খুঁজুন
                               
, ,
           

রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে আরও তিন বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে আরও তিন বছর

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সুবিধা পেয়েছে নেপালও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পেল দেশটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সময় বৃদ্ধি
এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিনের মাথায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সামনে থাকা গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, সাম্প্রতিক অভিঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের বিদ্যমান কাঠামোয় সাধারণত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জটিলতা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রাখে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বহিরাগত অভিঘাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেয় এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

সংস্কার ও অগ্রগতি জানাতে হবে জাতিসংঘকে
বর্ধিত প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিয়ে জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউএনসিডিপির কাছে নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের চিঠি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। পরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে
তিন বছর সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আপাতত বড় ধরনের শুল্কচাপের আশঙ্কা থেকে স্বস্তি পাবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকেরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মোট রপ্তানির ৭৩ শতাংশ এলডিসিভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় রয়েছে। উত্তরণের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রক্রিয়াটি মসৃণ করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছিল বাংলাদেশ
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করায় চলতি বছর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। ২০১৮ সালের পর জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উত্তরণের জন্য মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বা জিএনআইয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৭ ডলার। ওই সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার।

মানবসম্পদ সূচকের ন্যূনতম মান ছিল ৫৯ দশমিক ৬। সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭ দশমিক ৫। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের সীমা ছিল ৪০ দশমিক ৬, যেখানে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২১ দশমিক ৯। এর আগে ২০২১ সালের ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউএনসিডিপির দ্বিতীয় ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এরও আগে ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটি উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল।

উত্তরণের পরও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি দেশকে অন্তত দুটি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। তবে যোগ্যতা অর্জনের পরও পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় সেই অবস্থান ধরে রাখতে হয়। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ, যে তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে।

২০১৯ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার, যা জাতিসংঘের নির্ধারিত ১ হাজার ২২২ ডলারের সীমার চেয়ে বেশি। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৫ দশমিক ৩, যেখানে নির্ধারিত সীমা ছিল ৬৬। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭ দশমিক ৩, যা উত্তরণের জন্য নির্ধারিত ৩২-এর সীমার নিচে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য দুই বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

সব কটি মানদণ্ড পূরণ করলেও এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অর্জিত উন্নয়ন ধরে রাখা এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হচ্ছে। নতুন করে পাওয়া তিন বছরের সময় তাই শুধু উত্তরণ পেছানোর সুযোগ নয়, বরং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক দুর্বলতা কমানো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শীতের শুরুতেই সবজির বাজারে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
শীতের শুরুতেই সবজির বাজারে অস্বস্তি

রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। তবে নতুন সবজির সরবরাহ শুরু হলেও দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। বরং নতুন আলু কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় বাড়তি চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে থাকলেও কয়েকটি সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ। মুরগি ও ডিমের বাজারেও রয়েছে নির্ধারিত দাম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

নতুন সবজির দামেও স্বস্তি নেই
বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমের শুরুতে দাম বেশি থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে সবজিটি। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন জানান, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে। পরে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসতে পারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত সবজির দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু এবার বাজারে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সবজির দাম এখনো বেশ চড়া।

সবজি কিনতে আসা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, টেলিভিশনে দেখা যায়, কোথাও পাঁচ টাকা দিয়েও লাউ বিক্রি হচ্ছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই কেজিপ্রতি ১০০ টাকার আশপাশে। শীত এলেও এবার সবজির দাম কমার বদলে বাড়তি মনে হচ্ছে।

কোন সবজির দাম কত
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং পটোল ৬০ টাকায়। লম্বা বেগুনের দাম ১০০ টাকা এবং গোল বেগুনের দাম ১২০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং শিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ টমেটোর দাম ১২০ টাকা হলেও দেশি টমেটো কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজার
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন বাদামি ব্রয়লার ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়।

মাছের বাজারেও চড়া দাম
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে মাছের দামে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। প্রতি কেজি ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের দাম ১ হাজার টাকা কেজি। বড় আকারের চিংড়ি কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। আর সাগরের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

ইলিশের কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা
মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের তালিকায় রয়েছে ইলিশ। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, সাগরের মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। এসব মাছ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করা যায় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।

তবে ক্রেতা আজাদ রহমানের মতে, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম কিছুটা বেশি। যদিও দাম বেশি হলেও এখানে তুলনামূলক তরতাজা মাছ পাওয়া যায় বলে তিনি মনে করেন। সব মিলিয়ে শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও রাজধানীর বাজারে এখনো দাম কমার লক্ষণ নেই। সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম—প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য কিনতেই ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

দুই বছরে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত ৮ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
দুই বছরে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত ৮ শিশু

দেশে গত দুই বছরে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন আটজন। উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্তদের সবাই আট বছরের কম বয়সী শিশু। তাঁদের কয়েকজনের অসুস্থ পোলট্রির সংস্পর্শে আসার তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। এমনকি অসুস্থ পাখির সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উঠে এসেছে গবেষণায়। এর মধ্যে সম্প্রতি গৃহপালিত বিড়ালের শরীরেও এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পাখির পাশাপাশি অন্য প্রাণীর মধ্যেও ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) যৌথ আয়োজনে ‘অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড রিসার্চ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে ছিল অসুস্থ পোলট্রির সংস্পর্শ
সেমিনারে জানানো হয়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দেশে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত আটজন শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের কয়েকজনের অসুস্থ পোলট্রির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। পোলট্রি ও মানুষের নমুনায় একই ধরনের ভাইরাসের স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। গবেষকদের মতে, অসুস্থ পাখির সংস্পর্শে আসার বিষয়টি সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। বিশেষ করে শিশুদের পোলট্রি খামার, অসুস্থ পাখি এবং মৃত পাখির কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

শুধু শীতকালে নয়, বছরজুড়েই সংক্রমণের ঝুঁকি
গবেষকেরা জানান, দেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা শুধু শীত মৌসুমে সীমাবদ্ধ নয়। এপ্রিল, মে ও আগস্ট মাসেও সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর নজরদারি ও সতর্কতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

সেমিনারে উপস্থাপিত নজরদারির তথ্য অনুযায়ী, জীবন্ত পাখির বাজার থেকে সংগ্রহ করা মৃত পোলট্রির নমুনার ৬১ শতাংশে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস এবং ৪৯ শতাংশে এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পোলট্রি খামার ও জীবন্ত পাখির বাজারে জীবাণুনিরাপত্তা জোরদার, অসুস্থ ও মৃত পাখি দ্রুত শনাক্ত এবং মৃত পাখির নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিড়ালের শরীরে ভাইরাস শনাক্তে নতুন উদ্বেগ
গৃহপালিত বিড়ালের মধ্যে এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি সেমিনারে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা ভাইরাসটি পাখির বাইরেও অন্য প্রাণী প্রজাতিতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এনেছে। এ কারণে শুধু পোলট্রি নয়, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেও সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নজরদারি ও গবেষণা জোরদারের আহ্বান
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। তিনি অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় নজরদারি ও গবেষণা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইসিডিডিআর,বির ওয়ান হেলথ রিসার্চ ইউনিটের বিজ্ঞানী ও টিম লিড ডা. সুকান্ত চৌধুরী পোলট্রি ও মানুষের মধ্যে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির ইনফ্লুয়েঞ্জা রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. মার্থা মন্টগোমারি বিশ্বব্যাপী বার্ড ফ্লুর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

আইসিডিডিআর,বির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট ডা. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিডিআইএলের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মো. গোলাম আজম চৌধুরী গৃহপালিত বিড়ালের মধ্যে এইচ৫এন১ শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
প্যানেল আলোচনায় অধ্যাপক ডা. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ, ডা. এ এস এম আলমগীর এবং অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম ভাইরাসের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তকরণ, তথ্য বিনিময় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তুতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির ডা. মুহাম্মদ মনোয়ার মোরশেদ সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষজ্ঞরা বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁদের মতে, নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তকরণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে ভাইরাসের বিস্তার মোকাবিলা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও কার্যকর হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে বন্ধুর জবানিতে নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে বন্ধুর জবানিতে নতুন তথ্য

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, কয়েকজনের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে দ্বীপের দেওয়া এই বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। এদিকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আবু ইউসুফ জানান, মোটরসাইকেলটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার দাবি দ্বীপের
পিবিআইয়ের একজন পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় কিছু লোক তাঁদের ধাওয়া করে। তখন তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে যান। দ্বীপের কাছ থেকে পাওয়া এ বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এখন পর্যন্ত তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

মোটরসাইকেল নিয়ে চলছে তদন্ত
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। পরে সেটি রাজধানীর উত্তরখান থানায় নেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মূল মামলার তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। তদন্তে নৌ পুলিশকে সহযোগিতা করছে পিবিআই।

মাদক কারবারিদের ধাওয়ার ধারণা পুলিশের
পিবিআই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকার স্থানটি মাদক কেনাবেচার স্পট হিসেবে পরিচিত। তাঁদের ধারণা, মাদক কারবারিদের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে পড়ে ডুবে যেতে পারেন। তবে এটি এখনো তদন্তসংশ্লিষ্টদের একটি প্রাথমিক ধারণা; ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হতে অনুসন্ধান চলছে।

দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’—মাকে এ কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় দ্বীপের সঙ্গে বের হন তাহসিফ
সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দ্বীপ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার নিচের গ্যারেজে আসেন। সেখানে মোটরসাইকেলে হেলমেট রাখার পর নিজের পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ বাসা থেকে নেমে গ্যারেজে আসেন। সেখানে দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তাঁদের দুটি মোটরসাইকেলে করে ওই স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময় কী ঘটেছিল এবং দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি