খুঁজুন
                               
, ,
           

কৃষিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সেনানিবাসের পতিত জমি, উৎপাদন বাড়ানোয় নজর সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
কৃষিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সেনানিবাসের পতিত জমি, উৎপাদন বাড়ানোয় নজর সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার জন্য যতটুকু সম্ভব খাদ্য উৎপাদনে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নেই নিজেদের কর্মকান্ডে কৃষিকে যুক্ত করে সবুজ বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের নামফলক উন্মোচন করলেন সেনাপ্রধান

ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর সব এরিয়ার অনাবাদি পতিত ও অব্যবহৃত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে কৃষি কাজে সর্বোচ্চ ব্যবহারও। ফলত এক সময়কার পতিত জমি পেয়েছে আবাদি জমির চেহারা। প্রতিটি বাসা-বাড়ির আনাচে-কানাচে বনজ, ওষধি ও ফলের গাছ লাগানো হয়েছে।

উন্মুক্ত স্থানে চাষ হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমী ও বারোমাসি ফল। আবার, পুকুর ও জলাভূমি ব্যবহার করা হচ্ছে মাছ এবং হাঁস চাষের জন্য। বিভিন্ন প্রকার খামার ছাড়াও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে শিং ও তেলাপিয়া মাছ।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সাভার এরিয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না।প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সকল সেনানিবাসে কৃষি ভিত্তিক উৎপাদন দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী কার্যকর এই উদ্যোগের ফলে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশকে নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতেও রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা। বাড়াবে শস্য নিবিড়তাও।

করোনা মহামারির দু’টি ভয়াল ঢেউ’র পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বিশ্ব। ফলে সামনের দিনে খাদ্যশস্য বিশেষ করে দানাদার খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি পড়ে না থাকে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশের আলোকে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী কৃষিকে একটি টেকসই রূপান্তর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৯ সালের প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অন এগ্রিকালচার এ্যান্ড রুরাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশে মোট ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ২২৬ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার শতক। এর মধ্যে অস্থায়ী পতিত এবং স্থায়ী পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন ও সাভার এরিয়া কৃষি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্বয়ং সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন নিজ বাহিনীর এই এরিয়ার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতায় সাভারও ভালো করার তালিকায় রয়েছে। এই প্রচেষ্টায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি গোটা দেশও লাভবান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাভার এরিয়ায় মোট এক হাজার ৭২৯ একর জমি রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ প্রশাসনিক ভবনের জন্য লাগছে ৯৮১ একর। বাদ বাকী ৭৪৮ একর জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।১৬০ একর জমিতে ৬৪টি পুকুরে চাষ হচ্ছে মাছ। বাকী ৫৮৮ একর জমিতে ফলদ ও বনজ গাছের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন চলছে পুরোমাত্রায়।

একই সঙ্গে সাভারে মিলিটারি ফার্মে প্রয়োজনীয় জমি বাদে গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ হচ্ছে।

সাভারে এরিয়ার আওতাধীন জাজিরার অন্তর্গত চর জানাজাতে ৪২৭টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। সাভার এরিয়ার বিভিন্ন ফার্মে পালনকৃত ২ হাজার ৫৫৮টি গরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ২২ হাজার ২০০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে।

সাভার এরিয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসম্মত অর্গানিক পণ্য উৎপাদন করছি। শুধু সেনাবাহিনী নয় সাধারণ মানুষের কাছেও এই পণ্য পৌঁছে দিতে পারবো। এই মডেল শুধু এখানেই থেমে থাকবে না অন্যরাও এটা অনুসরণ করবেন।’

পরে সেনাপ্রধান সেখানে একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন ও বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. মোশফেকুর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মো. খালেদ আল-মামুন, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/বিএস/এনএল

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি