খুঁজুন
                               
, ,
           

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে পুরোনো ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে বর্তমান সরকার নতুন কর্মসূচিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এদিন সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে নেওয়া ঋণ কর্মসূচি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেনি। তাই সেটি বাদ দিয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ডলার সংকট মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।

এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা ছাড় হয়নি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইএমএফের প্রতিনিধি দল।

বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে তিনি আগের ঋণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণের স্বার্থে নতুন করে ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছি। কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আগের সরকার যে ঋণ কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হয়নি।

এ সময় তিনি আরও জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

কালের আলো/এসএকে

পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী নৌবাহিনী, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশে গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী নৌবাহিনী, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশে গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিপন্ন করছে জীবনকে। প্রতি বছর লাখ লাখ গাছ কাটা হচ্ছে নগরায়ণ, কৃষি সম্প্রসারণ ও কাঠের জন্য। এই অপূরণীয় ক্ষতি রোধ করতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা অপরিহার্য। বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণ এই পরিবর্তনের মোকাবিলায় সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের ক্ষেত্রেও পালন করছে উদ্যোগী ভূমিকা।

দেশে সবুজ বৃক্ষরাজিই যে অস্তিত্বের অনুষঙ্গ সেই বিষয়ে সচেতনতা গড়ার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও নিজেদের এগিয়ে রেখেছে তাঁরা। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে বর্ষায় সবুজের রূপকে আরও উজ্জ্বল এবং বিকশিত করতে রবিবার (১২ জুলাই) নৌবাহিনী সদর দপ্তরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে অধিকহারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, নৌ অঞ্চলসমূহের আঞ্চলিক কমান্ডার, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা ও নাবিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, চলতি বছরের বৃক্ষরোপণ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সকল নৌ ঘাঁটি, স্থাপনা এবং উপকূলীয় এলাকাসমূহে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নৌবাহিনী প্রধান সরকার ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ অভিযান বাস্তবায়নে প্রত্যেক নৌসদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগানোর আহবান জানান। এতে গড়ে উঠেব একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ। এছাড়াও সকল নৌ ঘাঁটি, উপকূলীয় স্থাপনা ও এলাকাসমূহে ফলজ, বনজ ও ভেষজ চারা রোপণের মাধ্যমে এই অভিযান বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

কালের আলো/এমএএএমকে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এখন কত, জানালেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এখন কত, জানালেন অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এসময় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্যও জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত সিআইবি ডাটাবেইজে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এর প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমিয়ে আনার আবশ্যকতা রয়েছে, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমিয়ে আনার নিমিত্ত ব্যাংকসমূহের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এরপর বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯ বাস্তবায়ন, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনাপূর্বক হালনাগাদকরণ, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা প্রদান সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, একজন ঋণগ্রহীতা কর্তৃক সমগ্র ব্যাংকিং খাত হতে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য গৃহীতব্য ব্যবস্থাসমূহ কিছু কিছু অন্যান্য খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্যেও আরোপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তকরণ, খেলাপি ঋণগ্রহীতাগণ যাতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বোপরি, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কালের আলো/এসএকে

দেশে ফিরলেই কারাগারে যেতে হবে হাসিনাকে: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরলেই কারাগারে যেতে হবে হাসিনাকে: চিফ প্রসিকিউটর

বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার নজির নেই, তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো হলে শুরুতেই তাকে কারাগারে যেতে হবে।

রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান কেমন হবে— এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জামিন হয়েছে, এমন নজির নেই। ফলে দেশে আনা মাত্রই তাকে প্রথমে জেলে যেতে হবে এবং এরপর তার আপিল করার আইনি অধিকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী দেশে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

সম্পত্তির বর্তমান আইনি অবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সেন্টেন্সের (দণ্ডাদেশ) সঙ্গে কিন্তু তার সম্পত্তি যেগুলো আছে বাংলাদেশে, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সেটাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অতএব তার ব্যাংকে যদি কোনো টাকা থাকে, তার যদি ইমমুভেবল (স্থাবর) কোনো প্রোপার্টি থাকে, তাহলে সেটা কিন্তু এখন রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত। এটার মালিকানা কিন্তু আর তার নাই।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সম্পত্তি এখন সম্পূর্ণরূপে সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকায় তিনি এর কোনোটি ভোগদখল, হস্তান্তর বা ব্যবহার করতে পারবেন না। আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে এই রায় ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি যেহেতু ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, তাই নিজের ইচ্ছায় দেশে আসার কোনো সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার ‘এক্সট্রাডিশন’ বা ‘অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি’র আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, অথবা ‘পুশব্যাক’ করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেকশন ২১ এর ৩ পরিষ্কার করেই বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না।

তবে সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ থাকবে কি না— এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়; তাহলে তো সংগত কারণেই যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে, তিনি প্রথমত জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।

ভবিষ্যতে আইনি সুযোগ তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয়, তাই হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ভারতে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই এগুলোর প্রতিবেদনও আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অভিযোগগুলোও তদন্তাধীন রয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন