খুঁজুন
                               
, ,
           

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও নতুন ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও নতুন ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়টি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার এবং সদস্যদের কল্যাণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, পেশাদারিত্ব ও জনগণের আস্থা ধরে রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চায় সরকার।

  • ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন
  • পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

অস্ত্রের শক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা মূল্যায়নে কেবল অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের পরিমাণ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আস্থার ওপর। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কার্যকর পরিচালনায় চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি চেইন অব কমান্ডের ওপর।’ অর্থাৎ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নকে শুধু অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। বরং বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, সাংগঠনিক সংহতি, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানকে এ ক্ষেত্রে একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’

১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সেনাসদস্যদের সশস্ত্র প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চ রাতে বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরদিন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’ বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উল্লেখের মধ্য দিয়ে সামরিক বাহিনীর পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে এর সম্পর্কও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বাহিনীর ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার সক্ষমতা
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের আধুনিকায়ন যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ও প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এ বাস্তবতার স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি জানান, পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যেও মানবসম্পদের গুরুত্বকে উপেক্ষা না করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এখানে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—একদিকে প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উন্নয়ন, অন্যদিকে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষ জনবল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতকে শুধু সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে নয়, প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা বিকাশের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন
সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব শুধু দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই বহুমাত্রিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীকে জাতীয় সংকট মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েন, লজিস্টিক সহায়তা এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, পেশাগত দক্ষতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্য বহন করে। ফলে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির আলোচনায় জাতীয় প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সামরিক সদস্যদের কল্যাণে বেতন-ভাতা ও পেনশন
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাং ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; দক্ষ, প্রশিক্ষিত, অনুপ্রাণিত এবং পেশাগতভাবে স্থিতিশীল জনবলও এর অন্যতম ভিত্তি। এ কারণে আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বাহিনীর সদস্যদের মনোবল এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মদক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পেনশনসংক্রান্ত উদ্যোগের বাস্তব সুফল কতটা বিস্তৃতভাবে সদস্যদের কাছে পৌঁছায়, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার ওপর।

সংবিধান, আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি পেশাদার সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আইনানুগ দায়িত্ব পালন, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই নীতিগুলোর উল্লেখ সশস্ত্র বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও পেশাগত মান বজায় রাখার প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারের পাশাপাশি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর প্রতি আনুগত্যের ওপর জোর দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলোকে একই আলোচনায় যুক্ত করেছেন তিনি।

ছয় ইউনিট পেল ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড
অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোল্লা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের টোল নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের টোল নির্ধারণ

পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কের টোল হার নির্ধারণ করেছে সরকার। যানবাহনের ধরন ও চলাচলের রুট অনুযায়ী এ সড়কে টোল দিতে হবে ২০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত হারে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক ও ট্রেইলারের টোল আলাদা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর এবং পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর—এই দুই রুটে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর রুটে মোটরসাইকেলের টোল ৪০ টাকা। একই যানবাহনের জন্য পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর রুটে দিতে হবে ২০ টাকা। সিএনজিচালিত তিন চাকার যানবাহনের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ টাকা।  ও জিপের ক্ষেত্রে চর সৈয়দপুর রুটে টোল ১০০ টাকা এবং কাশীপুর রুটে ৫০ টাকা। মাইক্রোবাস ও পিকআপের জন্য দুই রুটে টোল দিতে হবে যথাক্রমে ১৫০ ও ১০০ টাকা। মিনিবাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ ও ১২৫ টাকা।

৩১ বা তার বেশি আসনের বাসের জন্য পঞ্চবটি-চর সৈয়দপুর রুটে ৩০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর রুটে ১৫০ টাকা টোল দিতে হবে। ছয় চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে টোল যথাক্রমে ৪০০ ও ২০০ টাকা। ১০ চাকার ট্রাকের জন্য নির্ধারিত টোল ৬০০ ও ৪০০ টাকা। প্রজ্ঞাপনে সবচেয়ে বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রেইলারের জন্য। পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর রুটে ট্রেইলারের টোল ৮০০ টাকা এবং পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর রুটে ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করার তারিখ থেকে নির্ধারিত টোল কার্যকর হবে। অর্থাৎ টোলের হার নির্ধারণ করা হলেও সড়কটি চালুর তারিখের সঙ্গে এর কার্যকারিতা যুক্ত থাকবে। গত ১৫ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের চলমান কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি চালু হবে বলে জানান।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ছিল ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৮২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের যানজট কমানো এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতি বাড়াতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্প চালুর পর এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে নির্ধারিত টোল কার্যকর হবে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি