খুঁজুন
                               
, ,
           

ডিজিটাল বাংলাদেশে চারুকলায় কম্পিউটার গ্রাফিক্সের গুরুত্ব অপরিহার্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
ডিজিটাল বাংলাদেশে চারুকলায় কম্পিউটার গ্রাফিক্সের গুরুত্ব অপরিহার্য

নজরুল ইসলাম তোফা||

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম বলা চলে। দেখা যায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেনি সেই হারে। মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটেছে। সেই সাথে রুচিবোধের পাশা পাশি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচারের চর্চাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন এদেশের সরকার বৃহৎ একটি স্বপ্ন আর আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাজ পরিচালিত করছে। বাংলাদেশের এমন এই সরকার বিরাট এক পরিবর্তন এবং ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক একটি প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শেখ হাসিনা ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন। সুতরাং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার।

আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগ মতে বলা যায়, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে তাদেরই নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল যে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি উন্নত দেশ হবে, সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল সমাজ হবে, এমন ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠীরাই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে, রূপান্তরিত উৎপাদন ব্যবস্থাও চালু হবে, নতুন নতুন জ্ঞানভিত্তিক সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির সমন্বয়েই এক জ্ঞানভিত্তিক সমাজের স্বপ্নে বিভর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুতরাং তাদের প্রধান এই বিষয়ের কাজও ত্বরান্বিত হচ্ছে। আসলেই এমন এই উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়েই বাংলার জনগোষ্ঠীকে উপহার দেওয়া খুব প্রয়োজন বৈকি। আমাদের দামাল ছেলেরা অনেক রক্ত দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকের এ বাংলাদেশ পেয়ে আজ আমরা তিল তিল করেই দাঁড়াতে শিখছি। তাই এদেশের নতুন প্রজন্মের সোনার ছেলেরা হাতের নাগালে পাবে আধুনিক ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ ও সমৃদ্ধশালী নতুন জীবন। ডিজিটাল বাংলাদেশ সেই স্বপ্ন এবং লক্ষ্য পূরণ করবে তা আমার অনুধাবন করতে পারি।

‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’ ২০০৯ সালের ১৭ থেকে ১২ নভেম্বরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট” নামক এ বিষয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। সুতরাং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ রেখায় কম্পিউটার গ্রাফিক্সের গুরুত্ব ও তার যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আসা উচিত ছিল। বলতেই হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে চারুকলা কলেজ খোলার প্রয়োজনীয়তা সরকার অনুভব করছে তা শিকার করে নিতেই হয়। কিন্তু এমন এই প্রয়োজনীয়তার পাশা পাশি দেখা যায় শিক্ষালয়ে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার এবং সংযোজন ঘটানোর কোনই উদ্যোগ শুরু হয়নি। লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, উন্নতিশীল সারা বিশ্বে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার করে তাঁরা অনেক অর্থ উপার্জন করছে। এমন এই উদ্যোগের মাধ্যমেই ডিজিটাল বাংলাদেশকে আর এক ধাপ উন্নয়নের সহযোগিতা করতে পারবে বলে মনে করি। সুতরাং শিক্ষাঙ্গনে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রয়োজন রয়েছে এবং পাঠদানের জন্যে পাঠ্য সিলেবাসেরও দরকার আছে। এমন এ আশু প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার গ্রাফিক্স বিষয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ দেখিয়ে থাকে। সুতরাং বলা যায়, ডিজিটাল বাংলাদেশের সামাজিক চাহিদা ও বাধা অনেকাংশে কমে যাবে। তাই এক সময় দেখা যাবে, কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথকে আরও প্রসারিত করবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্হানরত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারুকলা বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তিও হচ্ছে। তাদের এমন এই প্রয়োজনীয়তায় চারুকলায় সঠিক ভাবে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহার হচ্ছে না। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে একটি জাতিকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আসলে বলাই যায় যে, একটি জাতি কতটুকু উন্নত হলো, যদি তাদের থাকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শৈল্পিক চেতনা।

বাংলাদেশের চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা দেরিতে হলেও প্রায় সত্তর বছর হতে চলেছে। সুতরাং দেশ স্বাধীনের পর চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ব্যাপক প্রসার হলেও তথ্যপ্রযুক্তি যুগে এসে যেন এশিক্ষায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে পিছিয়ে। চারুকলা চর্চার প্রয়োজনীয়তা লক্ষনীয়ভাবে বৃদ্ধি করতে পারলে অবশ্যই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার একটি ধাপ অগ্রসর হবে। প্রচলিত শিক্ষা এবং সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে না পারলেই ভবিষ্যতে কর্ম সংস্থান নিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে। এমন কথাগুলো বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এমন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আরও বলেছেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকার তৈরির কারখানা। আসলেই তো, এমন প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে প্রকৃত অর্থে সামনের দিন গুলোতে আমাদের সন্তানদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হবে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষক সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের চারুকলা শিক্ষায় কম্পিউটার গ্রাফিক্স সমন্বয় ঘটিয়ে এবং পাঠদানের জন্যে সিলেবাসের অনুমোদন আশু প্রয়োজন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী ‘সঠিক সময়েই’ মোস্তাফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। হয়তো বা তাঁর চৌকস ও সুদক্ষ তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের আলোকেই গড়ে উঠবে ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।

 

লেখক: টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় ১০-১২ গ্রাম

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় ১০-১২ গ্রাম

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ নদী-খালের দিকে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াপদা সড়কের একটি অংশও ভেঙে যাওয়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর ৩টার দিকে কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ধসে নদী-খালের দিকে চলে যায়। বাঁধের আরও কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা শুরু করেন। বাঁধের দুর্বল অংশে বস্তা ফেলা ও মাটি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সারা বছরই তাদের নদীর সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হয়। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ফসল ও মৎস্যঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

আরেক বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সকাল থেকে স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করছেন। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত না করা হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে মাটি ও বালি ফেলার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পুরো অংশ পরীক্ষা করে স্থায়ী প্রতিরোধকাজ করতে হবে।

এদিকে ভাঙনস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া ওয়াপদা সড়কের একটি অংশও ধসে পড়েছে। ফলে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন বাড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তারা রওনা হয়েছেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাময়িকভাবে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানো হলেও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের দুর্বল অংশ আবারও ধসে পড়তে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বড় ধরনের জনপদ ও সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চা চাষ

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চায়ে বদলাচ্ছে জীবন

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চায়ে বদলাচ্ছে জীবন

একসময় যে জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত, সেসব জমিতেই এখন দুলছে চায়ের সবুজ পাতা। ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বিশেষ করে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদন স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত চা জেলার চা-শিল্পে নতুন মান তৈরি করেছে। বালিয়াডাঙ্গীর ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ২৫ একরের চা বাগানে শতভাগ অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদন হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এ বাগানে চা পাতার মানও ভালো।

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ফিল্ড অফিসার জুয়েল রানা জানান, বাগানটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। কাজের সুযোগ পেয়ে স্থানীয় অনেক নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে।

বাগানের শ্রমিক নাজেরা বেগম, দিনোবালা ও ফাতেমা বেগম জানান, আগে কাজের সংকট থাকলেও বর্তমানে চা বাগানে কাজ করে তারা দৈনিক ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এতে তারা নিজেদের সংসারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

চা বোর্ডের নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ৬৫৮ জন চাষি বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের সঙ্গে যুক্ত। জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলায় প্রায় ৫৯০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গীর ভান্ডারদহ গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে চা চাষ করে প্রতি ৪০ দিন পরপর ২০০ কেজির বেশি চা পাতা সংগ্রহ করছেন। বছরের সাত মাসে এ জমি থেকে তার আয় হচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। একইভাবে মরিচপাড়া গ্রামের জগদীশ রায় ও পাটিয়াডাঙ্গী গ্রামের আহসান উল্লাহ মেহেদির মতো ক্ষুদ্র চাষিরাও চা চাষে লাভের মুখ দেখছেন।

চাষিদের ভাষ্য, আগে চা কারখানার মালিকরা ইচ্ছামতো দামে পাতা কিনলেও বর্তমানে তুলনামূলক ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অর্গানিক চাষ পদ্ধতি জেলার কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ইনচার্জ কৃষিবিদ আমির হোসেন জানান, চা চাষের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি সিলেটের চেয়েও বেশি উপযোগী। এখানে দ্রুত বর্ধনশীল ভারতের বিটি-২, টিভি-২৩ ও টিভি-২৪ জাতের চা চাষ করা হয়। তবে সিলেটের মতো হাতে পাতা না তুলে কাস্তে দিয়ে পাতা সংগ্রহ করায় নতুন কুঁড়ি আসতে সময় লাগে। এতে কিছুটা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

পতিত জমিতে চা চাষের বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্গানিক উৎপাদনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী জনপদে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চা পাতার সবুজে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ ও রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ায় আগামী অক্টোবর থেকে এ বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে টার্মিনালের পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন টার্মিনালটির আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ৪৫০ আসনের প্রস্থান লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, আগমন লাউঞ্জ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, কনভেয়ার বেল্টসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত চেক-ইন কাউন্টার ও বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত ও সমাধানের সুযোগ থাকবে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়েও প্রস্তুত করা হয়েছে। সমুদ্রের দিকে রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের ফলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। রানওয়ের অ্যাসফল্ট ওভারলে, লাইটিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমন্বয়ক এম মোশাররফ হোসেন বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর এখন প্রস্তুত।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও (বেবিচক) অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালু করা হবে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাকে কক্সবাজারের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়বে। এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়তে পাবেবিচক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় টার্মিনাল নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। এখন অক্টোবরের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষায় পর্যটননগরী কক্সবাজার।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি