খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়, গুরুত্ব পাচ্ছে জিয়ার ‘উই রিভল্ট’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়, গুরুত্ব পাচ্ছে জিয়ার ‘উই রিভল্ট’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বর্ণনায় নতুন সংযোজন আসছে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে এবার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার পর মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হচ্ছে। এতে তাঁর ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা, বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে স্থান পাচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিমার্জিত বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার পাশাপাশি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার প্রচার এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁর পরবর্তী ঘোষণার বিবরণও রাখা হয়েছে। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আগের সংস্করণের তুলনায় আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

  • স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও কালুরঘাটের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বাহিনী
  • বীরশ্রেষ্ঠদের অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করছে এনসিটিবি
  • চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার বই

ইতিহাসের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও স্থান পাচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে চারটি নতুন বই। সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।

‘উই রিভল্ট’ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা
২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ করেন। পাঠ্যবইয়ে তাঁর বিদ্রোহের মুহূর্তটি বোঝাতে ‘উই রিভল্ট’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ ‘আমরা বিদ্রোহ করছি’।

এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ব্যাটালিয়নের বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করেন। বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের সামনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরুর কথা জানান তিনি। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে সামরিক প্রতিরোধ সংগঠিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন বইয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁর আরেকটি ঘোষণার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন সংস্করণে শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা নয়, এর পেছনের প্রেক্ষাপট, সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যদের বিদ্রোহ এবং বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে ঘোষণার প্রচারের ঘটনাগুলোও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

আগের পাঠ্যবইয়ে কী ছিল
স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন সময়ের পাঠ্যবইয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ২০২২ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ওই বর্ণনায় স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত বইয়ে বলা হয়, ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে সেখানে ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা, বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করার ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে এসব বিষয় যুক্ত হওয়ায় স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বিবরণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময়ের পাঠ্যবইয়ে এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের উপস্থাপনার পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর, ব্রিগেড ও বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী
নতুন শিক্ষাবর্ষের ইতিহাসভিত্তিক বিষয়বস্তুতে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স সম্পর্কে তথ্য যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা যুদ্ধ পরিচালনার কাঠামো, বিভিন্ন বাহিনীর ভূমিকা এবং সম্মুখযুদ্ধের সংগঠিত রূপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। একই সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা বা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোও পাঠ্যক্রমে স্থান পাচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও এবারের পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য দিক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাঁর নিজের লেখার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চার বই
ইতিহাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশের বিষয়েও নতুন সংযোজন আসছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। ‘খেলাধুলা’ বইটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দিতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বইয়ের লক্ষ্য শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও উপভোগ্য করে তোলা। এ ছাড়া বাংলা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু সংযোজন করা হচ্ছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন শুধু ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর বিস্তার ঘটছে।

ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এনসিটিবির পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ছাপার কার্যক্রম চলছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু বই ছাপাও হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এসব বই পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে নতুন বিষয়বস্তুগুলো আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। বিশেষ করে ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করবে।

ইতিহাসের পাঠে আরও বিস্তৃত পরিসর
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক আফসান চৌধুরী মনে করেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের পাশাপাশি সমাজের ইতিহাস বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসচর্চার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় অনেক সময় ইতিহাসের চেয়ে রাজনীতির চর্চা বেশি প্রাধান্য পায়। তাই সমাজের ইতিহাসের চর্চা বাড়ানো জরুরি।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান এবং যুদ্ধকালীন সামাজিক অভিজ্ঞতাও পাঠ্যবইয়ে গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বিস্তারিত বিবরণ, ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণার উল্লেখ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স এবং বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী যুক্ত করার উদ্যোগ ইতিহাসের পাঠকে আরও বিস্তৃত করছে। পাশাপাশি ৭ নভেম্বর ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো রাজনৈতিক অধ্যায় এবং সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষার নতুন বই শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সমাজ সম্পর্কে জানার আরও সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়  ,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে রোগটিতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন মারা যান। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন। নতুন রোগী ভর্তি ও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপের চিত্র তুলে ধরছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালকে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৮৬৫ জন।অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬০ জন, খুলনায় ২৩৩ জন, বরিশালে ১৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৭ জন এবং রংপুরে ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এবারের অধিবেশনে শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওআইসিভুক্ত বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সংলাপ ও সংহতিতে গুরুত্ব

এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের মূল প্রতিপাদ্য—‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি, এই দুটি মৌলিক স্তম্ভ’। এই প্রতিপাদ্যের আওতায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সংহতি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ওআইসির বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির। এসব বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ওআইসি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ বৈঠকে সহসভাপতিত্ব

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সহসভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। এবারের অধিবেশনের সঙ্গে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্বেও পরিবর্তন এসেছে। তুরস্কের কাছ থেকে ইরাক আগামী এক বছরের জন্য পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের
স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা ও ক্লাবটির নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রমকে নাৎসি জার্মানির প্রচারণার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তেবাস। তাঁর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লা লিগা সভাপতির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

শুধু লা লিগার সভাপতির পদ নয়, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সহসভাপতির পদ থেকেও তেবাসের পদত্যাগ চেয়েছে ক্লাবটি। রিয়াল মাদ্রিদের মতে, তাদের ক্লাব, পরিচালনা পর্ষদ ও গণমাধ্যমকে এভাবে তুলনা করা গভীরভাবে অপমানজনক এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেবাসের অভিযোগ

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন হাভিয়ের তেবাস। তাঁর দাবি, ক্লাবটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের বক্তব্য প্রচারের জন্য একদল মুখপাত্রকে ব্যবহার করে এবং এ ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশন (আরএমটিভি) নেতৃত্ব দেয়।

তেবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের প্রচারকৌশলে নিজেদের সুবিধামতো ঘটনা বেছে নেওয়া, একই অভিযোগ বারবার তুলে ধরা, সন্দেহ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব পদ্ধতি নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচারণার কৌশলগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একই বার্তার পুনরাবৃত্তি, শত্রু তৈরি করা এবং বাস্তব ঘটনাকে নিজেদের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা ছিল সেই প্রচারণার বৈশিষ্ট্য।

তবে পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তেবাস স্পষ্ট করেন, তিনি গোয়েবলসের আদর্শের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের তুলনা করেননি; বরং প্রচারণার কৌশলগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি রিয়াল মাদ্রিদ

তেবাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির মতে, তিনি পরে যে ব্যাখ্যাই দিন না কেন, তাঁর মন্তব্যের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য চরিত্র এতে কমে না।

এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি ক্লাব, এর পরিচালনা এবং নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলকে নাৎসি শাসনের প্রচারণার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করবেন—এটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ অসহনীয় ও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেবাসের এই মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদ, ক্লাবটির সভাপতি এবং এর গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর বারবার আক্রমণের আরেকটি উদাহরণ। এ কারণে লা লিগার সভাপতি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে ক্লাবটি।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন মাত্রা

হাভিয়ের তেবাস ও রিয়াল মাদ্রিদের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রেফারিং এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেও একাধিকবার মতবিরোধ দেখা গেছে।

গত মাসেও রেফারিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদের সমালোচনা করেছিলেন তেবাস। এ ছাড়া ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।

২০২৫ সালে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ওই ঘটনার পর ক্লাবটি সম্পর্কে তেবাস মন্তব্য করেছিলেন, তারা ‘মাথা হারিয়ে ফেলেছে’।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার গোয়েবলসের প্রচারণার কৌশল নিয়ে করা মন্তব্য দুই পক্ষের বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

এখন কী হবে তেবাসের ভবিষ্যৎ?

রিয়াল মাদ্রিদ প্রকাশ্যে পদত্যাগ দাবি করলেও তেবাসের পক্ষ থেকে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্তের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, তাঁর মন্তব্যের পর লা লিগা বা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।

তবে ঘটনাটি স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশাসনিক নেতৃত্ব, ক্লাবগুলোর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্পর্ক এবং প্রকাশ্য বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তেবাসের মন্তব্যের প্রতিবাদে রিয়াল মাদ্রিদের কঠোর অবস্থানের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এএন/এসএ