খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে সক্রিয় ২৬৮টি অনলাইন জুয়ার সাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে সিআইডির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেশে সক্রিয় ২৬৮টি অনলাইন জুয়ার সাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে সিআইডির চিঠি

দেশে সক্রিয় ২৬৮টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত ২ হাজার ২২১টি ব্যাংক হিসাব নম্বর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। বাকি সাইটগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।

সানা শামীনুর রহমান জানান, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সবশেষ রবিবার ও সোমবার নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) এবং আবু জোবায়ের সানি (৩৬)। এর মধ্যে রায়হান ও পাভেলকে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর এলাকা থেকে এবং সানিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিপিসি দেখতে পায়, দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে জানা যায়, অনলাইন বেটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। অভিযুক্তরা বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিতেন। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত করা হতো, যা জুয়া খেলায় ব্যবহৃত হতো।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করতেন। কমিশন কেটে রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তারা অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এজেন্ট সিম ও হিসাব সরবরাহ করতেন, যা অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত হতো।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েদির মৃত্যু

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েদির মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম (৫০) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাবনা জেলা কারাগারের বন্দী ছিলেন। বাড়ি পাবনা সদরের দাপুলিয়া গ্রামে। রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল ৯টায় তিনি মারা যান।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আখেরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মারামারির মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন সিরাজুল। পাবনা কারাগারে তিনি অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

তিনি জানান, সিরাজুল ইসলাম ডায়াবেটিসসহ কয়েকটি অসুখে ভুগছিলেন। তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কঙ্গনার ‘কুইন টু’ মুক্তির আগেই আইনি জটিলতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
কঙ্গনার ‘কুইন টু’ মুক্তির আগেই আইনি জটিলতায়

বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কুইন টু’ মুক্তির আগেই বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে। এ সিনেমাটি মুক্তির আগেই মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সিনেমাটির মুক্তি আটকে দিতে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যান্টম স্টুডিওস’।

ইতোমধ্যে মুম্বাই হাইকোর্টে ‘জিওস্টার’-এর বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে তারা। ফ্যান্টম স্টুডিওসের দাবি, তাদের কোনো রকম অনুমতি না নিয়েই বেআইনিভাবে ‘কুইন’ সিনেমার এ সিক্যুয়েল নির্মাণ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক বিকাশ বহলের হাত ধরে শুরু হয়েছিল ‘কুইন ২’ সিনেমার শুটিং। সম্প্রতি সিনেমাটির ক্যামেরা ক্লোজ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আর শুটিং শেষ হওয়ার এ খবরটি সামনে আসার পরপরই আইনি লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ফ্যান্টম স্টুডিওস।

সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে একাধিকবার জিওস্টার ও পরিচালক বিকাশ বহলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফ্যান্টম স্টুডিওসের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির কথা জানানো হয়। এমনকি প্রকাশ্যে আইনি নোটিশও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই মামলর পথ বেছে নিয়েছে ফ্যান্টম স্টুডিওস।

ফ্যান্টম স্টুডিওসের দাবি, ‘কুইন’ সিনেমার ৫০ শতাংশ মেধাস্বত্বের মালিকানা এখনো তাদের হাতেই রয়েছে। সেই আইনগত অধিকার বলেই এ সিনেমার সিক্যুয়েলসংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্তের অংশীদার তারা। চলতি বছরের এপ্রিলে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল— ‘কুইন’-এর ওপর ভিত্তি করে কোনো সিক্যুয়েল বা নতুন কোনো অভিযোজন নির্মাণের অনুমতি তারা কাউকে দেয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কুইন’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তোলার পাশাপাশি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে তুমুল প্রশংসা পেয়েছিল। সিনেমাটি সে বছর দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লুফে নেয়, যার মধ্যে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পান কঙ্গনা রানাউত। সেই সময়ে সিনেমাটির যৌথ প্রযোজনায় ছিল ‘ভায়াকম১৮ মোশন পিকচার্স’ ও ‘ফ্যান্টম ফিল্মস’।

অনুরাগ কাশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে, মধু মন্টেনা ও বিকাশ বহল মিলে গড়ে তুলেছিলেন ফ্যান্টম ফিল্মস। পরে ২০১৮ সালে এ সংস্থাটি বন্ধ হয়ে গেলেও ২০২১ সালে ‘ফ্যান্টম স্টুডিওস’ নামে নতুনভাবে এর পথচলা শুরু হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম স্বাক্ষরিত আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ওই পত্র অনুযায়ী, সরকার আইরিন খানকে সরকারের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে।

বুধবার (৮ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইরিন জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই আইরিন খান তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন। সূত্র জানায়, এ নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সম্মতি দিয়েছেন।

ডিও লেটারে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবাধিকার, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আইরিন খান অত্যন্ত সুপরিচিত। তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে দক্ষতা বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

এতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আইরিন খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পত্রে তার নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন