খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চায় মালদ্বীপ, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতায় টুইট জেনারেল শামালের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চায় মালদ্বীপ, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতায় টুইট জেনারেল শামালের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ২০২১ সালকে ‘যুগান্তকারী বছর’ হিসেবে মূল্যায়িত করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এবারের মালদ্বীপ সফরে দু’দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে যেমন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তেমনি দ্বীপরাষ্ট্রটির সুরক্ষার সঙ্গীও হয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই দেশটিকে ১৩ টি সামরিক যান উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা-সোলিহের উপস্থিতিতে নব দিগন্তের উন্মোচন করলেন জেনারেল শফিউদ্দিন-শামাল!

নিজেদের মধ্যকার দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকেও এগিয়ে যেতে চান মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে সাক্ষাতে নিজেদের এই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে চার এমওইউ-চুক্তি সই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মালদ্বীপ সফরকালে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ইন্টিগ্রেটেড হেডকোয়াটার্স (এমএনডিএফ আইএইচকিউ) পরিদর্শন করেন।

এ সময় মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের স্থায়ী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

ওইদিনই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবিসহ পৃথক দু’টি টুইটে মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল এমন তথ্যই উপস্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ইন্টিগ্রেটেড হেডকোয়াটার্স (এমএনডিএফ আইএইচকিউ) পরিদর্শনে তিনি নিজে ‘সম্মানিত’ বলেও টুইটে উল্লেখ করেন। এমএনডিএফকে সামরিক যান প্রদান করায় জেনারেল শফিউদ্দিনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল।

মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের এই পরিদর্শনের ছবি আপলোড করা হয়েছে।

দু’দেশের সেনাপ্রধানের এই সাক্ষাতের সময় মালদ্বীপের ভাইস চীফ অব ডিফেন্স ফোর্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল রাহিম আব্দুল লতিফ, কমান্ড সার্জেন্ট মেজর আদনান আলীসহ সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেনারেল শফিউদ্দিনের সঙ্গে তারা ফটোসেশনেও অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ্ শামালের হাতে ১৩ টি সামরিক যানের প্রতীকী চাবি তুলে দেন।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে মালদ্বীপ এই বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহের দূরদর্শী নেতৃত্বে দু’দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক সোনালী অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ইন্টিগ্রেটেড হেডকোয়াটার্স (এমএনডিএফ আইএইচকিউ) পরিদর্শনের মাধ্যমে দু’দেশের সেনাবাহিনীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরালো হয়েছে। মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স’র আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর উদ্বেলতার টুইট সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হতাহত ব্যক্তিরা মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা ‘শিখা ইন’ হোটেলের আবাসিক অতিথি ছিলেন। চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গিয়ে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।

হোটেলটির এক আবাসিক অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং অনেক অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন।

রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, হোটেলে প্রবেশের পথ ছিল সরু ও অপ্রশস্ত। এ ছাড়া সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।

ঘটনাস্থল কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের খুব কাছেই হওয়ায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত সেখানে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে হোটেলে আটকে পড়া অতিথিদের উদ্ধারে অভিযান চালান।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতের দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নিহত ৯ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এনডিটিভির প্রতিবেদনেও নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার কথা বলা হয়েছে।

পাঁচতলা ওই ভবনের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন নামে আবাসিক হোটেল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা বেশি। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা অনেক বাংলাদেশি এসব হোটেলে অবস্থান করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে মোট কতজন অতিথি ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এফএও জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়ে ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুনের তুলনায় সূচকটি শূন্য দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করে সংস্থাটি।

২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় সূচক এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম।

জুলাইয়ে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে। এর মধ্যে এফএওর শস্য মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

গমের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহও গমের বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খরা পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবেও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। এর ফলে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পাম ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বাড়ায় পাম তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও এর প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এল নিনোর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও খরার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ব্রাজিলে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে জুলাইয়ে সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আগের মাসের তুলনায় মাংসের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এটিই মাংসের দামের প্রথম মাসিক পতন।

একই সময়ে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

এফএও সতর্ক করেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট আবহাওয়া সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যনিরাপত্তা নতুন করে চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলা

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলা

শিশু ও কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা প্ল্যাটফর্মস। এ অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে মেটার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

২৯টি অঙ্গরাজ্যের একটি দ্বিপক্ষীয় জোট মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটার কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি রয়েছে মামলায়।

ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সিসহ অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে অল্প বয়সী ব্যবহারকারীরা সহজেই এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ও’নিল আদালতে বলেন, মেটার ব্যবসায়িক মডেলের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করা। তাঁর অভিযোগ, শিশুদের ক্ষেত্রে এই কৌশল সবচেয়ে কার্যকর হয়েছে।

তবে মেটার আইনজীবী পল স্মেড এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে কিছু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু এর সঙ্গে ‘আসক্তি’ বা কিশোরদের মানসিকভাবে ভালো না থাকার মধ্যে স্পষ্ট কারণ-সম্পর্ক গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ছয় সপ্তাহব্যাপী বিচারপ্রক্রিয়ায় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে মেটার একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলও উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে কিশোর-কিশোরীদের প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ধরে রাখাকে লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে বাদীপক্ষ।

মামলাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালে। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেটার সাবেক কর্মী ফ্রান্সিস হগেনের দেওয়া তথ্যের। ২০২১ সালে মার্কিন সিনেট কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় হগেন অভিযোগ করেছিলেন, মেটা তাদের পণ্য শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানলেও বেশি মুনাফার আশায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

এই মামলার রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির নীতি ও ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ