খুঁজুন
                               
, ,
           

এপিবিএন’র স্বেচ্ছায় ‘অন্তর্ধানে’ শাহজালালের নিরাপত্তায় বিমান বাহিনী, যাত্রী সেবায় স্বস্তির পরেও ‘অপপ্রচার’ নিয়ে রহস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
এপিবিএন’র স্বেচ্ছায় ‘অন্তর্ধানে’ শাহজালালের নিরাপত্তায় বিমান বাহিনী, যাত্রী সেবায় স্বস্তির পরেও ‘অপপ্রচার’ নিয়ে রহস্য

কালের আলো রিপোর্ট:

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাপক জনরোষের মুুখে পড়ে পুলিশ। বড় ধাক্কা খায় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও (এপিবিএন)। তাঁরা গত ৫ আগস্ট স্বেচ্ছায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পুলিশ শূন্য হয়ে পড়ে গোটা বিমানবন্দর। এতে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে প্রায় ৬ ঘণ্টা। বেগতিক পরিস্থিতিতে ঢেলে সাজানো হয় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিমান বন্দরের অধিকতর নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্সকে (অ্যাভসেক) সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হয়। গত ৭ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করে। তাদের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (অ্যাভসেক) সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন-চলাচল-অবতরণ নিশ্চিত করে।

  • ৫ আগস্ট বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে প্রায় ৬ ঘণ্টা
  • স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানে সেদিন ব্যর্থতার পরিচয় দেয় এপিবিএন
  • বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও অ্যাভসেক এর যৌথ প্রচেষ্টায় সর্বত্রই পরিবর্তনের হাওয়া
  • লাগেজ কেটে চুরি, ইমিগ্রেশন বিড়ম্বনা, পদে পদে হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা-অনিয়মের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসছে বিমানবন্দরটি
  • যাত্রী সুরক্ষাসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এখন কোনও ঘাটতি নেই
  • পরিদর্শনে বিমান বাহিনী প্রধানের সন্তোষ প্রকাশ, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার

দীর্ঘ সময় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অনুপস্থিতিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (অ্যাভসেক) এর যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে সর্বত্রই। চিরায়ত যাত্রী লাঞ্ছনা, লাগেজ কেটে চুরি, ইমিগ্রেশন বিড়ম্বনা, পদে পদে হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা-অনিয়মের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দরে পৌঁছে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝক্কি কমাতে চালু হয়েছে ১০টি টেলিফোন বুথ। যেখানে কথা বলা যাচ্ছে বিনামূল্যে। যাত্রীসেবা নিশ্চিতে তাদের এমন আপোসহীন অবস্থানে বদলে যেতে শুরু করে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরটির সামগ্রিক দৃশ্যপট। বিমানবন্দরটির নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবায় ভোগান্তিহীন এসব স্বস্তির বারতায় সন্তুষ্ট সব যাত্রীরাও।

যার যেখানে কাজ করা দরকার সে সেখানেই কাজ করবে, সেভাবেই বর্তমানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া
চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)

তবে অভিযোগ ওঠেছে, যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তনের হাওয়ার মধ্যে গোল পাঁকাচ্ছে অনেক দিন স্বেচ্ছায় অন্তর্ধানে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তারা এখন দায়িত্বে ফিরে নিজেদের কমান্ড সেন্টার বিনা নোটিশে দখলের কথা বলছে। সরকারি একটি বাহিনী হয়ে তাঁরা অপর একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে কমান্ড সেন্টার দখলের অভিযোগ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত করেছে। এ ঘটনায় পুনরায় তাদের কাণ্ডজ্ঞান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে মোটা দাগে প্রশ্ন ওঠেছে। অনেকেই বলছেন, এপিবিএন দেশের একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানে নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের স্বেচ্ছায় আত্নগোপনে পুরো পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই সময় বিমান বাহিনী এগিয়ে না আসলে বড় রকমের দুর্ঘটনা-সহিংসতার মুখে পড়তে হতো। কিন্তু নিজেরা অবিবেচকের মতো কাজ করে এখন উল্টো অ্যাভসেক’র ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে চাচ্ছেন। এসবের নেপথ্যে কোন দুরভিসন্ধি রয়েছে কীনা সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি ওঠেছে।

যদিও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া এ প্রসঙ্গে কালের আলোকে বলেছেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে না। এপিবিএন ও এভসেক নিজেদের মতো করে দায়িত্ব পালন করছে। কারও মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যার যেখানে কাজ করা দরকার সে সেখানেই কাজ করবে। সেভাবেই বর্তমানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যেই বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমের উন্নতি সবাই লক্ষ্য করেছেন।’

বন্ধ হয়েছে লাগেজ কাটা-চুরি, নেই পদে পদে হয়রানি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার ও অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৫৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক রুটে বছরে প্রায় ৯৫ লাখ এবং অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ২৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। আগে বিমানবন্দরটিতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। এখন সেখানে যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তন এসেছে। লাগেজ কাটা ও চুরি নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর শোনা যায় না। প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রীর কাছে ১৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি নিশ্চিত হয়েছে। লাগেজ বহনের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে নতুন সংযোজনের পর ট্রলির সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৬০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যানোপি থেকে বের হয়ে বহুতল পার্কিং ও রাস্তার পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে আগমন ও বহির্গমন এলাকায় যাত্রীদের তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে নতুন করে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে আগমনী (অ্যারাইভাল) এলাকায় দুটি এবং বহির্গমন এলাকায় তিনটি হেল্প ডেস্কে ৫৪ জন সহকর্মী ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে যাত্রীদের বিভিন্ন তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের আকাশপথের যাত্রা আরও নির্ঝঞ্ঝাট করতে একগুচ্ছ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহায়তা এবং পৃষ্ঠপোষকতায়, মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায়, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া’র নেতৃত্বে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সবগুলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ৪০টি এয়ারলাইনস এবং অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রীদের যাত্রা সহজ করার কাজটি করে যাচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জবাবদিহির নিশ্চিতে মনোনিবেশ করেছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে ১০টি ফ্রি টেলিফোন বুথ ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আগমনী যাত্রীদের বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিভিন্ন তথ্যসেবা অনলাইনের মাধ্যমে নিতে হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি সিমকার্ড না থাকায় যাত্রীরা অসুবিধায় পড়েন। তাই বিভিন্ন অপারেটরের সহায়তায় যাত্রীদের ফ্রি ওয়াই–ফাই ব্যবহার করার ব্যবস্থা হয়েছে।

অরক্ষিত শাহজালালের সুরক্ষায় এগিয়ে আসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে মানুষ হত্যা এবং অতিরিক্ত বল প্রয়োগের কারণে জনতার রোষ দেখে পুলিশও। এর বাইরে ছিল না এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও (এপিবিএন)। তাদের ওপর কোন হামলা না হলেও গত ৫ আগস্ট তাঁরা স্বেচ্ছায় বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে চলে যায়। তাদের দলে দলে দৌড়ে পালানোর একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে সবাই চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ হেলমেট বা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ফেলেই নিরাপদে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত যাত্রীরাও বিস্ময়ভরা চোখে এই দৃশ্য দেখছিলেন। এমন পরিস্থিতিতিতে ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণার কথা ওইদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ সময় বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ও টার্মিনালসহ সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (০৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয় বলে সেদিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিমানবন্দরটির নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরটির এমন নিরাপত্তা সঙ্কট থেকে উত্তরণে সরকারের নির্দেশে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। গত বুধবার (৭ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অধিকতর নিরাপত্তায় কাজ শুরু করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

এরই মধ্যে আবার বিমান বন্দরটিতে কর্মরত আনসার সদস্যরাও কর্মবিরতি যায়। পরে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) আনসার সদস্যদের কর্মবিরতির পরবর্তী পুরো পরিস্থিতি অবলোকন এবং মূল্যায়ন করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে চলে যাওয়ার পর বেবিচক কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি এবং বিমান বাহিনীর সহায়তায় পুরো কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা সক্ষম হয়েছে।’ তিনি সেদিন বিমান বাহিনীর এই সহায়তার জন্য বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সার্বিক নিরাপত্তায় দেশি-বিদেশি কর্তৃপক্ষগুলো এপিবিএন-এর ওপর কখনও সন্তুষ্ট হতে পারেনি
বেবিচক সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার পূর্ণ নিরাপত্তায় বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৮৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। বিমানবাহিনীর বাইরেও অ্যাভসেকের নিজস্ব প্রায় দেড় হাজার সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে তিন শিফটে ডিউটিতে নিয়োজিত রয়েছেন তাঁরা। বিমান বন্দরের বাইরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যথারীতি দায়িত্ব পালন করছেন। যাত্রী সুরক্ষাসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কোনও ঘাটতি নেই বলে জানায় বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ডিউটি শুরু করেন। কিন্তু দেশের বিমান বন্দরগুলোর সন্তোষজনক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বরাবরই এখানে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে দায়িত্ব প্রদানের দাবি ওঠে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তায় দেশি-বিদেশি কর্তৃপক্ষগুলো এপিবিএন-এর ওপর কখনও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। নিরাপত্তা যতটা উন্নত হওয়ার কথা সেটা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিরাপত্তা মানে শুধু মালামাল জব্দ করা নয়। এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে অনুরোধ জানায়। কয়েক বছর আগেও যুক্তরাজ্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে তাগিদ দিয়েছিলো। নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তারা কিছু সুপারিশও করেছিলো। কিন্তু অতীতের সরকার বিষয়টিকে আমলে নেয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার বিষয়টিতে নজর দেয়। তাদের এই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (অ্যাভসেক) যৌথ প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

বিমান বাহিনী প্রধানের সন্তোষ প্রকাশ, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার
গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমান বাহিনীর সদস্যদের পরিচালনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি একে একে বিমান বন্দরের চেকিং কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, স্ক্যানার, বোর্ডিং ব্রিজ, অ্যারাইভাল, ডিপারচার, এয়ার ক্রাফট পার্কিংসহ বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অসামরিক কর্তৃপক্ষকে সহায়তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিভিন্ন বিমান বন্দর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে চলেছে। সব রকমের অনিয়ম ও হয়রানি দূর করে বিমান বন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে বিমান বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।’

দেশের যেকোন ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও বিমান বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিমান বাহিনী কাজ করে চলেছে বলে জানান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘যখন এখানে নিরাপত্তা অনেকটাই হুমকির মুখে পড়েছিল সেই সময় আমরা বিমান বাহিনী থেকে আমাদের লোকজন নিয়োগ করেছি। আমরা সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করেছি। দুর্নীতি, অনিয়ম, চোরাচালান ও অনৈতিক কার্যকলাপ যেগুলো হচ্ছিল সেগুলো অনেকাংশেই আমরা রহিত করতে পেরেছি। বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য লাগেজ দ্রুত পাওয়ার সুবিধা, দুর্নীতি এবং চোরাচালান রোধে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের সুনাম দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দেশে আসা ও বিদেশগামী প্রবাসী বাংলাদেশী যাত্রীদের বিশেষ সেবা দিতেও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমাদের প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। তাঁরা যেন কোনভাবে হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। তাদের সব রকমের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবেন।’

কালের আলো/আরআই/এমকে

কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

প্রতিদিন কী পোশাক পরবেন, তা ঠিক করতে গিয়ে অনেকেই আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় পার করেন। অথচ আলমারিতে পোশাকের সংখ্যা বেশি থাকলেই যে সাজের বৈচিত্র্য বাড়বে, এমন নয়। বরং কিছু বেসিক ও পরস্পরের সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে রাখলে অল্প পোশাক দিয়েই তৈরি করা যায় নানা ধরনের লুক।

এ ধরনের ওয়ারড্রোব সাজানোর মূল কথা হলো—কম পোশাক, বেশি সমন্বয়।

প্রথমে বেসিক পোশাক বাছাই করুন

ওয়ারড্রোবে এমন কিছু পোশাক রাখা ভালো, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মিলিয়ে পরা যায়। সাদা, কালো, নেভি, ধূসর বা বেইজের মতো নিরপেক্ষ রঙের টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট বা টপ বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।

একটি ভালো মানের সাদা শার্ট যেমন জিনসের সঙ্গে ক্যাজুয়াল লুক দিতে পারে, আবার ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পরলে তৈরি হতে পারে অফিস উপযোগী সাজ।

রঙের সমন্বয়ে নজর দিন

অনেক রঙের পোশাক রাখার বদলে কয়েকটি পরস্পরের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নিলে পোশাক মেলানো সহজ হয়। ওয়ারড্রোবের বেশির ভাগ পোশাক যদি একই রঙের পরিবারের মধ্যে থাকে, তাহলে একটি পোশাকের সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এর সঙ্গে দুই-একটি উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা আনুষঙ্গিক জিনিস রাখলে পুরো সাজে বৈচিত্র্য আনা যায়।

একটি পোশাক, একাধিক ব্যবহার

একই পোশাককে ভিন্নভাবে পরার অভ্যাস করলে ওয়ারড্রোব ছোট রেখেও সাজে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। একটি শার্ট একদিন প্যান্টের সঙ্গে, অন্যদিন জিনসের সঙ্গে পরা যেতে পারে। একই পোশাকের সঙ্গে জুতা, ব্যাগ বা গয়না বদলালেও পুরো লুক অনেকটাই বদলে যায়।

পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক জিনিস রাখুন

কম পোশাকে বেশি লুক তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকসেসরিজ বেশ কার্যকর। ঘড়ি, স্কার্ফ, বেল্ট, ব্যাগ, জুতা বা সাধারণ গয়না একই পোশাককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

তবে অনেক কিছু একসঙ্গে ব্যবহার না করে পোশাকের ধরন অনুযায়ী এক বা দুই ধরনের অ্যাকসেসরিজ বেছে নেওয়াই ভালো।

মৌসুম অনুযায়ী ওয়ারড্রোব বদলান

সব মৌসুমের পোশাক একসঙ্গে আলমারিতে রাখার প্রয়োজন নেই। গরমের পোশাক আলাদা করে এবং শীত বা বর্ষার পোশাক প্রয়োজন অনুযায়ী বের করে রাখলে আলমারি গোছানো থাকে। এতে প্রয়োজনের পোশাক খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়।

খুব কম পরা পোশাক আলাদা করুন

যে পোশাকগুলো গত কয়েক মাসে একবারও পরা হয়নি, সেগুলো আলাদা করে দেখুন। কেন পরা হচ্ছে না, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। মাপ ঠিক না হওয়া, অন্য পোশাকের সঙ্গে না মেলা বা পছন্দ না হওয়ার মতো কারণ থাকলে সেগুলো আলমারিতে জায়গা দখল করে রাখার প্রয়োজন নেই।

ব্যবহারযোগ্য পোশাক অন্য কাউকে দেওয়া বা পুনর্ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটিও করা যেতে পারে।

কেনার আগে মিলিয়ে দেখুন

নতুন পোশাক কেনার সময় শুধু পোশাকটি আলাদাভাবে সুন্দর লাগছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। বাড়িতে থাকা অন্তত দুই-তিনটি পোশাকের সঙ্গে এটি পরা যাবে কি না, সেটিও ভাবুন।

এভাবে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় পোশাক কেনার প্রবণতা কমে এবং অল্প পোশাক দিয়েই বেশি ধরনের সাজ তৈরি করা যায়।

ভালো ওয়ারড্রোব মানেই পোশাকে ঠাসা আলমারি নয়। বরং এমন পোশাকের সংগ্রহ, যেগুলো একে অন্যের সঙ্গে সহজে মেলানো যায় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা সম্ভব। কয়েকটি বেসিক পোশাক, মানানসই রঙ ও কিছু সাধারণ অ্যাকসেসরিজ থাকলেই অল্প পোশাকে তৈরি করা যায় অনেক ধরনের লুক।

তাই নতুন পোশাক কেনার আগে আলমারিতে কী আছে, সেটি একবার দেখে নেওয়াই হতে পারে আরও গোছানো ও ব্যবহারিক ওয়ারড্রোব তৈরির প্রথম ধাপ।

কালের আলো/এসএ

ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এতে জমা থাকে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফোন নম্বর, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টসহ নানা তথ্য। তাই ফোন হারিয়ে গেলে শুধু নতুন একটি ডিভাইস কেনার চিন্তা করলেই হয় না, ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তবে আগে থেকেই কয়েকটি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে রাখলে ফোন হারালেও তথ্য সুরক্ষিত রাখা অনেক সহজ হয়।

নিয়মিত ছবি ও ভিডিওর ব্যাকআপ রাখুন

ফোন হারিয়ে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে ছবি ও ভিডিও হারানো। তাই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথির নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা ভালো। ক্লাউড স্টোরেজ বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ রাখলে ফোন হারালেও অন্য ডিভাইস থেকে সেগুলো ফিরে পাওয়া সম্ভব।

তবে ক্লাউড অ্যাকাউন্টেও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা জরুরি।

শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন

ফোনে শুধু সহজ চার সংখ্যার পিন ব্যবহার না করে তুলনামূলক শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড বা নিরাপদ বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণের সুবিধা থাকলে সেটিও চালু রাখা ভালো।

স্ক্রিন লক যত শক্তিশালী হবে, ফোন হারানোর পর অন্য কারও পক্ষে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য দেখার ঝুঁকি তত কমবে।

ফোন খুঁজে পাওয়ার সুবিধা চালু রাখুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ফোনেই হারানো ডিভাইস খুঁজে বের করার সুবিধা রয়েছে। ফোন হারানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ‘Find My’ ধরনের ফিচার চালু করে রাখুন।

এতে প্রয়োজন হলে অন্য ডিভাইস থেকে ফোনের অবস্থান দেখা, ফোনে শব্দ বাজানো বা দূর থেকে সেটি লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন

ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা 2FA চালু রাখা ভালো। এতে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

তবে 2FA ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাকআপ কোড বা বিকল্প পুনরুদ্ধার পদ্ধতি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।

ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপ সুরক্ষিত রাখুন

ফোনে ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকলে সেগুলোতে অতিরিক্ত লক বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোন হারানোর পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কোনো অবস্থাতেই ফোন হারানোর পর অপরিচিত ব্যক্তি ফোন করে বা বার্তা পাঠিয়ে ওটিপি, পিন কিংবা পাসওয়ার্ড চাইলে তা দেওয়া যাবে না।

লকস্ক্রিনে ব্যক্তিগত তথ্য দেখানো বন্ধ করুন

ফোন লক থাকা অবস্থায়ও অনেক সময় নতুন বার্তার কিছু অংশ স্ক্রিনে দেখা যায়। এতে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য অন্যের চোখে পড়তে পারে। তাই লকস্ক্রিনে নোটিফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য দেখানোর অপশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

সিমের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন

ফোনের সঙ্গে সিম কার্ডও হারিয়ে যেতে পারে। তাই ফোন হারালে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটি বন্ধ বা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে আপনার নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করার ঝুঁকি কমে।

ফোন হারালে দ্রুত যা করবেন

ফোন হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারার পর দেরি না করে অন্য একটি ডিভাইস থেকে নিজের ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন হলে সেটি লক করুন। ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে দূর থেকে ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলার সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ফোন হারানোর পর কী হবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে ব্যাকআপ, শক্তিশালী স্ক্রিন লক, ডিভাইস ট্র্যাকিং ও দুই স্তরের নিরাপত্তার মতো ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রাখলে একটি হারানো ফোনের কারণে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

কালের আলো/এসএ

হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা ইমরান খানকে কারাগারে রাখার বিষয়ে নিরাপদ বলে মত দিয়েছেন।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশি পাহারায় আদিয়ালা কারাগারের ১ নম্বর গেট দিয়ে তাকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ছয় সদস্যের একটি দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিরাপদে কারাগারেই থাকতে পারবেন।

এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়। কারা সূত্র জানিয়েছে, পরে তাকে কারাগারের নিজ সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ