খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

উত্তপ্ত তারাকান্দা-ফুলপুর, কুরুচিপূর্ণ প্রোপাগাণ্ডায় টার্গেট বিএনপি নেতা মোতাহার!

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
উত্তপ্ত তারাকান্দা-ফুলপুর, কুরুচিপূর্ণ প্রোপাগাণ্ডায় টার্গেট বিএনপি নেতা মোতাহার!

হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা ও ফুলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ময়মনসিংহ-২ আসন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মাহমুদুল্লাহ’র অনুসারীদের সঙ্গে পরাজিত প্রার্থী ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে সৃষ্টি হয়েছে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এতে যেকোন সময় সংর্ঘষের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ভীতিকর পরিস্থিতি।

এমন পরিস্থিতিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারাকান্দা উপজেলার বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

এক বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা প্রশাসন জানান, ‘১৪৪ ধারা জারিকৃত আওতাধীন এলাকায় সকল ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজামায়াতে, মাইক ব্যবহার, সকল প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশিয়অস্ত্র (দা, হাসুয়া, লাঠিসোঠা) বহন এবং একত্রে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির অবস্থান বা চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো।’

এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মতো কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম তালুকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

তাদের ভাষ্য- বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বিএনপির একটি ‘গুপ্ত পক্ষ’ এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সম্প্রতি বিরোধীদলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আতাঁত করে স্থানীয় এমপির ইন্ধনে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের ছবি সম্বলিত নানা ধরনের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বিএনপি নেতাকে ‘মুরগী এমপি, বাথরুম উদ্বোধন এবং ভুয়া বহিস্কার বিজ্ঞপ্তি’ ছাপিয়ে প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে সংর্ঘষ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর) আসনের বিএনপি দলীয় পরাজিত প্রার্থী ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারও। তিনি বলেন- সম্প্রতি স্থানীয় এমপির অনুসারীরা এবং একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল আমাকে জড়িয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। এটি দল এবং সরকারকে বিতর্কিত করার পরিকল্পিত অপচেষ্টা। আশা করছি স্থানীয় প্রশাসন ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা করছি না, বরং আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া আজকের (১৯ এপ্রিল) ঝামেলা আমাদের সঙ্গে না, গত কয়েকদিন আগে বিএনপির যারা আমাদেরকে মারপিটের হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলো। তাদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, তারা যুবদলের লোক। আমাদের কোন লোক এতে জড়িত না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি সূত্র জানায়, বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলের একটি পক্ষ একটি ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় অল্পভোটের ব্যবধানে আসনটি হারায় বিএনপি। একারণে নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ করছিলো। সম্প্রতি পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে এমপির সঙ্গে ঘামভেজা শরীরে কোলাকুলি না করাকে কেন্দ্র করে এমপির অনুসারীদের সঙ্গে মারপিটের ঘটনা ঘটে বিএনপির নেতাকর্মীদের। এতে স্থানীয় যুবদলের রিয়াদ নামের এক নেতা এমপির পক্ষ নিয়ে তর্কে জড়ালে এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে আহত হয় ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিলের অনুসারী যুবদল নেতা রিয়াদ।

মূলত ওই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (১৯ এপ্রিল) তারাকান্দা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে শাকিলের অনুসারীরা। এ খবরে মোতাহার হোসেনের সমর্থকরা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ ১৪৪ ধারার আদেশ ভঙের চেষ্টা করলে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো: কামরুল হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মাঠে সরব রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন বিভাগে ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামকে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমাকে চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর), ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত দুই কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের ছয় কর্মকর্তাকে নতুন বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাকে সিলেট বিভাগে এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন এবং রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বীথিকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপ্রধান নূরী তাসমিন ঊর্মিকেও ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ন্যস্ত করা কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী ২৪ জুন তারিখের মধ্যে বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

কালের আলো/এসএকে

দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের শতবর্ষী প্রাচীন ‘নয়নের খাল’ পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে খালটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। এসময় খালটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খালগুলোর বেহাল পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এ সময় দীর্ঘ দিনেও কেন অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। মিরকাদিমের নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেওয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেব। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়।

খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কেউ যেন পুনরায় নতুন করে খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দ আন নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালটির দুই পাড়ে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটির বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে।

খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী গেছেন । শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি হাসপাতালটির করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে ভর্তি ছিলেন।

কবি আল মুজাহিদী বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক, সম্পাদক ও সাহিত্যসেবী। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই কবি ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তার কবিতায় বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের গভীর অন্বেষণ ফুটে উঠেছে। মৃত্তিকার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতি, প্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মদর্শন তাঁর কাব্যজগতের প্রধান অনুষঙ্গ।

আল মুজাহিদী দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন লেখকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর সাহিত্যকর্মে একদিকে যেমন রয়েছে গ্রামীণ জীবনের গন্ধ, অন্যদিকে ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজ ও রাজনীতির গভীর পর্যবেক্ষণ। ফলে তাঁর কবিতা কেবল নান্দনিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতিসত্তা ও মানবিক মূল্যবোধেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।

দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের কাছেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর লেখনিতে আছে শেকড়ের প্রতি অনুরাগ, মানুষের প্রতি মমত্ব এবং সময়কে গভীরভাবে অনুধাবনের ক্ষমতা।

কবি আল মুজাহিদীর প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কবিতা, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন প্রেরণা জোগাবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে অভিমত সাহিত্য অনুরাগীদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন