খুঁজুন
                               
, ,
           

বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র আর লাল-সবুজের পতাকা-সবকিছুই এক সুতোয় গেঁথে ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বর ভূ-গোলকে লেখা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনকারী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের বৃহস্পতিবারের (১৬ ডিসেম্বর) কুচকাওয়াজ।

বিজয়ের রঙিন আবহে মাতৃভূমির সুবর্ণজয়ন্তী ও জনকের জন্মশতবার্ষিকী- এ দু’য়ের আনন্দে পূব আকাশে উদিত রবির কিরণে এবারের সম্মিলিত কুচকাওয়াজকে বিশেষ বৈচিত্র্যময় ও মহিমান্বিত অবয়বে ফুটিয়ে তোলার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

দেশের মানুষের আশা-ভরসার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর-একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তান বলেই কীনা তাঁর মানষপটে সদা জাগ্রত স্বাধীনতার গৌরবগাথা আন্দোলন-সংগ্রামের স্পিরিট, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিজয় ইতিহাসের নির্মাতা, ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধুর অবিনশ্বর চেতনা ও মৃত্যুঞ্জয়ী আদর্শ।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শেষ মুহুর্তের প্যারেড প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সঙ্গে গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির জায়গা থেকে দৃঢ়কন্ঠে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেছিলেন, ‘এই শুভক্ষণ আর আসবে না। এটি ইতিহাসে একবারই এসেছে একবারই এটা থাকবে। এই প্যারেডটাকে যতটা সুন্দর এবং কালারফুল করা সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি। যাতে করে এই উৎসবের উদযাপনটি ইতিহাসের গুরুত্বের সঙ্গে মানানসই হয়।’

বাস্তবিক অর্থেই কথার সঙ্গে নিজেদের কাজের মিল রেখেছেন সেনাপ্রধান। রক্তনদী পেরিয়ে জন্ম নেওয়া শৃঙ্খলমুক্ত, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছরের পূর্তির দিনের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের এবারের কুচকাওয়াজে উঠে এসেছে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বিশ্বের বিস্ময় অদম্য এক বাংলাদেশের বর্ণিল চিত্র।

বাঙালির যুদ্ধজয়ের উচ্ছ্বাস আর আত্নপরিচয় পাওয়ার সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনটিতে স্থলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দৃপ্ত পদভারে মুখর ছিল রীতিমতো। বারবারই যেন মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল পিতা মুজিবের সেই অমর বাণী- বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

আকাশ থেকে নেমে আসা দু:সাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প, অপারেশনের অ্যাকশন কিংবা অত্যাধুনিক সামরিক বিমানের সক্ষমতার নজির স্থাপন করে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মিলিয়ে যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ ছিল রীতিমতো মনোমুগ্ধকর। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) নজরকাড়া এই আয়োজনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সঙ্গী হয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বিমুগ্ধ বিস্ময়ে তাঁরা উপভোগ করেন জাঁকালো এই আয়োজন।

পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে পুরো জাতি যার নেতৃত্বে পেয়েছে স্বাধীন দেশ, একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, বিভিন্ন কবির অসংখ্য কবিতার পঙতিতে উঠে আসা সেই ধন্য পুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশালাকৃতির ম্যুরাল ছিল কুচকাওয়ারেজ পুরোভাগেই। ছিল সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি ও জাতির সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সুসজ্জিত বাহন।

এবারই প্রথম ভারত, ভূটান, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভারত, ভূটান ও রাশিয়ার কন্টিনজেন্ট অংশ নিয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দৃষ্টি কাড়ে ভুটানের ৩৫ সদস্যের কনটিনজেন্ট।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সবার আগে স্বীকৃতি দেওয়া ভুটান এদিন বিদেশী কনটিনজেন্টের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদকে সালাম জানায়। সবচেয়ে বেশি ভারতের ১২২ সদস্যের কনটিনজেন্টের বাদক দল যেন ছড়িয়ে দেয় ৫০ বছরের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের বার্তা। আপদে-বিপদে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকারই যেন জানান দিয়েছে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র রাশিয়া।

বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের অধিনায়ক ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি আদায়কারী বাংলাদেশের আদ্যোপান্তও উঠে আসে এই বর্ণিল আয়োজনে।

বাংলার মাটি দুর্জয়, নিজেদের সামরিক সক্ষমতায় এই বিষয়টি এদিন জানিয়ে দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী।
সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ও যান্ত্রিক বহরে নিত্য নতুন সংযোজন, মিসাইল, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান বাহিনীর মিগ-২৯সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান আর আধুনিক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী ছিল অনন্য।

প্রকৃত অর্থেই জাঁকজমক এক প্যারেডই উপহার দিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলশ্রুতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদের প্যারেড প্রস্তুতির সেই বক্তব্যও বিজয়ের ৫০ ছোঁয়ার আনন্দে বিভোর দেশের মানুষের কাছে হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ণ এক উপজীব্য।

সব সময় ‘টিম ওয়ার্ক’ এ বিশ্বাসী সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনামূলক সেই বার্তা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টদের আরও অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করে তোলে। বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুরন্ত-অদম্য বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা উপস্থাপিত হয়েছে চমৎকারিত্বের মধ্যে দিয়েই। রাষ্ট্রপতির পাশে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তাই সম্ভবত ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের ৬ মাসের মাথায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক উদযাপনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই দেখিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্থ-বাণিজ্যের সব সূচকে তাক লাগিয়ে দেওয়া, দুর্বার গতিতে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা, সামরিক সক্ষমতায় শক্তপোক্ত এক বাংলাদেশকে। পাশাপাশি সম্মিলিত এই কুচকাওয়াজ যেন বিজয়ের মহত্বে দেশের সব মানুষকে একাত্ম করলো স্বয়ংসম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার এক অভিন্ন মনষ্কামে।

কালের আলো/এমএএএমকে

কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হতাহত ব্যক্তিরা মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা ‘শিখা ইন’ হোটেলের আবাসিক অতিথি ছিলেন। চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গিয়ে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।

হোটেলটির এক আবাসিক অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং অনেক অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন।

রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, হোটেলে প্রবেশের পথ ছিল সরু ও অপ্রশস্ত। এ ছাড়া সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।

ঘটনাস্থল কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের খুব কাছেই হওয়ায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত সেখানে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে হোটেলে আটকে পড়া অতিথিদের উদ্ধারে অভিযান চালান।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতের দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নিহত ৯ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এনডিটিভির প্রতিবেদনেও নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার কথা বলা হয়েছে।

পাঁচতলা ওই ভবনের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন নামে আবাসিক হোটেল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা বেশি। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা অনেক বাংলাদেশি এসব হোটেলে অবস্থান করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে মোট কতজন অতিথি ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এফএও জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়ে ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুনের তুলনায় সূচকটি শূন্য দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করে সংস্থাটি।

২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় সূচক এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম।

জুলাইয়ে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে। এর মধ্যে এফএওর শস্য মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

গমের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহও গমের বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খরা পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবেও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। এর ফলে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পাম ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বাড়ায় পাম তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও এর প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এল নিনোর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও খরার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ব্রাজিলে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে জুলাইয়ে সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আগের মাসের তুলনায় মাংসের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এটিই মাংসের দামের প্রথম মাসিক পতন।

একই সময়ে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

এফএও সতর্ক করেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট আবহাওয়া সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যনিরাপত্তা নতুন করে চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলা

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলা

শিশু ও কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা প্ল্যাটফর্মস। এ অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে মেটার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

২৯টি অঙ্গরাজ্যের একটি দ্বিপক্ষীয় জোট মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটার কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি রয়েছে মামলায়।

ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সিসহ অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে অল্প বয়সী ব্যবহারকারীরা সহজেই এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ও’নিল আদালতে বলেন, মেটার ব্যবসায়িক মডেলের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করা। তাঁর অভিযোগ, শিশুদের ক্ষেত্রে এই কৌশল সবচেয়ে কার্যকর হয়েছে।

তবে মেটার আইনজীবী পল স্মেড এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে কিছু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু এর সঙ্গে ‘আসক্তি’ বা কিশোরদের মানসিকভাবে ভালো না থাকার মধ্যে স্পষ্ট কারণ-সম্পর্ক গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ছয় সপ্তাহব্যাপী বিচারপ্রক্রিয়ায় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে মেটার একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলও উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে কিশোর-কিশোরীদের প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ধরে রাখাকে লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে বাদীপক্ষ।

মামলাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালে। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেটার সাবেক কর্মী ফ্রান্সিস হগেনের দেওয়া তথ্যের। ২০২১ সালে মার্কিন সিনেট কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় হগেন অভিযোগ করেছিলেন, মেটা তাদের পণ্য শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানলেও বেশি মুনাফার আশায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

এই মামলার রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির নীতি ও ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ