খুঁজুন
                               
, ,
           

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবার

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বন্যায় কৃষির ক্ষতি এবং শিশুদের অপুষ্টি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। বছরের শুরুর তুলনায় এই সংখ্যা ২৮ লাখ বেশি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে খাদ্যের দাম, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং পুষ্টির ঘাটতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন দেশের অনেক পরিবারকে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে খাবারের পরিমাণ কিংবা পুষ্টির মানের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বছরের শুরু থেকে খাদ্যঝুঁকিতে আরও ২৮ লাখ মানুষ

ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ হতে পারে। বছরের শুরুর তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৮ লাখ।

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বলতে শুধু খাবার না পাওয়া বোঝায় না। প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার নিয়মিত সংগ্রহ করতে না পারা, পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য হারানো কিংবা খাবারের খরচ মেটাতে পরিবারের অন্য জরুরি ব্যয় কমিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর আয় যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না, তখন খাদ্যের পরিমাণ ও গুণগত মান—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসা ঝুঁকির পেছনেও মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও দুর্যোগের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০তম সম্মেলনে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি’।

খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং মানুষের কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া—খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ থাকলেই যে সব মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাবেন, তা নয়। খাবার কেনার মতো আয় ও ক্রয়ক্ষমতা না থাকলে বাজারে খাদ্যপণ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারে না।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপে উঠে আসা উদ্বেগ খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি জনগোষ্ঠী সব সময়ই খাদ্যঝুঁকিতে থাকে; তবে অর্থনৈতিক চাপ ও দুর্যোগের কারণে সেই জনগোষ্ঠীর পরিধি বাড়তে পারে।

অপুষ্টির প্রভাব পড়ছে শিশুদের বেড়ে ওঠায়

খাদ্যসংকটের প্রভাব শুধু ক্ষুধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া এবং খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চার শিশুর একজন খর্বকায়—অর্থাৎ বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। একই বয়সী শিশুদের মধ্যে ১১ শতাংশ ক্ষীণকায়, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় ওজন কম।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি পাঁচটি পরিবারের দুটিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অণুপুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকাও জরুরি। কিন্তু খাদ্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তুলনামূলক কম দামের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে পারে। এতে পেট ভরলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত না হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

খাদ্যনিরাপত্তার ওপর জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবও বাড়ছে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষক পরিবার এবং ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাই তৈরি হয় না; কৃষকের আয়, শ্রমের চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারে খাদ্য সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। দুর্যোগে ফসল ও জীবিকার ক্ষতি হলে অনেক পরিবারকে একদিকে আয় হারানোর চাপ, অন্যদিকে বাজার থেকে খাবার কেনার বাড়তি ব্যয় সামলাতে হয়।

ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব কৃষক পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্থানীয় খাদ্যবাজার এবং ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবের আশঙ্কা

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি শুধু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বা কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ব্যাহত হলে তা দেশের পরিবারগুলোর আয় ও ভোগব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রবাসী আয় বাংলাদেশের বহু পরিবারের জীবনযাত্রা, খাদ্য কেনা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই আয় কমে গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তনও দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও দাম কমেনি

২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা বিগত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এরপর কয়েক মাস খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কমেছে। অতীতে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গিয়ে থাকলে মূল্যস্ফীতি কমলেও ক্রেতাকে আগের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য কিনতে হতে পারে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বাজারে এখন মোটা চালের কেজি কমপক্ষে ৫০ টাকা। খোলা আটার দামও একই পর্যায়ে। সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে চাল ও আটার মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের এই দাম সংসারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রবৃদ্ধি কমা ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ১৩ অক্টোবরের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং মূল্যস্ফীতি উঁচুতে থাকার সম্ভাবনা মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট বা অনিয়মিত, তাঁদের জন্য খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামাল দেওয়া আরও কঠিন হতে পারে।তবে আইএমএফের এই পরিসংখ্যান পূর্বাভাস; এটি ভবিষ্যতের নিশ্চিত ফল নয়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নীতিগত পদক্ষেপ এবং দেশি-বিদেশি নানা উপাদানের পরিবর্তনে বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে।

খাদ্যসহায়তা বিতরণে আগের বছরের তুলনায় কম চাল-গম

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল ও গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ৪৮ হাজার টন কম।

অন্যদিকে, দেশে খাদ্যশস্যের মজুত প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান হিসাবে ভালো অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে খাদ্যশস্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকা এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে যথাসময়ে সহায়তা পৌঁছানো দুটি আলাদা বিষয়।

মজুত থেকে খাদ্য বিতরণ কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে, কোন জনগোষ্ঠী সহায়তা পাচ্ছে এবং যাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তাঁরা তালিকার আওতায় আসছেন কি না—এসব বিষয় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তার পরামর্শ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, এই মুহূর্তে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নারীপ্রধান পরিবার এবং দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা, ন্যায্যমূল্যে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এবং লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তার পরিধি বাড়াতে হবে।বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও কারসাজি প্রতিরোধেও গুরুত্ব দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ। তাঁর মতে, নিয়মিত বাজার নজরদারি এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু খাদ্যশস্যের উৎপাদন বা সরকারি মজুত বাড়ানো যথেষ্ট নয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থান, কৃষকের জীবিকা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং শিশুদের পুষ্টি—সব বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

একদিকে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সময়মতো খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং শিশু ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য উদ্ভাবন ও পুষ্টির গুরুত্ব সামনে আনলেও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি সেই খাদ্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। ডব্লিউএফপির পূর্বাভাসে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা খাদ্যসহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়  ,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে রোগটিতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন মারা যান। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন। নতুন রোগী ভর্তি ও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপের চিত্র তুলে ধরছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালকে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৮৬৫ জন।অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬০ জন, খুলনায় ২৩৩ জন, বরিশালে ১৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৭ জন এবং রংপুরে ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এবারের অধিবেশনে শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওআইসিভুক্ত বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সংলাপ ও সংহতিতে গুরুত্ব

এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের মূল প্রতিপাদ্য—‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি, এই দুটি মৌলিক স্তম্ভ’। এই প্রতিপাদ্যের আওতায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সংহতি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ওআইসির বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির। এসব বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ওআইসি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ বৈঠকে সহসভাপতিত্ব

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সহসভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। এবারের অধিবেশনের সঙ্গে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্বেও পরিবর্তন এসেছে। তুরস্কের কাছ থেকে ইরাক আগামী এক বছরের জন্য পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের
স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা ও ক্লাবটির নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রমকে নাৎসি জার্মানির প্রচারণার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তেবাস। তাঁর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লা লিগা সভাপতির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

শুধু লা লিগার সভাপতির পদ নয়, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সহসভাপতির পদ থেকেও তেবাসের পদত্যাগ চেয়েছে ক্লাবটি। রিয়াল মাদ্রিদের মতে, তাদের ক্লাব, পরিচালনা পর্ষদ ও গণমাধ্যমকে এভাবে তুলনা করা গভীরভাবে অপমানজনক এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেবাসের অভিযোগ

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন হাভিয়ের তেবাস। তাঁর দাবি, ক্লাবটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের বক্তব্য প্রচারের জন্য একদল মুখপাত্রকে ব্যবহার করে এবং এ ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশন (আরএমটিভি) নেতৃত্ব দেয়।

তেবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের প্রচারকৌশলে নিজেদের সুবিধামতো ঘটনা বেছে নেওয়া, একই অভিযোগ বারবার তুলে ধরা, সন্দেহ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব পদ্ধতি নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচারণার কৌশলগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একই বার্তার পুনরাবৃত্তি, শত্রু তৈরি করা এবং বাস্তব ঘটনাকে নিজেদের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা ছিল সেই প্রচারণার বৈশিষ্ট্য।

তবে পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তেবাস স্পষ্ট করেন, তিনি গোয়েবলসের আদর্শের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের তুলনা করেননি; বরং প্রচারণার কৌশলগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি রিয়াল মাদ্রিদ

তেবাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির মতে, তিনি পরে যে ব্যাখ্যাই দিন না কেন, তাঁর মন্তব্যের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য চরিত্র এতে কমে না।

এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি ক্লাব, এর পরিচালনা এবং নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলকে নাৎসি শাসনের প্রচারণার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করবেন—এটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ অসহনীয় ও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেবাসের এই মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদ, ক্লাবটির সভাপতি এবং এর গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর বারবার আক্রমণের আরেকটি উদাহরণ। এ কারণে লা লিগার সভাপতি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে ক্লাবটি।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন মাত্রা

হাভিয়ের তেবাস ও রিয়াল মাদ্রিদের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রেফারিং এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেও একাধিকবার মতবিরোধ দেখা গেছে।

গত মাসেও রেফারিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদের সমালোচনা করেছিলেন তেবাস। এ ছাড়া ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।

২০২৫ সালে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ওই ঘটনার পর ক্লাবটি সম্পর্কে তেবাস মন্তব্য করেছিলেন, তারা ‘মাথা হারিয়ে ফেলেছে’।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার গোয়েবলসের প্রচারণার কৌশল নিয়ে করা মন্তব্য দুই পক্ষের বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

এখন কী হবে তেবাসের ভবিষ্যৎ?

রিয়াল মাদ্রিদ প্রকাশ্যে পদত্যাগ দাবি করলেও তেবাসের পক্ষ থেকে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্তের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, তাঁর মন্তব্যের পর লা লিগা বা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।

তবে ঘটনাটি স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশাসনিক নেতৃত্ব, ক্লাবগুলোর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্পর্ক এবং প্রকাশ্য বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তেবাসের মন্তব্যের প্রতিবাদে রিয়াল মাদ্রিদের কঠোর অবস্থানের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এএন/এসএ