খুঁজুন
                               
, ,
           

গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

প্রস্তাবিত গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের খসড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে গেছে এবং গুমের তদন্তভার পুলিশের ওপর ন্যস্ত করাকে ‘তদন্ত না করার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  শিশির মনির।  একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি ‘ন্যূনতম প্রতিযোগিতা’ থাকা সুস্থ পরিবেশের জন্য জরুরি বলে মত দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত নতুন গুম আইনের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অধিকতর উন্নত একটি আইন তারা প্রস্তাব করবেন। কিন্তু বর্তমানে যে ড্রাফট (খসড়া) দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় তারা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড থেকে সরে এসেছেন। আগের অধ্যাদেশে ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটস’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর রেফারেন্স থাকলেও বর্তমান আইনে তার কোনো উল্লেখ নেই।’

গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের ইতিহাসে আমরা দেখেছি এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের সব জায়গায় হয়তো কোথাও পুলিশের সদস্য, না হয় র‍্যাবের সদস্য, না হয় ডিজিএফআইয়ের সদস্য জড়িত থাকেন। সেই অপরাধের তদন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে এখন আবার পুলিশকেই! এর অর্থ হবে- এই অপরাধকে তদন্ত করার আর কোনো দরকার বাস্তবে থাকবে না। পুলিশের করা অপরাধের তদন্ত পুলিশকে দেওয়া বাস্তব অর্থে তদন্ত না করারই শামিল।’

গুমের তথ্যভাণ্ডার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বের আইনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার কমিশনের। কিন্তু এই আইনে তা দেওয়া হচ্ছে সরকারকে। সরকার কি চায় যে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ গুম হয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করতে? এটি কোনো ইনকামবেন্ট গভর্নমেন্ট (দায়িত্বে থাকা সরকার) কোনোদিন প্রকাশ করতে চায় না।’

৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ‘নির্বাচন মানে কি? আপনার অপশন থাকতে হবে- কাকে ভোট দেবেন, কাকে ভোট দেবেন না। যদিও ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না, দিলে তার সদস্য পদ থাকে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যেহেতু একটা নির্বাচন, সুতরাং এখানে একটা মিনিমাম প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই চার্টারে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রশ্ন এসেছিল। জুলাই সনদ তো বাস্তবায়িত হয় নাই। তবে ৭০ অনুচ্ছেদ সবসময় সংবিধানে থাকবে না। যে সংবিধান সংস্কার করার প্ল্যান করা হচ্ছে, সেখানে এই বিধান থাকছে না। দিস ইজ এ বিগেনিং অফ সামথিং গুড, লেট ইট বি ডান উইথ দ্য প্রসেস অফ দ্য কনস্টিটিউশনাল জার্নি। (এটি ভালো কিছুর সূচনা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এটি সম্পন্ন হতে দেওয়া হোক।)’

বর্তমান সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যারা পদত্যাগ করেন নাই কিংবা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, তারা সকলেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আর এমপিদের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তার ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফরে ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার বার্তা মিলেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে পশ্চিম সীমান্তের লাদাখের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল-বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ।

অমীমাংসিত পূর্ব সীমান্ত
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের প্রধান সংকট হিসেবে পূর্ব লাদাখই আলোচনায় ছিল। কিন্তু সীমান্তের পূর্ব প্রান্তে বিরোধের চরিত্র আরও জটিল। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডের ওপর দাবি করে অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে আসছে। বিভিন্ন সময় অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের জন্য চীনা নামও ঘোষণা করেছে বেইজিং।

নয়াদিল্লি এসব দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অবস্থান, অরুণাচল প্রদেশ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ যতই এগোক, অরুণাচল প্রশ্নটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে থাকছে।

উত্তর-পূর্বে একসঙ্গে বহু স্বার্থ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। তিব্বত, আন্তঃসীমান্ত নদী, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত অবকাঠামো এবং মিয়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ-সবগুলো বিষয় এ অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে তিব্বত মালভূমিতে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে অরুণাচল সীমান্তে সড়ক, সেতু ও সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা দুই দেশের নিরাপত্তা হিসাবকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত
শি-মোদি বৈঠকের আগে অবশ্য সম্পর্কের বরফ গলার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ আট দফা ঐকমত্যে পৌঁছায়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। অরুণাচল প্রদেশের তাকসিংকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এই যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ-দুই পথেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

দিল্লির সামনে কঠিন ভারসাম্য
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখা। মোদির বক্তব্যে সেই দ্বৈত নীতিই স্পষ্ট হয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নের দরজা খোলা, কিন্তু তার চাবি সীমান্তে শান্তি। এই অবস্থায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সীমান্ত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অরুণাচলেই আসল পরীক্ষা
শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে সীমান্তে। আর সেই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অরুণাচল প্রদেশ। কারণ লাদাখে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তের ভূখণ্ডগত দাবি, আন্তঃসীমান্ত নদী, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রশ্নও সমাধানের পথে এগোতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নেতার পেছনে থেকে কেউ মাদক ব্যবসা করলে তাকেও সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মিরাজ শেখের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের মাধ্যমে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং জামিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

মব জাস্টিসের বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে মব জাস্টিস করে জামিন ঠেকানো বা আদালতের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ যথেষ্ট নয়-প্রয়োজন নিবিড় পরিচর্যা, উপযুক্ত থেরাপি, দক্ষতা বিকাশ এবং সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ। ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শনে এসে সেই সমন্বিত ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্কুলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স’ উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের (ওডব্লিউসিসি) সভাপতি সালেহা খান। পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় অতিথিকে। পুরো পরিদর্শনজুড়ে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহায়ক থেরাপি এবং দক্ষতা তৈরির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

শিশুকে সীমাবদ্ধতায় নয়, সম্ভাবনায় দেখার উদ্যোগ
বাফওয়ার উদ্যোগে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ব্লু স্কাই’ এখন শুধু একটি বিশেষায়িত স্কুল নয়, এটি শিক্ষা ও থেরাপিকে একসঙ্গে নিয়ে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপির কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন এক নয়। কারও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, কারও প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, আবার কারও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কিংবা মানসিক বিকাশে বিশেষ সহায়তা দরকার। ‘ব্লু স্কাই’-এর ছয় ধরনের থেরাপি সেই ভিন্ন প্রয়োজনগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

শ্রেণিকক্ষ পেরিয়ে মূলধারায় ফেরার প্রস্তুতি
স্কুলটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা। সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার বা ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিটি শিশুর শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি শিক্ষাও। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা ও থেরাপির শেষ লক্ষ্য কেবল শিশুকে সক্ষম করে তোলা নয়। একই সঙ্গে সেই সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা।

জুবাইদা রহমানের প্রশংসায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরিদর্শন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লু স্কাই’-এর সুযোগ-সুবিধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বাফওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। পরে তিনি বাফওয়া কর্নার পরিদর্শন করে বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও ঘুরে দেখেন তিনি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বাফওয়ার উদ্যোগগুলোও তাঁর পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই দুটি উদ্যোগকে পাশাপাশি দেখলে একটি অভিন্ন সামাজিক দর্শন স্পষ্ট হয়ে ওঠে-সহায়তার ওপর নির্ভরতা নয়, বরং সক্ষমতা তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ। ‘ব্লু স্কাই’ যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাফওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের দক্ষতাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব

পরিদর্শনের শেষপর্বে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এই আয়োজন যেন ‘ব্লু স্কাই’-এর মূল দর্শনকেই সামনে আনে-বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সমাজের আনন্দ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সমান অংশীদার।

ডা. জুবাইদা রহমানের এই পরিদর্শন শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর প্রশংসার মধ্য দিয়ে বিশেষ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব যেমন সামনে এসেছে, তেমনি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতার উদ্যোগও পেয়েছে দৃশ্যমান স্বীকৃতি। আর ‘ব্লু স্কাই’ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে-বিশেষ চাহিদা কোনো শিশুর সম্ভাবনার সীমা নয়; প্রয়োজন শুধু তাকে নিজের সক্ষমতা মেলে ধরার উপযুক্ত সুযোগ করে দেওয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে