খুঁজুন
                               
, ,
           

মার্কিন হামলায় ইরানের ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
মার্কিন হামলায় ইরানের ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

ইরানে টানা সাত দিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের একটি পানি শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এতে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির সিইও হামজেহ পুর বলেন, ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে একটি পানি পরিশোধন পাম্পে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার জনসংখ্যার ২০টি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

পুর এই মার্কিন হামলাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলার ফলে সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রামের বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লেগেছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এর ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য কেন্দ্র ও এর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে সঙ্গেই সব কার্যক্রম ও জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও পানি উভয় নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিষেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও কার্যক্রমগত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে টানা ৭ রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) নির্দেশনা মেনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ‘ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামবে এবং সেক্ষেত্রে (মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের) কোনো রাজনৈতিক সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে না।

সূত্র:  আল জাজিরা

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লেগুনা চালকদের সংঘর্ষ, যান চলাচলে বিঘ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লেগুনা চালকদের সংঘর্ষ, যান চলাচলে বিঘ্ন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গাউছিয়া রুটে চলাচলকারী লেগুনা চালকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন চালক আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পক্ষ অপর পক্ষের কয়েকজন চালককে আটকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যাত্রাবাড়ী-গাউছিয়া রুটে চলাচলকারী লেগুনাগুলোকে বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করতে হয়। সম্প্রতি একদল চালক ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী চালক সালাউদ্দিন বলেন, সকালে যাত্রাবাড়ী থেকে গাউছিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিই।

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন চালক আমাকে মারধর করে এবং আমার গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয়। শুধু আমার নয়, আরও কয়েকটি লেগুনার যাত্রীদেরও জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতেই আমরা তাদের আটকাই।

লেগুনাচালক সালাউদ্দিন আরও জানায়, যদি ভবিষ্যতে আমাদের সাথে এ ধরনের আচরণ করে তাহলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতেও পারে আমরা কাউকে ছেড়ে দেবো না। সংঘর্ষের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

টানা তিন সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
টানা তিন সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা

দেশের পুঁজিবাজারে টানা ইতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর বাজার মূলধন ৭ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচক এবং দৈনিক গড় লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে টানা তিন সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন মোট ১৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৫টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৪৯ কোটি টাকা।

সূচকের দিক থেকেও ছিল ইতিবাচক চিত্র। গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে যায়। এর ফলে টানা তিন সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচকের মোট উত্থান হয়েছে ২৪৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।

এ ছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণও আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।

সপ্তাহজুড়ে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এছাড়া শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বিএসআরএম স্টিল, বেক্সিমকো ফার্মা, ইস্টার্ন হাউজিং এবং মেঘনা ইন্স্যুরেন্স।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিকভাবে সূচক, বাজার মূলধন এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

প্রয়োজনে এটি আরও সংবাদপত্রের রিপোর্টিং স্টাইলে বা টিভি নিউজ স্ক্রিপ্টের ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।

কালের আলো/এসএ 

সমৃদ্ধির স্বার্থেই ঢাকার পাশে প্রয়োজন বেইজিংকে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
সমৃদ্ধির স্বার্থেই ঢাকার পাশে প্রয়োজন বেইজিংকে: মির্জা ফখরুল

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বার্থেই চীনের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল এবং পরে খালেদা জিয়ার শাসনামলে তা আরও সুদৃঢ় হয়।

তিনি আরও বলেন, চীন এখন এক বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি। তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে ম্যাজিক্যাল উন্নয়ন ঘটেছে, তার সুবিধা বাংলাদেশ নিতে পারলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো।

আমাদের ২০ কোটি মানুষের এই দেশে প্রায় ৪ কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

আমাদের যুবসমাজ যেভাবে চীনে পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান বাড়াচ্ছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এনার্জি খাত, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে চীন বাংলাদেশের পাশে থেকে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন