খুঁজুন
                               
, ,
           

‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড; সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি ও বহু প্রাণক্ষয় থেকে রক্ষা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড; সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি ও বহু প্রাণক্ষয় থেকে রক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:

৩৮ বছরের দীর্ঘ এক জার্নির সমাপ্তি। আগেই জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ও ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামের দুই জাহাজ থেকে জ্বালানী তেল পরিবহন কার্যক্রমের ইতি ঘটার কথা। কিন্তু চার দিনের ব্যবধানে আগুনে পুড়েছে ক্রুড অয়েল বহনকারী অয়েল ট্যাংকার দুটি। শেষ ট্রিপে জ্বালানী তেল খালাস করতে গিয়ে দু’দফায় প্রাণ গেছে চারজনের। এসব প্রাণহানিকে দু:খজনক বলেছেন নৌপরিবহন এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তবে আশার কথা হচ্ছে- অগ্নিকাণ্ডের পরেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুদক্ষ নেতৃত্বে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তড়িৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হওয়ায় বহু প্রাণক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা মিলেছে। আতঙ্কের সেই রাতে প্রায় চার ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় নৌবাহিনীর ৩টি বিশেষায়িত টাগশীপ এবং কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ৪টি টাগশীপের সমন্বয়ে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

  • সার্বক্ষণিক মনিটর করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা
  • নৌবাহিনী প্রধানের নির্দেশে বাহিনীটির সুদক্ষ নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার প্রশংসা
  • নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে থাকছেন বিশেষজ্ঞরা
  • মেরিটাইম সেক্টরে নৌবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাদের পদায়নের সুফল
  • বিএসসিতে আরও বড় হবে জাহাজের বহর

৪৮ নাবিকের মধ্যে ৪৭ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আহত হন সাদেক মিয়া (৬০)। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহত কয়েকজনকে নৌবাহিনী হাসপাতাল বানৌজা পতেঙ্গায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ লাইন ধ্বংস করতেই পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে কীনা এই সন্দেহে শুরু হয়েছে তদন্ত। নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন রবিবার (০৬ অক্টোবর) বিএসসি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন,- ‘পর পর বিএসসির (বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন) দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার পর সন্দেহ যাতে দূর হয় বা প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের পৃথক তদন্ত কমিটি করা হবে। ১০ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তারা এখানে আসবেন, তদন্ত শুরু হবে, জাহাজগুলো দেখবেন। সন্দেহজনক কিছু আছে কি না- কী হয়েছে সে বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কথা বলতে চাই না। আপনারা অনুসন্ধান পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অনুসন্ধান রিপোর্ট হাতে পেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সরকারিভাবে যে জ্বালানি তেল আনে, তা কুতুবদিয়া সাগর এলাকা থেকে পতেঙ্গা ডিপো পর্যন্ত পৌঁছতে ‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজ দুটি ব্যবহৃত হতো। ডেনমার্কে তৈরি এই দু’টি অয়েল ট্যাংকারে শেষবারের মতো তেল খালাস শেষ হলেই দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আগেই আগুনে পুড়ে গেছে জাহাজ দু’টি। গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে নোঙর করা অবস্থায় দিনের আলোয় প্রথমে বিস্ফোরণ ও পরে অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়ে ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’। আর গত শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা অবস্থায় রহস্যময় আগুনে পুড়ে শেষ হয় ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ এর যাত্রা।

বাংলার জ্যোতি এবং বাংলার সৌরভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বর্তমানে বিপিসির মালিকানায় ৩টি অয়েল ট্যাংকারসহ ৫টি জাহাজ রয়েছে। বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেছেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা জাহাজের চারটি পয়েন্ট সিকুয়েন্সলি ফায়ার হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এটি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। আর এটা মাথায় রেখেই তদন্ত শুরু হয়েছে।’

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার প্রশংসা
‘এমটি বাংলার সৌরভ’ এ অগ্নিকাণ্ডের খবরটি জানার পরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন নৌপরিবহন এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি রাতভর পুরো বিষয়টি মনিটর করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বড় প্রাণহানি রোধে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি ভোর ৫টায় উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নিজেদের সম্পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়টি অবহিত করেন।

জানা যায়, নৌবাহিনী প্রধানের নির্দেশে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবালসহ চট্টগ্রামের নৌবাহিনী কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। শুরু হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের আগুন নিয়ন্ত্রণের সম্মিলিত প্রয়াস। উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানোর পাশাপাশি আটকে পড়া নাবিকদের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সময়ের ব্যবধানে একে একে উদ্ধার করা হয় ৪৭ নাবিককে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একাধিক বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ক্ষমতা সম্পন্ন টাগশীপের সঙ্গে যুক্ত হয় কোস্টগার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক টাগশীপসহ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল। জীবনবাজি রেখে তাদের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে মিলেছে প্রশংসা।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ডলফিন জেটিতে অবস্থানরত ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণ ও বড় ধরনের বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায় বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ। দুর্ঘটনাস্থলের একেবারেই কাছাকাছি ছিল রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী সংস্থা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি ও চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমানবন্দর। ওইদিন বিস্ফোরণ ঘটলে স্থবিরতা নেমে আসতো দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে। বাংলার জ্যোতি জাহাজে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বাংলার সৌরভ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থাকায় বিপুল পরিমাণ এই তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়লে হুমকির মুখে পড়তো কর্ণফুলী নদীসহ বঙ্গোপসাগরে জীব বৈচিত্র্য। শুধু তাই নয়, বিশাল আকারের এই জাহাজ দুটি বিস্ফোরণে ডুবে গেলে বন্ধ হয়ে যেত চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ আসা-যাওয়া। স্থবির হয়ে পড়তো দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম। নৌবাহিনী সফলভাবে অগ্নিনির্বাপণ করতে সক্ষম হওয়ায় দেশের অর্থনীতি বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

মেরিটাইম সেক্টরে নৌবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাদের পদায়নের সুফল
মেরিটাইম সেক্টর তথা সমুদ্র সম্পদ প্রতিনিয়ত সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। সুনীল অর্থনীতির পথ দেখাচ্ছে অফুরান সম্ভাবনার। এই সেক্টরকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে রূপ দিতে সরকারের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ নৌবাহিনী। জাহাজ নির্মাণ শিল্প এখন বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পখাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মেরিটাইম খাতের গুরুত্বের বিষয়টি মাথায় রেখেই নৌবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে কার্যকর অবদান রাখছেন প্রতিনিয়ত। গত শুক্রবার রাতে ‘এমটি বাংলার সৌরভ’এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড় রকমের প্রাণহানি ও বিপর্যয় প্রতিরোধে তাদের দক্ষ নেতৃত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার বিষয়টি আরও একবার মোটা দাগে প্রমাণিত হয়েছে। দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্ভাব্য অচলাবস্থার হুমকির বৃত্ত থেকে বের করে এনে পুরোমাত্রায় সচল রেখে এই প্রাজ্ঞ কর্মকর্তারা পুনরায় জানান দিয়েছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের যেকোনো বিপর্যয় মোকাবেলায় আস্থা ও সফলতার সঙ্গে সব সময় তাঁর দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ ধরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিএসসিতে জাহাজের বহর আরও বড় হবে
নৌপরিবহন এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে বিএসসির কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘জাহাজে আগুন লেগেছে, তাই কিছু সেফটির বিষয় দেখতে হবে। এরপর বাংলার সৌরভ থেকে অপরিশোধিত তেল স্থানান্তর করা হবে। বিপিসিকেও বলেছি, টার্মিনালের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘গত শুক্রবার সাড়ে ১২টার সময় বাংলার সৌরভে দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে এমডি আমাকে জানিয়েছেন। প্রতিটি মুহূর্তে কী হচ্ছে জানতে পারছিলাম। বিএসসি থেকে তদন্ত করতে বলেছি। জাহাজের ইনস্যুরেন্সের বিষয় আছে। তারপর একজন মারা গেছেন। তিনি আগুনে পুড়ে মারা যাননি। পানি থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার পর উদ্ধার করা হলেও ট্রমার কারণে মারা গেছেন। দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে চার জন মারা গেছেন। যেকোনও প্রাণহানি দুঃখজনক।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর ইস্টার্ন রিফাইনারির তেল লাইটারিংয়ের জন্য বিএসসির এমডি তাৎক্ষণিক জাহাজ ভাড়া করেছেন। ঘটনা ঘটার আগেই এমডি বলেছিলেন, বাংলার সৌরভের শেষ ট্রিপ বা সেবা ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমার ভয় ছিল, তেল ব্লাস্ট হলে চ্যানেল বন্ধ হয়ে যেত। নেভি, কোস্টগার্ড, পোর্ট অথরিটি দ্রুত সময়ে গিয়ে এ আগুন নিভিয়েছে। নেভাল চিফ ভোর ৫টায় রিং করে জানিয়েছেন সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছেন। নেভাল কমান্ডার, বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সারাক্ষণ কথা হয়েছে। সাড়ে ৪টায় আমাকে বলেছেন, সবাইকে রেসকিউ করা হয়েছে। এত বড় দুর্ঘটনা, অনেক কিছু হতে পারতো। বিএসসির লোকজন বলেছে, এক হয়ে কাজ করবে। ওনাদের প্ল্যান ও আমার ইচ্ছে, বিদেশি যারা আসবে তাদের বলবো, জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ করো। কিছু দিন আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বলেছি, পাট ও জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ করতে।’

চীন থেকে ছয়টি জাহাজের পরিবর্তে চারটি জাহাজ সংগ্রহে অর্থের নয়-ছয় হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে এম সাখাওয়াত বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি টিম কাজ করছে, দাম নির্ধারণের জন্য। আমরা দাম কমানোর চেষ্টা করছি। কে টাকা নিয়ে গেলো তা বের করা মুশকিল। কাউকে টাকা দিয়ে থাকলে কীভাবে বের করবো! ডলার ছিল ৯০ টাকা। তদন্ত হবে। প্রকল্প বন্ধ থাকলে জাহাজ তো পাবো না। এ মন্ত্রণালয়ে অনেক প্রকল্প হচ্ছে। এ প্রকল্প এখন বন্ধ করে দিলে যে টাকা অপচয় হয়েছে- তা আপনার, আমার। গলায় কাঁটা লেগেছে, গিলতে হবে। আমি তো বলেছি, চুরির মহাসমুদ্র না, প্রশান্ত মহাসাগর। আমাদের কাছে যে ডকুমেন্ট আছে তা দুদকের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। দুদক তদন্ত করবে।’

বিএসসিতে জাহাজের বহর বাড়ানো হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএসসির দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর বর্তমানে বহরে জাহাজ আছে মাত্র পাঁচটি। এ পাঁচটি জাহাজে প্রচুর লাভ করছে। একটিও বাংলাদেশে নেই। জ্যামাইকাসহ বিভিন্ন দেশে এসব জাহাজ আছে। বিএসসিতে জাহাজের বহর আরও বড় হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা যতদিন আছি, একটা কাজ করতে পারি সেটা হচ্ছে, দুর্নীতি কমানো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

প্রতিদিন কী পোশাক পরবেন, তা ঠিক করতে গিয়ে অনেকেই আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় পার করেন। অথচ আলমারিতে পোশাকের সংখ্যা বেশি থাকলেই যে সাজের বৈচিত্র্য বাড়বে, এমন নয়। বরং কিছু বেসিক ও পরস্পরের সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে রাখলে অল্প পোশাক দিয়েই তৈরি করা যায় নানা ধরনের লুক।

এ ধরনের ওয়ারড্রোব সাজানোর মূল কথা হলো—কম পোশাক, বেশি সমন্বয়।

প্রথমে বেসিক পোশাক বাছাই করুন

ওয়ারড্রোবে এমন কিছু পোশাক রাখা ভালো, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মিলিয়ে পরা যায়। সাদা, কালো, নেভি, ধূসর বা বেইজের মতো নিরপেক্ষ রঙের টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট বা টপ বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।

একটি ভালো মানের সাদা শার্ট যেমন জিনসের সঙ্গে ক্যাজুয়াল লুক দিতে পারে, আবার ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পরলে তৈরি হতে পারে অফিস উপযোগী সাজ।

রঙের সমন্বয়ে নজর দিন

অনেক রঙের পোশাক রাখার বদলে কয়েকটি পরস্পরের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নিলে পোশাক মেলানো সহজ হয়। ওয়ারড্রোবের বেশির ভাগ পোশাক যদি একই রঙের পরিবারের মধ্যে থাকে, তাহলে একটি পোশাকের সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এর সঙ্গে দুই-একটি উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা আনুষঙ্গিক জিনিস রাখলে পুরো সাজে বৈচিত্র্য আনা যায়।

একটি পোশাক, একাধিক ব্যবহার

একই পোশাককে ভিন্নভাবে পরার অভ্যাস করলে ওয়ারড্রোব ছোট রেখেও সাজে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। একটি শার্ট একদিন প্যান্টের সঙ্গে, অন্যদিন জিনসের সঙ্গে পরা যেতে পারে। একই পোশাকের সঙ্গে জুতা, ব্যাগ বা গয়না বদলালেও পুরো লুক অনেকটাই বদলে যায়।

পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক জিনিস রাখুন

কম পোশাকে বেশি লুক তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকসেসরিজ বেশ কার্যকর। ঘড়ি, স্কার্ফ, বেল্ট, ব্যাগ, জুতা বা সাধারণ গয়না একই পোশাককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

তবে অনেক কিছু একসঙ্গে ব্যবহার না করে পোশাকের ধরন অনুযায়ী এক বা দুই ধরনের অ্যাকসেসরিজ বেছে নেওয়াই ভালো।

মৌসুম অনুযায়ী ওয়ারড্রোব বদলান

সব মৌসুমের পোশাক একসঙ্গে আলমারিতে রাখার প্রয়োজন নেই। গরমের পোশাক আলাদা করে এবং শীত বা বর্ষার পোশাক প্রয়োজন অনুযায়ী বের করে রাখলে আলমারি গোছানো থাকে। এতে প্রয়োজনের পোশাক খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়।

খুব কম পরা পোশাক আলাদা করুন

যে পোশাকগুলো গত কয়েক মাসে একবারও পরা হয়নি, সেগুলো আলাদা করে দেখুন। কেন পরা হচ্ছে না, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। মাপ ঠিক না হওয়া, অন্য পোশাকের সঙ্গে না মেলা বা পছন্দ না হওয়ার মতো কারণ থাকলে সেগুলো আলমারিতে জায়গা দখল করে রাখার প্রয়োজন নেই।

ব্যবহারযোগ্য পোশাক অন্য কাউকে দেওয়া বা পুনর্ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটিও করা যেতে পারে।

কেনার আগে মিলিয়ে দেখুন

নতুন পোশাক কেনার সময় শুধু পোশাকটি আলাদাভাবে সুন্দর লাগছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। বাড়িতে থাকা অন্তত দুই-তিনটি পোশাকের সঙ্গে এটি পরা যাবে কি না, সেটিও ভাবুন।

এভাবে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় পোশাক কেনার প্রবণতা কমে এবং অল্প পোশাক দিয়েই বেশি ধরনের সাজ তৈরি করা যায়।

ভালো ওয়ারড্রোব মানেই পোশাকে ঠাসা আলমারি নয়। বরং এমন পোশাকের সংগ্রহ, যেগুলো একে অন্যের সঙ্গে সহজে মেলানো যায় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা সম্ভব। কয়েকটি বেসিক পোশাক, মানানসই রঙ ও কিছু সাধারণ অ্যাকসেসরিজ থাকলেই অল্প পোশাকে তৈরি করা যায় অনেক ধরনের লুক।

তাই নতুন পোশাক কেনার আগে আলমারিতে কী আছে, সেটি একবার দেখে নেওয়াই হতে পারে আরও গোছানো ও ব্যবহারিক ওয়ারড্রোব তৈরির প্রথম ধাপ।

কালের আলো/এসএ

ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এতে জমা থাকে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফোন নম্বর, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টসহ নানা তথ্য। তাই ফোন হারিয়ে গেলে শুধু নতুন একটি ডিভাইস কেনার চিন্তা করলেই হয় না, ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তবে আগে থেকেই কয়েকটি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে রাখলে ফোন হারালেও তথ্য সুরক্ষিত রাখা অনেক সহজ হয়।

নিয়মিত ছবি ও ভিডিওর ব্যাকআপ রাখুন

ফোন হারিয়ে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে ছবি ও ভিডিও হারানো। তাই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথির নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা ভালো। ক্লাউড স্টোরেজ বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ রাখলে ফোন হারালেও অন্য ডিভাইস থেকে সেগুলো ফিরে পাওয়া সম্ভব।

তবে ক্লাউড অ্যাকাউন্টেও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা জরুরি।

শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন

ফোনে শুধু সহজ চার সংখ্যার পিন ব্যবহার না করে তুলনামূলক শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড বা নিরাপদ বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণের সুবিধা থাকলে সেটিও চালু রাখা ভালো।

স্ক্রিন লক যত শক্তিশালী হবে, ফোন হারানোর পর অন্য কারও পক্ষে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য দেখার ঝুঁকি তত কমবে।

ফোন খুঁজে পাওয়ার সুবিধা চালু রাখুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ফোনেই হারানো ডিভাইস খুঁজে বের করার সুবিধা রয়েছে। ফোন হারানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ‘Find My’ ধরনের ফিচার চালু করে রাখুন।

এতে প্রয়োজন হলে অন্য ডিভাইস থেকে ফোনের অবস্থান দেখা, ফোনে শব্দ বাজানো বা দূর থেকে সেটি লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন

ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা 2FA চালু রাখা ভালো। এতে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

তবে 2FA ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাকআপ কোড বা বিকল্প পুনরুদ্ধার পদ্ধতি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।

ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপ সুরক্ষিত রাখুন

ফোনে ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকলে সেগুলোতে অতিরিক্ত লক বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোন হারানোর পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কোনো অবস্থাতেই ফোন হারানোর পর অপরিচিত ব্যক্তি ফোন করে বা বার্তা পাঠিয়ে ওটিপি, পিন কিংবা পাসওয়ার্ড চাইলে তা দেওয়া যাবে না।

লকস্ক্রিনে ব্যক্তিগত তথ্য দেখানো বন্ধ করুন

ফোন লক থাকা অবস্থায়ও অনেক সময় নতুন বার্তার কিছু অংশ স্ক্রিনে দেখা যায়। এতে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য অন্যের চোখে পড়তে পারে। তাই লকস্ক্রিনে নোটিফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য দেখানোর অপশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

সিমের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন

ফোনের সঙ্গে সিম কার্ডও হারিয়ে যেতে পারে। তাই ফোন হারালে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটি বন্ধ বা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে আপনার নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করার ঝুঁকি কমে।

ফোন হারালে দ্রুত যা করবেন

ফোন হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারার পর দেরি না করে অন্য একটি ডিভাইস থেকে নিজের ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন হলে সেটি লক করুন। ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে দূর থেকে ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলার সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ফোন হারানোর পর কী হবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে ব্যাকআপ, শক্তিশালী স্ক্রিন লক, ডিভাইস ট্র্যাকিং ও দুই স্তরের নিরাপত্তার মতো ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রাখলে একটি হারানো ফোনের কারণে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

কালের আলো/এসএ

হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা ইমরান খানকে কারাগারে রাখার বিষয়ে নিরাপদ বলে মত দিয়েছেন।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশি পাহারায় আদিয়ালা কারাগারের ১ নম্বর গেট দিয়ে তাকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ছয় সদস্যের একটি দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিরাপদে কারাগারেই থাকতে পারবেন।

এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়। কারা সূত্র জানিয়েছে, পরে তাকে কারাগারের নিজ সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ