খুঁজুন
                               
, ,
           

হিটলারের ভাগনির মৃত্যু, ৯৫ বছর পর রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
হিটলারের ভাগনির মৃত্যু, ৯৫ বছর পর রহস্য

প্রায় ৯৫ বছর আগে জার্মানির মিউনিখ শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল এক তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ। বুকে গুলি লেগে মারা যাওয়া ওই তরুণীর নাম অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবাল। বয়স মাত্র ২৩ বছর। তদন্তের পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিল মিউনিখ পুলিশ। কিন্তু মৃত তরুণীর পরিচয় এবং ঘটনাস্থল সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রহস্যে পরিণত হয়।

গেলি ছিলেন নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সৎভাগনি। তাঁর মা অ্যাঞ্জেলা ফ্রান্সিসকা জোয়ান্না ছিলেন হিটলারের সৎবোন। হিটলারের সঙ্গে গেলির সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি ছিল হিটলারের। যে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল, সেটিও হিটলারের বলে তদন্তে উঠে আসে।

এত বছর ধরে প্রচলিত ইতিহাস ছিল—গেলি ১৯৩১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে আত্মহত্যা করেন। আর তার আগের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে হিটলার মিউনিখ ছেড়ে নুরেমবার্গের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। ফলে গেলির মৃত্যুর সময় হিটলার ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এই সময়রেখাই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নকে দুর্বল করে রেখেছিল।

কিন্তু নতুন কিছু পুরোনো নথি সেই সময়রেখাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সরকারি নথিতে মৃত্যুর তারিখ এক দিন আগে

জার্মান ইতিহাসবিদ হ্যারল্ড স্যান্ডনার মিউনিখের সরকারি মৃত্যু নিবন্ধনের নথি পর্যালোচনা করে দাবি করেছেন, গেলি রাউবালের মৃত্যু ১৯ সেপ্টেম্বর নয়, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালের সকালেই হয়েছিল।

মিউনিখের সরকারি মৃত্যু নিবন্ধনের নথিতে তাঁর মৃত্যুর সময় উল্লেখ করা হয়েছে—১৮ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট। শুধু একটি নথিই নয়, আর্কাইভে পাওয়া দুটি মৃত্যুসংবাদেও ১৯৩১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখটি উল্লেখ রয়েছে।

নতুন এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এত দিন ধরে প্রচলিত পুলিশি বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে হিটলারের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গেলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

অর্থাৎ নতুন নথিগুলো সঠিক হলে, গেলির মৃত্যুর সময়টি প্রচলিত সময়ের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে।

আর তখন হিটলার মিউনিখেই ছিলেন।

পুলিশের বর্ণনায় কী ছিল

মিউনিখ পুলিশের পুরোনো তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে গেলির ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় হিটলারের ব্যক্তিগত কর্মচারী জর্জ উইন্টার দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন।

সেখানে মেঝেতে পড়ে থাকা গেলির মরদেহ দেখতে পান তিনি। তাঁর বুকে গুলির আঘাত ছিল।

তদন্তের পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, হিটলার এর আগের দিন বিকেলেই মিউনিখ ছেড়ে নুরেমবার্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

এই সময়ের হিসাবের ওপরই এত দিন দাঁড়িয়ে ছিল গেলির মৃত্যুকে ঘিরে প্রচলিত ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু সরকারি মৃত্যু নিবন্ধনের নথিতে যদি সত্যিই ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মৃত্যুর কথা লেখা থাকে, তাহলে সেই সময় হিটলার মিউনিখে ছিলেন।

হিটলার কি ঘটনাস্থলে ছিলেন?

নতুন নথির সবচেয়ে বড় তাৎপর্য এখানেই।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হিটলার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিউনিখ ছাড়েন। আর সরকারি মৃত্যু নিবন্ধন অনুযায়ী, গেলি মারা যান ওই দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে।

অর্থাৎ গেলির মৃত্যুর সময় হিটলার মিউনিখেই ছিলেন।

শুধু তা-ই নয়, ঘটনাটি ঘটেছিল হিটলারের নিজের অ্যাপার্টমেন্টে। ব্যবহৃত পিস্তলটিও ছিল তাঁর।

তবে ইতিহাসবিদেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন—এই তথ্যগুলো হিটলারের উপস্থিতি ও ঘটনাটির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করলেও, এগুলো একা হিটলারই গেলিকে হত্যা করেছিলেন—এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে না।

পুলিশের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন

নতুন নথি সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইতিহাসবিদ হ্যারল্ড স্যান্ডনারের ধারণা, ঘটনাটি নিয়ে তৎকালীন তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু তথ্য আড়াল করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, তদন্তে যুক্ত কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নাৎসি পার্টির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং হিটলারকে ঘটনাটির বাইরে রাখার চেষ্টা করে থাকতে পারেন।

স্যান্ডনারের এই অনুসন্ধান প্রথম প্রকাশ করে জার্মানির সংবাদ সাময়িকী ‘ডের স্পিগেল’। বিষয়টি নিয়ে তাঁর একটি বইও প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বইটির নাম ‘দ্য ডেথ অব অ্যাঞ্জেলা “গেলি” রাউবাল: সুইসাইড অর ফাউল প্লে?’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কেন এমন কোনো পরিবর্তন বা তথ্য গোপনের প্রয়োজন হয়েছিল, সেটিও এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

হিটলার ও গেলির সম্পর্ক কেমন ছিল

গেলি রাউবাল ছিলেন হিটলারের সৎবোন অ্যাঞ্জেলা হামিটশের বড় মেয়ে। হিটলারের সৎবোন তাঁর মিউনিখের অ্যাপার্টমেন্টে পরিচারিকার দায়িত্বও পালন করতেন। ১৯২৯ সালে গেলি হিটলারের মিউনিখের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে থাকতে শুরু করেন।

মামা ও ভাগনির সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে সময়ের সঙ্গে গেলির ব্যক্তিগত জীবনের ওপর হিটলারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।

ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, হিটলার গেলির প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন এবং তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রণমূলক। তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে আরও গুরুতর নানা দাবিও ইতিহাসে রয়েছে। তবে এসব দাবির অনেকটাই বিতর্কিত এবং এ বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

গেলি নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিয়েনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ

গেলি সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় যেতে চেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উঠে এসেছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এ বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে হিটলারের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

এ কারণেই পরে একটি তত্ত্ব সামনে আসে—গেলি হিটলারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে নিজের মতো জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন।

কেউ কেউ মনে করেন, গেলি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তা নিয়ে হিটলারের মধ্যে ঈর্ষা তৈরি হয়েছিল। এমনকি এই ঈর্ষার কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে।

তবে এসবই ঐতিহাসিক তত্ত্ব ও অনুমান; এগুলোর সবকটির পক্ষে সমান মাত্রার প্রমাণ নেই।

ইতিহাসবিদদের সতর্ক অবস্থান

স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এবারডিনের ইতিহাসবিদ টমাস ওয়েবার স্যান্ডনারের অনুসন্ধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন। স্যান্ডনার তাঁকে নতুন পাওয়া নথিগুলো দেখিয়েছেন।

ওয়েবারের মতে, নথিগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। বিশেষ করে তিনটি আলাদা নথিতে ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ পাওয়া যাওয়ায় এটিকে নিছক কোনো কেরানির ভুল বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর ধরে যে সময়ের হিসাব ধরে গেলির মৃত্যুর ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নতুন নথিগুলো সেটিকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে ওয়েবার সরাসরি হিটলারকে হত্যার জন্য দায়ী করার পক্ষে অবস্থান নেননি।

তাঁর মতে, গেলির মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা গোপন করার অন্য কারণও থাকতে পারে।

রাজনৈতিক ভাবমূর্তিও হতে পারে একটি কারণ

গেলির মৃত্যুর সময়টি যদি সত্যিই ১৮ সেপ্টেম্বর হয়ে থাকে, তাহলে হিটলার ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন—এমন প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু কেন ঘটনাটি নিয়ে তথ্য গোপন করা হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও ইতিহাসবিদ ওয়েবার দিয়েছেন।

১৯৩১ সালে হিটলার তখনো জার্মানির সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছাননি। তবে নাৎসি পার্টি দ্রুত রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছিল। হিটলার মূলধারার ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এ সময় কোনো বড় ধরনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কেলেঙ্কারি তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারত।

তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ যাই হোক না কেন, সেটি গোপন রাখার রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা ইতিহাসবিদেরা বিবেচনা করছেন।

আত্মহত্যা, নাকি অন্য কিছু?

গেলি রাউবালের মৃত্যু নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো একই রয়ে গেছে—তিনি কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন?

প্রচলিত ইতিহাসের উত্তর ছিল, হ্যাঁ। কিন্তু নতুন নথি সেই ইতিহাসের সময়রেখায় বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখিয়েছে।

যদি ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে গেলির মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে হিটলার তখন মিউনিখে ছিলেন। তিনি পরে ওই দিন বিকেলে শহর ছাড়েন। আবার মৃত্যুর ঘটনাস্থল ছিল তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট এবং ব্যবহৃত অস্ত্রও ছিল তাঁর।

এসব তথ্য একসঙ্গে রাখলে ঘটনাটি নতুন করে তদন্তের মতো প্রশ্ন তৈরি করে। তবে শুধু সময় ও স্থান মিলছে না—এমন তথ্যের ভিত্তিতে হিটলারই হত্যাকারী ছিলেন বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

প্রায় এক শতাব্দী পর নতুন নথিগুলো মূলত একটি পুরোনো রহস্যকে আবার সামনে এনেছে। গেলির মৃত্যুর প্রকৃত সময় নিয়ে এখন নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, পুলিশের পুরোনো তদন্ত নিয়েও সন্দেহ উঠেছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

ইতিহাসের পাতায় তাই অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবালের মৃত্যু এখনো একটি রহস্য হয়েই রয়েছে—তবে নতুন নথি সেই রহস্যের সময়রেখাটিকে অন্তত এক দিন পিছিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে নতুন উন্নয়ন মডেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে নতুন উন্নয়ন মডেল

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার ‘পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন’—এই তিন ‘আর’ কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগ তৈরিতেও প্রবাসী পেশাজীবীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ড. তিতুমীর।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা সম্মেলনে অংশ নেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: ৯ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ ট্রাক মালামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: ৯ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ ট্রাক মালামাল

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিএমপি জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যান।

লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

১৯৭৪ সাল থেকে সেবা

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বছরের পর বছর সংস্কার নেই, ঝুঁকিপূর্ণ মাধবপুরের সেতু

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
বছরের পর বছর সংস্কার নেই, ঝুঁকিপূর্ণ মাধবপুরের সেতু

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুটির বিভিন্ন পিলার ও বিমের কংক্রিট খসে পড়ে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন উন্মুক্ত থাকায় রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। এতে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সেতুটি ঘুরে দেখা যায়, একাধিক পিলার ও বিমের সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিলারের লোহার রড পুরোপুরি বেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে সেতুর নিচের অংশের রডে ব্যাপক মরিচা ধরেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট ভেঙে পড়ায় সেতুটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ শত শত মানুষ চলাচল করেন। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কেঁপে ওঠে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা হারুনুর রশীদ বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি দ্রুত সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পুরোনো সেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শামস্ জাবেদ বলেন, তিনি কিছুদিন আগে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তাই সেতুটির আগের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সেতুটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি