খুঁজুন
                               
, ,
           

পানির ওপর চাষ, বছরে আয় ১০ কোটি টাকা!

পিরোজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
পানির ওপর চাষ, বছরে আয় ১০ কোটি টাকা!

বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ি-দোবরা ও নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্ষায় জলাবদ্ধতা যেখানে অনেকের জীবিকা ও কৃষিকাজের জন্য বড় বাধা, সেখানে সেই পানিকেই কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ভাসমান বেড ও ধাপ পদ্ধতিতে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। প্রতি মৌসুমে উৎপাদিত প্রায় এক কোটি চারা বিক্রি করে আয় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ কৃষিকাজকে ঘিরে জীবিকার পথ তৈরি হয়েছে হাজারো পরিবারের।

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই চাষপদ্ধতি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুরুষের পাশাপাশি এতে যুক্ত হয়েছেন নারীরাও। তবে পর্যাপ্ত পুঁজি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার অভাবে অনেক নারী শ্রমিক ও উদ্যোক্তা নিজেদের উদ্যোগ বড় করতে পারছেন না। সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে এ খাতে কর্মসংস্থান ও আয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাজিরপুরের দেউলবাড়ি-দোবরা এবং নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে ভাসমান বেড ও ধাপ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা হয়। জলাবদ্ধ জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ কঠিন হলেও পানির ওপর তৈরি বেডে বীজ বুনে চারা উৎপাদন করছেন কৃষকেরা।

লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শিম, পেঁপে, করলা, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে এসব বেডে। পরে চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। পিরোজপুর ছাড়াও খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এসব চারা কিনে নেন।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শ্রমের সমন্বয়ে এই চাষপদ্ধতি টিকে আছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এলেও এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তবু ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যেখানে কৃষক, নারী শ্রমিক ও চারার ব্যবসায়ীরা যুক্ত রয়েছেন। নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের গগন গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে ২০০৫ সাল থেকে ভাসমান বেডে সবজির চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের কাজের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও কর্মহীন নারীদেরও যুক্ত করেছেন এই কাজে। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন প্রায় ১০ জন নারী।

কাজের জায়গায় কেউ দুলালী লতা দিয়ে তৈরি ম্যাদার ভেতর বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ বুনছেন, কেউ আবার অঙ্কুরিত চারা সাজিয়ে রাখছেন। পানির ওপর তৈরি বেডে এভাবেই বেড়ে উঠছে নতুন চারা। এই কাজ নুরজাহানের নিজের আয়ের পাশাপাশি অন্য নারীদেরও উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে উদ্যোগটি আরও বড় করার স্বপ্ন থাকলেও পুঁজির অভাবে এগোতে পারছেন না তিনি। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার ঘাটতিও তাঁর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। ২০০৫ সাল থেকে এই কাজ করে আসছি। অনেক পরিবার দুঃখ-কষ্টে আছে। আমি তাদের সামনে এগিয়ে নিতে চাই, কিন্তু পারছি না। সরকার যদি বিনা সুদে ঋণ দিত, তাহলে সামনে এগোতে পারতাম। নারীদের কাজ দিতে পারতাম, তারা ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে পারত। আমি ঘরে বসে থাকা নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।’

ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে নারীরা শ্রম দেন। কেউ বীজ বোনেন, কেউ চারা তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করেন, আবার কেউ অঙ্কুরিত চারা সাজিয়ে রাখেন। কাজের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী তাঁদের আয় হয়। প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে এক হাজার দুলালী লতা দিয়ে ম্যাদা তৈরি করলে মজুরি মেলে ১৫০ টাকা।

বলদিয়া গ্রামের নারী শ্রমিক রহিমা বেগম জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিশ্রম করেও অনেক সময় ২০০ টাকা আয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করি। সারাদিন এত পরিশ্রম করেও ২০০ টাকা আয় করতে অনেক কষ্ট হয়। নারীদের আর কোনো কাজ নেই, তাই এগুলোই করি। আমাদের ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ভালো হতো। এক হাজার ম্যাদা বানিয়ে দেড়শ টাকা পাই। তাতে কি আর সংসার চলে!’

স্থানীয় নারী শ্রমিকদের মতে, কাজের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে তাঁদের অনেকেই নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন। এতে শুধু ব্যক্তিগত আয় বাড়বে না, গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব নারী ঘরের বাইরে কাজের সুযোগ পান না, তাঁদের জন্য এ খাত বিকল্প জীবিকার পথ খুলে দিতে পারে।

ভাসমান বেডে উৎপাদিত চারার বাজার শুধু পিরোজপুরে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নিয়ে নিজেদের জমিতে চাষ করেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষিকাজেরও যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনকারী কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন, ‘এখানে সকাল ছয়টায় কাজ করতে আসি। বেডে চারা রোপণ করি, ওষুধ দিই, লতা পরিষ্কার করি। এখানকার চারা ঢাকা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ অনেক জায়গায় যায়। প্রতিবছর এখানে লাখ লাখ চারা উৎপাদন হয়। বিভিন্ন জাতের সবজির চারা প্রতিটি ৩ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।’ চারা উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির কাজেও অনেকে যুক্ত রয়েছেন। এতে উৎপাদক কৃষকদের বাইরেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পিরোজপুর পৌর শহরে এসব চারা খুচরা বিক্রি করেন রফিক শেখ। তিনি নাজিরপুরের ভাসমান বেড থেকে বিভিন্ন জাতের চারা কিনে এনে বিক্রি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি চারা ৫ থেকে ৭ টাকা দরে কিনে ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। তবে পরিবহন খরচ, অবিক্রীত চারা ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে এই দামের পুরো ব্যবধান তাঁর লাভ নয়।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, নাজিরপুর ও নেছারাবাদে ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজির চারা খুলনা, যশোর, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পেশার সঙ্গে প্রায় ছয় হাজার কৃষক জড়িত। কৃষি অফিস থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতি মৌসুমে ভাসমান বেডে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক কোটি সবজির চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারা বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় হয়। এই পরিসংখ্যান ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক এবং শ্রমিকদের আয় এক রকম নয়। চারার দাম, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয় ও বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে তাঁদের প্রকৃত আয় নির্ধারিত হয়।

প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহন করা ভাসমান বেডে চারা উৎপাদন এখন স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলাবদ্ধ এলাকাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা যেমন আয়ের পথ তৈরি করেছেন, তেমনি এ উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি, আধুনিক উৎপাদনকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ না থাকায় অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ ছোট পরিসরেই আটকে আছে।

বিশেষ করে নুরজাহানের মতো নারী উদ্যোক্তারা যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পান, তাহলে তাঁরা আরও বেশি নারীকে কাজে যুক্ত করতে পারবেন। এতে নারীদের নিজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে। ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের এই ঐতিহ্যকে টেকসই করতে উৎপাদনের মান উন্নয়ন, বাজারসংযোগ, প্রশিক্ষণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উপযোগী ঋণসুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। জলাবদ্ধতাকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া এই কৃষিপদ্ধতি প্রমাণ করছে, স্থানীয় জ্ঞান ও শ্রমের সঙ্গে যথাযথ সহায়তা যুক্ত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এবার দুর্গাপূজার সাজে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের। গাঢ় গোলাপি শাড়ি, নীল ব্লাউজ ও সোনালি গয়নায় বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজে হাজির হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে অভিনেত্রীর এই উৎসবের সাজ সামাজিক মাধ্যমে ও বিনোদন অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও মহানবমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুম্বাইয়ের ৮০তম নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে যান আলিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়ন মুখার্জি। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেত্রীর পোশাক ও সাজসজ্জা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে।

গোলাপি শাড়িতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া


এদিন আলিয়ার পরনে ছিল উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের শাড়ি। শাড়িতে সোনালি গোটাপট্টির কাজ তার সাজে যোগ করেছে আভিজাত্য। বাঙালি কায়দায় শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী। কাঁধে সুন্দরভাবে সাজানো আঁচলে ফুটে উঠেছিল শাড়ির নকশা ও পোশাকের সৌন্দর্য। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে ফিরোজা-নীল রঙের ব্লাউজ বেছে নেন আলিয়া। ব্লাউজের গোলাকার গলার নকশা ও ছোট পাফ স্লিভ তার সাজে এনেছে ভিন্নমাত্রা। পেছনের সোনালি কারুকাজও ছিল নজরকাড়া।

সোনালি গয়না ও ফুলের খোঁপায় পূর্ণতা
শাড়ির সঙ্গে আলিয়া পরেছিলেন সোনালি ঝুমকা, হাতে একাধিক সোনালি চুড়ি এবং আঙুলে নকশাদার আংটি। কানের গয়নার সঙ্গে মানানসই ইয়ার চেইন তার সাজে যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ। চুলে মাঝখানে সিঁথি করে পরিপাটি খোঁপা বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী। সেই খোঁপায় ছিল রঙিন ফুলের সাজ। কপালে ছোট্ট টিপ, হালকা চোখের মেকআপ, স্বাভাবিক ত্বকের সাজ এবং মৃদু রঙের লিপস্টিকে পূর্ণতা পেয়েছে তার উৎসবের লুক। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজের সঙ্গে আধুনিক রঙের সমন্বয় আলিয়ার উপস্থিতিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সব মিলিয়ে পূজামণ্ডপে তার এই সাজ ভক্তদের নজর কেড়েছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও ব্যস্ত আলিয়া
উৎসবের আমেজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন আলিয়া ভাট। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশল। বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যেই দুর্গাপূজায় আলিয়ার বাঙালি সাজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

কালের আলো/এসএআর/এসএ

নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন বছরের মাথায় বিভাগটির প্রধান ড্যান লিনকে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের ধারাবাহিকতায় তার বিদায়ের খবর সামনে এসেছে। বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র ড্যান লিনের দায়িত্ব হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সপ্তাহান্তের শুরুতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার নিজের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল তার।

এক সপ্তাহে বড় পরিবর্তন নেটফ্লিক্সে
নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারান। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা বেলা বাজরিয়াকে বরখাস্ত করার খবরও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ড্যান লিনের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন?
ড্যান লিনের জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে নেটফ্লিক্স এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চলচ্চিত্র বিভাগের সাবেক প্রধান মাইক ডি লুকা ও পাম অ্যাবডির নেটফ্লিক্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তাদের যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রযোজক হিসেবে সফল ক্যারিয়ার ড্যান লিনের
২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড্যান লিন। এর আগে তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাইডব্যাক পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘লেগো’ চলচ্চিত্র সিরিজ, স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইট’ এবং ‘শার্লক হোমস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। নেটফ্লিক্সে দায়িত্ব পালনকালে ৮৮টি চলচ্চিত্রের অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বত্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যান লিন। গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘এমিলিয়া পেরেজ’, ‘এপেক্স’, ‘হিয়ার কামস দ্য ফ্লাড’ এবং ‘দ্য ফার্দার মিস-অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’।

চলচ্চিত্র বিভাগের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আগ্রহ
ড্যান লিনের বিদায়ের পর নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে কনটেন্ট নির্বাচন, চলচ্চিত্র নির্মাণে বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন নেতৃত্বের নাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরই চলচ্চিত্র বিভাগে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: এনপিবি নিউজ; ভ্যারাইটি; নিউইয়র্ক টাইমস

কালের আলো/জেএন/এসএ

ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা। তাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য, শিক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কাউকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, শহীদ রমিজুদ্দিনের বাবা উকিল বুলবুল আহমেদ, যাত্রাবাড়ীর কাজলার শহীদ ইমাম হাসান তাইমের বন্ধু মোহাম্মদ আহাদ হোসেন, শহীদ নূর হোসেনের মা নুরন্নাহার চিনু, শহীদ মোহাম্মদ নাসির হোসেনের ভাই হুমায়ুন, শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা মনজিলা বেগম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হকসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। তবে এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন।

জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ইশরাক হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে প্রতিমন্ত্রী করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এখনো অনেক আহত যোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে নিজ খরচে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যের গেজেটভুক্তি এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হক বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। আহতদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্য থেকে এমন একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ও সনদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য দাবি পূরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি