খুঁজুন
                               
, ,
           

‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভী দাবি করেছেন, তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং একসময় তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। তবে শাবনূরের দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, বাস্তবে বিয়ে না হয়ে হয়তো তাঁদের ‘স্বপ্নের বাসর’ই হয়েছিল।

শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে রিজভীর বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী বলেছেন, শাবনূরের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা কখনো প্রকাশ করতে পারেননি। তবে মনে মনে তাঁকে এতটাই ভালোবাসতেন যে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং এখনো চান।

অন্যদিকে, একই সময়ের কাছাকাছি সময় টিভিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রিজভী দাবি করেছেন, শাবনূর তাঁর সাবেক প্রেমিকা ছিলেন।

রিজভীর বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালে শাবনূরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং দুই বছর পর, ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন শাবনূর। তাঁর প্রশ্ন, রিজভী যদি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকেন এবং ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে না এসে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল?

শাবনূর আরও জানান, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। তাঁর দাবি, ওই সময়ের অনেক আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন। রিজভীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাঁকে তিনি কখনো দেখেছেন বা চিনেছেন বলেও মনে করতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গেই রসিকতার সুরে শাবনূর লিখেছেন, রিজভীর বক্তব্য শুনে তাঁর মনে হচ্ছে, তাঁদের বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি; হয়তো হয়েছিল শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’।

রিজভীর বক্তব্যের আরেকটি অংশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শাবনূর। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি সালমান শাহর মৃত্যুর জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাবনূর।

এই অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, রিজভীর নাম তিনি প্রথম শোনেন সালমান শাহর মৃত্যুর পর। তখন সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল।

শাবনূরের প্রশ্ন, যদি রিজভীকে তিনি আগে চিনতেনই না, তাহলে কীভাবে তিনি দাবি করছেন যে শাবনূর সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন?

শাবনূরের বিরুদ্ধে সালমান শাহ ও তাঁর স্ত্রী সামিরার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির জন্য একে অন্যের কথা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শাবনূরের দাবি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কেউ কখনো বলতে পারবেন না যে তিনি কারও সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেছেন।

নিজের পরিবার থেকেও এমন আচরণের শিক্ষা পাননি বলে উল্লেখ করে শাবনূর বলেন, চলচ্চিত্রজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এ ধরনের কাজ করার সময়ও তাঁর ছিল না।

নিজের পোস্টে রিজভীর অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তাঁর দাবি, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ একসময় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন।

সেই সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থের বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে শাবনূর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

তবে দীর্ঘ সময় পর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতে রিজভী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন শাবনূর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুকে হত্যা নয়, আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকেও দায়ী করেছেন তিনি।

শাবনূরের দাবি, সাম্প্রতিক এসব বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তাঁকেও সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাবনূরের পোস্টের পর তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের অনেকে মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ সত্য তুলে ধরার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ লিখেছেন, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায়।

রিজভী আহমেদের বক্তব্য এবং শাবনূরের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই আপাতত বিতর্ক সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

সিডরের ক্ষত শুকায়নি, জোয়ারে ফের ভাঙছে আমতলীর বাঁধ

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
সিডরের ক্ষত শুকায়নি, জোয়ারে ফের ভাঙছে আমতলীর বাঁধ

বরগুনার আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বারবার বাঁধের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বাঁধটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। ফলে সামান্য জোয়ারেই পানি বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও ব্লক সরে গিয়ে নদীর দিকে ভাঙন এগিয়ে যাচ্ছে।

বাঁধসংলগ্ন এক ব্যবসায়ী বলেন, জোয়ারের পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের জায়গাটুকুও নেই। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন না প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িক মেরামত নয়, ভবিষ্যৎ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁধটির টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন ‘সর্বজনীন আবাসন’ নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, ভালো সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। এ অবস্থায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়নের পরিকল্পনা

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে ঢাকার আশপাশে ‘সেকেন্ডারি টাউনশিপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর গড়ে তুলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে।

আবাসন খাতে বেসরকারি অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অচিরেই ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন এবং দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে স্কুলের সড়ক-সেতু

বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে স্কুলের সড়ক-সেতু

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে গত দুই বছরে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শুধু মিয়ারচর নয়, আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণাংশের বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নদীতীরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে এরই মধ্যে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই জায়গাটিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন তিনি অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

মিয়ারচরের ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা অলিল বেপারি বলেন, নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন চলছে। বিভিন্ন সরকার ভাঙন রোধের কথা বললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুরা খালে তীব্র স্রোতের কারণে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লার খাল এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়কও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনকবলিত অন্য এলাকাগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে। মিয়ারচরে নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানেও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, আড়িয়াল খাঁ ও পালরদী নদীর ভাঙন রোধে টেকসই ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি