খুঁজুন
                               
, ,
           

বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র আর লাল-সবুজের পতাকা-সবকিছুই এক সুতোয় গেঁথে ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বর ভূ-গোলকে লেখা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনকারী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের বৃহস্পতিবারের (১৬ ডিসেম্বর) কুচকাওয়াজ।

বিজয়ের রঙিন আবহে মাতৃভূমির সুবর্ণজয়ন্তী ও জনকের জন্মশতবার্ষিকী- এ দু’য়ের আনন্দে পূব আকাশে উদিত রবির কিরণে এবারের সম্মিলিত কুচকাওয়াজকে বিশেষ বৈচিত্র্যময় ও মহিমান্বিত অবয়বে ফুটিয়ে তোলার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

দেশের মানুষের আশা-ভরসার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর-একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তান বলেই কীনা তাঁর মানষপটে সদা জাগ্রত স্বাধীনতার গৌরবগাথা আন্দোলন-সংগ্রামের স্পিরিট, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিজয় ইতিহাসের নির্মাতা, ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধুর অবিনশ্বর চেতনা ও মৃত্যুঞ্জয়ী আদর্শ।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শেষ মুহুর্তের প্যারেড প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সঙ্গে গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির জায়গা থেকে দৃঢ়কন্ঠে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেছিলেন, ‘এই শুভক্ষণ আর আসবে না। এটি ইতিহাসে একবারই এসেছে একবারই এটা থাকবে। এই প্যারেডটাকে যতটা সুন্দর এবং কালারফুল করা সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি। যাতে করে এই উৎসবের উদযাপনটি ইতিহাসের গুরুত্বের সঙ্গে মানানসই হয়।’

বাস্তবিক অর্থেই কথার সঙ্গে নিজেদের কাজের মিল রেখেছেন সেনাপ্রধান। রক্তনদী পেরিয়ে জন্ম নেওয়া শৃঙ্খলমুক্ত, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছরের পূর্তির দিনের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের এবারের কুচকাওয়াজে উঠে এসেছে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বিশ্বের বিস্ময় অদম্য এক বাংলাদেশের বর্ণিল চিত্র।

বাঙালির যুদ্ধজয়ের উচ্ছ্বাস আর আত্নপরিচয় পাওয়ার সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনটিতে স্থলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দৃপ্ত পদভারে মুখর ছিল রীতিমতো। বারবারই যেন মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল পিতা মুজিবের সেই অমর বাণী- বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

আকাশ থেকে নেমে আসা দু:সাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প, অপারেশনের অ্যাকশন কিংবা অত্যাধুনিক সামরিক বিমানের সক্ষমতার নজির স্থাপন করে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মিলিয়ে যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ ছিল রীতিমতো মনোমুগ্ধকর। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) নজরকাড়া এই আয়োজনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সঙ্গী হয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বিমুগ্ধ বিস্ময়ে তাঁরা উপভোগ করেন জাঁকালো এই আয়োজন।

পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে পুরো জাতি যার নেতৃত্বে পেয়েছে স্বাধীন দেশ, একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, বিভিন্ন কবির অসংখ্য কবিতার পঙতিতে উঠে আসা সেই ধন্য পুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশালাকৃতির ম্যুরাল ছিল কুচকাওয়ারেজ পুরোভাগেই। ছিল সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি ও জাতির সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সুসজ্জিত বাহন।

এবারই প্রথম ভারত, ভূটান, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভারত, ভূটান ও রাশিয়ার কন্টিনজেন্ট অংশ নিয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দৃষ্টি কাড়ে ভুটানের ৩৫ সদস্যের কনটিনজেন্ট।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সবার আগে স্বীকৃতি দেওয়া ভুটান এদিন বিদেশী কনটিনজেন্টের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদকে সালাম জানায়। সবচেয়ে বেশি ভারতের ১২২ সদস্যের কনটিনজেন্টের বাদক দল যেন ছড়িয়ে দেয় ৫০ বছরের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের বার্তা। আপদে-বিপদে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকারই যেন জানান দিয়েছে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র রাশিয়া।

বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের অধিনায়ক ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি আদায়কারী বাংলাদেশের আদ্যোপান্তও উঠে আসে এই বর্ণিল আয়োজনে।

বাংলার মাটি দুর্জয়, নিজেদের সামরিক সক্ষমতায় এই বিষয়টি এদিন জানিয়ে দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী।
সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ও যান্ত্রিক বহরে নিত্য নতুন সংযোজন, মিসাইল, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান বাহিনীর মিগ-২৯সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান আর আধুনিক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী ছিল অনন্য।

প্রকৃত অর্থেই জাঁকজমক এক প্যারেডই উপহার দিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলশ্রুতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদের প্যারেড প্রস্তুতির সেই বক্তব্যও বিজয়ের ৫০ ছোঁয়ার আনন্দে বিভোর দেশের মানুষের কাছে হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ণ এক উপজীব্য।

সব সময় ‘টিম ওয়ার্ক’ এ বিশ্বাসী সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনামূলক সেই বার্তা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টদের আরও অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করে তোলে। বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুরন্ত-অদম্য বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা উপস্থাপিত হয়েছে চমৎকারিত্বের মধ্যে দিয়েই। রাষ্ট্রপতির পাশে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তাই সম্ভবত ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের ৬ মাসের মাথায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক উদযাপনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই দেখিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্থ-বাণিজ্যের সব সূচকে তাক লাগিয়ে দেওয়া, দুর্বার গতিতে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা, সামরিক সক্ষমতায় শক্তপোক্ত এক বাংলাদেশকে। পাশাপাশি সম্মিলিত এই কুচকাওয়াজ যেন বিজয়ের মহত্বে দেশের সব মানুষকে একাত্ম করলো স্বয়ংসম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার এক অভিন্ন মনষ্কামে।

কালের আলো/এমএএএমকে

কদমতলীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে নারী শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
কদমতলীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে নারী শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীর কদমতলীতে নির্মাণাধীন ভবনের ৫তলা থেকে পড়ে জোসনা বেগম (৩৫) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কদমতলী শনিরআখড়া ২৪ ফুট রাস্তা সাফা টাওয়ার নির্মাণাধীন ভবনে ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সহকর্মীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক আড়াইটার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে জোসনা বেগমের সহকর্মী মো. ইউনুস আলী জানান, জোসনা নির্মানাধীন ভবনের ময়লা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করতো। সকাল থেকে ময়লা পরিস্কারের কাজ করছিল সে। এসময় অসাবধানতাবশত ৫তলার লিফটের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় জোসনা। এরপর তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জোসনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, জোসনা বেগমের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন শান্তিপুর গ্রামে। বর্তমানে স্বামী মধু মিয়ার সঙ্গে শনিরআখড়া গোবিন্দপুর এলাকায় ধাকতো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কদমতলি থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নজরুলের পৌরুষ শুধু বীরত্ব নয়, এর গভীরে ছিল অভিমান, প্রেম ও আত্মদান

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
নজরুলের পৌরুষ শুধু বীরত্ব নয়, এর গভীরে ছিল অভিমান, প্রেম ও আত্মদান

কাজী নজরুল ইসলামের পৌরুষকে শুধু বীরত্ব বা শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। তাঁর পৌরুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল অভিমান, প্রেম, বিপন্নতা, আত্মদান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। উপনিবেশ, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ে এই বহুমাত্রিক পৌরুষই ভিন্ন এক চরিত্র তৈরি করেছিল।

বুদ্ধদেব বসুর চোখে নজরুল ছিলেন বলিষ্ঠ শরীরের পাশাপাশি অফুরান আনন্দে ভরপুর এক ‘মনোলুণ্ঠনকারী’ মানুষ। তাঁর শারীরিক উপস্থিতির মতো সাহিত্যেও ছিল প্রবল প্রাণশক্তি। প্রচলিত ভদ্রলোকসুলভ পৌরুষের বদলে নজরুলের লেখায় দেখা যায় এমন এক সত্তা, যে পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ধারণ করে এবং নতুন সময়ের অনুভবকে ভাষা দিতে চায়।

অভিমানী পৌরুষ

নজরুলের পৌরুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল অভিমান। তিনি নিজেই নিজেকে ‘অতিরিক্ত অভিমানী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই অভিমান কেবল অহমিকা নয়; এর মধ্যে ছিল ভালোবাসা, নৈকট্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রিয়জনের প্রতি অভিমান যেমন দূরত্ব তৈরি করে, তেমনি সেই দূরত্ব ভেঙে আবার কাছে আসার আকাঙ্ক্ষাও বহন করে।

এই জায়গাতেই নজরুলের পৌরুষ প্রচলিত কঠোর পুরুষত্বের ধারণা থেকে আলাদা। তাঁর পৌরুষ ছিল অনুভবপ্রবণ, শরীরী, রক্তাক্ত ও আবেগময়। তাঁর লেখায় রক্ত, অশ্রু, প্রেম, বেদনা ও আকাঙ্ক্ষা একই সঙ্গে উপস্থিত। ফলে তাঁর বীরত্বের সঙ্গে বিপন্নতাও পাশাপাশি অবস্থান করেছে।

তবে এই অনুভবপ্রবণতা তাঁকে ভীরু করেনি। বরং তাঁর পৌরুষ ছিল বীরত্বব্যঞ্জক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন যোদ্ধার মতো—শুধু সৈনিকের মতো নিয়ম মেনে চলা নয়, প্রয়োজন হলে প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া ছিল তাঁর চরিত্রের অংশ।

বীরত্বের কেন্দ্রে আত্মদান

নজরুলের বীরত্ব ছিল দখল বা আধিপত্যের বীরত্ব নয়। এর কেন্দ্রে ছিল আত্মদান। জুলুম ও উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যে শক্তির প্রয়োজন, নজরুল সেই শক্তির সাধনার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে পৌরুষ মানে ছিল নিজের স্বার্থ রক্ষা কিংবা অন্যকে দমন করা নয়; বরং বৃহত্তর মুক্তির জন্য নিজের শক্তি ও প্রাণশক্তি উৎসর্গ করা।

এই কারণেই নজরুলের পৌরুষকে আগ্রাসী পুরুষত্বের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। প্রেমের ক্ষেত্রেও তিনি জবরদখল বা জোর করে অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কাছে প্রেম মানে প্রিয় মানুষকে নিজের সম্পত্তি করে রাখা নয়।

জাতপাত ও পরিচয়ের দেয়াল ভাঙা

নজরুলের বিদ্রোহ শুধু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতপাত, ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক পরিচয়ের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধেও তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

তিনি নিজের পরিচয়কে অস্বীকার না করেও পরিচয়বাদী বিভাজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জাতপাতের কাঠামো মানুষকে যে কৃত্রিম শ্রেণিতে ভাগ করে, নজরুল সেই কাঠামোকেই প্রশ্ন করেছেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষের পরিচয় ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা তাঁর সাহিত্যকর্মে বারবার দেখা যায়।

‘সাম্যবাদী’ ও ‘সর্বহারা’র মতো রচনায় চণ্ডাল, কুলি-মজুর, মাঝি, কৃষক, ধীবর, চোর-ডাকাত ও সমাজের অন্যান্য প্রান্তিক মানুষের কথা উঠে এসেছে। হিন্দু-মুসলমানের বিভাজন অতিক্রম করে নতুন সামাজিক সম্পর্ক তৈরির আকাঙ্ক্ষাও ছিল তাঁর চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নারী-পুরুষের সমতা, নারীর উচ্চশিক্ষার অধিকার, নারী সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন এবং অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধেও নজরুলের অবস্থান ছিল প্রগতিশীল। ফলে তাঁর বিদ্রোহ ছিল বহুমাত্রিক—রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক।

‘পুরুষকারই আসল জিনিস’

নজরুলের চিন্তায় জন্মপরিচয়ের চেয়ে মানুষের নিজস্ব কর্ম ও সক্ষমতার গুরুত্ব বেশি। তিনি মনে করতেন, বংশ বা জাতিগত পরিচয় মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। নিজের কর্ম ও মনুষ্যত্বের ওপর দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ভাবনাই তাঁর পৌরুষের একটি মৌলিক দিককে সামনে আনে—জন্ম নয়, পুরুষকার। অর্থাৎ মানুষের পরিচয়ের চূড়ান্ত ভিত্তি তার কাজ, সাহস ও মনুষ্যত্ব।

নেতৃত্বের মহিমাকেও প্রশ্ন

নজরুল প্রচলিত ক্ষমতা ও নেতৃত্বের অন্ধ আনুগত্যও মেনে নেননি। তরুণদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ ও অনুভূমিক। তিনি নিজেই ‘নেতা হওয়ার লোভ’ থেকে দূরে থাকার কথা বলেছেন।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ শ্রদ্ধার বদলে নিজের বোধ দিয়ে সত্যকে যাচাই করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিদ্রোহ মানে কাউকে না-মানা নয়; বরং যা বোঝা যায় না, সেটিকে মাথা উঁচু করে ‘বুঝি না’ বলতে পারাও বিদ্রোহের অংশ।

প্রযুক্তি ও আধুনিকতার অন্ধ উচ্ছ্বাসও নয়

নজরুলকে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবে দেখলে তাঁর আধুনিকতা-বিষয়ক সংশয়ও চোখ এড়িয়ে যায়। বৈদ্যুতিক ও শিল্পযুগের সম্ভাবনা যেমন তিনি অনুভব করেছিলেন, তেমনি প্রযুক্তির কারণে শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের ওপর তৈরি হওয়া নতুন ধরনের শোষণও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।

রেল, স্টিমার, বিদ্যুৎ, কলকারখানা মানুষের আরাম বাড়ালেও শিল্পায়নের প্রতিযোগিতায় বহু শ্রমজীবী মানুষ তাদের পেশা হারাচ্ছে—নজরুল তাঁর লেখায় এই সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। এই কারণে তাঁর চিন্তায় আধুনিকতা ছিল না অন্ধ প্রযুক্তিপূজা; বরং মানুষের জীবনে প্রযুক্তির প্রভাবকে প্রশ্ন করার প্রবণতাও ছিল।

শেষ পর্যন্ত মানুষের মুক্তিই লক্ষ্য

জীবনের শেষ অভিভাষণেও নজরুল তাঁর মূল আকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্ট করে গেছেন—হিন্দু-মুসলমানের সংঘাত, জাতিগত বিদ্বেষ, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা। তাঁর নিজের ভাষায়, এই অসাম্য ও ভেদজ্ঞান দূর করতেই তিনি এসেছিলেন।

তাই নজরুলের পৌরুষকে কেবল শক্তি, বীরত্ব কিংবা কর্তৃত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর পৌরুষের ভেতরে ছিল অভিমানী প্রেমিক, বিপন্ন মানুষ, বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং আত্মদানকারী সত্তা—যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়, কিন্তু অন্যকে দখল করে নিজের শক্তি প্রমাণ করতে চায় না।

নজরুলের স্বতন্ত্রতা সম্ভবত এখানেই—তিনি পরিচয়ের অলংকার গ্রহণ করেছেন, কিন্তু পরিচয়ের খাঁচায় নিজেকে বন্দী করেননি; বিদ্রোহ করেছেন, কিন্তু বিদ্রোহকে নিছক ধ্বংসে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর পৌরুষের কেন্দ্রে ছিল মানুষের মুক্তি, মর্যাদা ও বেঁচে থাকার অধিকার।

কালের আলো/এসএ

ঢাকা কর অঞ্চল-১ এ ৩৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা কর অঞ্চল-১ এ ৩৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকা কর অঞ্চল-১ জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ৩৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একজন প্রার্থী একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন না। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন পদে কত নিয়োগ

১. কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ১টি
গ্রেড: ১৩
বেতন স্কেল: ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা।

২. সাঁট লিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ৪টি
গ্রেড: ১৩
বেতন স্কেল: ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা।

৩. উচ্চমান সহকারী
পদসংখ্যা: ৮টি
গ্রেড: ১৪
বেতন স্কেল: ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা।

৪. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ১০টি
গ্রেড: ১৪
বেতন স্কেল: ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা।

৫. অফিস সহকারী কাম অফিস কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
পদসংখ্যা: ৬টি
গ্রেড: ১৬
বেতন স্কেল: ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা।

৬. গাড়িচালক
পদসংখ্যা: ১টি
গ্রেড: ১৬
বেতন স্কেল: ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা।

৭. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ৪টি
গ্রেড: ২০
বেতন স্কেল: ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা।

সব মিলিয়ে সাতটি পদে ৩৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যেভাবে আবেদন

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে ঢাকা কর অঞ্চল-১-এর নির্ধারিত টেলিটক ওয়েবসাইটে।

আবেদনের ওয়েবসাইট: tax1.teletalk.com.bd

আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পদভেদে। ১ থেকে ৬ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১১২ টাকা এবং ৭ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সূচি

অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা।

প্রার্থীদের আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, অভিজ্ঞতা, কোটাসহ অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদন শুরু: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ সময়: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইন
আবেদন ওয়েবসাইট: tax1.teletalk.com.bd

কালের আলো/এসএ