খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

কৃষিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সেনানিবাসের পতিত জমি, উৎপাদন বাড়ানোয় নজর সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
কৃষিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সেনানিবাসের পতিত জমি, উৎপাদন বাড়ানোয় নজর সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার জন্য যতটুকু সম্ভব খাদ্য উৎপাদনে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নেই নিজেদের কর্মকান্ডে কৃষিকে যুক্ত করে সবুজ বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের নামফলক উন্মোচন করলেন সেনাপ্রধান

ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর সব এরিয়ার অনাবাদি পতিত ও অব্যবহৃত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে কৃষি কাজে সর্বোচ্চ ব্যবহারও। ফলত এক সময়কার পতিত জমি পেয়েছে আবাদি জমির চেহারা। প্রতিটি বাসা-বাড়ির আনাচে-কানাচে বনজ, ওষধি ও ফলের গাছ লাগানো হয়েছে।

উন্মুক্ত স্থানে চাষ হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমী ও বারোমাসি ফল। আবার, পুকুর ও জলাভূমি ব্যবহার করা হচ্ছে মাছ এবং হাঁস চাষের জন্য। বিভিন্ন প্রকার খামার ছাড়াও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে শিং ও তেলাপিয়া মাছ।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সাভার এরিয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না।প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সকল সেনানিবাসে কৃষি ভিত্তিক উৎপাদন দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী কার্যকর এই উদ্যোগের ফলে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশকে নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতেও রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা। বাড়াবে শস্য নিবিড়তাও।

করোনা মহামারির দু’টি ভয়াল ঢেউ’র পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বিশ্ব। ফলে সামনের দিনে খাদ্যশস্য বিশেষ করে দানাদার খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি পড়ে না থাকে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশের আলোকে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী কৃষিকে একটি টেকসই রূপান্তর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৯ সালের প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অন এগ্রিকালচার এ্যান্ড রুরাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশে মোট ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ২২৬ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার শতক। এর মধ্যে অস্থায়ী পতিত এবং স্থায়ী পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন ও সাভার এরিয়া কৃষি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্বয়ং সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন নিজ বাহিনীর এই এরিয়ার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতায় সাভারও ভালো করার তালিকায় রয়েছে। এই প্রচেষ্টায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি গোটা দেশও লাভবান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাভার এরিয়ায় মোট এক হাজার ৭২৯ একর জমি রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ প্রশাসনিক ভবনের জন্য লাগছে ৯৮১ একর। বাদ বাকী ৭৪৮ একর জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।১৬০ একর জমিতে ৬৪টি পুকুরে চাষ হচ্ছে মাছ। বাকী ৫৮৮ একর জমিতে ফলদ ও বনজ গাছের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন চলছে পুরোমাত্রায়।

একই সঙ্গে সাভারে মিলিটারি ফার্মে প্রয়োজনীয় জমি বাদে গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ হচ্ছে।

সাভারে এরিয়ার আওতাধীন জাজিরার অন্তর্গত চর জানাজাতে ৪২৭টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। সাভার এরিয়ার বিভিন্ন ফার্মে পালনকৃত ২ হাজার ৫৫৮টি গরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ২২ হাজার ২০০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে।

সাভার এরিয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসম্মত অর্গানিক পণ্য উৎপাদন করছি। শুধু সেনাবাহিনী নয় সাধারণ মানুষের কাছেও এই পণ্য পৌঁছে দিতে পারবো। এই মডেল শুধু এখানেই থেমে থাকবে না অন্যরাও এটা অনুসরণ করবেন।’

পরে সেনাপ্রধান সেখানে একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন ও বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. মোশফেকুর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মো. খালেদ আল-মামুন, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/বিএস/এনএল

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি