খুঁজুন
                               
, ,
           

স্কুলে মাঠহীন শৈশব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
স্কুলে মাঠহীন শৈশব

স্কুল আছে, শ্রেণিকক্ষ আছে, ক্লাসও হচ্ছে নিয়মিত। শুধু নেই মাঠ। যে বয়সে শিশুদের দৌড়ানোর, খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সেই তাদের বড় একটি অংশ আটকে আছে চার দেয়ালে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ, ক্রীড়া ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলেও ঢাকাসহ সারা দেশে ১৫ সহস্রাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই কোনো খেলার মাঠ।

রাজধানীতে পরিস্থিতি আরও প্রকট। ৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের ৯৫ শতাংশের বেশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৮ শতাংশেরই নিজস্ব মাঠ নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান চলছে ছোট ভবন, গ্যারেজ কিংবা ছাদের ওপর।

সংখ্যায় মাঠহীনতার চিত্র
দেশের মাঠসংকটের ব্যাপ্তি বোঝা যায় কয়েকটি সংখ্যাতেই। ঢাকার ৩৪২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫২টিতেই নেই খেলার মাঠ। বিভাগীয় শহরগুলোতেও প্রায় ৪০ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঠ নেই। দেশে থাকা ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭২ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থীও মাঠের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। রাজধানীর সামগ্রিক চিত্র আরও সংকটময়। আইপিডির গবেষণা অনুযায়ী, দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রয়োজন অন্তত ৬১০টি খেলার মাঠ; বাস্তবে আছে মাত্র ২৩৫টি।

নীতিমালা আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই
২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ, ক্রীড়া, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ সংরক্ষণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম শেষে ও ছুটির দিনে আশপাশের শিশু-কিশোরদের জন্য তা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু সরেজমিনে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ থাকা সত্ত্বেও বিকেলে স্কুল ছুটির পর কয়েকটির মাঠ তালাবদ্ধ রাখা হয়। মাঠ নেই-এমন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও খুব বেশি দেখা যায় না।

মাঠের জায়গা দখল করছে পর্দা
মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অবসরও বদলে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে গড়ে উঠছে রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান। কোথাও আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষেই বিক্রি হচ্ছে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য, যদিও ১০০ মিটারের মধ্যে এসব পণ্য বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধ।

মাঠের আরেক বিকল্প হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ইলেকট্রনিক পর্দায় কাটায়। এতে ঘুমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, চোখের সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ঢাকায় মাঠের ঘাটতি ৩৭৫টি
আইপিডির হিসাবে, আধুনিক শহরে প্রতি আধা বর্গকিলোমিটারে একটি খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩০৫ দশমিক ৪৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রয়োজন অন্তত ৬১০টি মাঠ। আছে ২৩৫টি; ঘাটতি ৩৭৫টি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, জনপ্রতি প্রয়োজন ৯ বর্গমিটার খোলা জায়গা। অথচ ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় জনপ্রতি খোলা জায়গা এক বর্গমিটারেরও কম। পুরান ঢাকার আটটি ওয়ার্ডে একটিও উন্মুক্ত স্থান নেই বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বেসরকারি বিদ্যালয়ের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মানের মাঠ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কাজ চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সুযোগ ও উন্মুক্ত মাঠ থাকা জরুরি। নীতিমালা ও নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবতা বলছে, হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনও মাঠের বাইরে।

কালের আলো/এম/এএইচ

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভুটানের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের জনশক্তি দেওয়ার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ভুটানের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের জনশক্তি দেওয়ার প্রস্তাব

ভুটানের জেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উন্নয়ন কার্যক্রমে দক্ষ, আধা-দক্ষ ও পেশাজীবী মানবসম্পদ দিয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাতে ভুটানের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ভুটানের জেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পেশাজীবী, দক্ষ ও আধা-দক্ষ মানবসম্পদ দিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে পারে।

এ সময় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার চিন্তার কথা স্মরণ করে সার্ককে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।

অন্যদিকে, গত ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উষ্ণ অভ্যর্থনার কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্যও তিনি ধন্যবাদ জানান।

কালের আলো/এমএসআইপি