খুঁজুন
                               
, ,
           

নদীভাঙন-পানির সংকটে জর্জরিত নলিয়ান, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের আশা

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
নদীভাঙন-পানির সংকটে জর্জরিত নলিয়ান, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের আশা

খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হেলিকপ্টারে নলিয়ানে পৌঁছে জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

হেলিকপ্টারে নলিয়ানে, পরে নৌপথে মোংলার যাত্রা
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টার খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি।

সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার আশায় সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

সফরসঙ্গী হিসেবে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা স্থানীয়দের
দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার আগ্রহের পাশাপাশি এসব সমস্যার সমাধান নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা আরও গুরুত্ব পাবে।

সফর ঘিরে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। সফরকে সামনে রেখে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়।

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় একাধিক কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। মোংলায় গিয়ে সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে আশার আলো
মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশ সম্প্রসারিত হবে, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল পেতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

এসএসসি অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ও একাদশে ভর্তির সুযোগসহ ৫ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
এসএসসি অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ও একাদশে ভর্তির সুযোগসহ ৫ দাবি

এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কামাল আহমেদ মজুমদার স্কুলের আল-আমিন, সন্দ্বীপ পাবলিক স্কুলের ফুয়াদ এবং একরামুল হক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরিনা বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী রেবেকা সুলতানা।

এক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই ভবিষ্যৎ শেষ নয়
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁরা বলেন, নিয়মবহির্ভূত কোনো সুবিধা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক, বাস্তবসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব সমাধান চান তাঁরা।শিক্ষার্থীদের মতে, বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলে অকৃতকার্যরা দ্রুত নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন। এতে তাঁদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

চলতি বছরই বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের জন্য চলতি বছরই বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয় দাবিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং অংশগ্রহণের যোগ্যতা সম্পর্কে দ্রুত সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

দ্রুত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের দাবি
তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা এবং পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যেন একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতে, পরীক্ষার আয়োজন, ফল প্রকাশ ও কলেজে ভর্তির সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় করা গেলে তাঁদের শিক্ষাজীবন অযথা পিছিয়ে পড়বে না।

একাদশে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি
চতুর্থ দাবিতে বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দিলেই হবে না; সেই ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষাবর্ষ হারানোর আশঙ্কা থেকে যাবে।

পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা
পঞ্চম দাবিতে বলা হয়েছে, কোনো অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি, পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভর্তি, নিবন্ধন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ফলাফলসংক্রান্ত বিধিবিধানের মধ্যে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলোর প্রতি আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতি তাঁদের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

প্রসঙ্গত, সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলতি বছর অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর থেকে এসএসসিতেও এ পদ্ধতি চালুর কথা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন বা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

হোয়াটসঅ্যাপ কি আপনার তথ্য বিক্রি করে, জানুন আসল সত্য

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপ কি আপনার তথ্য বিক্রি করে, জানুন আসল সত্য

প্রতিদিনের ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিও কিংবা জরুরি নথি আদান-প্রদানে হোয়াটসঅ্যাপ এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। পরিবার, বন্ধু থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় এই বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ব্যবহার করছেন কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু অ্যাপটিতে ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ? হোয়াটসঅ্যাপ কি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে, নাকি সেগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে?

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত বার্তা ও কলের নিরাপত্তায় রয়েছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি। এর ফলে সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের বিষয়বস্তু কেবল প্রেরক ও প্রাপক দেখতে বা শুনতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও সাধারণভাবে এসব বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে না। তবে এই সুরক্ষা থাকার অর্থ এই নয় যে ব্যবহারকারীর অন্য কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয় না।

অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, সেবা সচল রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে। কিছু ক্ষেত্রে মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানও হতে পারে। তাই তথ্য সংগ্রহ, তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রির মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।

কী কী তথ্য সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ?
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সময় বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য, অ্যাপ ব্যবহারের সময় তৈরি হওয়া কারিগরি তথ্য এবং অন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ফোন নম্বর দিতে হয়। এ ছাড়া প্রোফাইলের নাম, ছবি ও ব্যবহারকারীর দেওয়া অন্যান্য তথ্যও সেবাটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। অ্যাপ সচল রাখতে ডিভাইসের ধরন, ইন্টারনেট সংযোগ, আইপি ঠিকানা, ব্যবহারের সময়সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য কারিগরি তথ্যও প্রক্রিয়াকরণ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যবহারকারীর ফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্যও নির্দিষ্ট অনুমতি ও ব্যবহৃত সুবিধার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণ হতে পারে। তবে ঠিক কোন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা নির্ভর করে অ্যাপের সংস্করণ, ব্যবহৃত সুবিধা, অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট গোপনীয়তা নীতির ওপর। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব তথ্য সংগ্রহের অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চ্যাটের সব কথাবার্তা পড়ে ফেলতে পারে। ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু এবং অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য এক বিষয় নয়।

মেটার সঙ্গে কি আপনার তথ্য শেয়ার হয়?
হোয়াটসঅ্যাপ মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ফলে সেবাটি পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সুবিধা চালু রাখার জন্য মেটার সঙ্গে কিছু তথ্য আদান-প্রদান হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, হোয়াটসঅ্যাপের কোনো কনটেন্ট অন্য মেটা সেবায় শেয়ার করা হলে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজন হতে পারে। আবার ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা মেটার বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও তথ্যের ব্যবহার ভিন্ন হতে পারে। তবে মেটার সঙ্গে কিছু তথ্য শেয়ার হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা পড়তে পারে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকা সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের বিষয়বস্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—তথ্য সংগ্রহ, অন্য সেবার সঙ্গে তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রি এক নয়। হোয়াটসঅ্যাপ তথ্য সংগ্রহ করে বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শেয়ার করে বলেই ব্যবহারকারীর সব ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হয়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

ব্যক্তিগত বার্তা কতটা নিরাপদ?
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত বার্তা ও কলে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। এ প্রযুক্তিতে বার্তা প্রেরকের ডিভাইস থেকে এমনভাবে সুরক্ষিত থাকে যে নির্ধারিত প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ সাধারণভাবে তার বিষয়বস্তু পড়তে পারেন না। এই সুরক্ষা ব্যক্তিগত লেখা, ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ ও নথির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে ব্যবহারকারী নিজে বার্তা অন্য কাউকে দেখালে, প্রাপক স্ক্রিনশট নিলে কিংবা ডিভাইসের নিরাপত্তা ভেঙে কেউ প্রবেশাধিকার পেলে এনক্রিপশন একাই সব ধরনের ঝুঁকি ঠেকাতে পারে না।

এ ছাড়া চ্যাটের বিষয়বস্তু এনক্রিপ্ট করা থাকলেও অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত সব তথ্য একইভাবে সুরক্ষিত থাকে না। তাই শুধু এনক্রিপশন আছে জেনেই সব ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়।

গোপনীয়তা বাড়াতে যেসব সেটিংস কাজে আসবে
হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। অ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সুবিধা পরিবর্তন করা যায়।

প্রোফাইলের তথ্য নিয়ন্ত্রণ: প্রোফাইল ছবি, ‘লাস্ট সিন’, অনলাইন থাকার তথ্য ও ‘অ্যাবাউট’ কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করুন।

গ্রুপে যুক্ত হওয়ার অনুমতি: কে আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করুন।

ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ: নির্দিষ্ট সময় পর বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার সুবিধা চালু করতে পারেন। তবে এতে অন্যের সংরক্ষণ করা কপি বা স্ক্রিনশট মুছে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

চ্যাট লক: গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন আলাদা করে লক করে রাখতে পারেন।

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন: অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে এই সুবিধা চালু করুন এবং যাচাইকরণ কোড কাউকে দেবেন না।

অ্যাপ লক: ডিভাইস সমর্থন করলে আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো অনুমোদিত পদ্ধতিতে অ্যাপে প্রবেশাধিকার সীমিত করুন।

নিয়মিত এসব সেটিংস পর্যালোচনা করলে ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব।

চ্যাটের ব্যাকআপেও কি ঝুঁকি আছে?
ফোন হারিয়ে গেলে কিংবা নতুন ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করলে পুরোনো কথোপকথন ফিরিয়ে আনতে চ্যাটের ব্যাকআপ কাজে লাগে। তবে ব্যাকআপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড ব্যাকআপ চালু করার সুবিধা রয়েছে। এটি সক্রিয় করলে ব্যাকআপের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে পাসওয়ার্ড বা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি ব্যবহার করা যায়। এতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের বিষয়বস্তু পড়া কঠিন হয়।

তবে এই পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি হারিয়ে গেলে ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার করা কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে। তাই নিরাপদ স্থানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। ব্যাকআপের এনক্রিপশন চালু আছে কি না, সেটিও সেটিংসে গিয়ে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য বিক্রি করে?
প্রশ্নটির উত্তর দিতে হলে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রির মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কিছু তথ্য সংগ্রহ করে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেটার অন্যান্য সেবা বা সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের সঙ্গে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান করতে পারে। কিন্তু এ থেকেই ব্যবহারকারীর সব ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার ও শেয়ার করা হয়, তা জানতে হোয়াটসঅ্যাপের হালনাগাদ গোপনীয়তা নীতি পড়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, অন্যান্য সেবায় তথ্য শেয়ার এবং ক্লাউড ব্যাকআপের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নয়, ব্যবহারকারীরও। কোন তথ্য শেয়ার করছেন, অ্যাপকে কী অনুমতি দিচ্ছেন এবং অ্যাকাউন্ট কতটা সুরক্ষিত রাখছেন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/এসএ/জেএন

সৌদিতে ৬ মাসে ১০৮ মৃত্যুদণ্ড, তালিকায় বাংলাদেশিরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
সৌদিতে ৬ মাসে ১০৮ মৃত্যুদণ্ড, তালিকায় বাংলাদেশিরাও

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে বাংলাদেশিসহ ১৭টি দেশের নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) নথি অনুযায়ী, এ সময়ে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৯ জন সৌদি আরবের নাগরিক। মানবাধিকার সংস্থাটির পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বন্দীদের আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তথ্য প্রকাশের ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রথম ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, সৌদি নাগরিকদের মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। তবে প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যার কারণে প্রবাসী ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিচারিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিষয়টি মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে।

মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কার্যকর হওয়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৭১টি ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের মামলায়। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশই কার্যকর হয়েছে এ ধরনের মামলায়। সংখ্যার দিক থেকে এটিই ছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র।

মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। এটি মোট ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ধরনের মামলায় দণ্ডিত বিদেশিদের মধ্যে ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা জানিয়েছে ইএসওএইচআর।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের আধিক্য সৌদি আরবে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে। তবে পৃথক মামলার অভিযোগ, প্রমাণ, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং আসামিদের আইনি প্রতিনিধিত্বের বিস্তারিত তথ্য ছাড়া প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি সম্পর্কে আলাদাভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
মাদক অপরাধের পর হত্যাকাণ্ডের মামলায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইএসওএইচআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ।

এ ছাড়া রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় নয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এটি মোট সংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। অন্যান্য অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে আরও তিনজনের, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেখা যায়, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলা—এই তিন শ্রেণির অপরাধে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যাই প্রতিবেদনের প্রধান অংশজুড়ে রয়েছে।

হত্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড
ইএসওএইচআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে কার্যকর হওয়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৩টি এমন অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল না। এই সংখ্যা মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৮৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ‘তাজির’ শাস্তির ভিত্তিতে। এটি মোট সংখ্যার প্রায় ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। তাজিরের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর আলোকে বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক প্রয়োগ এবং বিচারিক বিবেচনামূলক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তবে এসব মামলার আইনি ভিত্তি ও রায় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য পৃথক মামলার নথি এবং বিচারিক তথ্য পর্যালোচনা করা জরুরি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তথ্যের ঘাটতি
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তথ্য প্রকাশের সীমাবদ্ধতাও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ইএসওএইচআরের হিসাব অনুযায়ী, ১০৮টি ঘটনার মধ্যে ৯১টি সম্পর্কে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংস্থাটি কিংবা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা আগাম তথ্য জানতে বা নথিবদ্ধ করতে পারেনি। এ সংখ্যা মোট ঘটনার প্রায় ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সংস্থাটির মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া না গেলে বন্দীদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে অপরিচিতি এবং নিজ দেশের দূতাবাসের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এসব সমস্যা সব মামলায় ঘটেছে—এমন দাবি করার মতো পৃথক তথ্য প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যানে নেই।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ড
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় মোট নয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসওএইচআর।

প্রতিবেদনে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের বেআইনি আটকাদেশবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ এর আগে তাঁর আটকাদেশকে বেআইনি ও অযৌক্তিক বলে বিবেচনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি
ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধের কারণে অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাঁদের কয়েকজনের আটকাদেশকে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বেআইনি বলে বিবেচনা করেছে এবং মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

শিশু ও কিশোর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে আসামির বয়স, অপরাধ সংঘটনের সময়কার পরিস্থিতি, বিচারপ্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের বাধ্যবাধকতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। ইএসওএইচআর বলেছে, সংশ্লিষ্ট বন্দীদের জীবন রক্ষা এবং জাতিসংঘের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

মতপ্রকাশের অভিযোগে আরও ৪৯ জন মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের অভিযোগে দণ্ডিত ৪৯ জন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সালমান আল-আওদা ও শেখ হাসান আল-মালিকি। ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া এখনো অমীমাংসিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, মতপ্রকাশ-সংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি, আটকাবস্থার পরিস্থিতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের মামলায় অভিযোগের প্রকৃতি, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন কারাগারে বিদেশি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি
সৌদি আরবের কয়েকটি কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বিদেশি বন্দীদের সম্পর্কেও তথ্য নথিবদ্ধ করেছে ইএসওএইচআর। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খামিস মুশাইত কারাগারে ৫৮ জন ইথিওপীয় বন্দী, নাজরান কারাগারে পাঁচজন ইথিওপীয় ও পাঁচজন সোমালীয় বন্দী এবং তাবুক কারাগারে আটজন মিসরীয় বন্দী মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বন্দী তাঁদের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনি সহায়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে পেশাদার দোভাষীর অভাব, পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা না পাওয়া, বিচারপ্রক্রিয়া বুঝতে অসুবিধা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ সীমিত থাকার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

বিদেশি বন্দীদের ক্ষেত্রে এসব বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তাঁরা স্থানীয় ভাষা ও আইনব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত নাও হতে পারেন। তাঁদের নিজ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

শাসনামলে দুই হাজার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি
ইএসওএইচআরের হিসাব অনুযায়ী, বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা দুই হাজারে পৌঁছেছে। সংস্থাটির দাবি, পূর্ববর্তী যেকোনো শাসনামলের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানেও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের আধিক্য, বিদেশি নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এবং বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা নিয়ে উদ্বেগ
ইএসওএইচআরের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। সংস্থাটি নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন এবং শিশু অধিকার সনদের অধীনে সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি তুলে ধরেছে।

মানবাধিকার সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তথ্যের অভাব, আইনি সহায়তা নিয়ে অভিযোগ এবং শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি—এসব বিষয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের এই পরিসংখ্যান সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, তাঁদের মামলার বিবরণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলাদা তথ্য ছাড়া বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সূত্র: ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস

কালের আলো/এসএ/জেএন