খুঁজুন
                               
, ,
           

কৃষিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সেনানিবাসের পতিত জমি, উৎপাদন বাড়ানোয় নজর সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
কৃষিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সেনানিবাসের পতিত জমি, উৎপাদন বাড়ানোয় নজর সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার জন্য যতটুকু সম্ভব খাদ্য উৎপাদনে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নেই নিজেদের কর্মকান্ডে কৃষিকে যুক্ত করে সবুজ বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের নামফলক উন্মোচন করলেন সেনাপ্রধান

ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর সব এরিয়ার অনাবাদি পতিত ও অব্যবহৃত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে কৃষি কাজে সর্বোচ্চ ব্যবহারও। ফলত এক সময়কার পতিত জমি পেয়েছে আবাদি জমির চেহারা। প্রতিটি বাসা-বাড়ির আনাচে-কানাচে বনজ, ওষধি ও ফলের গাছ লাগানো হয়েছে।

উন্মুক্ত স্থানে চাষ হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমী ও বারোমাসি ফল। আবার, পুকুর ও জলাভূমি ব্যবহার করা হচ্ছে মাছ এবং হাঁস চাষের জন্য। বিভিন্ন প্রকার খামার ছাড়াও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে শিং ও তেলাপিয়া মাছ।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সাভার এরিয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না।প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সকল সেনানিবাসে কৃষি ভিত্তিক উৎপাদন দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী কার্যকর এই উদ্যোগের ফলে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশকে নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতেও রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা। বাড়াবে শস্য নিবিড়তাও।

করোনা মহামারির দু’টি ভয়াল ঢেউ’র পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বিশ্ব। ফলে সামনের দিনে খাদ্যশস্য বিশেষ করে দানাদার খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি পড়ে না থাকে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশের আলোকে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী কৃষিকে একটি টেকসই রূপান্তর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৯ সালের প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অন এগ্রিকালচার এ্যান্ড রুরাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশে মোট ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ২২৬ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার শতক। এর মধ্যে অস্থায়ী পতিত এবং স্থায়ী পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন ও সাভার এরিয়া কৃষি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্বয়ং সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন নিজ বাহিনীর এই এরিয়ার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতায় সাভারও ভালো করার তালিকায় রয়েছে। এই প্রচেষ্টায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি গোটা দেশও লাভবান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাভার এরিয়ায় মোট এক হাজার ৭২৯ একর জমি রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ প্রশাসনিক ভবনের জন্য লাগছে ৯৮১ একর। বাদ বাকী ৭৪৮ একর জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।১৬০ একর জমিতে ৬৪টি পুকুরে চাষ হচ্ছে মাছ। বাকী ৫৮৮ একর জমিতে ফলদ ও বনজ গাছের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন চলছে পুরোমাত্রায়।

একই সঙ্গে সাভারে মিলিটারি ফার্মে প্রয়োজনীয় জমি বাদে গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ হচ্ছে।

সাভারে এরিয়ার আওতাধীন জাজিরার অন্তর্গত চর জানাজাতে ৪২৭টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। সাভার এরিয়ার বিভিন্ন ফার্মে পালনকৃত ২ হাজার ৫৫৮টি গরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ২২ হাজার ২০০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে।

সাভার এরিয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসম্মত অর্গানিক পণ্য উৎপাদন করছি। শুধু সেনাবাহিনী নয় সাধারণ মানুষের কাছেও এই পণ্য পৌঁছে দিতে পারবো। এই মডেল শুধু এখানেই থেমে থাকবে না অন্যরাও এটা অনুসরণ করবেন।’

পরে সেনাপ্রধান সেখানে একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন ও বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. মোশফেকুর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মো. খালেদ আল-মামুন, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/বিএস/এনএল

মাঝারি গরমেও বিদ্যুতের হাহাকার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
মাঝারি গরমেও বিদ্যুতের হাহাকার

মাঝারি তাপমাত্রার আবহাওয়া। তবু কমছে না বিদ্যুতের সংকট। বরং গ্রাম থেকে রাজধানী—সর্বত্রই বাড়ছে লোডশেডিং। দিনের ব্যস্ত সময়েও কয়েক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে চলছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। এতে চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশই মেটানো সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগের পর্যালোচনা বলছে, চলতি আগস্টের শুরুতে গ্যাসের তীব্র সংকটের সময় যে মাত্রায় লোডশেডিং হয়েছিল, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও অনেকটা সেই পর্যায়ে ফিরে গেছে। সাধারণত লোডশেডিংয়ের বড় চাপ গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় গিয়ে পড়লেও এবার রাজধানীর বাসিন্দারাও রেহাই পাচ্ছেন না। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে অনেক ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার আগে তা ফিরছে না।

দিনে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট ঘাটতি
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৫৩৪ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এই ঘাটতি সামাল দিতে প্রায় ২০ শতাংশ হারে লোডশেডিং করতে হয়েছে।দিনের বেলাতেও গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ শুধু রাতের পিক আওয়ার নয়, দিনের স্বাভাবিক সময়েও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

  • গ্রাম-শহরে সমানতালে লোডশেডিং
  • বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি
  • গ্যাস সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন
  • দিনে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি
  • ঢাকায় ৪–৫ বার, গ্রামে ১০–১২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে

রাজধানীতেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। ২৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এলাকায় ১ হাজার ৩৯৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ১২০ মেগাওয়াট। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এলাকায় ১ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ১৬৫ মেগাওয়াট। একই সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় চাহিদা ছিল ২ হাজার ৮৪৩ মেগাওয়াট, সেখানে লোডশেডিং ছিল ৪৩৭ মেগাওয়াট। কয়েক দিনের ব্যবধানেই এসব এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

রাজধানীতে দিনে ৪–৫ বার, গ্রামে আরও ভয়াবহ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পালা করে দিনে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময়ও বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। ঈদের ছুটির দিন বুধবারও কোথাও কোথাও টানা দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না।তবে রাজধানীর তুলনায় গ্রামের চিত্র আরও কঠিন। কয়েক দিন কিছুটা স্বস্তি মিললেও ফের দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শুধু গৃহস্থালি জীবনই নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেচ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিল্পকারখানার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

মূল সংকট গ্যাসে
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে গ্যাসের ঘাটতি। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এখনো বড় মাত্রায় গ্যাসনির্ভর। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পেট্রোবাংলা ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ ৯৪০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামানো হয়েছে। সীমিত সরবরাহের অবশিষ্ট অংশ বাণিজ্যিক গ্রাহক ও সার কারখানায় দেওয়া হচ্ছে। ফলে ১২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো গত কয়েক সপ্তাহে গড়ে ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যে উৎপাদন সীমাবদ্ধ রেখেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও কমিয়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নামানো হয়েছে।

গ্যাস কম, বাড়ছে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক উৎপাদন
গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমলেও ঘাটতি সামাল দিতে ফার্নেস তেলচালিত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ২ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট করা হয়েছে।তবে এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। অর্থাৎ গ্যাস সংকট শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতিই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এলএনজি সরবরাহেও অনিশ্চয়তা
গ্যাসের ঘাটতি পূরণে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেখানেও তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। সাগরে থাকা মার্কিন এলএনজি টার্মিনালের মেরামত শেষ হলেও আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে গ্যাসের ঘাটতি কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গো সরবরাহেও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় থাকা কিছু এলএনজি কার্গো সময়মতো দেশে আসছে না। ফলে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

১২ ডলারের গ্যাস এখন ২৪ ডলার
জ্বালানি বাজারে এই চাপের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট এলএনজির দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১২ থেকে ১৩ ডলার। সর্বশেষ কেনাকাটায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ ডলারে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা এলএনজি পাওয়া যাচ্ছিল ৯ থেকে ১০ ডলারে। ফলে সস্তা দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ব্যয়বহুল স্পট এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা গ্যাসের প্রতি ঘনফুটের দাম পড়ছে প্রায় ৭৫ টাকা। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা দরে। এই বিশাল ব্যবধান সরকারকে ভর্তুকির ওপর আরও নির্ভরশীল করে তুলছে।

ভর্তুকির চাপেও সমাধান মিলছে না
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় গ্যাস খাতে এক বছরের জন্য বরাদ্দ করা ভর্তুকির অর্থের বড় অংশ মাত্র দুই মাসেই ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে সরকারের সামনে এখন দ্বিমুখী চাপ—একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের বোঝা সামলানো। এই পরিস্থিতিতে কম খরচে বিদ্যুৎ পাওয়ার উৎস খুঁজছে সরকার। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে গ্যাসের সরবরাহ না বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে বর্তমান লোডশেডিং কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির গল্প নয়; এর পেছনে রয়েছে গ্যাস সরবরাহের সংকট, এলএনজি আমদানির অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বাড়তি দাম এবং ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ। ফলে আপাতত গ্রাম ও শহর—দুই জায়গার মানুষকেই ভাগ করে নিতে হচ্ছে একই দুর্ভোগ। বিদ্যুৎ সংকটের এই চক্র ভাঙতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এম/এএইচ

মুষ্টির শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব, চ্যাম্পিয়ন ২৪ পদাতিক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
মুষ্টির শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব, চ্যাম্পিয়ন ২৪ পদাতিক

বক্সিং—একদিকে আত্মরক্ষার কৌশল, অন্যদিকে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বের বহু দেশে এই খেলা পেশাদার ক্রীড়ার অন্যতম আকর্ষণ হলেও বাংলাদেশে এখনো বক্সিংয়ের বিস্তার তুলনামূলক সীমিত। তবে সেই বাস্তবতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আর এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর নিয়মিত মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং সম্ভাবনাময় বক্সারদের খুঁজে বের করা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা এবং বক্সিংকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।

যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন সদর দপ্তরের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৪টি দল। গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার পর্দা নামে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

  • সেনাবাহিনীর মুষ্টিযুদ্ধে ১৪ দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  • সেনাবাহিনীর বক্সিং প্রতিযোগিতায় নতুন প্রতিভার উত্থান
  • পেশাদার অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বপ্ন

প্রতিযোগিতার ফাইনাল ফলাফলে ২৪ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অর্থাৎ রিংয়ের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠেছে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মাথায়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

শুধু শিরোপা নয়, নজর নতুন প্রতিভায়
এবারের প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ব্যক্তিগত সাফল্য। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ল্যান্স কর্পোরাল মো. হোসেন আলী নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। অন্যদিকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের এনসি(ই) শান্ত সাহেব অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতিগুলো দেখিয়ে দেয়, প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কেবল দলীয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত দক্ষতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত বক্সারদেরও সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। বক্সিংয়ে একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য শুধু শক্তিশালী ঘুষির ওপর নির্ভর করে না।

প্রয়োজন গতি, ফুটওয়ার্ক, প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শারীরিক সহনশীলতা এবং চাপের মধ্যে স্থির থাকার মানসিক শক্তি। ফলে সেনাবাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ একজন বক্সারকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।

পেশাদার বক্সিংয়ের সম্ভাবনার দরজা
বাংলাদেশে বক্সিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা ও পেশাদার ক্যারিয়ারের সুযোগের সীমাবদ্ধতা। প্রতিভা থাকলেও অনেক তরুণের কাছে বক্সিংকে দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে নেওয়ার পথ এখনো স্পষ্ট নয়। এই জায়গাতেই সেনাবাহিনীর আয়োজনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় বক্সার বাছাই এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ যদি বক্সিংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে চায়, তাহলে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেই হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত প্রতিযোগিতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাগুলো সেই বৃহত্তর কাঠামো তৈরির একটি কার্যকর ধাপ হতে পারে।

রিং থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ—চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে রূপ দিতে হলে পরবর্তী ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সেরা বক্সারদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে নিয়মিত বিদেশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে তাদের পরিচিত করা জরুরি। কারণ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জয়—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক রিংয়ে প্রতিপক্ষের গতি, কৌশল ও অভিজ্ঞতা মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি।

সেই অর্থে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুধু একটি ট্রফি জয়ের ঘটনা নয়। এটি সেনাবাহিনীর বক্সিং চর্চার ধারাবাহিকতা, প্রতিযোগিতার গভীরতা এবং নতুন প্রতিভা তৈরির সম্ভাবনারও একটি প্রতিচ্ছবি।

১৪ দলের লড়াই, সামনে আরও বড় স্বপ্ন
৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানসহ সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১৪টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে, কিন্তু বক্সিংয়ে সেনাবাহিনীর পথচলা এখানেই শেষ নয়।

বরং প্রতিটি প্রতিযোগিতা যদি নতুন বক্সার তৈরি করে, তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়, তাহলে বাংলাদেশের বক্সিংয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা সম্ভব। রিংয়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জয় তাই এক দিনের সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে আরও বড় একটি স্বপ্নের সূচনা—যেখানে সেনাবাহিনীর রিং থেকে উঠে আসা বক্সাররা একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশাই এখন তৈরি হচ্ছে।

এমএএএমকে

কৃত্রিম লেকের পানি নামছে সাধারণভাবে

কৃত্রিম লেকের পানি কমায় নেপালে বন্যার নতুন শঙ্কা কেটেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম লেকের পানি কমায় নেপালে বন্যার নতুন শঙ্কা কেটেছে

গত বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নদীর উজানে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া একটি লেকে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় এ শঙ্কা দেখা দেয়। তবে লেকটির পানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। এর ফলে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনার কাছে কৃত্রিম লেকটি তৈরি হয়। নদী দুটির উৎপত্তি তিব্বতে এবং নেপালে প্রবেশের আগে এগুলো একত্রিত হয়ে ভোটেকোশি নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। ভোটেকোশি নদী ত্রিশূলি নদীর অন্যতম প্রধান ঊর্ধ্ব শাখা।

গত বুধবার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায়। নদীর তীরবর্তী বহু অবকাঠামোও বন্যার স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।

তবে উজানে তৈরি হওয়া কৃত্রিম লেকটির পানি এখন ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে গিয়ে নতুন করে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির আশঙ্কা কমেছে।

চীন ও নেপালের কর্মকর্তারা শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জানিয়েছেন, লেকটির পানি স্বাভাবিকভাবে কমছে। চীনের আনেং গ্রুপের থার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরোর কর্মকর্তা ঝো ঝিডং জানান, শুক্রবার সকাল থেকে লেকটির পানির স্তর কমতে শুরু করে।

তিনি বলেন, আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার লেকটির পানির গভীরতা প্রায় ১০ মিটার কমেছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিব্বতে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি চীন।

নতুন করে বন্যার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে আরও জোর দিচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি