খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র আর লাল-সবুজের পতাকা-সবকিছুই এক সুতোয় গেঁথে ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বর ভূ-গোলকে লেখা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনকারী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের বৃহস্পতিবারের (১৬ ডিসেম্বর) কুচকাওয়াজ।

বিজয়ের রঙিন আবহে মাতৃভূমির সুবর্ণজয়ন্তী ও জনকের জন্মশতবার্ষিকী- এ দু’য়ের আনন্দে পূব আকাশে উদিত রবির কিরণে এবারের সম্মিলিত কুচকাওয়াজকে বিশেষ বৈচিত্র্যময় ও মহিমান্বিত অবয়বে ফুটিয়ে তোলার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

দেশের মানুষের আশা-ভরসার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর-একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তান বলেই কীনা তাঁর মানষপটে সদা জাগ্রত স্বাধীনতার গৌরবগাথা আন্দোলন-সংগ্রামের স্পিরিট, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিজয় ইতিহাসের নির্মাতা, ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধুর অবিনশ্বর চেতনা ও মৃত্যুঞ্জয়ী আদর্শ।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শেষ মুহুর্তের প্যারেড প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সঙ্গে গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির জায়গা থেকে দৃঢ়কন্ঠে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেছিলেন, ‘এই শুভক্ষণ আর আসবে না। এটি ইতিহাসে একবারই এসেছে একবারই এটা থাকবে। এই প্যারেডটাকে যতটা সুন্দর এবং কালারফুল করা সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি। যাতে করে এই উৎসবের উদযাপনটি ইতিহাসের গুরুত্বের সঙ্গে মানানসই হয়।’

বাস্তবিক অর্থেই কথার সঙ্গে নিজেদের কাজের মিল রেখেছেন সেনাপ্রধান। রক্তনদী পেরিয়ে জন্ম নেওয়া শৃঙ্খলমুক্ত, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছরের পূর্তির দিনের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের এবারের কুচকাওয়াজে উঠে এসেছে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বিশ্বের বিস্ময় অদম্য এক বাংলাদেশের বর্ণিল চিত্র।

বাঙালির যুদ্ধজয়ের উচ্ছ্বাস আর আত্নপরিচয় পাওয়ার সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনটিতে স্থলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দৃপ্ত পদভারে মুখর ছিল রীতিমতো। বারবারই যেন মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল পিতা মুজিবের সেই অমর বাণী- বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

আকাশ থেকে নেমে আসা দু:সাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প, অপারেশনের অ্যাকশন কিংবা অত্যাধুনিক সামরিক বিমানের সক্ষমতার নজির স্থাপন করে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মিলিয়ে যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ ছিল রীতিমতো মনোমুগ্ধকর। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) নজরকাড়া এই আয়োজনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সঙ্গী হয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বিমুগ্ধ বিস্ময়ে তাঁরা উপভোগ করেন জাঁকালো এই আয়োজন।

পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে পুরো জাতি যার নেতৃত্বে পেয়েছে স্বাধীন দেশ, একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, বিভিন্ন কবির অসংখ্য কবিতার পঙতিতে উঠে আসা সেই ধন্য পুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশালাকৃতির ম্যুরাল ছিল কুচকাওয়ারেজ পুরোভাগেই। ছিল সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি ও জাতির সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সুসজ্জিত বাহন।

এবারই প্রথম ভারত, ভূটান, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভারত, ভূটান ও রাশিয়ার কন্টিনজেন্ট অংশ নিয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দৃষ্টি কাড়ে ভুটানের ৩৫ সদস্যের কনটিনজেন্ট।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সবার আগে স্বীকৃতি দেওয়া ভুটান এদিন বিদেশী কনটিনজেন্টের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদকে সালাম জানায়। সবচেয়ে বেশি ভারতের ১২২ সদস্যের কনটিনজেন্টের বাদক দল যেন ছড়িয়ে দেয় ৫০ বছরের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের বার্তা। আপদে-বিপদে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকারই যেন জানান দিয়েছে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র রাশিয়া।

বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের অধিনায়ক ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি আদায়কারী বাংলাদেশের আদ্যোপান্তও উঠে আসে এই বর্ণিল আয়োজনে।

বাংলার মাটি দুর্জয়, নিজেদের সামরিক সক্ষমতায় এই বিষয়টি এদিন জানিয়ে দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী।
সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ও যান্ত্রিক বহরে নিত্য নতুন সংযোজন, মিসাইল, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান বাহিনীর মিগ-২৯সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান আর আধুনিক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী ছিল অনন্য।

প্রকৃত অর্থেই জাঁকজমক এক প্যারেডই উপহার দিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলশ্রুতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদের প্যারেড প্রস্তুতির সেই বক্তব্যও বিজয়ের ৫০ ছোঁয়ার আনন্দে বিভোর দেশের মানুষের কাছে হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ণ এক উপজীব্য।

সব সময় ‘টিম ওয়ার্ক’ এ বিশ্বাসী সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনামূলক সেই বার্তা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টদের আরও অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করে তোলে। বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুরন্ত-অদম্য বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা উপস্থাপিত হয়েছে চমৎকারিত্বের মধ্যে দিয়েই। রাষ্ট্রপতির পাশে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তাই সম্ভবত ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের ৬ মাসের মাথায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক উদযাপনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই দেখিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্থ-বাণিজ্যের সব সূচকে তাক লাগিয়ে দেওয়া, দুর্বার গতিতে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা, সামরিক সক্ষমতায় শক্তপোক্ত এক বাংলাদেশকে। পাশাপাশি সম্মিলিত এই কুচকাওয়াজ যেন বিজয়ের মহত্বে দেশের সব মানুষকে একাত্ম করলো স্বয়ংসম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার এক অভিন্ন মনষ্কামে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সাত দিনের অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া ও ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, তিনটি বালুমহাল, তিনটি মাদক, তিনটি চাঁদাবাজি, দুটি ডাকাতি, একটি চুরি এবং চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এসএকে