খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ময়মনসিংহে ৩০ মিনিটের ঝটিকা পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, অনিয়ম দেখে কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা-তিরস্কার

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে ৩০ মিনিটের ঝটিকা পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, অনিয়ম দেখে কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা-তিরস্কার

ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ.জেড. এম জাহিদ হোসেন। নেমপ্লেটে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার থেকে শুরু করে অফিসের দায়িত্বে অবহেলার নানা চিত্র দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন তিনি।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর মন্ত্রী নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি শিশু সদন (বালক) পরিদর্শন করেন। পরে আকুয়া এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শন শেষে সেখানে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

আলোচনা সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এতিম, অসহায় ও পথশিশুদের সুরক্ষা এবং মানবিক উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি শিশু সদনগুলোকে আরও উন্নত ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি শিশুদের প্রতি আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী শিশু সদনের আবাসন ব্যবস্থা, খাবারের মান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের লেখাপড়া, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শন শেষে সফরসূচি অনুযায়ী ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি আকস্মিকভাবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিটের ঝটিকা পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তার নজরে আসে।

পরিদর্শনকালে তিনি কার্যালয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সামনে ‘ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ শরীফ আহমেদ আওয়াল’ এবং ‘ডাঃ গোলাম মোস্তফা’ নামে দুটি নেমপ্লেট দেখতে পান। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই নেমপ্লেট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিতে থেকে নিয়ম না জানা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ফিজিওথেরাপি কক্ষে এক কর্মচারীকে রোগীর বেডে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখে মন্ত্রী আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি কর্মচারীর উদ্দেশে বলেন, আপনি এখানে কী করছেন?আপনি কি মোবাইলে জুয়া খেলছেন? আপনাদের কি কেউ তদারকি করেনা। এখানের (জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক) ডিডি কোথায়?

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় সেখানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের দুটি কক্ষ গেস্ট হাউস হিসেবে রেখে বাকি অংশে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা ও আবাসিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রাজু আহমেদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কায়কোবাদ মামুন, ড্যাব নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন শাকিলসহ সমাজসেবা ও শিশু সদনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কালের আলো/এম/এএইচ 

প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটির মতে, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও সামগ্রিক রাজস্ব ও প্রণোদনা কাঠামো এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিকেই বেশি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে দেশের জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের পথে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কী পেল?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী।

সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশ বরাদ্দ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় হবে।

সংস্থাটি মনে করে, এই চিত্র সরকারের প্রশাসন ও জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিকেন্দ্রিক মানসিকতার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে সামগ্রিক জাতীয় বাজেটে এ খাতের অংশ কমে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দ কমে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বরাদ্দ প্রায় ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিপিডির মতে, মূলত গ্যাস অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উত্তোলন কার্যক্রমে জোর দেওয়ার কারণেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে বাজেটে প্রথমবারের মতো সৌরবিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার বা কর অবকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তারা সৌরবিদ্যুতের বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রিবেট সুবিধা পাবেন।

‘এছাড়া সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের কাঠামো এবং বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক কন্ডাক্টরের ওপর বিদ্যমান উচ্চ করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যে ৬২ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত করভার থাকলেও তা কমিয়ে ২৬ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ওপর করভার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ, সোলার ইনভার্টারের কর ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সোলার প্যানেলের কর ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশনের ওপর আরোপিত কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি।

তবে সংস্থাটি বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য কিছু সুবিধা বাড়ানো হলেও একই সময়ে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক খাতেও উল্লেখযোগ্য কর ও শুল্ক সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। বাজেটে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি অব্যাহত রয়েছে, যা একে দেশের অন্যতম কম করযুক্ত জ্বালানি হিসেবে ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্ক সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিপিডির মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর কৌশল এবং জলবায়ুবান্ধব উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির জন্যও বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও কর-সুবিধা অব্যাহত রাখছে। ফলে নীতিগতভাবে একটি দ্বৈত অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যখন সরকার উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি না করার কথা বলছে, তখন একই সঙ্গে এলএনজির জন্য কর-সুবিধা বজায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে নতুন কয়লা অনুসন্ধান এবং কয়লা আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট রাজস্ব কাঠামোর বিদ্যমান বৈষম্য পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক খাতগুলো এখনো তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে হলে ভবিষ্যতে এসব বৈষম্য কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা এবং ইডকলের চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ জাবেদ ইমরানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী

মিঠাপানির মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং মড়ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকা মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করতে হলে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনসহ আধুনিক গবেষণার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মৎস্য উৎপাদন টেকসই রাখতে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গবেষকদের এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও মাছের খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা। জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক, মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

 

প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল

মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসার আগেই বাতাসে উপকারভোগীদের বসার প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি ও মূল মঞ্চের কোনও ক্ষয় ক্ষতি হয়নি।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগী ও অতিথিদের জন্য নির্মিত প্যান্ডেল বাতাসে ভেঙে পড়ে যায়। এ সময় ভেতরে বসা উপকারভোগী ও অতিথিদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে প্যান্ডেল খুলে ফেলা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি চা শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আগত চা শ্রমিকরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলার সব চা বাগান বন্ধ দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য এসেছি। বাগানের গাড়িতে করে আমরা এসেছি।

চা বাগানে বাসিন্দা তপন বৈদ্য বলেন, আমরা সবাই এসেছি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে। চায়ের দেশে তিনি এসেছেন এজন্য আমরা একনজর দেখতে।

সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি সেখানে তিনি ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জনকে জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য ৫ জন চা শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দপত্র তুলে দেবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি