খুঁজুন
                               
, ,
           

বাতি-ফ্যান চালিয়েই লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

নোয়াখালীর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাতি-ফ্যান চালিয়েই লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ আর একটি আইপিএস—একটি সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বিদ্যুৎ ব্যবহারের সরঞ্জাম বলতে এটুকুই। এসব ব্যবহার করে প্রতি মাসে যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসত গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসের বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট। এমন অস্বাভাবিক বিল হাতে পেয়ে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে ঘটেছে এ ঘটনা। নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাঠানো এই বিলকে ‘ভুতুড়ে’ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। তাঁর দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসার পরও হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল পাঠানো হয়েছে, যা তাঁদের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাঁচ মাসে গড় ব্যবহার ১৮৭ ইউনিট, সেপ্টেম্বরে দেখানো ৬ হাজার

ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাস ধরে তাঁদের বাড়িতে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। সেই হিসাবে সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে নিয়মিত বিলও এসেছে তুলনামূলক কম। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিলে হঠাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মিটারটি নিবন্ধিত রয়েছে ওই বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামে। বর্তমানে মিটারটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম। সেপ্টেম্বর মাসের বিলের সঙ্গে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুল যোগ করে মোট পাওনা দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। সাধারণ বাতি-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে?’ তাঁর অভিযোগ, বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।

বিল সংশোধনে গ্রাহককেই কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ

অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিদ্যুৎ বিল বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মীকে জানান শহীদুল ইসলাম। এ সময় তাঁকে চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরামর্শে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, বিল তৈরিতে কর্তৃপক্ষের ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য গ্রাহককে কেন বারবার কার্যালয়ে যেতে হবে? শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব—এটি কোন ধরনের কথা? আমি চাই, এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

ভুল স্বীকার পল্লী বিদ্যুতের, মিটার পরীক্ষার আশ্বাস

এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে গ্রাহকের মূল বিলের কপি পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, শিগগিরই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে মিটার পরীক্ষা করা হবে। এরপর দ্রুত বিল সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

ভুল বিলের দায় ও গ্রাহক ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন

সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে লাখ টাকার বেশি বিল আসার ঘটনায় বিল প্রস্তুত ও মিটার রিডিংয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আগের মাসগুলোর গড় ব্যবহার যেখানে ১৮৭ ইউনিট, সেখানে এক মাসে ৬ হাজার ইউনিট ব্যবহারের হিসাব কীভাবে তৈরি হলো, তা যাচাই করা জরুরি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মিটার পরীক্ষা ও বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও সংশোধিত বিল কবে দেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় কোনো কর্মীর গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অস্বাভাবিক বিলের কারণে গ্রাহককে যেন অযথা আর্থিক চাপ ও ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এবার দুর্গাপূজার সাজে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের। গাঢ় গোলাপি শাড়ি, নীল ব্লাউজ ও সোনালি গয়নায় বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজে হাজির হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে অভিনেত্রীর এই উৎসবের সাজ সামাজিক মাধ্যমে ও বিনোদন অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও মহানবমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুম্বাইয়ের ৮০তম নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে যান আলিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়ন মুখার্জি। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেত্রীর পোশাক ও সাজসজ্জা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে।

গোলাপি শাড়িতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া


এদিন আলিয়ার পরনে ছিল উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের শাড়ি। শাড়িতে সোনালি গোটাপট্টির কাজ তার সাজে যোগ করেছে আভিজাত্য। বাঙালি কায়দায় শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী। কাঁধে সুন্দরভাবে সাজানো আঁচলে ফুটে উঠেছিল শাড়ির নকশা ও পোশাকের সৌন্দর্য। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে ফিরোজা-নীল রঙের ব্লাউজ বেছে নেন আলিয়া। ব্লাউজের গোলাকার গলার নকশা ও ছোট পাফ স্লিভ তার সাজে এনেছে ভিন্নমাত্রা। পেছনের সোনালি কারুকাজও ছিল নজরকাড়া।

সোনালি গয়না ও ফুলের খোঁপায় পূর্ণতা
শাড়ির সঙ্গে আলিয়া পরেছিলেন সোনালি ঝুমকা, হাতে একাধিক সোনালি চুড়ি এবং আঙুলে নকশাদার আংটি। কানের গয়নার সঙ্গে মানানসই ইয়ার চেইন তার সাজে যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ। চুলে মাঝখানে সিঁথি করে পরিপাটি খোঁপা বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী। সেই খোঁপায় ছিল রঙিন ফুলের সাজ। কপালে ছোট্ট টিপ, হালকা চোখের মেকআপ, স্বাভাবিক ত্বকের সাজ এবং মৃদু রঙের লিপস্টিকে পূর্ণতা পেয়েছে তার উৎসবের লুক। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজের সঙ্গে আধুনিক রঙের সমন্বয় আলিয়ার উপস্থিতিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সব মিলিয়ে পূজামণ্ডপে তার এই সাজ ভক্তদের নজর কেড়েছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও ব্যস্ত আলিয়া
উৎসবের আমেজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন আলিয়া ভাট। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশল। বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যেই দুর্গাপূজায় আলিয়ার বাঙালি সাজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

কালের আলো/এসএআর/এসএ

নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন বছরের মাথায় বিভাগটির প্রধান ড্যান লিনকে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের ধারাবাহিকতায় তার বিদায়ের খবর সামনে এসেছে। বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র ড্যান লিনের দায়িত্ব হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সপ্তাহান্তের শুরুতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার নিজের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল তার।

এক সপ্তাহে বড় পরিবর্তন নেটফ্লিক্সে
নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারান। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা বেলা বাজরিয়াকে বরখাস্ত করার খবরও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ড্যান লিনের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন?
ড্যান লিনের জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে নেটফ্লিক্স এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চলচ্চিত্র বিভাগের সাবেক প্রধান মাইক ডি লুকা ও পাম অ্যাবডির নেটফ্লিক্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তাদের যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রযোজক হিসেবে সফল ক্যারিয়ার ড্যান লিনের
২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড্যান লিন। এর আগে তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাইডব্যাক পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘লেগো’ চলচ্চিত্র সিরিজ, স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইট’ এবং ‘শার্লক হোমস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। নেটফ্লিক্সে দায়িত্ব পালনকালে ৮৮টি চলচ্চিত্রের অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বত্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যান লিন। গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘এমিলিয়া পেরেজ’, ‘এপেক্স’, ‘হিয়ার কামস দ্য ফ্লাড’ এবং ‘দ্য ফার্দার মিস-অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’।

চলচ্চিত্র বিভাগের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আগ্রহ
ড্যান লিনের বিদায়ের পর নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে কনটেন্ট নির্বাচন, চলচ্চিত্র নির্মাণে বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন নেতৃত্বের নাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরই চলচ্চিত্র বিভাগে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: এনপিবি নিউজ; ভ্যারাইটি; নিউইয়র্ক টাইমস

কালের আলো/জেএন/এসএ

ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা। তাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য, শিক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কাউকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, শহীদ রমিজুদ্দিনের বাবা উকিল বুলবুল আহমেদ, যাত্রাবাড়ীর কাজলার শহীদ ইমাম হাসান তাইমের বন্ধু মোহাম্মদ আহাদ হোসেন, শহীদ নূর হোসেনের মা নুরন্নাহার চিনু, শহীদ মোহাম্মদ নাসির হোসেনের ভাই হুমায়ুন, শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা মনজিলা বেগম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হকসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। তবে এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন।

জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ইশরাক হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে প্রতিমন্ত্রী করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এখনো অনেক আহত যোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে নিজ খরচে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যের গেজেটভুক্তি এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হক বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। আহতদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্য থেকে এমন একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ও সনদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য দাবি পূরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি