খুঁজুন
                               
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

কুনহা-ভিনির সাম্বা ম্যাজিকে লণ্ডভণ্ড হাইতি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
কুনহা-ভিনির সাম্বা ম্যাজিকে লণ্ডভণ্ড হাইতি

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের ধাক্কা সামলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরল ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধেই মাতেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ইনজুরি টাইমে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ফিনিশিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। এই বড় জয়ে গোল ব্যবধানে মরক্কোকে টপকে গ্রুপ ‘সি’র টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতিকে চেপে ধরে ব্রাজিল। ১৩ মিনিটে দানিলোর পাস ধরে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন রাফিনহা। স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়লেও লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন। এর ঠিক ৯ মিনিট পর আবারও গোলকিপারকে একা পেয়েও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি বার্সেলোনা তারকা। অবশ্য এবারও তিনি অফসাইড পজিশনেই ছিলেন।

তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য ব্রাজিলকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ঠিক পরের মিনিটেই এলোমেলো হয়ে পড়ে হাইতির রক্ষণভাগ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের থেকে বল পেয়ে হাইতির গোলমুখে ঠেলে দেন কুনহা। বলটি প্রথমে হাইতিয়ান ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং পরে কুনহার শরীরে লেগে জালে জড়ালে ১-০ তে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

প্রথম গোলের পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যার ফলশ্রুতিতে ৩৬ মিনিটে আবারও হাইতির জাল কাঁপান কুনহা। ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এই স্ট্রাইকার। এরপর কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূরণ করেন তিনি।

ব্রাজিলিয়ান সাম্বার আসল প্রদর্শনী তখনও বাকি ছিল প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। মাঝমাঠ থেকে লুকাস পাকুয়েতা হাইতির ডিফেন্সের ওপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাইতিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। চলতি বিশ্বকাপে এটি রিয়াল মাদ্রিদ তারকার দ্বিতীয় গোল। ভিনি-কুনহাদের এই ত্রিমুখী আক্রমণে প্রথমার্ধেই ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর মাঝেই ৩৯ মিনিটে হালকা চোট পেয়ে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়লে বদলি নামেন রায়ান।

তিন গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে হাইতি। উইলসন ইসিদর ও ডোমিনিক সিমনকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে দেশটি। ৪৮ মিনিটে দানিলোর এক ভুলের সুযোগ নিয়ে ইসিদর জোরালো শট নিলেও তা ডিফেন্সে ব্লক হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ব্রাজিল কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেও সময়ের সাথে সাথে গুছিয়ে ওঠে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচে ব্রাজিল।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনহা ও পাকুয়েতাকে তুলে নিয়ে এন্ড্রিক এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। ৭৮ মিনিটে এন্ড্রিক বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তার গোলটি বাতিল হয়। ৮১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ও ব্রুনো গিমারেজকে তুলে নিয়ে দানিলো সান্তোস ও এদেরসনকে মাঠে নামানো হয়। ৮২ মিনিটে মার্তিনেল্লির পাস থেকে এন্ড্রিক সুযোগ পেলেও হাইতির রক্ষণ তা ক্লিয়ার করে। ম্যাচের শেষ দিকে হাইতি বেশ কিছু ক্রস বাড়িয়ে ব্রাজিলের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির দল।

কালের আলো/এসএকে

আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের

দক্ষিণ লেবাননে সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

তেহরান বলছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে চুক্তি হয়েছে তা লঙ্ঘনের শামিল।

ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। এটি চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে প্রথম পদক্ষেপ।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ। জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালীর কাছে না আসার ব্যাপারে সতর্ক করেছে এবং বলেছে, এমনটা করলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি নেভি লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসআর/এএএন

মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশেই লিওনেল মেসি, রোনালদো ও এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করব। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে সবাই চিনবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। যে গান করতে চায়, ছবি আঁকতে চায় বা কোরআন তিলাওয়াত করতে চায়—সব ব্যবস্থা সরকার করবে।’

শিশুদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা এবং সংস্কৃতি চর্চায় পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই সুন্দর, শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে পারব। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তোমাদের মধ্যে থেকেই তৈরি হবে। অলিম্পিকে আরো ভালো অবস্থান তৈরি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার’স কাপ’ চালু হবে। অ্যাম্বাসাডর হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিশুদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক-বালিকা)’ ফাইনালে খেলে।

চূড়ান্ত পর্বে বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে। আর বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চূড়ান্ত পর্বের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্য অতিথিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক কারাগারে, ডিআরইউর নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক কারাগারে, ডিআরইউর নিন্দা

সংবাদ প্রকাশের জেরে করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একইসঙ্গে পত্রিকাটির আরও পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২০ জুন) ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই মামলায় পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিবেদক মো. শামস এবং বগুড়া জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসানের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।

ডিআরইউ নেতারা বলেন, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য দেশে প্রচলিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানহানির অভিযোগে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে যার মানহানি হয়েছে কেবল তিনিই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। অন্য কেউ তার পক্ষে মামলা করতে পারেন না। এছাড়া কোনো অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা উদ্বেগজনক।

ডিআরইউ নেতারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের মতো বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রয়োজন। মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।

বিবৃতিতে অবিলম্বে সাংবাদিক মো. রেজানুর ইসলামের মুক্তি এবং এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপদ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ