খুঁজুন
                               
, ,
           

বেসামরিক চাকরির নামে রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
বেসামরিক চাকরির নামে রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিরা

বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন, কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা বাংলাদেশিরা। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির আশায় রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশিকে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এপির প্রতিবেদনে রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা তিন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের একজন লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমান। মাকসুদুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা একদল বাংলাদেশি শ্রমিককে কিছু নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, নথিগুলো ছিল সামরিক চুক্তি। এরপর তাঁদের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ড্রোন পরিচালনা, আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান মাকসুদুর।

তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে সামরিক কাজে যোগ দিতে রাজি হননি। তখন এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে তাঁদের বলেন, ‘তোমাদের এজেন্টই এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনেছি।’ মাকসুদুর রহমানের অভিযোগ, সামরিক দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এবং তাঁর দলের অন্য কর্মীদের মারধর ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, রুশ সেনারা তাঁদের কাজ করতে চাপ দিতেন। কাজ করতে না চাইলে গালাগাল ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। প্রায় সাত মাস পর তিনি পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন। এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা অন্য দুই বাংলাদেশিও তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের রুশ বাহিনীর সম্মুখসারিতে এগিয়ে যেতে বলা হতো বলে অভিযোগ করেছেন সাক্ষাৎকারদাতারা। এ ছাড়া রসদ পরিবহন, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও তাঁদের করতে হতো বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল বলে বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে, নিখোঁজ আরও তিন বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশিকে এভাবে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাক্ষাৎকার দেওয়া তিন বাংলাদেশি এপিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁরা শত শত বাংলাদেশিকে দেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও একইভাবে যুদ্ধে যুক্ত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাঁদের কতজনকে প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

এপি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য তারা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশ প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি সংগ্রহ করেছে। এসব উপাদানের ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কীভাবে সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থাটি।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এপি। চাকরির আশায় বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের সামরিক কাজে যুক্ত করার এমন অভিযোগ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগদাতা, কাজের ধরন, চুক্তিপত্র এবং ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সরবরাহ করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই দলের এই লড়াই। ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। দলে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তাঁদের জায়গা করে দিতে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও পেসার এবাদত হোসেনকে।

একাদশে হৃদয় ও শরিফুল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে সমন্বয় রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাটিং বিভাগে নতুন সংযোজন হয়েছে। অন্যদিকে, শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণে বিকল্প যোগ করেছে।দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ভালো শুরু করতে চাইবে স্বাগতিকরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের একাদশ
বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, শাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলছেন জন ক্যাম্পবেল, ব্রেন্ডন কিং, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটরক্ষক), জাস্টিন গ্রিভস, রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), সামার জোসেফ, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিকান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। একই সঙ্গে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ
সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিপিএসএ। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগে অকারণ দ্বিধা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬ হামলা
বিবৃতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। সংগঠনটির ভাষ্য, পুলিশের ওপর হামলার এসব ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিপিএসএ মনে করে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে পুলিশ সদস্যরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের মধ্যে থেকেই দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে আইন অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন প্রয়োগে পেশাদার আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রয়োজন।

জননিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে তাঁদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি