খুঁজুন
                               
, ,
           

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তানজিমের মৃত্যুতে শোকগাথা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তানজিমের মৃত্যুতে শোকগাথা

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

দায়িত্ব পালনের সময় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। চেনা জানা ভূমণ্ডল ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে থেমে গেলো তাঁর জীবনের স্পন্দন। অনাকাঙ্খিত ও মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে দিশেহারা তাঁর পরিবার। রুদ্ধবাক বাবা সারোয়ার জাহান। ক্ষণে ক্ষণে মুর্চ্ছা যাচ্ছেন মা নাজমা বেগম। গভীর মর্মবেদনা আর শোকাচ্ছন্ন তাঁর সহকর্মীদের হৃদয়। প্রিয় মাতৃভূমির জন্য তরুণ এই মেধাবী সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের কীর্তি জ্বলন্ত। শোকাহত আঙুলের ফাঁকে বেদনার্ত অনুভূতির মিশেলে শোকগাথা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

তাঁর আত্মত্যাগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে

ড.মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকার

শোকস্তব্ধ এসব মানুষের ভাষাও শোকাহত। আবার অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতেও সোচ্চার তাঁরা। ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে আটক করেছে। আচমকা এই মৃত্যুতে কাঁদছে দেশ। শোকাভিভূত প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যরা। তাঁরাও প্রকাশ করেছেন বেদনার্ত অনুভূতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন গভীর সমবেদনা। গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মাঝে তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকবে চিরদিন।

মৃত্যু অমোঘ, চিরন্তন বাস্তবতা। প্রতিটি আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটিই স্বাভাবিক। তবে সেই মৃত্যু যদি হয় হত্যাকাণ্ড; তবে এটিকে খুব সহজে গ্রহণ করা এতোটা সহজ বা স্বাভাবিক নয় মোটেও। একজন মানুষের মৃত্যু ধ্বংস করে দিতে পাওে গোটা পরিবারকে। যিনি মৃত্যুবরণ করলেন তিনি জানতেও পারলেন না তাঁর মৃত্যুতে পরিবার কী অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করছেন বা করবেন! বাষ্পরুদ্ধ হাহাকারে হতভাগ্য বাবা সারোয়ার জাহান তাই বলছিলেন-‘এমন মৃত্যু যেন আর কারও না হয়।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান

টাঙ্গাইলের সন্তান লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ২০২২ সালের ৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন। জীবন উদযাপনের মন্ত্রে থিতু হওয়ার আগেই দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে তাকে। অশ্রুসিক্ত স্বজন-সহকর্মীরা মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শেষ বিদায় জানান তাকে। ওইদিন সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ মাসীহুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সেনাবাহিনী খুবই মর্মাহত। আমরা আমাদের একজন সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা তার পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নন্দিত নাম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সরকারের নির্দেশে পাহাড়ে নানামুখী মানবিক কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী অপতৎপরতা বারবার রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা। ঝুঁকি নিয়ে আবার কখনও জীবন দিয়ে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যরা নিরীহ পার্বত্য জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর থেকেছেন অহর্নিশ। নি:স্বার্থ মানসিকতার উদাহরণ তৈরি করে দায়িত্ব পালন থেকে কখনও পিছপা হয়নি। ঠিক তেমনি কক্সবাজারের চকোরিয়ায় ডাকাতির হাত থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষায় বুকের রক্ত দিয়ে তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন প্রমাণ করলেন দেশে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নির্জনের চিরস্থায়ী শুন্যতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন-‘বাংলাদেশ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তাকে হারালো। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।’ কোন কোন মন্তব্যে তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ‘দেশের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনার এই ত্যাগ জাতি বিনম্র চিত্তে আজীবন স্মরণ করবে। যারা দেশের কল্যাণে প্রাণ দেয় তারা কখনও মরে না, তারা বেঁচে থাকে মানুষের অন্তরে।’

দেশমাতৃকার সেবায় তরুণ সাহসী এই সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত বলে জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়া এবং বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের মৃত্যুতে তাঁর মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

‘প্রিয় মাতৃভূমির প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন মহান আত্মত্যাগ করেছেন’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিহত সেনা কর্মকর্তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক শোক বার্তায় বলেছেন, তাঁর আত্মত্যাগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গণমাধ্যমে পাঠানো শোক বার্তায় এ তথ্য জানান।

শোক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে সমবেদনা জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আমার সব সহকর্মীর প্রতি। বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই তরুণ ও মেধাবী কর্মকর্তা মানুষের জান-মাল রক্ষার্থে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। দেশপ্রেমের আদর্শের নজির হিসেবে তার এ আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘নির্জনের মৃত্যুর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সংঘটিত হয়েছে যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় জনমানুষের নিরাপত্তা বিধানে দেশব্যাপী দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় তার এ অকাল মৃত্যু শুধু সেনাবাহিনীর জন্য নয় বরং দেশের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

আকাশের রহস্যময় দিগন্ত পেরিয়ে স্বপ্নময় অন্তরীক্ষে শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। আশ্বিনের বিষণ্নতা-ভরা মায়াবী প্রকৃতিতে মৃত্যুর অমোঘ পদচিহ্ণে মাত্র ২৩ বছরের জীবনের দাঁড়ি টেনে তিনি চলে গেলেন চিরতরে। দেশের জন্য জীবন দিয়ে স্থাপন করে গেলেন দৃষ্টান্ত। জৈবিক অর্থে তিনি চলে গেলেও চৈতন্যের অনুভবে তাকে বার বার খুঁজে পাওয়া যাবে দেশপ্রেমিক প্রতিটি সেনা সদস্যের হৃদয়ের অতলান্তিক মহাসাগরে। কবিগুরুর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তাই সবাই বলছেন- ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব ছেড়ে দিব না।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি