খুঁজুন
                               
, ,
           

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় যৌথ উদ্যোগ

প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় যৌথ উদ্যোগ

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব লেবার (জেটিকেএসএম)-এর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৫ মে, অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশি কর্মীদের দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল অব লেবারের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

বিশেষ করে নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে বিলম্ব, বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায়ে জটিলতা এবং শ্রমিক-মালিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়।

সভায় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক বাংলাদেশি কর্মী সময়মতো ভিসা নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মুখে পড়ছেন। এ কারণে নিয়োগকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র নবায়নে যাতে অযথা বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে লেবার ডিপার্টমেন্টের কার্যকর নজরদারি কামনা করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া রাখার অভিযোগও সভায় উত্থাপন করা হয়। হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রবাসী কর্মীরা পরিবারের স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা মানবিক ও আইনি দায়িত্ব।

সভায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক বা তাদের পরিবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান না বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এদিকে শ্রমিক-মালিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছোটখাটো বিরোধ দীর্ঘসূত্রতায় গড়ালে তা শ্রমিকদের জীবন ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত সমাধান ও কার্যকর মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সভায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মালয়েশিয়ার লেবার ডিপার্টমেন্ট আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতেও ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়।

বৈঠকে উভয়পক্ষ প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং মালয়েশিয়ার লেবার ডিপার্টমেন্টের এ সমন্বিত উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে বাধা, নিন্দা জানালেন আসিফ নজরুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে বাধা, নিন্দা জানালেন আসিফ নজরুল

শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কোনো নিষিদ্ধ বই নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বইটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি বিক্রয়ে বাধা দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, বইটি বিক্রয়ে বাধা দেওয়া, প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মীকে তুলে নেওয়া বেআইনি ও অপরাধমূলক কাজ।
এ বিষয়ে সরকারের উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, শেখ হাসিনার আমলে এভাবে বই বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং বই নিষিদ্ধ করার বহু ঘটনা ঘটেছে। তখন এসব ঘটনার প্রতিবাদ করা হয়েছিল। এখন একই ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনাকেই অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সব খাতের শ্রমিকের জন্য কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা স্কিম চায় বিলস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সব খাতের শ্রমিকের জন্য কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা স্কিম চায় বিলস

দেশের তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি সব খাতের শ্রমিকের জন্য অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদেরও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত এক মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। ইআইএস পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইআইএস পাইলট প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ২৪৮টি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে ১৬১ জন নিহত শ্রমিকের উত্তরাধিকারী এবং ৮৭ জন স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিককে মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭১ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

রানা প্লাজা ও তাজরিন দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ইআইএস প্রকল্পটি বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে পাইলট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্মক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে একটি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। তাই শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

আইএলও-ইআইএসের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ সাদ হুসাইন গিলানী জানান, প্রকল্পের আওতায় শ্রমিক ও তাদের পরিবার তিন ধরনের সুবিধা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মজুরির ৫০ শতাংশ হারে আর্থিক সহায়তা, অক্ষম শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তা।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, ২০২২ সালে প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকার, মালিকপক্ষ ও আইএলওর যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী এএএম ফয়েজ হোসেন বলেন, পাইলট প্রকল্পটি শুরুতে শুধু তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ছিল। এখন দেশের সব খাতের শ্রমিককে এর আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ডিসি পদে রদবদল, চার জেলায় নতুন নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
ডিসি পদে রদবদল, চার জেলায় নতুন নিয়োগ

জনপ্রশাসনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার। চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি তিন জেলা প্রশাসককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নীলফামারীর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. হুমায়ূন কবির।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক করা হয়েছে একই বিভাগের উপসচিব চৌধুরী আশরাফুল করিমকে। পিরোজপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

এদিকে পিরোজপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক আবু সাঈদকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নীলফামারীর ডিসি মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, টাঙ্গাইলের ডিসি শরীফা হককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পটুয়াখালীর ডিসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় এই তিন কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণত উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি