খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড; সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি ও বহু প্রাণক্ষয় থেকে রক্ষা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড; সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি ও বহু প্রাণক্ষয় থেকে রক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:

৩৮ বছরের দীর্ঘ এক জার্নির সমাপ্তি। আগেই জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ও ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামের দুই জাহাজ থেকে জ্বালানী তেল পরিবহন কার্যক্রমের ইতি ঘটার কথা। কিন্তু চার দিনের ব্যবধানে আগুনে পুড়েছে ক্রুড অয়েল বহনকারী অয়েল ট্যাংকার দুটি। শেষ ট্রিপে জ্বালানী তেল খালাস করতে গিয়ে দু’দফায় প্রাণ গেছে চারজনের। এসব প্রাণহানিকে দু:খজনক বলেছেন নৌপরিবহন এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তবে আশার কথা হচ্ছে- অগ্নিকাণ্ডের পরেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুদক্ষ নেতৃত্বে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তড়িৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হওয়ায় বহু প্রাণক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা মিলেছে। আতঙ্কের সেই রাতে প্রায় চার ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় নৌবাহিনীর ৩টি বিশেষায়িত টাগশীপ এবং কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ৪টি টাগশীপের সমন্বয়ে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

  • সার্বক্ষণিক মনিটর করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা
  • নৌবাহিনী প্রধানের নির্দেশে বাহিনীটির সুদক্ষ নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার প্রশংসা
  • নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে থাকছেন বিশেষজ্ঞরা
  • মেরিটাইম সেক্টরে নৌবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাদের পদায়নের সুফল
  • বিএসসিতে আরও বড় হবে জাহাজের বহর

৪৮ নাবিকের মধ্যে ৪৭ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আহত হন সাদেক মিয়া (৬০)। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহত কয়েকজনকে নৌবাহিনী হাসপাতাল বানৌজা পতেঙ্গায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ লাইন ধ্বংস করতেই পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে কীনা এই সন্দেহে শুরু হয়েছে তদন্ত। নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন রবিবার (০৬ অক্টোবর) বিএসসি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন,- ‘পর পর বিএসসির (বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন) দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার পর সন্দেহ যাতে দূর হয় বা প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের পৃথক তদন্ত কমিটি করা হবে। ১০ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তারা এখানে আসবেন, তদন্ত শুরু হবে, জাহাজগুলো দেখবেন। সন্দেহজনক কিছু আছে কি না- কী হয়েছে সে বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কথা বলতে চাই না। আপনারা অনুসন্ধান পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অনুসন্ধান রিপোর্ট হাতে পেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সরকারিভাবে যে জ্বালানি তেল আনে, তা কুতুবদিয়া সাগর এলাকা থেকে পতেঙ্গা ডিপো পর্যন্ত পৌঁছতে ‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজ দুটি ব্যবহৃত হতো। ডেনমার্কে তৈরি এই দু’টি অয়েল ট্যাংকারে শেষবারের মতো তেল খালাস শেষ হলেই দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আগেই আগুনে পুড়ে গেছে জাহাজ দু’টি। গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে নোঙর করা অবস্থায় দিনের আলোয় প্রথমে বিস্ফোরণ ও পরে অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়ে ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’। আর গত শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা অবস্থায় রহস্যময় আগুনে পুড়ে শেষ হয় ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ এর যাত্রা।

বাংলার জ্যোতি এবং বাংলার সৌরভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বর্তমানে বিপিসির মালিকানায় ৩টি অয়েল ট্যাংকারসহ ৫টি জাহাজ রয়েছে। বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেছেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা জাহাজের চারটি পয়েন্ট সিকুয়েন্সলি ফায়ার হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এটি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। আর এটা মাথায় রেখেই তদন্ত শুরু হয়েছে।’

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার প্রশংসা
‘এমটি বাংলার সৌরভ’ এ অগ্নিকাণ্ডের খবরটি জানার পরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন নৌপরিবহন এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি রাতভর পুরো বিষয়টি মনিটর করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বড় প্রাণহানি রোধে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি ভোর ৫টায় উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নিজেদের সম্পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়টি অবহিত করেন।

জানা যায়, নৌবাহিনী প্রধানের নির্দেশে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবালসহ চট্টগ্রামের নৌবাহিনী কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। শুরু হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের আগুন নিয়ন্ত্রণের সম্মিলিত প্রয়াস। উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানোর পাশাপাশি আটকে পড়া নাবিকদের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সময়ের ব্যবধানে একে একে উদ্ধার করা হয় ৪৭ নাবিককে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একাধিক বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ক্ষমতা সম্পন্ন টাগশীপের সঙ্গে যুক্ত হয় কোস্টগার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক টাগশীপসহ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল। জীবনবাজি রেখে তাদের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে মিলেছে প্রশংসা।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ডলফিন জেটিতে অবস্থানরত ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণ ও বড় ধরনের বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায় বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ। দুর্ঘটনাস্থলের একেবারেই কাছাকাছি ছিল রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী সংস্থা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি ও চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমানবন্দর। ওইদিন বিস্ফোরণ ঘটলে স্থবিরতা নেমে আসতো দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে। বাংলার জ্যোতি জাহাজে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বাংলার সৌরভ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থাকায় বিপুল পরিমাণ এই তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়লে হুমকির মুখে পড়তো কর্ণফুলী নদীসহ বঙ্গোপসাগরে জীব বৈচিত্র্য। শুধু তাই নয়, বিশাল আকারের এই জাহাজ দুটি বিস্ফোরণে ডুবে গেলে বন্ধ হয়ে যেত চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ আসা-যাওয়া। স্থবির হয়ে পড়তো দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম। নৌবাহিনী সফলভাবে অগ্নিনির্বাপণ করতে সক্ষম হওয়ায় দেশের অর্থনীতি বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

মেরিটাইম সেক্টরে নৌবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাদের পদায়নের সুফল
মেরিটাইম সেক্টর তথা সমুদ্র সম্পদ প্রতিনিয়ত সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। সুনীল অর্থনীতির পথ দেখাচ্ছে অফুরান সম্ভাবনার। এই সেক্টরকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে রূপ দিতে সরকারের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ নৌবাহিনী। জাহাজ নির্মাণ শিল্প এখন বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পখাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মেরিটাইম খাতের গুরুত্বের বিষয়টি মাথায় রেখেই নৌবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে কার্যকর অবদান রাখছেন প্রতিনিয়ত। গত শুক্রবার রাতে ‘এমটি বাংলার সৌরভ’এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড় রকমের প্রাণহানি ও বিপর্যয় প্রতিরোধে তাদের দক্ষ নেতৃত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার বিষয়টি আরও একবার মোটা দাগে প্রমাণিত হয়েছে। দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্ভাব্য অচলাবস্থার হুমকির বৃত্ত থেকে বের করে এনে পুরোমাত্রায় সচল রেখে এই প্রাজ্ঞ কর্মকর্তারা পুনরায় জানান দিয়েছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের যেকোনো বিপর্যয় মোকাবেলায় আস্থা ও সফলতার সঙ্গে সব সময় তাঁর দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ ধরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিএসসিতে জাহাজের বহর আরও বড় হবে
নৌপরিবহন এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে বিএসসির কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘জাহাজে আগুন লেগেছে, তাই কিছু সেফটির বিষয় দেখতে হবে। এরপর বাংলার সৌরভ থেকে অপরিশোধিত তেল স্থানান্তর করা হবে। বিপিসিকেও বলেছি, টার্মিনালের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘গত শুক্রবার সাড়ে ১২টার সময় বাংলার সৌরভে দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে এমডি আমাকে জানিয়েছেন। প্রতিটি মুহূর্তে কী হচ্ছে জানতে পারছিলাম। বিএসসি থেকে তদন্ত করতে বলেছি। জাহাজের ইনস্যুরেন্সের বিষয় আছে। তারপর একজন মারা গেছেন। তিনি আগুনে পুড়ে মারা যাননি। পানি থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার পর উদ্ধার করা হলেও ট্রমার কারণে মারা গেছেন। দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে চার জন মারা গেছেন। যেকোনও প্রাণহানি দুঃখজনক।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর ইস্টার্ন রিফাইনারির তেল লাইটারিংয়ের জন্য বিএসসির এমডি তাৎক্ষণিক জাহাজ ভাড়া করেছেন। ঘটনা ঘটার আগেই এমডি বলেছিলেন, বাংলার সৌরভের শেষ ট্রিপ বা সেবা ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমার ভয় ছিল, তেল ব্লাস্ট হলে চ্যানেল বন্ধ হয়ে যেত। নেভি, কোস্টগার্ড, পোর্ট অথরিটি দ্রুত সময়ে গিয়ে এ আগুন নিভিয়েছে। নেভাল চিফ ভোর ৫টায় রিং করে জানিয়েছেন সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছেন। নেভাল কমান্ডার, বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সারাক্ষণ কথা হয়েছে। সাড়ে ৪টায় আমাকে বলেছেন, সবাইকে রেসকিউ করা হয়েছে। এত বড় দুর্ঘটনা, অনেক কিছু হতে পারতো। বিএসসির লোকজন বলেছে, এক হয়ে কাজ করবে। ওনাদের প্ল্যান ও আমার ইচ্ছে, বিদেশি যারা আসবে তাদের বলবো, জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ করো। কিছু দিন আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বলেছি, পাট ও জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ করতে।’

চীন থেকে ছয়টি জাহাজের পরিবর্তে চারটি জাহাজ সংগ্রহে অর্থের নয়-ছয় হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে এম সাখাওয়াত বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি টিম কাজ করছে, দাম নির্ধারণের জন্য। আমরা দাম কমানোর চেষ্টা করছি। কে টাকা নিয়ে গেলো তা বের করা মুশকিল। কাউকে টাকা দিয়ে থাকলে কীভাবে বের করবো! ডলার ছিল ৯০ টাকা। তদন্ত হবে। প্রকল্প বন্ধ থাকলে জাহাজ তো পাবো না। এ মন্ত্রণালয়ে অনেক প্রকল্প হচ্ছে। এ প্রকল্প এখন বন্ধ করে দিলে যে টাকা অপচয় হয়েছে- তা আপনার, আমার। গলায় কাঁটা লেগেছে, গিলতে হবে। আমি তো বলেছি, চুরির মহাসমুদ্র না, প্রশান্ত মহাসাগর। আমাদের কাছে যে ডকুমেন্ট আছে তা দুদকের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। দুদক তদন্ত করবে।’

বিএসসিতে জাহাজের বহর বাড়ানো হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএসসির দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর বর্তমানে বহরে জাহাজ আছে মাত্র পাঁচটি। এ পাঁচটি জাহাজে প্রচুর লাভ করছে। একটিও বাংলাদেশে নেই। জ্যামাইকাসহ বিভিন্ন দেশে এসব জাহাজ আছে। বিএসসিতে জাহাজের বহর আরও বড় হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা যতদিন আছি, একটা কাজ করতে পারি সেটা হচ্ছে, দুর্নীতি কমানো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে কোনও ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়া আলোচনার পর পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তার আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরান সফরে গেছেন।

বুধবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, গত রোববার ইরানি প্রতিনিধিদল তেহরানে ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে বেশ কিছু বার্তা বিনিময় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের পাকিস্তানি এক প্রতিনিধিদলকে গ্রহণ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তেহরানের ‘অনস্বীকার্য’ অধিকার। তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ‘আলোচনাযোগ্য’। ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার চাপ প্রয়োগ কিংবা যুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরনের বিষয়ে আমরা সব সময় বলেছি, এই বিষয়টি আলোচনাযোগ্য। আমরা জোর দিয়ে বলেছি, ইরানের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সক্ষমতা থাকা উচিত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বাঘায়ি বলেন, আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি ছিল ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব’। তিনি পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে ইরানের অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‌‌‌‘‘এই অধিকার চাপ প্রয়োগ বা যুদ্ধের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া যাবে না।’’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী দুই দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন। ইরানিরা পাকিস্তানের দিকে ‘বেশি ঝুঁকে আছেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আপনাদের আসলেই সেখানে অবস্থান করা উচিত। কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে এবং আমরা সেখানে যাওয়ার পক্ষেই বেশি আগ্রহী। তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, এর সম্ভাবনা বেশি, জানেন কেন? কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ এবং এ কারণেই আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা কেন এমন কোনও দেশে যাব যাদের এই বিষয়ের সঙ্গে কোন সম্পর্কই নেই?

বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’।

সুত্র: আল জাজিরা, ডন, ফক্স নিউজ।

কালের আলো/জেএন

দেড় মাস পর ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
দেড় মাস পর ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রায় দেড় মাস পর আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (১৫ এপ্রিল) একটি ব্যাংকের কাছ থেকে ৭০ মিলিয়ন বা ৭ কোটি ডলার কেনা হয়।

মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট দুটিই ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

এর আগে সর্বশেষ গত ২ মার্চ দুটি ব্যাংকের কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার কিনেছিল। ওই সময় কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার (৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। চলতি বছরের মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এসেছে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নয়ন প্রবাসী আয় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ এপ্রিল দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

কালের আলো/জেএন

পুলিশে বড় রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
পুলিশে বড় রদবদল

‎পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া এক ডিআইজিসহ ১৬ জন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

‎‎বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-১ শাখা) তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

‎‎প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, শিল্পাঞ্চল পুলিশের (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) কামরুল হাসান মাহমুদকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) তোফায়েল আহমেদকে পদস্থ বিভাগেই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে এবং ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) সুফিয়ান আহমেদকে ডিএমপিতেই যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎‎আরও জানান হয়, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মুহাম্মদ বাছির উদ্দিনকে সিআইডিতেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এবং সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়াকে সিএমপিতেই অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

‎পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মাহবুবুল করিমকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরেই রাখা হয়েছে। আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) আল মামুনকে আরএমপিতেই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

‎শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৪ (নারায়ণগঞ্জ) এর পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামানকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে এসবিতেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

‎রংপুর রেঞ্জের পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়াকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এআইজি (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে একই দপ্তরে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ হায়াতুন নবীকে সিআইডিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এবং এআইজি (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পুলিশ সদর দপ্তরেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

‎‎এছাড়া আরও জানান হয়, পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) আফরোজা পারভীনকে একই কর্মস্থলে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এবং রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে নিজ বিভাগেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

‎জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন