মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং জনগণের ভালোবাসাকে ধারণ করে ভবিষ্যতে ইশরাকের সামনে আরও বড় ও জনমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এসব কথা লেখেন মাহদী আমিন। পোস্টে ইশরাকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং দল ও দেশের জন্য তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং গণমানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সামনে ইশরাকের জন্য আরও বৃহত্তর ও জনমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হতে পারে।
মাহদী আমিনের এই বক্তব্যে ইশরাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদে থাকা বা পদত্যাগ করার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত অবদানকে মূল্যায়ন করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে মাহদী আমিন জানান, তিনি এক সপ্তাহের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর জানতে পারেন তিনি। ইশরাককে নিজের প্রিয় ভাই এবং রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের অন্যতম মুখ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী। তিনি লেখেন, ইশরাকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের অনেক স্মৃতি ও রাজনৈতিক পথচলা রয়েছে।
মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইশরাক হোসেনের ভূমিকা এবং তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সবাই অবগত। বিএনপির তরুণদের সম্পৃক্ত করা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। ইশরাক জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেমকে নিজের বিশ্বাসে ধারণ করেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেন।
ইশরাকের সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন কিংবা মতভিন্নতা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন মাহদী আমিন। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর পদ বা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আত্মত্যাগের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। সাময়িক কোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান বেশি অর্থবহ। তবে কোন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মাহদী আমিন।
পোস্টে মাহদী আমিন সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় তরুণ নেতা ইশরাক হোসেনের কোনো সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিতর্কের অবকাশ থাকলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি লেখেন, জনগণের সরকারের বার্তা এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট। রাষ্ট্র বিনির্মাণের যাত্রায় সামনের দিনগুলোতেও সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতার ধারা বজায় থাকবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। মাহদী আমিন তাঁর পোস্টের শেষাংশে আবারও উল্লেখ করেন, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে তাঁর সামনে আরও বড় ও জনমুখী দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]