খুঁজুন
                               
, ,
           

ওষুধ খেলেই ঘুম, ওজন বৃদ্ধি? মানসিক চিকিৎসা নিয়ে যত ভুল ধারণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
ওষুধ খেলেই ঘুম, ওজন বৃদ্ধি? মানসিক চিকিৎসা নিয়ে যত ভুল ধারণা

মানসিক রোগের চিকিৎসা নিয়ে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকের ধারণা, মানসিক রোগের ওষুধ একবার শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না। কেউ মনে করেন, এসব ওষুধ খেলে সারা দিন ঘুম পায়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে কিংবা ওজন বেড়ে যায়। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, মানসিক রোগ কখনো পুরোপুরি ভালো হয় না। এসব ধারণার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দ্বিধা করেন, কেউ কেউ আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বন্ধ করে দেন।

১. ওষুধ শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না

মানসিক রোগের ওষুধ কত দিন খেতে হবে, তা নির্ভর করে রোগের ধরন, তীব্রতা এবং পুনরায় অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকির ওপর। সব রোগীকেই সারা জীবন ওষুধ খেতে হয়—এ ধারণা সঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, রোগী সুস্থ ও স্থিতিশীল হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ওষুধ বন্ধ করা যেতে পারে। গুরুতর বিষণ্নতার ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডির লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরও নির্দিষ্ট সময় ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে অনেক রোগীর দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি জীবনব্যাপী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

তাই রোগের লক্ষণ কমে গেলেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। কখন ও কীভাবে ওষুধ বন্ধ করতে হবে, তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।

২. ওষুধ খেলে সারা দিন ঘুম পায়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে

মানসিক রোগের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘুম ঘুম ভাব বা ঝিমুনি দেখা দিতে পারে। তবে সব ওষুধে এমন সমস্যা হয় না, আবার সবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম, দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো অস্বস্তি হলে চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা, খাওয়ার সময় কিংবা ওষুধের ধরন পরিবর্তন করা যেতে পারে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। বরং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ সমাধান খুঁজে নেওয়াই ভালো।

৩. মানসিক রোগের ওষুধ খেলে ওজন বাড়ে, অলসতা আসে

মানসিক রোগের কিছু ওষুধ ক্ষুধা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের কারণে কারও কারও ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সব মানসিক রোগের ওষুধে ওজন বাড়ে না। ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসার শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও ওজনের দিকে নজর রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি বিবেচনা করা সম্ভব। ওজন বৃদ্ধির ভয় থেকে নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করলে রোগের লক্ষণ ফিরে আসতে পারে। তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসাও নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

৪. কাউন্সেলিং বা থেরাপিই যথেষ্ট, ওষুধের প্রয়োজন নেই

মানসিক রোগের চিকিৎসা সবার জন্য এক রকম নয়। রোগের ধরন, তীব্রতা, ব্যক্তির পরিস্থিতি এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ওপর নির্ভর করে ওষুধ, কাউন্সেলিং কিংবা সাইকোথেরাপি এককভাবে অথবা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হয়। সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, গুরুতর বিষণ্নতা এবং কিছু ক্ষেত্রে ওসিডি, এডিএইচডি ও উদ্বেগজনিত সমস্যার চিকিৎসায় ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবার সম্পর্কের জটিলতা, আচরণগত সমস্যা, নির্দিষ্ট কিছু ভয় বা মৃদু বিষণ্নতার ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ও সাইকোথেরাপি একসঙ্গে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন সঠিক রোগনির্ণয় ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

৫. মানসিক রোগ কখনো ভালো হয় না

মানসিক রোগ নিয়ে এটি অন্যতম ক্ষতিকর ভুল ধারণা। বাস্তবে অনেক মানসিক রোগের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। সঠিক রোগনির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে বহু রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা এবং পরিবারের সহায়তা সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসার সময়কাল এবং ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। মানসিক অসুস্থতা লুকিয়ে রাখা কিংবা চিকিৎসা এড়িয়ে চলার পরিবর্তে সময়মতো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রোগীকে দোষারোপ না করে তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

মানসিক রোগের ওষুধ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা জরুরি। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা, মাত্রা কমানো কিংবা অন্যের পরামর্শে ওষুধ পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সঠিক রোগনির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে মানসিক রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ—তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

লেখকঃ ডা. হেলাল উদ্দিন

কালের আলো/এসএ

ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে দেওয়া সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

মাত্র ছয় শব্দের এই পোস্টে কাকে বা কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। ফলে পোস্টটির বক্তব্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক সফর শেষে আলোচনায় জামায়াত আমির

সম্প্রতি তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে তুরস্ক সফর নিয়ে একাধিক পোস্টও দেখা গেছে। সেখানে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা প্যাক্টসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার ওপর গুরুত্ব

সফর নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত।

তুরস্ক সফরের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

৭ অক্টোবর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন

গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন ডা. শফিকুর রহমান।

তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর দেওয়া নতুন ফেসবুক পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউতে সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউতে সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপে নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইইউর অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ

বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর বাস্তবভিত্তিক, চাহিদানির্ভর ও কার্যকর কর্মী চলাচলের সুযোগ বা ‘মোবিলিটি করিডোর’ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মতে, দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারিত হলে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

২০২৬-২০৩০ মেয়াদে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) গ্রহণ করেছে।

এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের পেছনে থাকা কারণগুলো মোকাবিলা করে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ইইউর উদ্যোগ

বৈঠকে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’-এর কথা তুলে ধরেন। এ উদ্যোগের আওতায় অভিবাসনের উৎসদেশ, ট্রানজিট দেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে কাজ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। এর মধ্যে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং অভিবাসনকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রমের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

মানবপাচার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ

মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় দুই পক্ষের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলার ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ।

বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়। আলোচনায় নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ তৈরি এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার গুরুত্ব উঠে আসে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও অংশীদারত্ব বাড়ানোর আগ্রহ

অভিবাসন ইস্যুর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে নিয়মিত সংলাপ ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে তিনি আলজেরিয়ায় পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি। তিনি জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আরও গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি