খুঁজুন
                               
, ,
           

ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত লিওনেল মেসি। তবে তাঁর সাফল্য শুধু সবুজ গালিচায় সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞাপন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ক্যারিয়ারে মেসির মোট আয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব ও জাতীয় দলের বেতন এবং খেলার চুক্তি থেকে। বাকি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে বিজ্ঞাপন, স্মারকসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে।

অন্যদিকে, সম্পদ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে মেসির নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। হিসাবের পার্থক্য থাকলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ৭ কোটি ডলার

ফোর্বসের ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় মেসির অবস্থান তৃতীয়। সাময়িকীটির হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ মাসে তাঁর মোট আয় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে এসেছে আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ডলার।

মেসির বাণিজ্যিক আয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আজীবন চুক্তি করেন তিনি। এ ছাড়া মাস্টারকার্ড, লে’জ ও মিশেলব আল্ট্রার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব রয়েছে।

মাঠের বাইরের এসব চুক্তিতে মেসির জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্বের কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেও তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ

বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আবাসন ও আতিথেয়তা খাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২৪ সালে তিনি ‘এদিফিসিও রোস্তোয়ার সোসিমি’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্পেনের পোর্টফোলিও স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করছে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাস্টটির বাজারমূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে এর মূল্য প্রায় ২৩২ মিলিয়ন ডলার।

এই ব্যবসার আওতায় রয়েছে স্পেন ও অ্যান্ডোরায় অবস্থিত মিম হোটেলস চেইনের ছয়টি বিলাসবহুল বুটিক হোটেলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে ফুটবল থেকে অর্জিত অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পদে রূপান্তর করছেন মেসি।

বিলাসবহুল বাড়িতেও বড় বিনিয়োগ

ব্যক্তিগত আবাসনেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই ফুটবল তারকা। তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনার কাছে কাস্তেলদেফেলসে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সানি আইলস বিচে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের কনডোমিনিয়াম এবং ফোর্ট লডারডেলে ১০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি।

সব মিলিয়ে মেসির আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে ফুটবল থেকে পাওয়া বিপুল পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ। মাঠের পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিলেও সেই জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করাই তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম ভিত্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আবাসন খাতের মন্দায় ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
আবাসন খাতের মন্দায় ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ

দেশের আবাসন খাতে স্থবিরতার প্রভাব শুধু ফ্ল্যাট কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ খাতের গতি কমে গেলে রড, সিমেন্ট, সিরামিক, কাচ, আসবাবপত্র ও পরিবহনশিল্পসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রভাব পড়তে পারে নির্মাণশ্রমিকদের কর্মসংস্থান, ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক বিনিয়োগে।

বর্তমানে বাংলাদেশের আবাসন বাজারে চাহিদা থাকলেও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ সুদের হার, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, কর ও নিবন্ধন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নিতে অনেকেই অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে, নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা বাড়ছে।

একটি আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে থাকে বহু শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রড আসে ইস্পাত কারখানা থেকে, সিমেন্ট আসে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ইট, বালু, পাথর, টাইলস, স্যানিটারি পণ্য, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও লিফটের মতো পণ্য।

এসব উপকরণ পরিবহনে যুক্ত থাকে ট্রাকমালিক, চালক ও বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠান। ফলে নতুন ভবন নির্মাণ কমে গেলে নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চাহিদা কমে গেলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো কারখানার পক্ষে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট সরবরাহকারী ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়তে পারে।

আবাসন খাতে প্রকৌশলী, স্থপতি, রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, টাইলস মিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি ও নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ কাজ করেন।

নির্মাণকাজ কমে গেলে এসব মানুষের কাজ ও আয় কমার আশঙ্কা থাকে। আয় কমলে তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ও সংকুচিত হতে পারে। এতে স্থানীয় দোকানপাট, বাজার, পরিবহন ও সেবামূলক ব্যবসায়ও প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থাৎ, একটি আবাসন প্রকল্পের কাজ কমে যাওয়ার প্রভাব সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের পরিবার ছাড়িয়ে তাঁদের ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য ব্যবসাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আবাসন খাতের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই গৃহঋণের সহায়তায় ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ঋণের সুদের হার বাড়লে মাসিক কিস্তির পরিমাণও বেড়ে যায়। এতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের অনেকে ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন।

একজন ক্রেতা গৃহঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনলে সেই অর্থ ডেভেলপারের কাছে যায়। ডেভেলপার নির্মাণকাজে অর্থ ব্যয় করেন, যা শ্রমিক, ঠিকাদার ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীদের কাছে পৌঁছায়। এভাবে আবাসন বিনিয়োগ অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে অর্থের প্রবাহ তৈরি করে।

ফ্ল্যাট বিক্রি কমে গেলে এ প্রবাহও দুর্বল হতে পারে। ফলে আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতগুলোও চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার পর একটি পরিবারের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, গৃহসজ্জার সামগ্রী, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয়। এতে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, প্রযুক্তিসেবা ও গৃহসজ্জাসামগ্রীর বাজারে চাহিদা তৈরি হয়।

তাই আবাসন খাতের প্রভাব শুধু ভবন নির্মাণ বা ফ্ল্যাট বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ভোক্তাপণ্য ও বিভিন্ন সেবামূলক ব্যবসারও সম্পর্ক রয়েছে।

আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্রেতার সক্ষমতা, নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী গৃহঋণের সুযোগ বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন অর্থায়নব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কর ও নিবন্ধন ব্যয়ের কাঠামো পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং জমি ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা জরুরি।

আবাসন ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগনির্ভর হওয়ায় নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি নতুন প্রকল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে আবাসন বাজারে স্থবিরতার প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে ফ্ল্যাট বিক্রি, নতুন প্রকল্প, নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা, গৃহঋণ বিতরণ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আবাসন খাতের সঙ্গে রড ও সিমেন্টশিল্প, নির্মাণশ্রমিকের মজুরি, ব্যাংকের ঋণ, আসবাবপত্র, সিরামিক, কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও পরিবহনশিল্পের সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

এ খাতের গতি কমে গেলে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে, আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ালে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তাই আবাসন খাতকে সচল রাখা শুধু ফ্ল্যাটের বাজার চাঙা করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু শিল্পের উৎপাদন, মানুষের আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জানালার গ্রিলে ‘ফোঁস ফোঁস’ শব্দ, খিলগাঁওয়ে সাপ আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
জানালার গ্রিলে ‘ফোঁস ফোঁস’ শব্দ, খিলগাঁওয়ে সাপ আতঙ্ক

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি আবাসিক এলাকায় জানালার গ্রিলে বড় আকৃতির সাপ দেখার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যরাতে সাপটি দেখতে পাওয়ার পর এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাপটি এখনো ওই এলাকায় আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে খিলগাঁও সি ব্লকের শাতিইলমা আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সড়কের ৪৬২ নম্বর পাঁচতলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর কাছে বাড়িটি ‘সিলেটি বাড়ি’ নামে পরিচিত।

বাড়িটির নিচতলায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন কেয়ারটেকারের ছেলে হাসান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর সময় আনুমানিক মধ্যরাতে ‘ফোঁস ফোঁস’ শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। আলো জ্বালিয়ে খোলা জানালার গ্রিলে বড় আকৃতির একটি সাপ দেখতে পান তিনি। সাপটি চার থেকে পাঁচ হাত লম্বা হতে পারে বলে ধারণা তাঁর।

হাসান মশারির ভেতর থেকেই মোবাইল ফোনে সাপটির ছবি তোলেন। সাপটি ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি সেটির দিকে একটি কোলবালিশ ছুড়ে মারেন। পরে সাপটি সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর দুই ছেলে সেটিকে মারার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে।

জানালার বাইরের অংশটি কয়েকটি ভবনের পেছনের দিকের সরু জায়গা। সেখানে মানুষের চলাচল খুব কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাসান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান বলে এলাকাবাসীকে জানিয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেখান থেকে স্থানীয় সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

এরপর স্থানীয়রা একটি সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দলটির সদস্যরা জানান, সাপটি ওই এলাকায় অবস্থান করলে তাঁরা গিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারবেন। তবে সাপটি চলে গেলে সেটিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। আবার দেখা গেলে তাঁদের খবর দিতে বলেন তাঁরা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হাসান নিজে সাপটি দেখেছেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনে তোলা ছবিও দেখিয়েছেন। তবে সাপটি এখনো সেখানে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আশপাশে কোনো জলাশয় নেই। তবে কিছুটা দূরে বাগিচা এলাকায় জলাশয় রয়েছে। এলাকায় বড় ইঁদুরের উপদ্রব থাকায় ইঁদুরের সন্ধানে সাপটি নর্দমা বা সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে সেখানে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।

আবার কয়েকজনের ধারণা, ঘটনাটি সত্য হলে সাপটি কোনো সাপুড়ের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এসব ধারণার পক্ষে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রফিকুল ইসলাম রিতু নামে এক যুবক তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে সাপটির ছবি দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাপের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের শিশুদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাপের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো খবর পাননি। কেউ তাঁকে বিষয়টি জানাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাপের ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন বলে জানান ওসি।

সাপটির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং এলাকাবাসীর আতঙ্ক দূর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন

দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। নগরের পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়কে নির্মিত এ ট্র্যাকের মাধ্যমে সাইকেল চালকদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যাতায়াত, শরীরচর্চা ও নগরবাসীর সুস্থ জীবনযাপনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ট্র্যাকটির উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর সড়কের এ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে সাইকেল ট্র্যাক, ফুটপাত ও মাঝখানে বিভাজক। সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাইকেল শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; অনেক মানুষ অফিসে যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজেও এটি ব্যবহার করেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আলাদা জায়গা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নাগরিকদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা কোনো বিলাসিতা নয়। একটি সভ্য ও উন্নত দেশে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার লক্ষ্যেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাইকেল চালানো শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে অনেকে রাস্তায় সাইকেল চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এ বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের উদ্যোগে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাইকেলে যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ বাড়বে।

সাইকেল ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার উপযোগী পথ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে খালের দুই পাশে হাঁটার রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়রকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র জানান, ট্র্যাকটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। এর দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি হাঁটার পথও তৈরি করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করা হয়েছে। সাইকেল ট্র্যাক ও সৌন্দর্যবর্ধিত হাঁটার পথের পাশাপাশি দুই পাশে ফুটপাত এবং সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে বিভাজক নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি