খুঁজুন
                               
, ,
           

১০ তলায় উন্নীত হচ্ছে বিওএ’র ভবন, অলিম্পিক কমপ্লেক্স হচ্ছে ত্রিশালে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
১০ তলায় উন্নীত হচ্ছে বিওএ’র ভবন, অলিম্পিক কমপ্লেক্স হচ্ছে ত্রিশালে

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো:

আর নয় স্বপ্ন। এবার দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূর্ণতা পাচ্ছে বাস্তবে। রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ভবনটি ৬ তলা থেকে উন্নীত হচ্ছে ১০ তলায়। এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা যাচাইয়ের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিওএ’র যৌথ উদ্যোগে একটি অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে।

অতি গুরুত্বপূর্ণ এমন সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়। শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ইনানিতে অবস্থিত বে-ওয়াচে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদদপ্তর (আইএসপিআর) ও বিওএ পৃথক পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআর জানায়, সভায় গত ১৬ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিওএর কার্যনিবাহী কমিটির সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন ও সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বিওএ’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শামছ এ খান জানান, সভায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের জন্য ৫৮ দশমিক ৩০ কোটি টাকা এবং বিওএ’র সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়েছে।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন ও উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে সভায়।

জানা যায়, সম্প্রতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ১৭তম সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যাসোসিয়েশনটিকে নতুন উচ্চতায় নিতে মিশন শুরু করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি নিজেদের টিম স্পিরিটকে কাজিয়ে লাগিয়ে বিওএ’কে ঢেলে সাজিয়ে দেশের জন্য নিশ্চিত করতে চান অনন্য সম্মান। নতুন সভাপতিকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সংগঠনটির কর্মকর্তারাও। তারা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে বিওএ।

কালের আলো/এমএএএমকে

চট্টগ্রামে শেষ হলো অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় আসর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে শেষ হলো অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় আসর

ছয় দেশের ৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর দ্বিতীয় আসর।

১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামে। নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, তাঁদের কাজের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নির্মাতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ফিল্ম ফর আস ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাব যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে।

এবারের উৎসবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিকশন, ডকুমেন্টারি ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং—এই তিন বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন দেশের নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছিল নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ আয়োজন।

প্রথমবার যুক্ত হলো ডিজিটাল স্টোরিটেলিং

এবারের আসরে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় ডিজিটাল স্টোরিটেলিং কম্পিটিশন বিভাগ। চলচ্চিত্রের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে ছবি, ভিডিও, লেখা, শব্দ, অ্যানিমেশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গল্প বলার কাজগুলোকে এই বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আয়োজকদের মতে, নতুন এই বিভাগ তরুণ নির্মাতা ও ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প বলায় আগ্রহীদের জন্য ভিন্ন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

ইরানি নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন

উৎসবের অন্যতম বিশেষ আয়োজন ছিল ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ইরানের নারী নির্মাতাদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে চট্টগ্রামের দর্শকদের তাঁদের কাজ, ভাবনা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন ছিল ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। উৎসবের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শক, শিক্ষার্থী ও তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ ছিল।

তিন বিভাগে পুরস্কার

১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সঙ্গীতা রায়মাঝি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিজয়ী নির্মাতাদের হাতে উৎসবের ক্রেস্ট তুলে দেন।

এবারের উৎসবে তিন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন—

  • বেস্ট ফিকশন: তাবাসসুম তানহা — What If
  • বেস্ট ডকুমেন্টারি: সুরাইয়া তাসনিন সাথী — Reshma
  • বেস্ট ডিজিটাল স্টোরিটেলিং: ফাতিমা তকাওয়ি

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর উৎসবের প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. গুরুপদ চক্রবর্তী।

নির্মাতা ও দর্শকের যোগাযোগকে গুরুত্ব

উৎসবের পরিচালক ও ফিল্ম ফর আস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, নারী নির্মাতাদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য, যেখানে তাঁরা নিজেদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

তিনি বলেন, দুই বছর পর এসে তাঁরা মনে করছেন, ধীরে ধীরে সেই জায়গা তৈরি হচ্ছে। এ বছর ছয় দেশের ৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে এবং নতুন করে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং বিভাগ যুক্ত হয়েছে।

তাঁর মতে, উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্মাতা, শিক্ষার্থী ও দর্শকদের একসঙ্গে এসে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়া।

অধ্যাপক মাসুদুর রহমান আরও বলেন, চলচ্চিত্র উৎসবকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্মাতা ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা। একজন নির্মাতা তাঁর দর্শক খুঁজে পাওয়া, কোনো চলচ্চিত্র দেখে একজন শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হওয়া কিংবা উৎসবে পরিচিত হওয়া দুই নির্মাতার ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করা—এসবকেও তাঁরা উৎসবের সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখেন।

সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

এবারের আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে ‘কানেক্ট হার’। উৎসবের কো-অর্গানাইজার ছিল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাব। এছাড়া লিখালিখি ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রাম উৎসবটির সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজও এবারের আয়োজনকে সমর্থন করেছে।

আয়োজনে যুক্ত ছিলেন ফিল্ম ফর আস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া আফরিন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি তাসনিম তাবাস্সুম সুবাহ এবং লিখালিখির প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদা ফারজানা জামান রুপা।

সমাপনীতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উৎসবে অংশ নেওয়া সব চলচ্চিত্র নির্মাতা, জুরি সদস্য, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, দর্শক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

কালের আলো/এসএ

সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনযুগ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনযুগ

১১ বছরের ব্যবধানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো জারি করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় একদিকে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারীর মোট বেতন ভাতাসহ ৩৩ হাজার টাকার বেশি হবে, অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মতো বিশেষ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মোট বেতন দাঁড়াবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। শুধু বেতন নয়, উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ, পেনশন বৃদ্ধি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিভিন্ন বিশেষ ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।

  • সর্বনিম্ন মোট বেতন ৩৩ হাজারের বেশি
  • সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা
  • মূল বেতন, পেনশন ও ভাতায় বড় স্বস্তি
  • পদোন্নতি ছাড়াও উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ

তবে নতুন কাঠামোর পুরো আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে মিলছে না। মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হবে। অধিকাংশ নতুন ভাতা কার্যকর হবে আরও প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ফলে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ার নতুন দিগন্ত খুলছে, অন্যদিকে এই বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগান দেওয়া সরকারের জন্য বড় আর্থিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার, ঢাকায় আরও বেশি
নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে কর্মস্থলভেদে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও মুঠোফোন ভাতা যুক্ত হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বনিম্ন মোট বেতন দাঁড়াবে ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় একই গ্রেডে মোট বেতন হবে ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা।

অন্যদিকে বিসিএসসহ নবম গ্রেডে যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তাদের মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। ভাতাসহ তাঁদের মোট আয় ৬০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি চাকরির প্রবেশপর্যায়ের বেতনেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে।

সর্বোচ্চ বেতন প্রায় আড়াই লাখ
নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। তবে এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য বিশেষ গ্রেড রাখা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ঢাকায় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, আপ্যায়ন, মুঠোফোন ও ধোলাই ভাতা মিলিয়ে তাঁদের মোট বেতন দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক গাড়িসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় বেতন ব্যবস্থার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্তর—দুই প্রান্তেই পরিবর্তন এসেছে।

তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন
নতুন আদেশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও কর্মচারীরা সেদিন থেকেই পুরো বর্ধিত মূল বেতন পাচ্ছেন না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে পূর্ণ বেতন কার্যকর হবে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ৭০ শতাংশ পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ, পরের ধাপে ৭৫ শতাংশ এবং শেষ পর্যায়ে শতভাগ কার্যকর হবে। ধাপে বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় অঙ্কের ব্যয়ের চাপ কিছুটা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পদোন্নতি ছাড়াও বাড়বে বেতন
নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো পদোন্নতি না পেলেও নির্দিষ্ট শর্তে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ। একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে এবং রেকর্ড সন্তোষজনক থাকলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পরবর্তী পর্যায়েও নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আরও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে পদোন্নতির সুযোগ সীমিত এমন পদে দীর্ঘদিন কাজ করা কর্মচারীদের জন্য এটি আর্থিক অগ্রগতির বিকল্প পথ তৈরি করবে। ফলে শুধু পদোন্নতির ওপর নির্ভর না করেও চাকরির মেয়াদ ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকছে।

পেনশনে বড় স্বস্তি
অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও নতুন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কমে ৫৫ শতাংশে নামবে। তবে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন পেনশনভোগীদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তুলনামূলক বড় পরিবর্তন আসছে।

ভাতায়ও নতুন চিত্র
নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়ার হার কর্মস্থল ও গ্রেডভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারিত হয়েছে। চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, শিক্ষা সহায়তা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে অধিকাংশ নতুন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বাড়তি ব্যয়ের টাকা আসবে কোথা থেকে?
নতুন বেতনকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি বেতন নিয়ে নয়, অর্থায়ন নিয়ে। মূল বেতন ও ভাতা বাড়ার ফলে সরকারের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। চলতি অর্থবছরেই বর্ধিত মূল বেতনের দুই ধাপ বাস্তবায়নে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন অর্থায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, আগামী দেড়-দুই বছরে রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে বাড়তি ব্যয় সামলানো কঠিন হতে পারে। ঋণনির্ভর অর্থায়ন বা ব্যয় সংকোচনের পথ নিতে হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে সরকারও রাজস্ব আয় বাড়ানো, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় সময় পাচ্ছে। ফলে নতুন কাঠামোর সাফল্য শুধু বেতন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজস্ব সংগ্রহ ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর সক্ষমতাও।আয় বাড়ার সঙ্গে বাড়ুক সেবার মাননতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রণোদনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রবেশপর্যায়ের বেতন বৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ এবং পেনশন বৃদ্ধির ফলে সরকারি চাকরি আরও কাঠামোবদ্ধ আর্থিক সুবিধার আওতায় আসছে।

এখন চ্যালেঞ্জ হবে এই বাড়তি সুবিধার সঙ্গে সরকারি সেবার মান ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশিত উন্নতি নিশ্চিত করা। কারণ একটি আধুনিক বেতনব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য শুধু কর্মচারীর বেতন কত বাড়ল, তা দিয়ে নয়; সেই বিনিয়োগের বিনিময়ে রাষ্ট্র কতটা দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব সেবা দিতে পারল—শেষ পর্যন্ত তার ওপরই নির্ভর করবে নতুন কাঠামোর পূর্ণ সার্থকতা।

এম/এএইচ

মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, এশিয়ান গেমস শেষ বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, এশিয়ান গেমস শেষ বাংলাদেশের

ড্র দিয়েই আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে ঋতুপর্ণা চাকমা, তহুরা খাতুনরা।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে মিয়ানমার। শক্তির দিক থেকেও প্রতিপক্ষ এগিয়ে থাকলেও গ্রুপের শেষ ম্যাচটি নিয়ে আশাবাদী ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক মারিয়া মান্দার কথাতেও সেই প্রত্যাশার ছাপ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জয় নয়, গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

মিয়ানমারের বিপক্ষে এর আগে দুবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ এবং অন্যটিতে জয় পেয়েছিল মিয়ানমার। ফলে আজকের ম্যাচের ড্রয়ে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবও সমান থাকল।

কোয়ার্টার ফাইনালের আশা শেষ

গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে সরাসরি ওঠার সুযোগ আগেই শেষ হয়ে যায়।

তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেলে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে শেষ আটে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। কিন্তু গোলশূন্য ড্রয়ের ফলে সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল।

বল দখলে কাছাকাছি, আক্রমণে ব্যর্থতা

মিয়ানমারের বিপক্ষে বল দখলের লড়াইয়ে খুব একটা পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

তবে বল দখল থাকলেও আক্রমণভাগে কার্যকর চাপ তৈরি করতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে মিয়ানমারের গোলমুখে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। এর কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা।

অন্যদিকে বাংলাদেশের গোলমুখে আটটি শট নিয়েছে মিয়ানমার। এর মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা দুটিই দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন।

ফলে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল কোনো গোল হজম না করা।

আগের দুই ম্যাচে বড় হার

এশিয়ান গেমসের এবারের আসরে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল কঠিন। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হারে বাংলাদেশ।

তৃতীয় ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল দলটি।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসে অংশ নিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ২০২৩ সালের আসরেও তিন ম্যাচ খেলে দুটি হার ও একটি ড্র পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার তিন ম্যাচে মোট ১৫ গোল হজম করেছিল দলটি।

এবারও প্রথম দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করলেও শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে গ্রুপ পর্বে জয়হীন থেকেই আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের অভিযান শেষ হলো তাদের।

কালের আলো/এসএ