খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
বৈচিত্র্যময়-মনোমুগ্ধকর বিজয় দিবস প্যারেড, কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র আর লাল-সবুজের পতাকা-সবকিছুই এক সুতোয় গেঁথে ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বর ভূ-গোলকে লেখা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনকারী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের বৃহস্পতিবারের (১৬ ডিসেম্বর) কুচকাওয়াজ।

বিজয়ের রঙিন আবহে মাতৃভূমির সুবর্ণজয়ন্তী ও জনকের জন্মশতবার্ষিকী- এ দু’য়ের আনন্দে পূব আকাশে উদিত রবির কিরণে এবারের সম্মিলিত কুচকাওয়াজকে বিশেষ বৈচিত্র্যময় ও মহিমান্বিত অবয়বে ফুটিয়ে তোলার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

দেশের মানুষের আশা-ভরসার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর-একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তান বলেই কীনা তাঁর মানষপটে সদা জাগ্রত স্বাধীনতার গৌরবগাথা আন্দোলন-সংগ্রামের স্পিরিট, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিজয় ইতিহাসের নির্মাতা, ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধুর অবিনশ্বর চেতনা ও মৃত্যুঞ্জয়ী আদর্শ।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শেষ মুহুর্তের প্যারেড প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সঙ্গে গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির জায়গা থেকে দৃঢ়কন্ঠে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেছিলেন, ‘এই শুভক্ষণ আর আসবে না। এটি ইতিহাসে একবারই এসেছে একবারই এটা থাকবে। এই প্যারেডটাকে যতটা সুন্দর এবং কালারফুল করা সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি। যাতে করে এই উৎসবের উদযাপনটি ইতিহাসের গুরুত্বের সঙ্গে মানানসই হয়।’

বাস্তবিক অর্থেই কথার সঙ্গে নিজেদের কাজের মিল রেখেছেন সেনাপ্রধান। রক্তনদী পেরিয়ে জন্ম নেওয়া শৃঙ্খলমুক্ত, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছরের পূর্তির দিনের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের এবারের কুচকাওয়াজে উঠে এসেছে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বিশ্বের বিস্ময় অদম্য এক বাংলাদেশের বর্ণিল চিত্র।

বাঙালির যুদ্ধজয়ের উচ্ছ্বাস আর আত্নপরিচয় পাওয়ার সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনটিতে স্থলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দৃপ্ত পদভারে মুখর ছিল রীতিমতো। বারবারই যেন মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল পিতা মুজিবের সেই অমর বাণী- বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

আকাশ থেকে নেমে আসা দু:সাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প, অপারেশনের অ্যাকশন কিংবা অত্যাধুনিক সামরিক বিমানের সক্ষমতার নজির স্থাপন করে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মিলিয়ে যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ ছিল রীতিমতো মনোমুগ্ধকর। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) নজরকাড়া এই আয়োজনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সঙ্গী হয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বিমুগ্ধ বিস্ময়ে তাঁরা উপভোগ করেন জাঁকালো এই আয়োজন।

পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে পুরো জাতি যার নেতৃত্বে পেয়েছে স্বাধীন দেশ, একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, বিভিন্ন কবির অসংখ্য কবিতার পঙতিতে উঠে আসা সেই ধন্য পুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশালাকৃতির ম্যুরাল ছিল কুচকাওয়ারেজ পুরোভাগেই। ছিল সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি ও জাতির সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সুসজ্জিত বাহন।

এবারই প্রথম ভারত, ভূটান, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভারত, ভূটান ও রাশিয়ার কন্টিনজেন্ট অংশ নিয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দৃষ্টি কাড়ে ভুটানের ৩৫ সদস্যের কনটিনজেন্ট।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সবার আগে স্বীকৃতি দেওয়া ভুটান এদিন বিদেশী কনটিনজেন্টের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদকে সালাম জানায়। সবচেয়ে বেশি ভারতের ১২২ সদস্যের কনটিনজেন্টের বাদক দল যেন ছড়িয়ে দেয় ৫০ বছরের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের বার্তা। আপদে-বিপদে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকারই যেন জানান দিয়েছে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র রাশিয়া।

বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের অধিনায়ক ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি আদায়কারী বাংলাদেশের আদ্যোপান্তও উঠে আসে এই বর্ণিল আয়োজনে।

বাংলার মাটি দুর্জয়, নিজেদের সামরিক সক্ষমতায় এই বিষয়টি এদিন জানিয়ে দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী।
সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ও যান্ত্রিক বহরে নিত্য নতুন সংযোজন, মিসাইল, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান বাহিনীর মিগ-২৯সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান আর আধুনিক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী ছিল অনন্য।

প্রকৃত অর্থেই জাঁকজমক এক প্যারেডই উপহার দিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলশ্রুতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদের প্যারেড প্রস্তুতির সেই বক্তব্যও বিজয়ের ৫০ ছোঁয়ার আনন্দে বিভোর দেশের মানুষের কাছে হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ণ এক উপজীব্য।

সব সময় ‘টিম ওয়ার্ক’ এ বিশ্বাসী সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনামূলক সেই বার্তা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টদের আরও অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করে তোলে। বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুরন্ত-অদম্য বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা উপস্থাপিত হয়েছে চমৎকারিত্বের মধ্যে দিয়েই। রাষ্ট্রপতির পাশে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তাই সম্ভবত ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের ৬ মাসের মাথায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক উদযাপনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই দেখিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্থ-বাণিজ্যের সব সূচকে তাক লাগিয়ে দেওয়া, দুর্বার গতিতে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা, সামরিক সক্ষমতায় শক্তপোক্ত এক বাংলাদেশকে। পাশাপাশি সম্মিলিত এই কুচকাওয়াজ যেন বিজয়ের মহত্বে দেশের সব মানুষকে একাত্ম করলো স্বয়ংসম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার এক অভিন্ন মনষ্কামে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ