খুঁজুন
                               
, ,
           

বিন্না ফুলের ঝাড়ুতে চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের সংসার

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বিন্না ফুলের ঝাড়ুতে চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের সংসার

শরতের বিদায়লগ্নে সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকার রায়গঞ্জ ও তাড়াশের বিস্তীর্ণ পথপ্রান্তে ফুটেছে শুভ্র বিন্না ফুল। মেঠোপথের দুপাশে দুলতে থাকা এসব ফুল সংগ্রহ করে ঝাড়ু তৈরি করছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা।

বছরের এই সময়ে কৃষিকাজ ও দিনমজুরির সুযোগ কমে যাওয়ায় সংসারের বাড়তি আয়ের আশায় তারা বেছে নিয়েছেন এই কাজ। তৈরি করা ঝাড়ু স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে কোনো রকমে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন তারা।

রায়গঞ্জ উপজেলার বাসাইল ও পশ্চিম আটঘোরিয়া এলাকার জেসনা রানী মাহাতো, কুসুম রানী মাহাতো ও চন্দনা রানী ওঁরাও জানান, সংসারের খরচ জোগাতে বছরের এই সময়ে বিন্না ফুল সংগ্রহ করে ঝাড়ু তৈরি করেন তারা। এতে কিছু বাড়তি আয় হয়। পাশাপাশি নিজেদের ব্যবহারের ঝাড়ুও কিনতে হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাজনি ঋণের বোঝা ও আগাম শ্রম বিক্রির মধ্য দিয়ে দিন কাটে এসব পরিবারের। শরৎ ও হেমন্তে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় কাজের সুযোগ কমে যায়।

ধান রোপণ, পাকা ধান কাটা কিংবা ইটভাটায় কাঁচা ইট তৈরির মতো কাজ এ সময়ে সীমিত থাকায় শ্রমজীবী মানুষ অর্থসংকটে পড়েন। সংসার চালাতে অনেকে বাধ্য হয়ে আগাম শ্রম বিক্রি করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ওঁরাও, মাহাতো, রাজবংশী, রবিদাস, কনকদাস, মুরারী, বসাইক ও সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। সময়ের সঙ্গে এসব সম্প্রদায়ের মানুষের ঐতিহ্য ও জীবিকার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে।

একসময় এসব সম্প্রদায়ের অনেকে বনাঞ্চলে শিয়াল, খরগোশ, কুঁইচা, বেজি ও কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় সেই জীবিকার পথ সংকুচিত হয়েছে। পরে পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে-ঘাটে, গৃহস্থের বাড়িতে ও ইটভাটায় দিনমজুরের কাজ শুরু করেন।

তাড়াশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী মিনতি রানী ওঁরাও বলেন, ‘আশ্বিন ও কার্তিক মাসে আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে মাঠে বোরো ধান লাগানো কিংবা ধান কাটার কাজের জন্য এখন থেকেই অনেকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। পরিবার বাঁচানোর তাগিদে দিনে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে বিন্না ঘাসের ফুল দিয়ে ঝাড়ু বানিয়ে বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে পারি। এতে চরম মন্দার এই সময়েও সংসারে বাড়তি কিছুটা আয় হয়।’

সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নির্মল মাহাতো বলেন, জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবার চালাতে নারী-পুরুষ উভয়কেই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কাজের সুযোগ না থাকায় শ্রমজীবী পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খায়।

তিনি বলেন, কম মজুরিতে আগাম শ্রম বিক্রির পাশাপাশি বিন্না ফুল সংগ্রহ করে ঝাড়ু তৈরি করছেন অনেকে। এভাবে জীবিকা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। প্রতিদিন একজন নারী ২০০ থেকে ২৫০ টাকার ঝাড়ু বিক্রি করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

মিরপুরের ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি ছিল দীর্ঘ ২০ বছরের। সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি সড়কে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে। এ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সড়কের পাশের দোকানিদের নিজেদের আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি দোকানের সামনে পুনরায় হকার বসতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একটি বড় রাজনৈতিক দল উচ্ছেদ হওয়া কিছু ফুটপাতের দোকানিকে বাসায় ডেকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে নথি ও তথ্য রয়েছে। কেউ ফুটপাত নিয়ে টালবাহানা করলে কিংবা পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কেউ ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি।

অটোরিকশা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে। অটোরিকশাচালকদের দাবি নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক উন্নয়নের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি আঁকার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের ইতিহাস রচনায় জীবন উৎসর্গকারী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব গ্রাফিতি স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নেতৃত্বদানকারীদের ছবি গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এতে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিও থাকবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতনতা জরুরি। একজনের অসচেতনতার কারণে অন্যরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন, যার প্রভাব পুরো নগরীর ওপর পড়ে।

ডিএনসিসির মিরপুর জোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের পিলারে আগের সরকারের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম হোসেন বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

উপাচার্য জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি লিখিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১১টিতে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে।

তবে শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ডেপুটেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার জানান, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যতা অনেকটাই দূর হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৬১ জন নতুন শিক্ষকের মধ্য থেকে আগামী ১১ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে ১০ জনকে পদায়ন করা হবে। এতে উপজেলার শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি