খুঁজুন
                               
, ,
           

সিপাহী পদে জনবল নেবে বিজিবি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
সিপাহী পদে জনবল নেবে বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ১০৫তম ব্যাচে ‘সিপাহী (জিডি)’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এইচএসসি পাসের চাকরি প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। আবেদন ফি ৫৬ টাকা।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
ব্যাচ: ১০৫তম ব্যাচ
পদের নাম: সিপাহী (জিডি)

শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতন স্কেল ও বয়স

শারীরিক যোগ্যতা: সাধারণ পুরুষ প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং উপজাতি পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। সাধারণ পুরুষদের ওজন ৪৯.৮৯৫ কেজি এবং উপজাতিদের জন্য ৪৭.১৭৩ কেজি। সাধারণ পুরুষ প্রার্থীদের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি এবং উপজাতিদের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি।

সাধারণ মহিলা প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এবং উপজাতি মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট। সাধারণ মহিলা প্রার্থীদের জন্য ওজন ৪৭.১৭৩ কেজি এবং উপজাতিদের জন্য ৪৩.৫৪৪ কেজি। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।

দৃষ্টিশক্তি: পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই ৬/৬ হতে হবে।
বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত (বিবাহিত/তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নহে)
শর্ত: সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক

রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম: আগ্রহীরা এখানে ক্লিক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা বিজিবি ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট ক্লিক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৬টি ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। নিয়োগ পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় পরবর্তীতে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আবেদন ফি: ব্যাংকিং কার্ড অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ২ এপ্রিল ২০২৬

সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তিটি দেখুন

সূত্র: প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক জটিলতা দূর করল এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক জটিলতা দূর করল এনবিআর

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর সংক্রান্ত জটিলতা ও অস্পষ্টতা দূর করতে বিশেষ স্পষ্টীকরণ পরিপত্র জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য পৃথক শুল্ক ও কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআরের পরিপত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সরঞ্জাম আমদানিতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিয়ে পণ্য খালাস করতে পারবে।

অন্যদিকে, বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর (এটি) এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হবে। তবে পরবর্তীতে এ আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয় করা যাবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ পরিপত্র জারি করে এনবিআর। এতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিচ্ছিল। এসব সমস্যা দূর করতেই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, সোলার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে এইচএস কোডে ভুল থাকলেও পণ্যের বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ফলে এ পণ্যের জন্য আগে ঘোষিত রেয়াতি সুবিধা বহাল থাকবে।

এ ছাড়া ‘Solar Photovoltaic/Module/Panel’ (এইচএস কোড 8541.43.00) মূলধনী যন্ত্রপাতি ও নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই বিল অব এন্ট্রিতে একাধিক পণ্য ঘোষণা করা হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পৃথক সিপিসি উল্লেখ করে পণ্য খালাসের সুযোগও রাখা হয়েছে।

নতুন পরিপত্রের নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপন সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩-এর বিধান অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

এছাড়া কমিশনার হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করে।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান থেকে সর্বশেষ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মাত্র তিনটি কমিশন পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিল। বাকি চার কমিশন মেয়াদ পূর্ণ করার আগে বিদায় নিতে হয়। সর্বশেষ মোমেন কমিশন মেয়াদ পূরণ না করেই বিদায় নিয়েছে।

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গ্যাস সংকটে সম্ভাবনায় ১৫০ কূপ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
গ্যাস সংকটে সম্ভাবনায় ১৫০ কূপ

দেশে গ্যাসের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। একই সময়ে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে বাড়ছে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর নির্ভরতা।

এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে সম্প্রতি সংসদে জানানো হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, কর্মসূচির বাকী অংশ বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পুরো কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের আশা করছে সরকার।

তবে এই উদ্যোগ গ্যাসের ঘাটতি কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। নতুন কূপগুলো থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কত দ্রুত কমবে এবং একই সময়ে দেশের গ্যাসের চাহিদা কতটা বাড়বে—মূলত এসবের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতি।

দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর বড় সুযোগ
সরকারের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

১৫০ কূপের কর্মসূচির ২৯টির কাজ শেষ হওয়ার পরই দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য সংস্থান এবং বাস্তবে গ্রিডে যুক্ত হওয়া গ্যাসের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

তবে আরও কূপের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে। আর পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় উৎপাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আমদানিনির্ভরতার চাপ
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানিও বাড়াতে হচ্ছে। ২০২৫ সালে ১০৯টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে প্রায় ৩ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর আগের বছর ৮৬টি কার্গোর জন্য ব্যয় হয়েছিল ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৮৫৫ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি ব্যয়—দুই দিক থেকেই দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৫০ কূপের কর্মসূচি সফল হলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। তবে শুধু এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সংকটের সমাধান সম্ভব হবে না। নতুন কূপ থেকে কতটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এবং পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কী হারে কমছে—তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাহিদার প্রবৃদ্ধিকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো এখন জরুরি হলেও একে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশই নিজেদের জ্বালানি উৎস কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশেও নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগানো উচিত।’

শফিকুল আলম বলেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ হয়নি। নতুন আবিষ্কার ও উৎপাদন না বাড়ায় বাংলাদেশ আমদানির দিকে গেছে। মহামারী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট এবং টাকার দরপতন আমদানিনির্ভরতার আর্থিক ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে।

অনুসন্ধান ও বিকল্প জ্বালানিতে সমন্বিত উদ্যোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫০ কূপের কর্মসূচি দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, সমুদ্রভিত্তিক অনুসন্ধান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি—বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগও সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে।

পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার বাস্তবতায় নতুন কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার একদিকে যেমন তাৎক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে নতুন অনুসন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা দেশের গ্যাস নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এজন্য ১৫০ কূপের কর্মসূচি শুধু অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নয়; সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধানের সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে এটি দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ