খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

যে তারিখ থেকে কার্যকর হতে পারে নতুন পে-স্কেল, ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
যে তারিখ থেকে কার্যকর হতে পারে নতুন পে-স্কেল, ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী  

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে।

আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত এবং যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো এবং পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

বর্তমানে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তা ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও মূল বেতনে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বেতন-ভাতায় বরাদ্দ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে—

১. ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা

২. কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা

৩. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

এছাড়া সব পর্যায়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণের মতো মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোতে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাড়াসহ মূল বেতনের সঙ্গে সব ভাতা যোগ করে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

সুপারিশ অনুযায়ী, বেসিকের হাফ বেতনে ২০ গ্রেডে বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা।

৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হবে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা।

৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকা। ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা।

৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকা। ৮ম গ্রেডের ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে হবে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা।

১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলে ১১তম গ্রেডের বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৭৫০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৯৫০ থেকে ৪০ হাজার ৯৫০ টাকা।

১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৩৯ হাজার ৮৮৫ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৩০০ থেকে ৩৭ হাজার ২০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৫৫০ থেকে ৩৫ হাজার ২৩৫ টাকা।

১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৩৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ২০০ থেকে ৩১ হাজার ৯৬৫ টাকা।

এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১২ হাজার ৭৫০ থেকে ৩০ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ থেকে ৩০ হাজার ১৫ টাকা।

এদিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বেতন বৃদ্ধির খবরও চাউর হয়েছে।

এদিকে নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশও আলোচনায় রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী—

বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে।

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর থাকতে পারে। সূত্রমতে, মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সে বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বৃদ্ধির হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পেনশন নিয়ে যে সুবিধা বাড়ছে

এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

যাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে

নবম জাতীয় পে স্কেলে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা সভা শেষে দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

প্রকাশ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ১৪ দফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
প্রকাশ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ১৪ দফা

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ ১৪ দফা অবশেষে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কয়েকদিন ধরে নথিটির বিস্তারিত গোপন রাখার কারণে সমালোচনা বাড়তে থাকলে বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিষয়বস্তু জনসমক্ষে আনে।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরে জানান, এতে হরমুজ প্রণালি দ্রুত চালু করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ শিরোনামের এ সমঝোতায় আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের আলোচনার সুযোগ পাবে। এর আগে সংবাদমাধ্যম সিএনএন যে খসড়া প্রকাশ করেছিল, প্রকাশিত সরকারি নথির সঙ্গে তার উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উৎপন্ন বর্জ্য অপসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। এর বিনিময়ে তেহরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ বাড়াবে।

প্রকাশিত ১৪ দফার প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট মিত্ররা লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধারায় দুই দেশ পরস্পরের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে। তৃতীয় ধারায় ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

চতুর্থ ও পঞ্চম ধারায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যা ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

একই সময়ে ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করবে। সমুদ্রপথে থাকা মাইন ও অন্যান্য বাধা অপসারণের কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক অংশীদাররা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হবে।

পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত অষ্টম ধারায় ইরান পুনরায় জানিয়েছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। দেশটির মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে, তা আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

নবম ধারায় বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এ সময় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করবে না।

দশম ও একাদশ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি, ব্যাংকিং কার্যক্রম, বীমা এবং পরিবহন খাতে বিশেষ ছাড় দেবে। একই সঙ্গে ইরানের স্থগিত বা জব্দ করা সম্পদ ও তহবিল ধাপে ধাপে মুক্ত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

শেষ তিনটি ধারায় সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য একটি তদারকি কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রাথমিক শর্ত বাস্তবায়নের পর বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউস এই সমঝোতা স্মারককে মূলত একটি রাজনৈতিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সব গোপন বোঝাপড়ার পূর্ণ প্রতিফলন নয়।

অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম আগে ফাঁস হওয়া খসড়ার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ছাপানো নোটের তীব্র সংকট

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
ছাপানো নোটের তীব্র সংকট

কোরবানির ঈদে ছাপানো টাকার চাহিদা অনেক বেড়েছিল। চাহিদা মেটাতে ঈদের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকশালের কাছে ১৬ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়। তবে টাকশাল দিতে পেরেছে অর্ধেকেরও কম। আবার ঈদের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংকটের কারণে টাকা উত্তোলন বেড়ে গেছে। মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ বেড়ে সংকট বেড়েছে। ঈদের পর শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে ছাপানো নোটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে অর্থ পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার মাধ্যমে তারল্য ও মুদ্রা সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকের কোনো শাখা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা ভল্টে রাখতে পারে না। বেশি হলেই তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় জমা দেয়। আবার যখন দরকার হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের বিপরীতে উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা জমা ও উত্তোলন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সব সময় ছেঁড়াফাটা, ক্রটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট ব্যাংকগুলোর কাছে এলে তা আলাদা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে থাকে। এ ধরনের নোট পুড়িয়ে ফেলে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমমূল্যের নতুন নোট দিয়ে থাকে।

সাধারণভাবে পুরোনো নোট এটিএম বুথে দেওয়া যায় না। ছাপানো নোটের সংকট আর তারল্য সংকট এক না। সব মিলিয়ে এখন সঞ্চয় রয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো। অথচ ছাপানো নোট রয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ছাপা নোটের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এ সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্দোলনের মুখে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট ছাড়া স্থগিত করা হয়। একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগের পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লেগে যায়। এতে করে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য তৈরি হয়ে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকাররা আরও জানান, ছাপা নোটের বড় একটি অংশ ব্যবসায়িক কাজে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষের কাছে থাকে। আর সারাদেশে ব্যাংকগুলোর ১২ হাজারের মতো শাখার ভল্টে থাকে ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো বাজার থেকে প্রতিনিয়ত পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগ বা ময়লাযুক্ত টাকা তুলে তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ

সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে (ইসলামাবাদ এমওইউ) ভার্চুয়ালি স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ভার্চুয়ালি স্বাক্ষরের এ তথ্য ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে। খবর ইরনা, রয়টার্স ও সিএনএনের।

শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি৭ সামিটের সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার (১৭ জুন) রাজধানী প্যারিসের ভার্সাইলিস প্রাসাদে নৈশভোজের আগে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পাশে ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে।

১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত ইসলামাবাদ এমওইউ খুব সংক্ষিপ্ত একটি সমঝোতা চুক্তি, কিন্তু এর তাৎপর্য ব্যাপক। কারণ মাত্র ৮০০ শব্দের এই চুক্তিটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কয়েক দশকব্যাপী উত্তেজনা প্রশমণের প্রাথমিক বার্তা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগোনোর পথ।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন এই চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছিলেন, আমরা একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটা মীমাংসায় আমরা পৌঁছাতে পারব।

ইসলমাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সেই চুক্তির বক্তব্য ও শর্ত নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান।

এই ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান; তার পরিবর্তে ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে মার্কিন বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আছে পাকিস্তান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি