খুঁজুন
                               
, ,
           

পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করতে পারি না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করতে পারি না: মির্জা ফখরুল

Oplus_131072

১৯৭১-পূর্ববর্তী পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানী ঢাকার পিআইবি অডিটোরিয়ামে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু, স্বাধীনতার পর জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে আবারও বঞ্চিত হয়।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা ও জনগণের ওপর। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।

এছাড়া, বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল যে বিপুল ভোটে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে। এমনকি আমাকে নিয়েও বলা হয়েছিল আমিও নাকি পরাজিত হবো। কিন্তু দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে। কারণ জনগণ বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কালের আলো/এসএকে

মহিমা মাকওয়ানার অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনগল্প

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
মহিমা মাকওয়ানার অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনগল্প

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’ দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তরুণ অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। আজ ৫ আগস্ট তাঁর জন্মদিন। আজ সফলতার আলোয় থাকলেও তাঁর শৈশব ও উঠে আসার দিনগুলো ছিল চরম সংগ্রামের।

মহিমার জন্মের মাত্র কয়েক মাস পর তাঁর বাবা মারা যান। মা ও ভাইকে নিয়ে মুম্বাইয়ের এক ছোট্ট চাওলে (ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন) অভাবের মধ্য দিয়ে তাঁর বেড়ে ওঠা। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই অভিনয়ের অডিশন দিতে শুরু করেন মহিমা। খেলাধুলার বয়সে নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগও ছিল না তাঁর; পরীক্ষা ছাড়া বেশিরভাগ সময় কাটত শুটিং ফ্লোরে।

শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময় এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের সেটে সংলাপ বলতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েন মহিমা। পরিচালকের কটু মন্তব্য ও অপমানে ভেঙে না পড়ে তিনি বাড়ি ফিরে কঠোর অনুশীলন শুরু করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে পরিশ্রমি হওয়ার পাঠ শেখায়।

কিশোরী বয়সে ছোট পর্দায় একটি ধারাবাহিকে বড় সুযোগ পান তিনি। সেই সাফল্যের পর মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করে মুম্বাইয়ের মীরা রোডে নিজের প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কেনেন মহিমা।

ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পেলেও ‘টেলিভিশনের অভিনেত্রী’ তকমা ঝেড়ে ফেলা সহজ ছিল না। বহু অডিশনে প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে হার না মেনে লড়াই চালিয়ে অবশেষে সিনেমা ও ওটিটিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আরও একটি বড় বাড়ি কিনেছেন মহিমা, যেখানে মায়ের সঙ্গে বাস করছেন তিনি। তবে এত অর্জনের পরও পিতৃহারা হওয়ার শূন্যতা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। জীবনে বাবার সান্নিধ্য না পাওয়ার সেই আফসোস এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, পতন শুরু হয়ে গেছে : পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, পতন শুরু হয়ে গেছে : পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে ভালো কিছু দিতে পারবেন না। তারেক রহমানের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ভবিষ্যৎ কেবল বাংলাদেশের জনগণের। তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, তার পতন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার মতোই জনগণ তার বিচার করবে; এখানে কোনো নেগোসিয়েশন (আপস) হবে না। বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেই আমরা এগিয়ে যাব।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘

ঐতিহাসিক দিনটির স্মৃতিচারণ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেদিন বেলা তখন ১২টা। সকাল থেকেই পুরো বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে ছিল। চারদিকে সেনাবাহিনী করিডোর দিয়ে রেখেছিল। আমি ও নাহিদ একটি বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। সকালবেলা আমরা বাইরে বের হতে চাইলে আমাদের সতর্ক করে বলা হয়, বের হলেই গুলি করা হবে। পরিস্থিতি বুঝতে আমরা বাসার নিচের একজন শিক্ষককে পাঠালাম। তিনি নিচে দেখে এসে জানালেন, বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। সেদিন সকালে আমাদের অনেক ভাই শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলার জাগ্রত জনতা সব বাধা-ব্যারিকেড ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। শেখ হাসিনাকে পাঁচ মিনিটের সময় দেওয়া হয়েছিল, হয় তিনি বাংলাদেশে জীবন দেবেন, না হয় ভারতে পালাবেন।

এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, সেই সময় তারেক রহমান বাংলাদেশে ছিলেন না। বাংলাদেশে ছিলেন কৃষক, মজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, গৃহিণী, আলেম এবং ছাত্ররা। তারেক রহমানের কোনো ছায়া আমরা সেদিন রাজপথে দেখিনি। এখন নতুন করে বাংলাদেশে এসে সব বোঝার আগেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছেন। আমরা বলেছি, আপনাকে ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলার জনগণের রায় না মানার কারণে পাকিস্তানি জান্তাদের যে পরিস্থিতি হয়েছিল, আপনার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার আপনার নয়, এটা বাংলাদেশের জনগণের।

পাটওয়ারী বলেন, এক ব্যক্তি তাজমহল প্রায় একশত বার বিক্রি করেছিল। কিন্তু তাজমহলের মালিকানা কি কেউ নিতে পেরেছে? না। তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ভারত থেকে শুরু করে অনেক ‘ডিপ স্টেট’-এর কাছে তাজমহলের মতো বাংলাদেশকে বিক্রি করেছেন। এখন সবাই তার কাছে পাওনা চাইছে। কিন্তু বাংলাদেশের মালিকানা তারেক রহমানের নয়, বাংলাদেশের মালিকানা এ দেশের জনগণের। ক্ষমতার লোভে যদি কেউ বাংলাদেশের মাটি, বায়ু, পানি অন্য কোনো রাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করতে চায়, তবে আমরা রাজপথে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার যেন চাঁদাবাজদের হাতে না যায়, এ কথা বলার পর রামদা, চাপাতি ও হকিস্টিক নিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলা করেছে। হবিগঞ্জে আমরা চিকিৎসা নিতে পারিনি, হাসপাতালে গিয়ে হামলা করা হয়েছে। ঢাকাতেও হাসপাতালে আক্রমণ করা হয়েছে, চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সন্ত্রাসী দল ছাত্রদল-যুবদল, আজ তোমাদের বলব, তোমরা কোথায়? আজ রাজপথে দেখা যাচ্ছে না কেন? বাসায় ঘুমিয়ে আছো, নাকি পালিয়ে গেছ? পালানোর জায়গা পাবে না। জনতা জেগে উঠেছে।

ইসলাম ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামীতে ইসলাম এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হবে। আপনারাই একমাত্র প্রহরী, যারা এটা রক্ষা করবেন। জীবন দিয়ে হলেও এটা রক্ষা করতে হবে। আগামীতে দেখা যাবে কারা বাংলাদেশের পক্ষে, আর কারা বিপক্ষে; কারা লন্ডনের, কারা দিল্লির, আর কারা ঢাকার অনুসারী। মুখে মুখে বললেই প্রমাণ হবে না।

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লড়াইটা এখন বাংলাদেশের সংস্কারের লড়াই, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লড়াই, শহীদদের বিচারের লড়াই। আপনারা আসুন, এই লড়াইয়ে অংশ নিন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। ইসলাম আমাদের বাতিলের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়েছে। বাতিলের সঙ্গে কোনো নেগোসিয়েশন (আপস) নয়- এই শিক্ষা আপনারাই আমাদের দিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসএকে

‘গজনি’খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ সিং রাওয়াত আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
‘গজনি’খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ সিং রাওয়াত আর নেই

আমির খান অভিনীত বিখ্যাত ‘গজনি’ চলচ্চিত্রের খলনায়ক ‘গজনি ধর্মাত্মা’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হওয়া প্রবীণ অভিনেতা প্রদীপ সিং রাওয়াত মারা গেছেন। রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মঙ্গলবার ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি জানান, কিছুদিন আগে তাঁর ক্যানসার আবার ফিরে আসে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিনেতা যশপাল শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদীপ রাওয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্ম নেওয়া প্রদীপ রাওয়াত অভিনয়জীবন শুরু করেন টেলিভিশনের মাধ্যমে। বি আর চোপড়ার কালজয়ী ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ ‘অশ্বত্থামা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান।

 ১৯৮৫ সালে ‘এতবার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর পা রাখা। নব্বইয়ের দশকে ‘অগ্নিপথ’, ‘কয়লা’, ‘সরফরোশ’ ও ‘মেজর সাব’-এর মতো ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেন।

 ২০০১ সালে ‘লগান’ ছবিতে ‘দেবা সিং সোধি’ এবং ২০০৮ সালে হিন্দি ‘গজনি’ ও ২০০৫ সালে তামিল ‘গজনি’তে খলনায়ক চরিত্রে তাঁর দুর্দান্ত রূপায়ন ভক্তদের মনে জায়গা করে নেয়।

তেলেগু ছবি ‘সাই’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ খলনায়ক হিসেবে ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার পান। এছাড়া ‘রাউড়ি রাঠোর’ ও ‘বাঘি’র মতো অনেক ব্যবসাসফল ছবিতেও কাজ করেছেন।

চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে হিন্দি, তেলেগু, তামিল ও নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষার শতাধিক চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাবা’, তেলেগু চলচ্চিত্র ‘গায়াপাড্ডা সিমহাম’ এবং নেপালি ছবি ‘আ বাটা আমা’।

ব্যক্তিজীবনে বিনয়ী ও সহকর্মীদের প্রিয় প্রদীপ রাওয়াত মৃত্যুকালে স্ত্রী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন।

কালের আলো/এসএ