খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

তরুণ বীর ছাত্রদের সুচিকিৎসায় আন্তরিক সেনাবাহিনী, অনুসরণীয় ভূমিকায় ‘টিম সিএমএইচ’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
তরুণ বীর ছাত্রদের সুচিকিৎসায় আন্তরিক সেনাবাহিনী, অনুসরণীয় ভূমিকায় ‘টিম সিএমএইচ’

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সরাসরি আন্দোলনে ছিলেন তাঁরা। লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বিজয়গাথা দেখিয়েছেন। আন্দোলনের তীব্রতার মাধ্যমে স্বৈরাচারের দম্ভ করেছেন চূর্ণ। অর্জিত হয়েছে সর্বোচ্চ বিজয়। অভ্যুদয় ঘটেছে নতুন এক বাংলাদেশের। অবশ্য এজন্য কম আত্মত্যাগও করতে হয়নি। বুলেটে ঝাঁজরা হয়েছে ছাত্র-জনতা; ঝরে গেছে অনেক অমূল্য প্রাণ। কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বাদ পেতে ওদেরও ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।

ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচ ও দেশের অন্যান্য ১০টি সিএমএইচে ওদের জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। কেউ আবার গুরুতর আহত। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে কাউকে কাউকে। কিন্তু কোন হতাশা বা দুশ্চিন্তা নেই। দীর্ঘ চিকিৎসার খরচও বহন করতে হচ্ছে না নিজেদের বা পরিবারকে। তরুণপ্রাণ শিক্ষার্থীদের সুস্থ করে তোলার পুরো দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

‘আয় দুরন্ত, আয়রে আমার কাঁচা’ বলে কবিগুরু চিরকাল তরুণদের ডাক দিতেন ‘অন্ধকারে বন্ধ করা খাঁচায়’ থেকে বুড়োদের ঘা মেরে জাগিয়ে তুলতে। কারণ রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মনেপ্রাণে চিরতরুণ। আর এই তরুণপ্রাণ মানেই অপ্রতিরোধ্য, অমোঘ। তাদের প্রাণ অজেয়। তারা হয়ে থাকেন অপরিমেয় শক্তির অধিকারী। তারা জেগে উঠলে তাদের দমানোর জন্য, পায়ে শিকল পরাবার মতো কোন বাঁধন নেই। ফিনিক্স পাখির মতো দুর্বার শিক্ষার্থীরা যতবার জেগে উঠেছেন, ততবার বাঁকবদল ঘটেছে ইতিহাসের; বাংলাদেশের। প্রবেশ করেছে নতুন অধ্যায়ে। এ মাটির আহত তরুণ বীর সন্তানদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় কাজ করছে সিএমএইচসমূহে।

জানা যায়, স্বৈরশাসনের নাগপাশ ছিন্ন করে অভ্যুদয় ঘটা এক নতুন দিনের বাংলাদেশ গড়ার পথে নতুন এক যাত্রার স্বপ্নসারথি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহতরা। এসব ছাত্রদের দ্রুত সময়ের মধ্য সুস্থতা নিশ্চিতে ঢাকাসহ ১০টি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার যুগান্তকারী ও মানবিক এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

গত রবিবার (১৮ আগস্ট) রাতেই আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএমএইচ’র ৫টি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণে আগ্রহী আহত ছাত্রদের যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানায়। জানিয়ে দেয় আহত চিকিৎসাধীন ছাত্রদের প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদা তৎপর রয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) সেনাপ্রধান ঢাকা সিএমএইচে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা জানতে সেখানে যান। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিএমএইচ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর অপরিসীম দায়িত্ববোধ ও উদার অভিভাবকত্ব ছাত্রদের স্বজনদের মনের আকাশে হতাশার কালো মেঘ সরিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে সোনালী রোদের উচ্ছ্বলতায়।

শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ঢাকা সিএমএইচসহ দেশের অন্যান্য ১০টি সিএমএইচে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৮২৯ জন আহত ছাত্র চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২১৯ জন আহত ছাত্র সিএমএইচসমূহে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাদ বাকীরা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। এর আগে গুলিবিদ্ধ দুই ছাত্র মো. রাফি হোসেন (১৪) ও মো. মমিন হোসেন (২৩) এর সফল অস্ত্রোপচার গত রোববার (২৫ আগস্ট) ঢাকা সিএমএইচে সম্পন্ন হয়।

রাজধানীর সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাকে দেখতে যান এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক তসলিম অভি সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রকৃত অর্থেই দক্ষ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবান্ধব সেবা নিশ্চিতের পথিকৃৎ দেশের সিএমএইচসমূহ। চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা মিলে ‘একটি টিম’ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চিকিৎসাধীন আহত ছাত্রদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করছেন প্রতিনিয়ত। এ যেন শুভ্র, সুন্দর, প্রীতি-উজ্জ্বল নতুন জীবনের জয়ধ্বনি। চিকিৎসাধীনদের বুদ্ধি-বোধে-মর্মে-কর্মে আর হৃদয়ানুভূতিতে নি:সন্দেহে গেঁথে গেছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর নাম। যাদের মূলমন্ত্রই ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ