খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তানজিমের মৃত্যুতে শোকগাথা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তানজিমের মৃত্যুতে শোকগাথা

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

দায়িত্ব পালনের সময় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। চেনা জানা ভূমণ্ডল ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে থেমে গেলো তাঁর জীবনের স্পন্দন। অনাকাঙ্খিত ও মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে দিশেহারা তাঁর পরিবার। রুদ্ধবাক বাবা সারোয়ার জাহান। ক্ষণে ক্ষণে মুর্চ্ছা যাচ্ছেন মা নাজমা বেগম। গভীর মর্মবেদনা আর শোকাচ্ছন্ন তাঁর সহকর্মীদের হৃদয়। প্রিয় মাতৃভূমির জন্য তরুণ এই মেধাবী সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের কীর্তি জ্বলন্ত। শোকাহত আঙুলের ফাঁকে বেদনার্ত অনুভূতির মিশেলে শোকগাথা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

তাঁর আত্মত্যাগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে

ড.মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকার

শোকস্তব্ধ এসব মানুষের ভাষাও শোকাহত। আবার অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতেও সোচ্চার তাঁরা। ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে আটক করেছে। আচমকা এই মৃত্যুতে কাঁদছে দেশ। শোকাভিভূত প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যরা। তাঁরাও প্রকাশ করেছেন বেদনার্ত অনুভূতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন গভীর সমবেদনা। গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মাঝে তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকবে চিরদিন।

মৃত্যু অমোঘ, চিরন্তন বাস্তবতা। প্রতিটি আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটিই স্বাভাবিক। তবে সেই মৃত্যু যদি হয় হত্যাকাণ্ড; তবে এটিকে খুব সহজে গ্রহণ করা এতোটা সহজ বা স্বাভাবিক নয় মোটেও। একজন মানুষের মৃত্যু ধ্বংস করে দিতে পাওে গোটা পরিবারকে। যিনি মৃত্যুবরণ করলেন তিনি জানতেও পারলেন না তাঁর মৃত্যুতে পরিবার কী অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করছেন বা করবেন! বাষ্পরুদ্ধ হাহাকারে হতভাগ্য বাবা সারোয়ার জাহান তাই বলছিলেন-‘এমন মৃত্যু যেন আর কারও না হয়।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান

টাঙ্গাইলের সন্তান লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ২০২২ সালের ৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন। জীবন উদযাপনের মন্ত্রে থিতু হওয়ার আগেই দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে তাকে। অশ্রুসিক্ত স্বজন-সহকর্মীরা মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শেষ বিদায় জানান তাকে। ওইদিন সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ মাসীহুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সেনাবাহিনী খুবই মর্মাহত। আমরা আমাদের একজন সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা তার পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূর্ত প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নন্দিত নাম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সরকারের নির্দেশে পাহাড়ে নানামুখী মানবিক কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী অপতৎপরতা বারবার রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা। ঝুঁকি নিয়ে আবার কখনও জীবন দিয়ে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যরা নিরীহ পার্বত্য জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর থেকেছেন অহর্নিশ। নি:স্বার্থ মানসিকতার উদাহরণ তৈরি করে দায়িত্ব পালন থেকে কখনও পিছপা হয়নি। ঠিক তেমনি কক্সবাজারের চকোরিয়ায় ডাকাতির হাত থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষায় বুকের রক্ত দিয়ে তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন প্রমাণ করলেন দেশে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নির্জনের চিরস্থায়ী শুন্যতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন-‘বাংলাদেশ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তাকে হারালো। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।’ কোন কোন মন্তব্যে তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ‘দেশের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনার এই ত্যাগ জাতি বিনম্র চিত্তে আজীবন স্মরণ করবে। যারা দেশের কল্যাণে প্রাণ দেয় তারা কখনও মরে না, তারা বেঁচে থাকে মানুষের অন্তরে।’

দেশমাতৃকার সেবায় তরুণ সাহসী এই সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত বলে জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়া এবং বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের মৃত্যুতে তাঁর মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

‘প্রিয় মাতৃভূমির প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন মহান আত্মত্যাগ করেছেন’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিহত সেনা কর্মকর্তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক শোক বার্তায় বলেছেন, তাঁর আত্মত্যাগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সংকল্পবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গণমাধ্যমে পাঠানো শোক বার্তায় এ তথ্য জানান।

শোক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে সমবেদনা জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আমার সব সহকর্মীর প্রতি। বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই তরুণ ও মেধাবী কর্মকর্তা মানুষের জান-মাল রক্ষার্থে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। দেশপ্রেমের আদর্শের নজির হিসেবে তার এ আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘নির্জনের মৃত্যুর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সংঘটিত হয়েছে যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় জনমানুষের নিরাপত্তা বিধানে দেশব্যাপী দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় তার এ অকাল মৃত্যু শুধু সেনাবাহিনীর জন্য নয় বরং দেশের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

আকাশের রহস্যময় দিগন্ত পেরিয়ে স্বপ্নময় অন্তরীক্ষে শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। আশ্বিনের বিষণ্নতা-ভরা মায়াবী প্রকৃতিতে মৃত্যুর অমোঘ পদচিহ্ণে মাত্র ২৩ বছরের জীবনের দাঁড়ি টেনে তিনি চলে গেলেন চিরতরে। দেশের জন্য জীবন দিয়ে স্থাপন করে গেলেন দৃষ্টান্ত। জৈবিক অর্থে তিনি চলে গেলেও চৈতন্যের অনুভবে তাকে বার বার খুঁজে পাওয়া যাবে দেশপ্রেমিক প্রতিটি সেনা সদস্যের হৃদয়ের অতলান্তিক মহাসাগরে। কবিগুরুর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তাই সবাই বলছেন- ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব ছেড়ে দিব না।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ