খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবতার চিরন্তন হৃদয়াবেগে বানভাসিদের পাশে নৌবাহিনী; পুনর্বাসনে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৪, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
মানবতার চিরন্তন হৃদয়াবেগে বানভাসিদের পাশে নৌবাহিনী; পুনর্বাসনে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

ভয়াবহ বন্যায় কূলকিনারাহীন পানিতে ভাসছে ফেনীসহ দেশের ১১টি জেলা। পানিবন্দি দুর্বিষহ এক জীবন। পানিবন্দি জীবন থেকে ফিরে আসা কেউ দেখেছেন লাশ ভাসতে; আবার কেউ দেখেছেন মানুষের ক্ষুধার কষ্ট। শিশুর আহাজারিতে ভিজেছে চোখ। আপনজন হারানোর শঙ্কায় সময় গুনছেন দূরে থাকা মানুষ; চারিদিকে হাহাকার। আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছেন প্রতিটি ক্ষণ।

বানভাসি মানুষকে উদ্ধারে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ। খাবার, পানি আর চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে তাদের সীমাহীন কষ্ট লাঘবে মানবতার চিরন্তন হৃদয়াবেগ নিয়ে দুর্গত মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ অতিক্রম করে জীবনের বুনিয়াদ অব্যাহত রাখতে তাঁরা প্রতি মুহুর্তে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাণান্তকর প্রয়াস।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দুর্গম গ্রাম ঘনিয়া মোড়া। গ্রামটির চারদিকে থই থই পানি। কোথাও দেখা মেলেনি মাটির। এত পানি, এত সঙ্কটের মাঝেও পানিবন্দি অনেকেই বাড়িতে রয়েছেন। সবার চোখে অশ্রু, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। নৌবাহিনীর বোটযোগে এমন সময়ে তাদের মাঝে উপস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তাঁর উপস্থিতিতে ছুটে আসেন বন্যাদুর্গতরা। সব পানিতে তলিয়ে যাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজ-খবর নেন তিনি।

সর্বনাশা বন্যায় বিপন্ন মানুষের প্রতি বাড়িয়ে দেন সহানুভূতি ও সহমর্মিতার হাত। বিতরণ করেন ত্রাণ সামগ্রী। এভাবেই তিনি পর্যবেক্ষণ করেন দুর্গত বিভিন্ন গ্রাম। ছুটে যান নিজ বাহিনীর স্থাপিত ফুলগাজী মহিলা কলেজ সংলগ্ন ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের কাছেও। পরে নৌবাহিনী প্রধান নৌ কন্টিনজেন্ট, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জেলার সামগ্রিক বন্যা কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করে উদ্ধার, ত্রাণ সরবরাহ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নিয়োজিত নৌ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

দুর্যোগে ঐক্যবদ্ধ দেশের মানুষ। অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা হাতে রেখেছেন হাত, মনে রেখেছেন মন। সব জায়গায় এক চুমুক বিশুদ্ধ পানির বড্ড অভাব। এক ইঞ্চি জায়গাও বাকী নেই, যেখানে নেই পানির স্রোত। এমন দু:সময়ে বানের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বন্যার্তদের পুনর্বাসনে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাজের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘আকস্মিক বন্যায় ফেনী জেলার বিপর্যস্ত এলাকায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয় প্রশাসন, ছাত্র-জনতা, সশস্ত্র বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সাথে কাজ করলে খুব শীঘ্রই এ অবস্থা হতে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দিন প্রয়োজন হবে তত দিন নৌবাহিনীর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

নৌবাহিনী চিকিৎসা দলের সাথে অনেকেই কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তিনি তাদের সাধুবাদ জানান। নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, পুনর্বাসন একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া বিধায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাজ করবে। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে ধৈর্য ধরার ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি বলেন- সঠিক লোক যেন সঠিক সহায়তা পায় এবং ত্রাণ সামগ্রীর সুষম বণ্টন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। নৌবাহিনী সব সময় মানুষের পাশে ছিল এবং থাকবে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাথে কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অংশগ্রহণ করায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল আনোয়ার হোসেন, ঊর্ধ্বতন নৌ কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে ইমিডিয়েট রেসপন্স ফেজ এ বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্রুততার সাথে বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। এখনও সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রী, বোট, লাইফ জ্যাকেট ও ডুবুরিসহ তিন শতাধিক নৌ সদস্য উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। নৌ কন্টিনজেন্টগুলো এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। সেই সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকার গবাদিপশু ও অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রীসমূহ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের মিরসরাই, খুলনার পাইকগাছা, ভোলার রাজাপুর এলাকায় নৌবাহিনীর অন্যান্য কন্টিনজেন্টসমূহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও মানবিক বিপর্যয় রোধে কাজ করে যাচ্ছে। ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের মাধ্যমে নৌবাহিনী বন্যা দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে যা বন্যা পরবর্তী বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কাজ করবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

বাড়ি নির্মাণের জন্য চারদিকে পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ১৫ শতক জমি। সেখানে বাড়ির কাজ শুরুর আগপর্যন্ত জমিটি পতিত পড়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই জমিতেই তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ। মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করে মাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এখন তাঁর ক্ষেতের চার শতাধিক গাছে ঝুলছে ছোট-বড় এক হাজারের বেশি তরমুজ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ফল বিক্রি করে লাখ টাকার বেশি আয় করার আশা করছেন এই কৃষক।

পাকা প্রাচীরের ভেতর তরমুজের বাগান
কামারগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১৫ শতক জমির চারপাশে পাকা প্রাচীর। সেই প্রাচীরের ভেতরেই মাচা তৈরি করে সারি সারি তরমুজগাছ লাগানো হয়েছে। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের অসংখ্য তরমুজ। কোথাও ছোট ফল, কোথাও আবার বড় আকারের তরমুজে নুয়ে পড়েছে লতাগুলো।

ইউনাইটেড কোম্পানির ‘মধুমালা’ ও ‘ব্ল্যাকবেবি’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে সেখানে। ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ চাষ করা হয়। সীমিত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগ এখন স্থানীয়দের কাছে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শেই শুরু
কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটির চারপাশে পাকা প্রাচীর তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে বাড়ির কাজ শুরু করার আগে জমিটি বেশ কিছুদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথা ছিল। এ সময় মাঠ পরিদর্শনে এসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাঁকে জমিটি ফেলে না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আব্দুস শহীদ। এরপর উন্নত জাতের তরমুজের চারা রোপণ করে মাচা তৈরি এবং মালচিং পেপার পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। তাঁর এই উদ্যোগ এখন ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আব্দুস শহীদ বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণের আগে জমিটা যেন পতিত পড়ে না থাকে, সেই চিন্তা থেকেই তরমুজ চাষ শুরু করি। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অল্প জায়গায় মাচা তৈরি করে তরমুজ লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন গাছে গাছে প্রচুর তরমুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি তরমুজ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। ফলন ভালো থাকলে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতে পারে।’

অসময়ে চাষ করেও ভালো ফলনের আশা
আব্দুস শহীদ জানান, অসময়ে তরমুজ চাষ করেও গাছে ভালো ফলন এসেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেন তিনি। নিজের উদ্যোগে অল্প জায়গায় এত বেশি তরমুজ উৎপাদন করতে পেরে আশাবাদী এই কৃষক।

তাঁর প্রত্যাশা, বাজারে তরমুজের ভালো দাম পেলে এই চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হবে। সেই অর্থ ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আরও বিনিয়োগ এবং নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বিক্রির আয় এখনো প্রত্যাশার পর্যায়ে রয়েছে। ফলের চূড়ান্ত উৎপাদন, বাজারদর এবং বিক্রির খরচের ওপর নির্ভর করবে প্রকৃত লাভের পরিমাণ।

আব্দুস শহীদের সাফল্যে উৎসাহিত অন্য কৃষকেরা
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আব্দুস শহীদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে। তাঁদের মতে, কৃষিকাজে আগ্রহ, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অল্প জমিতেও ভালো ফলন সম্ভব। প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে আব্দুস শহীদ সেই সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে কঠিন কাজও সহজ করা যায়, আব্দুস শহীদের ক্ষেত তার প্রমাণ। অল্প জায়গায় তিনি যেভাবে তরমুজ চাষ করেছেন এবং ফলন পেয়েছেন, তা আমাদের উৎসাহিত করেছে। তাঁর কাছ থেকে এ জাতের তরমুজ চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরাও এভাবে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’ তাঁরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেলে এলাকার আরও কৃষক নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। বাড়ির আশপাশের অব্যবহৃত জমি, পতিত জায়গা কিংবা সীমিত কৃষিজমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃষকের আয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ছে আগ্রহ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, ‘কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারলে মনে আনন্দ আসে। মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আব্দুস শহীদকে জমি পতিত না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত। তারপরও অসময়ে তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তাঁর ক্ষেত দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকে এ জাতের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে ভবিষ্যতে এ ধরনের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’ বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, কৃষকদের কল্যাণে কাজ করাই কৃষি বিভাগের দায়িত্ব। কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষক নতুন নতুন ফসল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন।

আব্দুস শহীদ তাঁদেরই একজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকটি উপজেলার পশ্চিম জয়পুর ব্লকের কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। অসময়ে তরমুজ চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ক্ষেত পরিদর্শন করে ভালো লেগেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকেরা যেন জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অল্প জমিতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত
আব্দুস শহীদের তরমুজক্ষেত দেখিয়ে দিয়েছে, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য সব সময় বড় জমি কিংবা বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষপদ্ধতি, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং পরিশ্রমের সমন্বয়ে অব্যবহৃত জমিও আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। এখন ফল বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন আব্দুস শহীদ। গাছে গাছে বেড়ে ওঠা তরমুজগুলো বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে পূরণ হতে পারে তাঁর আর্থিক প্রত্যাশা। পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও যদি নতুন ফসল চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার অনুপ্রেরণা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

বিসিএস পরীক্ষায় একই ক্যাডারে বারবার একই প্রার্থীর সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে সরকারি পদের অপচয় ও নিয়োগ জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ করে আসন্ন ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল তৈরির সময় ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

কী এই ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা
বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘রিপিট ক্যাডার’ বলতে সাধারণত এমন প্রার্থীদের বোঝানো হয়, যাঁরা আগের কোনো বিসিএসে একটি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর পরবর্তী বিসিএসেও একই ক্যাডারে আবার সুপারিশ পান। ফলে নতুন করে সুপারিশ পাওয়া পদে তাঁদের যোগদানের প্রয়োজন হয় না বা তাঁরা সেখানে যোগ দেন না। এতে সংশ্লিষ্ট পদটি খালি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর প্রভাব পড়ে অন্য চাকরিপ্রার্থীদের ওপর। মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা যোগ্য প্রার্থীরা ওই পদে নিয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন। আবার সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ নতুন পদে যোগ না দিলে প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব নির্ধারণ করাও জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ সমস্যা বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

৪৪তম বিসিএসে প্রায় ৪০০ রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা
৪৩তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা থাকলেও ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পিএসসির তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ হাজার ৭১০ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন আগে থেকেই সরকারি কোনো ক্যাডারে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পদে যোগদান না করার কারণে শূন্য পদ পূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ ঘটনার পর রিপিট ক্যাডারের কারণে খালি থাকা পদগুলোতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়।

৪৫তম বিসিএসে যোগদানের হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত
রিপিট ক্যাডার সমস্যা সমাধানে পিএসসি এবার শুধু সুপারিশের সংখ্যা নয়, বাস্তবে কতজন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে চায়। ইতিমধ্যে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ১ নভেম্বর যোগদানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগদান শেষ হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে—কতজন নতুন পদে যোগ দিয়েছেন এবং কতটি পদ খালি রয়েছে। পিএসসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বরের পর যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রার্থী একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়ার কারণে পদ খালি থাকলে সেখানে পরবর্তী মেধাক্রমের যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা
রিপিট ক্যাডার সমস্যার কারণে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রিপিট ক্যাডারের কারণে সাধারণ প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সঠিক হিসাব পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হলে শূন্য পদের সমস্যা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, প্রকৃত শূন্য পদের হিসাবের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালিত হলে মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা প্রার্থীরাও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। এতে একই পদে বারবার সুপারিশের কারণে নিয়োগের সুযোগ আটকে থাকার সমস্যা কমতে পারে।

বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবও রয়েছে
৪৪তম বিসিএসে রিপিট ক্যাডার নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর পিএসসি নিয়োগবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত বা সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সময় কমিশনের কাছে যদি তথ্য থাকে যে কোনো প্রার্থী একই ক্যাডার পদ বা সমপদে পুনরায় মনোনীত হচ্ছেন এবং তিনি সেখানে যোগ দিতে অনিচ্ছুক, তাহলে তাঁকে আবার সুপারিশ না করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পদগুলোতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের নির্বাচন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর রিপিট ক্যাডার সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের ফলাফলে তা বিবেচনায় নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

৫০তম বিসিএসের ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে
পিএসসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের কারণে খালি থাকা পদগুলো শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি প্রকৃত শূন্য পদের বিপরীতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের সুপারিশ করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, প্রার্থীদের যোগদানের প্রকৃত তথ্য এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ৫০তম বিসিএসের ফলাফল ঘোষণার সময় বিষয়টি কীভাবে কার্যকর করা হয়, সেটিই এখন চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

কালের আলো/এসএআর/এসএ

কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন ও আধুনিকায়ন করা উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ ছিল না।

মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে সরকারের বিভিন্ন অতিথির নাম থাকলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি অনুষ্ঠানে তিনি কোন পরিচয়ে উপস্থিত থাকবেন, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নাম যদি আমন্ত্রণপত্রে না থাকে, তাহলে তিনি সেখানে কী হিসেবে যাবেন? তাঁকে কি দর্শক সারিতে বসতে হবে? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণপত্রে যথাযথভাবে নাম ও পরিচয় উল্লেখ না থাকাই অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির কারণ।

এর আগে সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতারা আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাঁদের থাকা উচিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, যাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সব রাজনৈতিক পক্ষের দায়িত্ব।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। তিনি আরও বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি