খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

স্বাতন্ত্র্য মহিমায় ভাস্বর কোর অব সিগন্যালস; গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও দেশমাতৃকার সেবায় অবদানের স্বীকৃতি সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
স্বাতন্ত্র্য মহিমায় ভাস্বর কোর অব সিগন্যালস; গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও দেশমাতৃকার সেবায় অবদানের স্বীকৃতি সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

৫৩ বছরের ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেছে কোর অব সিগন্যালস। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্য এই কোর’র অগ্রগতিও ঈর্ষণীয়। যুদ্ধের ময়দানে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অনস্বীকার্য হওয়ায় দেশপ্রেমী এই বাহিনীটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে কোর অব সিগন্যালস স্বাতন্ত্র্য মহিমায় ভাস্বর করেছে নিজেদের। প্রতিনিয়ত অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছে সফলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গেই। ‘দ্রুত ও নিশ্চিত’- এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত থেকে কোরটিতে ক্রমশ যুক্ত হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির যোগাযোগ সরঞ্জামাদি। রণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর। স্বাধীনতার পর দেশ গঠন ও দেশমাতৃকার সেবাতেও তাদের অবদান এবার গুরুত্বের সঙ্গেই উচ্চারিত হয়েছে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর কণ্ঠেও।

কোর অব সিগন্যালস্ এর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় অবদানের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। বুধবার (১৩ নভেম্বর) যশোর সেনানিবাসের সিগন্যালস্ ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুলে (এসটিসিএন্ডএস) কোর অব সিগন্যালস এর বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান আধুনিক যোগাযোগ, যোগাযোগ নিরাপত্তা, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করে সিগন্যাল কোরের সব সদস্যদের একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

এর আগে সেনাপ্রধান সিগন্যালস্ ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুলে এসে পৌঁছলে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাইনুর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো.নাসিম পারভেজ এবং ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম তাকে অভ্যর্থনা জানান।

সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য মতে- আধুনিক যুদ্ধে রণকৌশলগত বিষয়ে উপযুক্ত সিগন্যাল যোগাযোগ ও কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগ যুদ্ধক্ষেত্রে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জামাদির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ এবং নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োগও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে সাটেলাইট হাব স্টেশন স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করছে। এটির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাত্রা যোগ হয়েছে।

  • একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে দিকনির্দেশনা
  • সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্য এই কোর’র অগ্রগতি ঈর্ষণীয়
  • প্রতিনিয়ত অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছে সফলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গেই
  • সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর করেছে রণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও

জানা যায়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও কোর অব সিগন্যালস এর রয়েছে বীরত্বগাঁথা ইতিহাস। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে সিগন্যাল যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি সিগন্যাল কোরের বীর সেনানীরা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে কোর অব সিগন্যালস এর ১ জন কর্মকর্তা, ৩ জন জেসিও এবং ৮২ জন অন্যান্য পদবীর সৈনিক শহীদ হন। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে এ সকল অকুতোভয় বীর সেনানীরা দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের যে দুর্লভ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেটি সেনাবাহিনীর আগামীর পথ চলার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ইতোমধ্যেই সিন্যালস কোরে তিনটি সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন ও তিনটি স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এছাড়া সংযোজন করা হয়েছে নতুন রেডিও রিলে সরঞ্জাম, ডিজিটাল এক্সচেঞ্জসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি।

যুদ্ধের প্রচলিত মাত্রা জল, স্থল ও আকাশ ছাড়িয়ে এখন প্রসারিত হয়েছে ইলেক্ট্রনিক ও সাইবার স্পেসে। এসব কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দক্ষতাই আগামীতে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো প্রশিক্ষিত বাহিনীর সাফল্য নির্ভর করবে। আধুনিক যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিগন্যালস কোর আরও সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। তিনি মনে করেন, সিগন্যাল যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাইবার ও ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধে শত্রুর ওপর আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিজয় অর্জনে সহায়তা করাই সিগন্যালস কোরের মূল লক্ষ্য। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোর অব সিগন্যালসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাপ্রধান এই কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যশোর সেনানিবাসে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আর্মি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই হাসপাতাল নির্মাণ সুদক্ষ চিকিৎসক তৈরীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদী তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ