খুঁজুন
                               
, ,
           

কোপাইলটে এবার সফটওয়্যার বানাবে এআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
কোপাইলটে এবার সফটওয়্যার বানাবে এআই

চ্যাটবট থেকে পূর্ণাঙ্গ কাজের প্ল্যাটফর্ম

প্রোগ্রামিং কোড তৈরি, সফটওয়্যার নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের সুবিধা যুক্ত করে কোপাইলট অ্যাপ নতুন করে সাজিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন সংস্করণে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টও সরাসরি কোপাইলটের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আলাদা অ্যাপ চালু না করেই নথি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা তৈরির মতো কাজ করা সম্ভব হবে।

চ্যাটভিত্তিক এআই সহকারী হিসেবে পরিচিত কোপাইলটকে আরও বিস্তৃত কাজের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব সুবিধা যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই সেবাগুলো চ্যাটের পাশাপাশি কোড তৈরি ও স্বয়ংক্রিয় কাজের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ায় কোপাইলটেও একই ধরনের সুবিধা যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন কোপাইলটের প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হোম’, ‘কোড’ ও ‘অটোপাইলট’।

এক জায়গায় চ্যাট ও কোওয়ার্ক

কোপাইলটের ‘হোম’ অংশে চ্যাট ও ‘কোওয়ার্ক’ সুবিধা এক জায়গায় রাখা হয়েছে। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, কোনো বিষয়ের খসড়া তৈরি কিংবা দ্রুত তথ্য খোঁজার মতো কাজে চ্যাট ব্যবহার করা যাবে।

অন্যদিকে একাধিক ধাপের জটিল কাজ কোওয়ার্কের মাধ্যমে কোপাইলটকে দিয়ে করানো যাবে। ফলে ব্যবহারকারীকে প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক জটিল কাজও এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রোগ্রামিং না জেনেও সফটওয়্যার

নতুন কোপাইলটের ‘কোড’ সুবিধার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান না থাকলেও সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিয়ে অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড ও বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করা যাবে।

এই সুবিধার পেছনে গিটহাব কোপাইলটে ব্যবহৃত একই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। এর ফলে কারিগরি জ্ঞান কম থাকা কর্মীরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো সফটওয়্যার কিংবা স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবেন।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রন্টিয়ার প্রোগ্রামের আওতায় ‘কোড’ সুবিধাটি ধীরে ধীরে চালু করা হবে।

ব্যবহারকারী না থাকলেও কাজ করবে অটোপাইলট

নতুন কোপাইলটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ‘অটোপাইলট’। এটি এমন একটি এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সামনে না থাকলেও নির্ধারিত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

জুন মাসে মাইক্রোসফট উন্মোচন করা ‘স্কাউট’ এআই এজেন্টের নতুন সংস্করণ হিসেবে অটোপাইলটকে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটিকে এক ধরনের ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরিতে অটোপাইলটের আলাদা পরিচয় থাকবে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও দেওয়া যাবে। কোন কোন কাজ এআই এজেন্টটি করতে পারবে, সেটি ব্যবহারকারীরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

মাইক্রোসফটের কোপাইলট বিভাগের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানি পার্ল বলেন, নিরাপত্তা, আইন মেনে চলা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট ব্যবহার করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই অটোপাইলট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপরিবেশে যাতে এ ধরনের এআই এজেন্ট ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই সুবিধাটি তৈরি করা হয়েছে।

অটোপাইলট সুবিধা চলতি মাসের শেষ দিকে ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।

কোপাইলটের মধ্যেই অফিস অ্যাপ

নতুন কোপাইলট সংস্করণে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট। ফলে ব্যবহারকারীরা কোপাইলটের ভেতর থেকেই সম্পাদনাযোগ্য নথি, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং হালনাগাদ করতে পারবেন।

এসব ফাইলে একই দলের অন্য সদস্যরাও কাজ করতে পারবেন। ব্যবহারকারীদের করা পরিবর্তনগুলো মাইক্রোসফটের সংশ্লিষ্ট অফিস অ্যাপের সঙ্গেও সমন্বিত থাকবে।

এর ফলে একটি নথি তৈরি করতে কোপাইলট থেকে আলাদা করে ওয়ার্ড, এক্সেল বা পাওয়ারপয়েন্টে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।

এআই ব্যবহারের খরচও দেখা যাবে

কোপাইলটের নতুন সংস্করণে এআই ব্যবহারের খরচ ব্যবস্থাপনার সুবিধাও যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এআই ও এআই এজেন্ট ব্যবহারের কারণে কত খরচ হচ্ছে, সে সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। এর সঙ্গে অপ্রত্যাশিত খরচও বাড়তে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতে এআই ব্যবহারের ব্যয়ের ওপর নজর রাখার এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন কোপাইলটকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা লেখা তৈরির চ্যাটভিত্তিক সহকারী হিসেবে নয়, বরং সফটওয়্যার তৈরি, নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পাদনের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলছে মাইক্রোসফট।

কালের আলো/এসএ

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি