খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির অভিযোগ নাহিদের

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির অভিযোগ নাহিদের

চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের মানুষ প্রত্যাশিত অধিকার ফিরে পাচ্ছে না।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগসংক্রান্ত দুর্নীতি ও বাণিজ্যের প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, বিদেশে আওয়ামী লীগ, দেশে বিএনপি। এ দুই শক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না।’ তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনের আগে সমঝোতা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিএনপি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষায়, ‘চাঁদাবাজ আর স্বৈরাচার একাকার হয়ে গেছে।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শরীয়তপুর বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী দেশপ্রেমিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া শরীয়তপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, সদস্যসচিব সবুজ তালুকদারসহ দলের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় বক্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি