খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত একেকটি প্রত্যক্ষ নীতির প্রতিফলন।

আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের একটি প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতিনির্ধারকদের করব্যবস্থাকে একটি কার্যকর প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা। এজন্য এমন একটি দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ দল প্রয়োজন, যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করনীতি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছি। যে সংস্থা নীতি ও করব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে, তাদের সিদ্ধান্তে অবশ্যই জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে। নীতির মূল অর্থই হলো—এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত একটি নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন থাকবে। আপনি যদি সঠিকভাবে নীতি প্রণয়ন করতে পারেন, তাহলে বাস্তবায়নের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আমরা বাজেটকে যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজন ও স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়েই নীতিগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এর চেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু মজা করে আমাকে কিছুটা বামপন্থী-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলেছিলেন, কারণ আমরা ব্যাপক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূলধারায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। এখানেই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিককে অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পীদের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীরা এতদিন অর্থনীতির মূলধারার বাইরে ছিলেন। তাদের পণ্য ও সৃজনশীল কাজের যথাযথ আর্থিক মূল্যায়নের সুযোগও ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই একজন গ্রামীণ কারিগর, যিনি মাটির পাত্র তৈরি করেন, কাপড় বোনেন কিংবা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করেন, তিনি যেন সহজ শর্তে ঋণ পান, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান এবং পণ্যের নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা পান। পাশাপাশি আমরা এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি, যা অ্যামাজন বা ইবের মতো বৈশ্বিক বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটেই সৃজনশীল অর্থনীতির বিষয়টি কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা ছোট পরিসরে শুরু করেছি, তবে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল সম্পদও এর আওতায় আসবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, তারাও এই উদ্যোগের অংশ হবেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে চাই, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের নীতিতে একটি ‘লাইফ সাইকেল অ্যাপ্রোচ’ থাকবে। একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন একটি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যা দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ সৃজনশীল অর্থনীতি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডকে উল্লেখ করা যায়। আশির দশকে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুব শক্তিশালী ছিল না, কিন্তু সৃজনশীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ছাড়াও বিডার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মেধাবী প্রকৌশলীদের দেশে রাখতে উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ জরুরি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
মেধাবী প্রকৌশলীদের দেশে রাখতে উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ জরুরি: আইনমন্ত্রী

দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় উন্নয়ন ও শিল্পায়নের কাজে লাগাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলেই দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের দেশে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইইবি ভবনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত ‘আইইবি জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তবে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পর অনেক মেধাবী প্রকৌশলীর বিদেশে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির স্বার্থে এ মেধাবী জনশক্তিকে দেশে ধরে রাখা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভেতর থেকেই নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিল্পোন্নয়ন এবং কৃষির আধুনিকায়নে তারা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রকৌশলীরা তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এজন্য গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্প ব্যয় যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী রাখার ক্ষেত্রেও প্রকৌশলীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে দেশের প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে ভূমিকম্প সহনশীলতা, নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করে ভবন নির্মাণে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে প্রকৌশলীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশের মানবসম্পদকে বিশ্বমানের সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং এ যাত্রায় প্রকৌশলীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান, জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভুঁইয়া এবং সহ-আহ্বায়ক প্রকৌশলী সাবির আহমেদ ওসমানী।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নবীন ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষক বদলিতে সফটওয়্যার চালু হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষক বদলিতে সফটওয়্যার চালু হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। পরবর্তীতে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও বর্তমানে আবারও এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দূর-দূরান্তে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির জন্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবস্থা চালু করছি। আমরা প্রায় প্রস্তুত। সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায় না, কিছুটা সময় লাগে।

মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। এটিকে ধীরে ধীরে শতভাগে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বাজেট বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সংকটের বিষয়েও কথা বলেন এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে আছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিষয়ে মামলা জটিলতার কারণে অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মোট ৮৩ হাজার ৫০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভাড়ায় ইট নিয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
ভাড়ায় ইট নিয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন ঠিকাদার

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেসার্স হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শামীম রেজা শামীম লিখিত বক্তব্যে এ দাবি করেন।

এর আগে শুক্রবার একই স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শামীম রেজা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে জিয়া বাড়ি পর্যন্ত ৪০০ থেকে ৯০০ মিটার অংশে নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স হক ট্রেডার্স।

ইলেকট্রনিক দরপত্র (ই-জিপি) পদ্ধতির মাধ্যমে লটারিতে প্রথম বিজয়ী হয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পায়। পরে ৫ শতাংশ কার্যসম্পাদন জামানত জমা দিয়ে চুক্তি সম্পাদন করা হয়।

তবে চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করে শামীম রেজা বলেন, প্রকল্পের নকশাগত কিছু ত্রুটি এবং মেঠোপথটির সংকীর্ণতা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

যেখানে ১৬ ফুট প্রশস্ত সড়কের প্রয়োজন, সেখানে বাস্তবে জায়গা রয়েছে মাত্র ৩ থেকে ৫ ফুট। এছাড়া সড়কের দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, শৌচাগার, গোয়ালঘর ও গাছপালা থাকায় সেগুলো অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করতে হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লেগেছে।

তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ স্থানীয় জনগণের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে পড়ায় সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও দেখা দেয়। বর্তমানে দুইজন বাসিন্দার লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ঠিকাদার আরও বলেন, এলজিইডির জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সড়কটি পাশের ঢালাই সড়কের তুলনায় ৩ থেকে ৪ ফুট নিচু এবং একটি খালের পাশে অবস্থিত। ফলে সেখানে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করতে হয়েছে। নতুন ভরাট করা মাটি টেকসই করতে একটি বর্ষা মৌসুম প্রয়োজন ছিল। এরই মধ্যে খালের পাশের কিছু অংশে মাটি ধসে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে আবারও আগের অবস্থায় সড়ক

প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভাড়ায় ইট আনার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ির এই সড়ক প্রসঙ্গে শামীম রেজা বলেন, গত ১৭ বছর সড়কটির বেহাল অবস্থা নিয়ে কেউ কথা বলেননি। এটি রাজনৈতিক কারণে অবহেলিত ছিল। অথচ বর্তমানে কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী,

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে মানহানিকর।

সংবাদ সম্মেলনে শামীম রেজা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জরুরি ভিত্তিতে যে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে মেসার্স হক ট্রেডার্স বা চলমান প্রকল্পের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়েছিল।

প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে তিনি বলেন, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর ২০২৬ সালের মধ্যে সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর ওই এলাকায় সফরের সময়কার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শুক্রবারে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সময় সড়কটি কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল।

বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সাময়িকভাবে ভাড়ায় আনা ইট সেখানে বিছিয়ে দেয়। বর্তমানে অনুমোদিত ঠিকাদার বালু ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করায় ওই ইট মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্নীতির সম্পর্ক নেই। তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি