খুঁজুন
                               
, ,
           

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তানজিমের মৃত্যুতে শোকগাথা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তানজিমের মৃত্যুতে শোকগাথা

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

দায়িত্ব পালনের সময় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। চেনা জানা ভূমণ্ডল ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে থেমে গেলো তাঁর জীবনের স্পন্দন। অনাকাঙ্খিত ও মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে দিশেহারা তাঁর পরিবার। রুদ্ধবাক বাবা সারোয়ার জাহান। ক্ষণে ক্ষণে মুর্চ্ছা যাচ্ছেন মা নাজমা বেগম। গভীর মর্মবেদনা আর শোকাচ্ছন্ন তাঁর সহকর্মীদের হৃদয়। প্রিয় মাতৃভূমির জন্য তরুণ এই মেধাবী সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের কীর্তি জ্বলন্ত। শোকাহত আঙুলের ফাঁকে বেদনার্ত অনুভূতির মিশেলে শোকগাথা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

তাঁর আত্মত্যাগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে

ড.মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকার

শোকস্তব্ধ এসব মানুষের ভাষাও শোকাহত। আবার অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতেও সোচ্চার তাঁরা। ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে আটক করেছে। আচমকা এই মৃত্যুতে কাঁদছে দেশ। শোকাভিভূত প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যরা। তাঁরাও প্রকাশ করেছেন বেদনার্ত অনুভূতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন গভীর সমবেদনা। গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মাঝে তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকবে চিরদিন।

মৃত্যু অমোঘ, চিরন্তন বাস্তবতা। প্রতিটি আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটিই স্বাভাবিক। তবে সেই মৃত্যু যদি হয় হত্যাকাণ্ড; তবে এটিকে খুব সহজে গ্রহণ করা এতোটা সহজ বা স্বাভাবিক নয় মোটেও। একজন মানুষের মৃত্যু ধ্বংস করে দিতে পাওে গোটা পরিবারকে। যিনি মৃত্যুবরণ করলেন তিনি জানতেও পারলেন না তাঁর মৃত্যুতে পরিবার কী অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করছেন বা করবেন! বাষ্পরুদ্ধ হাহাকারে হতভাগ্য বাবা সারোয়ার জাহান তাই বলছিলেন-‘এমন মৃত্যু যেন আর কারও না হয়।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান

টাঙ্গাইলের সন্তান লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ২০২২ সালের ৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন। জীবন উদযাপনের মন্ত্রে থিতু হওয়ার আগেই দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে তাকে। অশ্রুসিক্ত স্বজন-সহকর্মীরা মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শেষ বিদায় জানান তাকে। ওইদিন সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ মাসীহুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সেনাবাহিনী খুবই মর্মাহত। আমরা আমাদের একজন সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা তার পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নন্দিত নাম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সরকারের নির্দেশে পাহাড়ে নানামুখী মানবিক কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী অপতৎপরতা বারবার রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা। ঝুঁকি নিয়ে আবার কখনও জীবন দিয়ে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যরা নিরীহ পার্বত্য জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর থেকেছেন অহর্নিশ। নি:স্বার্থ মানসিকতার উদাহরণ তৈরি করে দায়িত্ব পালন থেকে কখনও পিছপা হয়নি। ঠিক তেমনি কক্সবাজারের চকোরিয়ায় ডাকাতির হাত থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষায় বুকের রক্ত দিয়ে তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন প্রমাণ করলেন দেশে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নির্জনের চিরস্থায়ী শুন্যতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন-‘বাংলাদেশ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তাকে হারালো। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।’ কোন কোন মন্তব্যে তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ‘দেশের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনার এই ত্যাগ জাতি বিনম্র চিত্তে আজীবন স্মরণ করবে। যারা দেশের কল্যাণে প্রাণ দেয় তারা কখনও মরে না, তারা বেঁচে থাকে মানুষের অন্তরে।’

দেশমাতৃকার সেবায় তরুণ সাহসী এই সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত বলে জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়া এবং বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের মৃত্যুতে তাঁর মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

‘প্রিয় মাতৃভূমির প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন মহান আত্মত্যাগ করেছেন’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিহত সেনা কর্মকর্তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক শোক বার্তায় বলেছেন, তাঁর আত্মত্যাগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গণমাধ্যমে পাঠানো শোক বার্তায় এ তথ্য জানান।

শোক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে সমবেদনা জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আমার সব সহকর্মীর প্রতি। বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই তরুণ ও মেধাবী কর্মকর্তা মানুষের জান-মাল রক্ষার্থে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। দেশপ্রেমের আদর্শের নজির হিসেবে তার এ আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘নির্জনের মৃত্যুর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সংঘটিত হয়েছে যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় জনমানুষের নিরাপত্তা বিধানে দেশব্যাপী দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় তার এ অকাল মৃত্যু শুধু সেনাবাহিনীর জন্য নয় বরং দেশের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

আকাশের রহস্যময় দিগন্ত পেরিয়ে স্বপ্নময় অন্তরীক্ষে শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। আশ্বিনের বিষণ্নতা-ভরা মায়াবী প্রকৃতিতে মৃত্যুর অমোঘ পদচিহ্ণে মাত্র ২৩ বছরের জীবনের দাঁড়ি টেনে তিনি চলে গেলেন চিরতরে। দেশের জন্য জীবন দিয়ে স্থাপন করে গেলেন দৃষ্টান্ত। জৈবিক অর্থে তিনি চলে গেলেও চৈতন্যের অনুভবে তাকে বার বার খুঁজে পাওয়া যাবে দেশপ্রেমিক প্রতিটি সেনা সদস্যের হৃদয়ের অতলান্তিক মহাসাগরে। কবিগুরুর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তাই সবাই বলছেন- ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব ছেড়ে দিব না।’

কালের আলো/এমএএএমকে

ব্যালন ডি’অর নিয়ে দিবু মার্তিনেস, ‘আমার কোনো সুযোগ নেই, মেসির আছে’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ব্যালন ডি’অর নিয়ে দিবু মার্তিনেস, ‘আমার কোনো সুযোগ নেই, মেসির আছে’

ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেস। বরং পুরস্কারটির জন্য নিজের চেয়ে লিওনেল মেসির সম্ভাবনাকেই এগিয়ে রেখেছেন চেলসির এই গোলরক্ষক।

ফিফার আন্তর্জাতিক সূচিতে আর্জেন্টিনার সামনে থাকা তিনটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন দিবু। আর্জেন্টিনায় পা রাখার পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সুযোগ নেই। মেসির আছে, আমার নয়।’

তবে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার লেভ ইয়াসিন ট্রফির জন্য মনোনীত হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী দিবু। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই পুরস্কার জেতা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এবারও নিজেকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন না।

বরং বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড়ের একজন মেসি, অন্যজন লাওতারো মার্তিনেস।

ফাইনালের হার এখনো মনে আছে

স্পেনের কাছে হেরে যাওয়া ফাইনালের কথাও স্মরণ করেছেন দিবু। সেই হারকে দীর্ঘদিন মনে থাকার মতো ‘কাঁটা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলে আবারও ফিরতে পেরে নিজের আনন্দের কথাও জানিয়েছেন।

দিবু বলেন, ‘এখানে ফিরে জাতীয় দলে খেলতে পেরে আমি উপভোগ করছি। যারা এখানে আছে, তারা নতুন কেউ নয়, সবাই আগে থেকেই দলের সঙ্গে ছিল। আর জাতীয় দল সবসময়ই জাতীয় দল থাকবে, যারা চলে যাবে তাদের বিষয়টি আলাদা।’

মেসির বিদায়ী ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান দিবু

মেসির জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচ হওয়ার কথা।

এ নিয়ে দিবু বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, সে এরই মধ্যে অবসর নিয়ে ফেলেছে। আর্জেন্টিনায় নিজের দেশে অবসর নেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য স্বপ্নপূরণের মতো। আমরা চেষ্টা করব দিনটিকে সুন্দর ও স্মরণীয় করে তুলতে।’

স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে জানেন না দিবু

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন দিবু। বছরের শেষেই স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের কোনো ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

দিবুর ভাষায়, ‘আমি জানি না। এটা তার এবং তার দলের সিদ্ধান্ত। সে যে সিদ্ধান্তই নিক, আমরা সবসময় তাকে সমর্থন করব।’

সামনে তিন প্রীতি ম্যাচ

আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড় এখনো ক্যাম্পে যোগ দেননি। তবে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এজেইজা কমপ্লেক্সে অনুশীলন শুরু করার কথা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর বুয়েনস এইরেসে ফিরে ৩ অক্টোবর বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে তারা। সবশেষ ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা—যে ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে ঘিরে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

কালের আলো/এসএ

গুলশান ও বনানী থানার ওসি পদে রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
গুলশান ও বনানী থানার ওসি পদে রদবদল

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান মডেল থানা ও বনানী থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পদায়নের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, ডিএমপির আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে গুলশান মডেল থানার ওসি এবং মো. সালাউদ্দিনকে বনানী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই আদেশে বনানী থানার বর্তমান ওসি মো. ফরিদুল ইসলামকে গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় গুলশান মডেল থানার তৎকালীন ওসি মো. দাউদ হোসেনকে ক্লোজড করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

‘স্টপ দ্য গেম’: ইসরায়েলের বিপক্ষে না খেলতে আইরিশ ফুটবলারদের প্রতি আহ্বান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
‘স্টপ দ্য গেম’: ইসরায়েলের বিপক্ষে না খেলতে আইরিশ ফুটবলারদের প্রতি আহ্বান

ইসরায়েলের বিপক্ষে আসন্ন দুটি ম্যাচ বয়কট করতে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ১৬০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ। ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’ নামের একটি গোষ্ঠীর উদ্যোগে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৬০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই ম্যাচ

২০২৬–২৭ উয়েফা নেশন্স লিগে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড। এরপর ৪ অক্টোবর দুই দল আবার মুখোমুখি হবে। উয়েফার সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচে ইসরায়েল ‘হোম’ দল এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘হোম’ দল। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে ম্যাচ দুটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘খেলা বন্ধ করার সুযোগ এখনো আছে’

খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই), উয়েফা এবং আইরিশ সরকারের আরও আগেই ম্যাচ দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। তবে এখনো খেলোয়াড়দের সামনে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন স্বাক্ষরকারীরা।

চিঠিতে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন দুই ম্যাচেই অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাক্ষরকারীদের ভাষ্য, খেলাধুলা ঐক্য, ন্যায়সংগত আচরণ ও সমতার বার্তা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হতে পারে।

যাঁরা সই করেছেন

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিয়ান কিয়ারা ম্যাগিন, সাবেক আইরিশ ফুটবলার লুইস কুইন, সাবেক রাগবি খেলোয়াড় টনি ওয়ার্ড, বক্সার টাইরন ম্যাককেনা ও এরিক ডোনোভান। গেইলিক ফুটবলের পরিচিত মুখ প্যাড্রেইগ ও’হোরা, জো ব্রলি, কলম ও’রুর্ক, মাইকেল দারাহ ম্যাকঅলি, ফিলি ম্যাকমাহন, ভ্যালেরি মালকাহি ও রেনা বাকলিও এতে সই করেছেন।

টনি ওয়ার্ড এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আইরিশ রাগবি দলের সফর বয়কট করেছিলেন। কয়েকজন স্বাক্ষরকারী চলতি বছরও ইসরায়েলের বিপক্ষে নিজেদের সংশ্লিষ্ট ম্যাচে অংশ নেননি।

কোচের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনের সাম্প্রতিক মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গণহত্যার সঙ্গে খেলছি না, গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি, ইসরায়েলের সঙ্গে নয়।’

হালগ্রিমসনের মন্তব্যের পর ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমালোচনা করে। সংস্থাটি তাঁকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও বোকামি’র অভিযোগে আক্রমণ করেছে।

ম্যাচ বাতিলের চাপ এফএআইয়ের ওপরও

এদিকে এফএআই জানিয়েছে, তারা একতরফাভাবে ম্যাচ বাতিল করতে চায়নি। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে উয়েফার কাছে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটি কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর আগে এফএআইয়ের সাধারণ সভাতেও ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে উয়েফা প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট হয়েছিল।

এরই মধ্যে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে ম্যাচ বয়কটের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর দুই ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

গাজা যুদ্ধ ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। হতাহতের সংখ্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের সামরিক অভিযানকে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে।

এই রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কের মধ্যেই এবার ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়ে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ