত এসেছে এক হাজার ৬৮টি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট যথাযথ ঘোষণাপত্র ছাড়া জমা পড়ে এবং কিছু বাতিল হয়েছে।

এএফইডির মতে, ডাকযোগে ভোটের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলেও অংশগ্রহণ ও নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সংস্থাটি নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্নত করতে কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্র কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা, সব ভোটকেন্দ্রকে সবার জন্য প্রবেশযোগ্য করা, নির্বাচনের দিনে আচরণবিধি কঠোরভাবে মানা নিশ্চিত করা, পাইলট কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং ডাকযোগে ভোটের আওতা সম্প্রসারণ।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন ও এএফইডির বোর্ড সদস্য তালেয়া রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী নির্বাচনে কিছু বিচ্যুতি থাকেই, আমাদের দেশেও তার ব্যতিক্রম নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন রাইট যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এবং ডর্পের চেয়ারপারসন এইচ এম নওমান।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ২০০ টাকা

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ২০০ টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর (আইটি)’ পদে ২৬ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হয়েছে ১৩ মে ২০২৬ তারিখ থেকে, চলবে ২১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি বাবদ ২০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এক নজরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

পদের বিবরণ

আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আবেদন শুরু: ১৩ মে ২০২৬ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: যে কোনো স্থান

বয়স: ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ২১-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহনযোগ্য হবে না।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন বাংলাদেশ ব্যাংক। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ২০০ টাকা জমা দিতে হবে অথবা এজেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন ফি দেওয়া যাবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন মৌলভীবাজারের ৮ স্পট

ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন মৌলভীবাজারের ৮ স্পট

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন জেলা হচ্ছে মৌলভীবাজারের। এ জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য চা বাগান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে একটি জেলায় একসঙ্গে এতো গুলো পর্যটন কেন্দ্র দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন মৌলভীবাজারে থেকে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এটি শুধু বাংলাদেশ নয় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি স্থান। পরিচিতর দিক থেকে সুন্দর বনের পরেই লাউয়াছড়ার অবস্থান। এ উদ্যানটি কেবল পর্যটন স্থানই নয়, এ পার্ক এখন জীবন্ত প্রাকৃতিক গবেষণাগার। যা প্রাণি ও পাখি বিজ্ঞানীদের একটি রাজ্য বলা যায়। বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার অবস্থিত ১.২৫০ হেক্টর আয়তনের বনটি জীববৈচিত্র্য ভরপুর। ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯২৫ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে তাই বেড়ে আজকের এই বনে পরিণত হয়। জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এ উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভয়চর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বিলুপ্ত প্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।

কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর লেকটি চারিদিকে সুউচ্চ সবুজ চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত। লেকের ঝকঝকে পানি, প্রকৃতির ছায়া, নিরিবিলি পরিবেশ ও শাপলা ফুলে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। সবুজ পাহাড়ের চুড়ায় ধীরে ধীরে যতই এগুতে থাকবেন ততই সবুজ পাতায় পর্যটকের মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। চারদিকে সবুজ পাহাড়ের পাশাপাশি উঁচু উঁচু টিলা রয়েছে। মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা কোনো ছবি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স

কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স। মোহাম্মদ হামিদুর রহমান সাতজন শ্রেষ্ঠ বীরদের অন্যতম একজন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত তিনি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। ১৯৭০ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে যোগ দেন। তার প্রথম ও শেষ ইউনিট ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝরনার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয়। এছাড়া এই জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে হাইল হাওর এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর একটি জলাভূমি। এই হাওরে অবস্থিত বাইক্কা বিল, পর্যটকেরা শতরঙ্গের অতিথি পাখি দেখতে ও কিচিরমিচির শব্দ শুনতে ছুটে আসেন বাইক্কা বিলে।

চা-কন্যা

শ্রীমঙ্গলের প্রবেশ পথে রয়েছে চা কন্যার ভাস্কর্য যা চা শিল্পের ঐতিহ্য বহন করছে।

বধ্যভূমি

শ্রীমঙ্গলে উপজেলায় অবস্থিত বধ্যভূমি। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত বধ্যভূমিকে ঘিরে তৈরি এ পার্কটি দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ স্থানীয়দের পদচারণায় সবসময় মুখরিত থাকে।

ডিনস্টন সিমেট্রি

শ্রীমঙ্গল ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগান। এখানেই শত বছরের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে ডিনস্টন সিমেট্রি। এই সিমেট্রিতে শুধু বিদেশিদের কবরের সংখ্যা রয়েছে ৪৬ টি। ডিনস্টন সিমেট্রি পর্যটকের আকর্ষণীয় স্থান।

এছাড়া এ জেলায় উল্লেখযোগ্য দর্শনীয়স্থান হলো হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লী, হাকালুকি হাওড়, মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু নিচু সবুজ চা বাগান, চা কণ্যা ভাষ্কর্য, নীলকন্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তি মালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, কমলা রাণীর দিঘি, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, পাথারিয়া হিলস্ রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট, খাসিয়া পুঞ্জি, হাকালুকিহাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ, পদ্মছড়া লেক, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, বাম্বোতল লেক, শমশেরনগর গল্ফ মাঠসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীবসবাস সহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

জেলায় আগত পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে একাধিক পাঁচ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজ। এরমধ্যে কয়েকটি হলো গ্র‍্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, নভেম ইকো রিসোর্ট, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, গ্র‍্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুর, সুইস ভ্যালি রিসোর্ট, বালিশিরা ইকো রিসোর্ট, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ, পত্রস্নান রিসোর্ট, শান্তি বাড়ী রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো রিসোর্ট, টি হেভেন রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, ওয়াটালিলি, মুক্তানগর রিসোর্ট, রাঙ্গাউটি রিসোর্ট, অরণ্যনিবাস ইকো রিসোর্ট, গগন টিলাসহ ছোট-বড় আরও প্রায় শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, হামের প্রভাব ও ঈদের পর ছুটি কম থাকায় আগাম বুকিং কম হয়েছে রিসোর্ট গুলোতে। ছোট রিসোর্ট শতভাগ বুকিং হলেও বড় গুলো কম হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে জেলায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে পুলিশ মোতায়ন করা হবে। এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি।’

যেভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাস যোগে মৌলভীবাজার জেলায় আসা যায়। ট্রেন যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে জেলার শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর ও কুলাউড়া রেল স্টেশনে নেমে লোকাল বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় অতি সহজেই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঈদযাত্রায় তিন দিনে সড়কে ঝরল ৪৮ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় তিন দিনে সড়কে ঝরল ৪৮ প্রাণ

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঈদযাত্রার মাত্র তিন দিনে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সোমবার (২৫ মে) এক দিনেই প্রাণ গেছে ২৮ জনের।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন পথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে কুষ্টিয়ার খোকসায়। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে বাস ও ড্রাম ট্রাকের সংঘর্ষে বাস খাদে পড়ে যায়। এতে চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনজন। যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসচাপায় এক পথচারী ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে একজন নিহত হন।

পরদিন রোববার (২৪ মে) দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়। ঈদযাত্রার ভিড় ও যানবাহনের চাপ অব্যাহত থাকায় মহাসড়কগুলোতে পৃথক দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ঈদযাত্রায় সোমবার (২৫ মে) সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিন দেশের অন্তত আটটি জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। যাত্রীদের বড় একটি অংশ বাসের খরচ বাঁচাতে ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

এদিন বগুড়ায় পৃথক দুই দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হন। কিশোরগঞ্জে মোটরসাইকেলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের সন্তানসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে সিরাজগঞ্জে সিএনজি ও ট্রাকের পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু ঘটে। মানিকগঞ্জে সিএনজি ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একজন তরুণ নিহত হন। গোপালগঞ্জে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন মাইক্রোবাস চালকের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এছাড়া নোয়াখালীতে মালবাহী নসিমন উল্টে একজন খামারির মৃত্যু হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন