খুঁজুন
                               
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

হাইতির ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’-এ অংশ নেবে বাংলাদেশ: সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
হাইতির ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’-এ অংশ নেবে বাংলাদেশ: সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হচ্ছে জানিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার নতুন উদ্যোগ হিসেবে হাইতিতে গঠিত ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’-এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেবেন।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নয়টি মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৩ হাজার ৬০৮ জন, নৌবাহিনীর ৩০২ জন, বিমান বাহিনীর ২৬৭ জন এবং পুলিশের ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন।

পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অদ্যাবধি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের সর্বমোট ৩ হাজার ৯০৫ জন মহিলা শান্তিরক্ষী সফলভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ২৯৪ জন মহিলা সদস্য শান্তি রক্ষার কাজে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত আছেন।’

সেনাপ্রধান বলেন, ‘জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে বাংলাদেশ। আজ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ একটি স্বীকৃত এবং অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নাম। তবে বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ রেখে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সদা প্রস্তুত আছেন।’

জাতিসংঘের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা এবং নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

তারপরও থামে না ভয়ংকর যাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
তারপরও থামে না ভয়ংকর যাত্রা

প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাগরপথে বিদেশ যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে মারা যায়। অনেককে বিদেশে আটকে রেখে দেশ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। কিন্তু তারপরও থামে না এই ভয়ংকর যাত্রা। আর প্রকৃত অপরাধীরা বরাবরই থেকে যায় রহস্যের অন্ধকারে। সাগরপথে অবৈধভাবে ইউরোপে মানব পাচারের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশিরা শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম আফ্রিকার রুট দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসী প্রাণ হারান। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ রয়েছে।

অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপ ও মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে প্রতি বছর কত সংখ্যক বাংলাদেশি প্রাণ হারায় তার সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই বছরে এ সংখ্যা অর্ধ সহস্রাধিক। অন্যদিকে জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রকৃত সংখ্যা ও নিখোঁজের হার আরও অনেক বেশি।

আইওএম দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে, যাদের মধ্যে ৮৯০ জনেরও বেশি প্রাণ হারায়। বিশেষ করে আন্দামান সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে ২০২৪ সালে মারা যান ৫৯৮ জন এবং ২০২৫ সালে মারা যান ৮৬০ জন। এক বছরে মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্দামান সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয় বলে জানায় জাতিসংঘ। গত ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এ তথ্য জানায়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ গত ৯ এপ্রিল সাগর থেকে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে, যার মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।

জানা যায় ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের তরুণরা সাধারণত এসব ঝুঁকিপূর্ণ পথে বেশি পাড়ি জমান। সমুদ্রযাত্রায় মৃত্যুর পাশাপাশি এসব রুটে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে অপহরণ ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার হারও অনেক বেশি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে কাউকে মাঝেমধ্যে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা সবসময়ই রয়ে যায় আড়ালে। আবার গ্রেফতারের পর অনেক সময় যথাযথ সাক্ষী না পাওয়া, মামলার দীর্ঘসূত্রতা, বাদীকে হুমকি-ধমকি কিংবা আদালতের বাইরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা আর শেষ পরিণতি পায় না।

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলাদেশের সমর্থনকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে চায় আর্জেন্টিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের সমর্থনকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে চায় আর্জেন্টিন

Oplus_131072

ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপক সমর্থন ও আগ্রহকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে চায় আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখা যায়, সেটি অনন্য। তিনি এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম এবং আর্জেন্টিনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বিশ্বব্যাপী প্রচারের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি

উজানে ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ৬টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টায় তা বিপৎসীার ১৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে এই মুহুর্তে বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানা গেছে, উজানের ঢলে শনিবার সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর কিছুটা কমে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ট পর্যন্ত ১৩ সেণ্টিমিটার এবং বেলা ৩ টায় ১৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় ওই পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সেখানে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেণ্টিমিটার।

এদিকে, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার আশঙ্কায় রয়েছে তিস্তাপাড়ের নিমঞ্চলের মানুষ।

জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চল গ্রামে পানি বাড়ছে। তবে এখনো চরাঞ্চলের বাড়ি ঘরে পানি ওঠেনি। যে কোনো সময়ে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যার আশঙ্কায় রয়েছে মানুষ।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ১৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হলেও এই মুহুর্তে বন্যার আশঙ্কা নেই।

কালের আলো/এসএকে